দেশে রাজা আছেন, প্রজা আছেন। রাজারা শাসন করেন, প্রজারা হন শাসিত। তবে সব যুগের বয়ান এক রকম নয়। শাসকরা এখন নিজেদের রাজা বলেন না। কেউ হন প্রেসিডেন্ট, কেউবা প্রধানমন্ত্রী। আধুনিক যুগের শাসকরা বয়ানে বেশ পারঙ্গম। তাদের কথাবর্তায় প্রজাদের প্রতি এক ধরনের সম্মান প্রদর্শিত হয়। তারা বলেন, আমরা তো রাজা নই, জনগণের সেবক মাত্র। দেশের প্রকৃত মালিক তো জনগণই। এভাবে তারা গণতন্ত্রের একটি বয়ান তৈরি করে থাকেন। তবে গণতন্ত্রের রঙ-রূপ সবদেশে এক রকম নয়। ভালো-মন্দের মিশেল তো আছেই। গণতন্ত্রের নামে বিভিন্ন দেশে চাতুর্য, প্রতারণা, দুর্নীতি, জুলুম-নিপীড়ন ও শাসকদের স্বৈরাচারী আচরণ লক্ষ্য করে এখন অনেকেই বলছেন-এমন গণতন্ত্রের চাইতে পুরানো আমলের প্রজাহিতৈষী রাজতন্ত্রই ভালো। এটা আসলে আক্ষেপের কথা। মানুষ তো স্বাধীন থাকতে চায়, সাথে চায় মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদা। এসব দিতে হলে রাষ্ট্রের চরিত্রে পরিবর্তন আনতে হবে, তবে এর আগে পরিবর্তন ঘটতে হবে শাসকের চরিত্রে। বর্তমান সভ্যতায় সংকটটা এখানে। শাসক চমৎকার সব বয়ান উগড়ে দিলেও আপন চরিত্রে পরিবর্তন ঘটায় না। ফলে প্রতারণা ও চাতুর্যের রাষ্ট্রে কাংখিত পরিবর্তন ঘটে না। প্রতিক্রিয়ায় লক্ষ্য করা যায় ক্ষোভ, আন্দোলন এবং দ্রোহ। ফলে অনেক শাসকই মানসম্মান নিয়ে ক্ষমতা হস্তান্তর করার সুযোগও পান না। কেউ কেউ তো প্রাণ বাঁচাতে দেশ থেকে পালিয়ে যান। উপলব্ধি করা যায়, প্রহসনের গণতন্ত্রের প্রতি এখন আর মানুষের কোনো আস্থা নেই।
আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত বিশ্বের বৃহৎ গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই পরিচয়ে কালো দাগ লেগে গেছে। এর কৃতিত্ব অবশ্যই নরেন্দ্র মোদির সরকারকে দিতে হয়। যে কোনো দেশের সরকারের মূল দায়িত্ব হলো, রাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী দেশ পরিচালনা করা। মোদি সরকার কি তা করছেন? গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বৈচিত্র্যের ঐক্যচেতনা এখন ভারতে কতটা কার্যকর? বরং এসবের বদলে উগ্র হিন্দুত্ববাদ ও ঘৃণার রাজনীতি এখন ভারতে প্রবল হয়ে উঠেছে। এর প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে এবার পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনেরও। ফলে পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সংখ্যালঘু ও দরিদ্র নাগরিকদের দুঃসময় চলছে এখন ভারতে।
পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসের যে আকারে পরাজয় ঘটেছে, তাতে অনেকেই বিস্মিত। উল্লেখ্য যে, ভারতের স্বাধীনতার পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসতে সমর্থ হলো দক্ষিণপন্থী দল বিজেপি। এর কারণ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে উঠে আসছে বিজেপি ও তৃণমূলের নানা কর্মকাণ্ড। এছাড়া পশ্চিবঙ্গের বর্তমান যে সমাজ, তার স্বরূপ সম্পর্কেও আলোচনার চেষ্টা করেছেন পর্যবেক্ষকরা। বিজেপি’র বিশেষ পরিকল্পনা এবং প্রশাসনকে ব্যবহার করে নির্বাচন করানোর বিষয়টি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে অনেক লেখালেখি ও আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে উঠে এসেছে, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর)। শুধুমাত্র এই সংশোধনের ফলেই তৃণমূল কংগ্রেস হেরেছে কিনা, এমন প্রশ্নের চাইতেও বড় বিষয় হলো, ৩৫ লাখ মানুষকে তালিকাচ্যুত করে কীভাবে একটি ‘গণতান্ত্রিক’ নির্বাচন হয়? বলা হয়েছিল, বাদ পড়া মানুষের ভোটাধিকার আছে কিনা, তার পরীক্ষা পরে হবে। কিন্তু তাদের এবারের নির্বাচনে কেন বাদ দেওয়া হলো, তার কোনো ব্যাখ্যা নেই।
তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, নির্দিষ্ট আসনে বেছে বেছে এমনভাবে ভোটারদের, বিশেষত সংখ্যালঘুদের বাদ দেওয়া হয়েছে, যাতে তাদের হারানো সম্ভব হয়। বিষয়টি সর্বোচ্চ আদালতের বিবেচনাধীন রয়েছে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস) এবং প্রশাসনকে সঙ্গে নিয়ে বিজেপি দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে যেভাবে নির্বাচনের পরিকল্পনা করেছিল, সে সম্পর্কে তৃণমূল কংগ্রেসের কোনো ধারণাই ছিল না। এছাড়া আরো নানা স্তরে ব্যবহার করা হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রশাসনকে, বিপুল সংখ্যায় মোতায়েন করা হয়েছে আধা-সামরিক বাহিনী। তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, এ সবের ওপর ভোট গণনার সময় নির্বিচারে কারচুপিও করা হয়েছে। এসব অভিযোগের ভিত্তি আছে, তবে তৃণমূলের পরাজয়ের বড় কারণ তৃণমূল নিজেই। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ভারতে হিন্দুত্বের একটা প্লাবন যে আবার ফিরে আসছে, সেটা তৃণমূল সেভাবে বুঝতেও পারেনি। ফলে তারা মন্দির বানিয়ে, ক্লাবের ছেলেদের দুর্গাপুজা করা টাকা দিয়ে, মঞ্চে দাঁড়িয়ে হিন্দু স্তোত্র পাঠ করে, কখনো মুসলিম অঞ্চলে ‘আমি যাব মদিনা’ গান গেয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তৃণমূলের এই কোমল-কৌশল কাজে আসেনি। বিজেপির হিন্দুত্ববাদী প্লাবনের বিপরীতে প্রয়োজন ছিল, একটা সামগ্রিক সর্বভারতীয় বিজেপি বিরোধী জোট তৈরি করা। এমন জোট গঠনের ভালো ভূমিকা পালন করতে পারতো তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু তারা তা করেনি, বরং জোট ব্যর্থ করতে চেষ্টা চালিয়ে গেছে। মমতা বন্দোপাধ্যায় বিষয়টা বুঝলেন, তবে পরাজয়ের পরে। এখন তিনি বলছেন-সব দল, এমন কি বাম ও অতি বামদের নিয়েও জোট গঠনে তিনি উৎসাহী। এমন বাস্তবতায় পর্যবেক্ষকদের প্রশ্ন-কংগ্রেসকে কিছু আসন ছেড়ে দিয়ে নির্বাচনের আগে কেন পশ্চিমবঙ্গে একটা জোট গঠন করলো না তৃণমূল? কংগ্রেস তো তিন শতাংশ ভোট পেয়েছে, আর তৃণমূল ৫ শতাংশে হেরেছে। মমতা ও তার দল সময়ের বার্তা শ্রবণ করেননি। কারণ, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস। তাদের পুরনো সমীকরণ-৭০ থেকে ৭৫ শতাংশ মুসলিম ভোট, ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ হিন্দু ভোট পেয়ে সরকার গঠন করা যাবে। কিন্তু এই সমীকরণ এবার কাজ করেনি। বিশ্লেষকরা এ ব্যাপারে দু’টি কারণ চিহ্নিত করেছেন। ১. এই প্রথম দেখা গেল, মুসলিম সমাজ নির্দিষ্ট অঞ্চলে জোট বেঁধে দুটি দল-‘দক্ষিণবঙ্গে ইন্ডিয়ান সেক্যুলার ফ্রন্ট’ এবং ‘উত্তরবঙ্গে আমজনতা উন্নয়ন পার্টিকে’ ভোট দিয়েছে। চারের দশকে জনাব ফজলুল হকের উত্থানের পর এই প্রথম পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনগোষ্ঠীর দুই নেতা নওশাদ সিদ্দিকী ও হুমায়ুন কবিরের পেছনে দাঁড়ালো মুসলিম সমাজ। ভোটের এই বিভক্তি সুবিধা দিল বিজেপিকে। ফলে হারলো তৃণমূল। ২. হিন্দু ভোট অনেকটাই