প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) এ কে এম শামছুল ইসলাম বলেছেন, আমরা বিজয়ী জাতি, বিজয়ীর বেশে থাকবো। আমরা কোনো আধিপত্যবাদী শক্তির কাছে মাথানত করবো না। জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। শনিবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালীতে রাওয়া ক্লাবে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসাার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনস আয়োজিত ‘ফিরে দেখা জুলাই বিপ্লব-২০২৪’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা আরো বলেন, জুলাইয়ের চেতনা মানে সব ক্ষেত্রে বৈষম্য দূর ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা করা। আবার জুলাইয়ের চেতনা যেন কেউ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার না করতে পারে-সেদিকেও সতর্ক থাকতে হবে।
প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা নস্যাৎ করতে দেশি-বিদেশি যে কোনো ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় জাতি প্রস্তুত রয়েছে। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলন শুধু ক্ষমতার পরিবর্তন নয়, রাষ্ট্র সংস্কার এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভেরও বহিঃপ্রকাশ। কক্সবাজারে মেজর সিনহা হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ হত্যাকাণ্ডে আমাদের হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। এ হত্যার রায় যাতে দ্রুত কার্যকর হয়, তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। যারা গুম ও খুনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের কোনোভাবে প্রমোশন দেওয়া হবে না। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান সময়ে জাতীয় নিরাপত্তা শুধু সীমান্ত সুরক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, সাইবার নিরাপত্ত, জলবায়ু পরিবর্তন, জ¦ালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ ও তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার মোকাবিলায় রাষ্ট্রীয় সক্ষমতা বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্য অর্জনে দক্ষজনবল গড়ে তোলার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি সংস্থা ও দেশীয় প্রযুক্তিখাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা বলেন; দুর্যোগ, সংকট ও জাতীয় প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীকে জনগণের পাশে থাকার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে বেসামরিক প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয় আরো জোরদার করা হচ্ছে। বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা যে বক্তব্য রেখেছেন, বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে আমরা মনে করি। ফ্যাসিস্ট আমলে আমরা এ ধারার বক্তব্য লক্ষ্য করিনি। তিনি সুশাসনের কথা বলেছেন, মাঠপর্যায়ে বেসামরিক প্রশাসন ও সামরিক বাহিনীর সমন্বয় আরো জোরদার করার কথা বলেছেন। বৈষম্য দূর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার গুরুত্বের কথাও তিনি তুলে ধরেছেন। প্রসঙ্গত তিনি জুলাইয়ের চেতনা সমুন্নত রাখতে দেশি-বিদেশি যে কোন ষড়যন্ত্র মোকাবিলার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন। ছাত্র-জনতার আকাক্সক্ষার বিষয়গুলো এখানে যুক্ত আছে। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার আর একটি বক্তব্য বিশেষভাবে উল্লেখ করতে হয়।
তিনি বলেছেন, আমরা কোন আধিপত্যবাদী শক্তির কোছে মাথানত করব না। জুলাইয়ের চেতনা নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার বক্তব্য খুবই চমৎকার, কারণ তার বক্তব্যে জাতির আশা-আকাক্সক্ষার বিষয়গুলো প্রতিফলিত হয়েছে। তবে এখানে সতর্কতার বিষয়ও রয়েছে, বক্তব্য যেন কথামালার সৌন্দর্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ হয়ে না পড়ে। বাস্তবে এর প্রয়োগটাই আসল। অতীতে আমরা কথামালার রাজনীতি দেখেছি। আমরা আশা করবো, জুলাই পরবর্তী সরকার সেই বৃত্ত থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হবে।