স্টাফ রিপোর্টার

অনেকটা নীরবে বঙ্গভবন ছেড়েছেন সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন । শুক্রবার পদত্যাগের পর গতকাল রোববার বঙ্গভবন ছাড়েন তিনি। বেলা আড়াইটার কিছু আগে সপরিবারে বঙ্গভবন থেকে সাবেক রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বের হয়। বিকাল ৩টার দিকে তিনি গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কের নিজ বাসভবন ‘গ্রিন ভিলা’য় পৌঁছান। এ সময় তার বাসার সামনে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা যায়। এর আগে দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে বঙ্গভবন থেকে গুলশানের উদ্দেশে রওনা হন মো. সাহাবুদ্দিন। গাড়ি বহরে রাষ্ট্রপতির গাড়িসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ১৮টি গাড়ি ছিল। জানা গেছে, টানা ৩ বছর ৪ মাস পর রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে সপরিবারে উঠছেন তিনি। পাঁচ বছরের নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ না করে ১ বছর ৮ মাস আগেই তিনি নিজের একান্ত নিবাসে ফিরেছেন।

বঙ্গভবন ছাড়ার খবরে গতকাল রোববার দুপুর থেকেই গণমাধ্যমকর্মীরা সেখানে অপেক্ষা করছিলেন। উৎসুক জনতাও বঙ্গভবনের সামনের রাস্তায় জড়ো হন। গতকাল দুপুর থেকেই বঙ্গভবনের সামনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তৎপরতা শুরু হয়। সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর গুলশানের বাড়িটির নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকেই পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেয়। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে বাড়িটির পঞ্চম তলার ফ্ল্যাটে থাকতেন তিনি। মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবন ছাড়ার পর সেখানে এখন দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। গত শনিবার সাবেক এ রাষ্ট্রপতি সাংবাদিকের ফোনে জানান, চিকিৎসার জন্য তিনি শিগ্িগর সিঙ্গাপুর অথবা ব্যাংকক যাবেন। জটিল রোগে আক্রান্ত হওয়ায় সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল (সিএমএইচ) থেকে এরই মধ্যে তাকে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তার স্ত্রী রেবেকা সুলতানাও অসুস্থ বলে জানালেন। চিকিৎসার জন্য স্ত্রীকেও সঙ্গে নিয়ে যাবেন তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতি শারীরিক অসুস্থতার কারণ উল্লেখ করে শুক্রবার পদত্যাগ করেন। পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেন, তিনি হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। সম্প্রতি তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হওয়ায় ‘অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি’ নামক জটিল রোগেও আক্রান্ত। এর ফলে তিনি মাঝেমধ্যে স্বল্প সময়ের জন্য অচেতন হয়ে পড়েন।

বঙ্গভবনের একটি সূত্র জানিয়েছে, বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি হিসেবে ক’দিন আগে থেকেই সাহাবুদ্দিনের ব্যক্তিগত মালামাল গুলশানের বাড়িতে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছিল। গুলশানের বাড়িটির পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কাজও সম্পন্ন করা হয়। সংবিধানের চতুর্থ ভাগের প্রথম পরিচ্ছেদের ৫৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের এই অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করা হবে।

এদিকে রাজধানীর গুলশানের ১২৩ নম্বর সড়কে মো. সাহাবুদ্দিনের বাসায় পরিচ্ছন্নতার কাজ শনিবারের মধ্যেই শেষ হয়। বাড়ির নিচতলার বসার জায়গাটি নতুন করে রং করা হয়েছে। পরিষ্কার করা হয়েছে আসবাবপত্র। সাবেক রাষ্ট্রপতির গুলশানের বাড়িটিতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গতকাল সকাল থেকেই পুলিশ, র‌্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সেখানে অবস্থান নেয়।

আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর। সে হিসাবে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৮ সালের এপ্রিলে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগে বঙ্গভবন ছাড়ছেন তিনি।