প্রতিবেশী প্রতিবেশির সাথে সঙ্গত আচরণ করলে বসবাসটা সুন্দর হয়। কিন্তু বাংলাদেশের প্রতিবেশী বড় দেশটা যেন কেমন। মুখে বন্ধুত্বের বুলি আওড়ালেও আচরণে অন্যরকম। সীমান্তে হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিলেও ভারত কথা রক্ষা করেনি। সীমান্তে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর হাতে বাংলাদেশী নাগরিক হত্যার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, সীমান্তে লাশ মাড়িয়ে দুই দেশের সত্যিকারের বন্ধুত্ব হতে পারে না। শুক্রবার ফেসবুক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

পোস্টে ড. আসিফ নজরুল লেখেন, ১৩ মে লালমনির হাটের আমঝোল সীমান্তে খাদেমুল ইসলাম নামে বাংলাদেশের এক যুবক ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সীমান্তে এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আরো ঘটেছে। তিনি বলেন, এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করছি। আমি আগেও এ নিয়ে লিখেছি, বলেছি। সরকারে থাকার সময়েও আমরা এসব হত্যাকাণ্ডের শক্ত প্রতিবাদ করতাম, কৈফিয়ত তলব করতাম, সীমান্তে আমাদের কঠোর অবস্থানও ছিল। সাবেক এই উপদেষ্টা আরো বলেন, আমার বক্তব্য একটাইÑ সত্যি সত্যি অবৈধভাবে সীমান্ত পার হতে গেলে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়। প্রয়োজনে ফাঁকা গুলি করে ভয় দেখিয়ে থামানো যায়। কিন্তু আমরা কোনো গ্রেপ্তারের ঘটনা শুনিনা, ফাঁকা গুলির ঘটনা ঘটেনা, এমনকি গুলি লেগে আহত হওয়ার কথাও শুনি না। শুনি শুধু গুলিতে সরাসরি বাংলা দেশের মানুষ হত্যার ঘটনা। এটা কোনো যুক্তিতেই মেনে নেওয়ার মতো না। ফেসবুক পোস্টের শেষদিকে তিনি বলেন, বিএনপি সরকারকে এ হত্যাযজ্ঞ বন্ধ করার ব্যবস্থা নিতে হবে। সীমান্তে লাশ মাড়িয়ে দুই দেশের সত্যিকারের বন্ধুত্ব হতে পারে না।

প্রতিবেশী দেশ ভারতের সাথে আমরা বন্ধুত্ব চাই। তবে এটা যেন বুলির বন্ধুত্ব নয়, সত্যিকারের বন্ধুত্ব হয়। সত্যিকারের বন্ধুত্ব তো হয় সমমর্যাদার ভিত্তিতে, শান্তির মাধ্যমে। গুলির মাধ্যমে কি কখনো বন্ধুত্ব হয়? বিষয়টি ভারতের নেতৃবৃন্দের না বোঝার কথা নয়। আলোচনার টেবিলে তো মনে হয় তারা বিষয়টি বোঝেন, এ কারণেই হয়তো তারা সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু এরপর প্রতিশ্রুতি আর রক্ষিত হয় না। এর কারণ অবশ্য বিশ্লেষণযোগ্য। তবে সেই বিশ্লেষণে এখন যেতে চাইছি না, বিষয়টা তেমন সুখকর হবে না। এখানে একটা কথা অবশ্যই বলতে হয়Ñদুই দেশের স্বার্থে, দুই দেশের জনগণের স্বার্থে সীমান্তে মর্যাদাপূর্ণ ও যৌক্তিক আচরণ প্রয়োজন। সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদকে কেউ কেউ ভারতবিরোধী প্রচারণা হিসেবে চালিয়ে দিতে চান। তাদের উদ্দেশে বলতে হয়, মানুষ হত্যার প্রতিবাদ কোনো দেশের বিরুদ্ধে প্রচারণা নয়, বরং এটি মানবিক মননের উচ্চারণ।