একত্রিত হয়ে চলে গেল বিজেপির বাক্সে। বিষয়টা তৃণমূল বুঝতেই পারলো না। আসলে মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্কে ফাটল ধরেছিল। মানুষ একেবারে তিতবিরক্ত হয়ে গিয়েছিল তৃণমূলের অঞ্চলভিত্তিক দুর্নীতির কারণে। এতে মানুষ ভিষণ ক্ষুব্ধ ছিল-বিশেষ করে সমাজের নিম্নবিত্ত ও নিম্নবর্ণের মানুষরা, অথচ এরাই ছিল তৃণমূলের প্রধান ভোটার। সরকারি জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের টাকা পেতেও দরিদ্র মানুষদের ঘুষ দিতে হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এর ফলাফল যা হবার তাই হয়েছে। ভিন্ন দেশের চিত্র হলেও, এ থেকে বাংলাদেশের রাজনীতিবিদদেরও শিক্ষা নেওয়ার বিষয় রয়েছে বলে আমরা মনে করি। দুর্নীতির বিষয়টি তৃণমূল নেতৃত্ব বুঝতে পারছিলেন । চুরি হচ্ছে এবং সেটা দল করছে জানার পরও তা রোখার প্রকৃত পথ তাদের জানা ছিল না। ফলে তারা নির্ভর করলেন রাজনীতি ও নির্বাচনবিষয়ক একটি উপদেষ্টা সংস্থার ওপর, যার নাম ‘ইন্ডিয়ানস পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আইপ্যাক)।’ দলের নেতা-কর্মীরা এখন বলছেন, শীর্ষ নেতৃত্বের অতিরিক্ত আইপ্যাকনির্ভরতা দলকে ভেতর থেকে ফাঁকা করে দিয়েছে। ফলে তারা বড় ধরনের ধাক্কা আর সামলাতে পারেনি। ‘আইপ্যাক’ তৃণমূলের ভেতরের খবর নেতৃত্বকে দিচ্ছিল, কীভাবে দল চলবে, প্রচারণা চলছেÑ তার পরিকল্পনাও আইপ্যাক করছিল। এমনকি কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে সেই সিদ্ধান্তও নিচ্ছিল তারা। অর্থাৎ তুণমূল্যের রাজনীতিকে ‘আউটসোসিং’ করে দেওয়া হয়েছিল। কৃত্রিম এই ব্যবস্থা দলটির জন্য ভালো হয়নি বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
তৃণমূল কংগ্রেসের ভুলত্রুটি নিয়েতো কিছু কথা হলো। এবার পশ্চিমবঙ্গের সমাজ বাস্তবতা নিয়েও কিছু বলতে হয়। কলকাতার বিশিষ্ট সাংবাদিক শুভজিৎ বাগচী তার সাম্প্রতিক এক লেখায় উল্লেখ করেছেন, পশ্চিমবঙ্গের সমাজ সম্পর্কে বাইরের বিশ্বের, এমন কি ভারতের অন্য প্রদেশের মানুষেরও ধারণা যে, এরা সাংঘাতিক ‘উচ্চমেধার প্রাণী’, সংস্কৃতি এদের জনজীবনের ভিত্তি এবং সম্প্রদায়িক রাজনীতিকে এরা ঘৃণা করে। এরচেয়ে ভিত্তিহিন ধারণা আর হয় না। বাইরের মানুষ যখন বড় বড় পণ্ডিতকে দেখেনÑ রবীন্দ্রনাথ, সত্যজিৎ রায়,. অমর্ত্য সেন তখন তারা যেটা দেখেন না, সেটা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু জাতীয়তাবাদী পণ্ডিতও অসংখ্যক তৈরি হয়েছেনÑ বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তারিনীচরণ চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রনাথ বসু প্রমুখ। উনিশ শতকে একদিকে যেমন নবজাগরণ হয়েছিল, তেমনি অন্যদিকে হিন্দু জাতীয়তাবাদ ও পুনরুজ্জীবনবাদও মাথা তুলেছিল। এ কারণে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম নির্বাচনে (১৯৫২) বিধানসভার ২৩৮ আসনের মধ্যে দক্ষিণপন্থী দল হিন্দু মহাসভা এবং জনসংঘ (আজকের বিজেপি) ১৩টি আসন পেয়েছিল, বামপন্থী জোট পেয়েছিল ৩৯টি আসন, অর্থাৎ হিন্দুত্ববাদীরা ভোটে পিছিয়ে থাকলেও, ভালোরকমভাবে মাঠে ছিল। এখান থেকে পটপরিবর্তন শুরু হলো। যা এখন উন্নীত হয়েছে ২০৭ আসনে।
সাংবাদিক শুভজিৎ বাগচী পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয় প্রসঙ্গে ‘ক্ষোভ’-এর কথা উল্লেখ করেছেন। কিন্তু এটা কিসের ক্ষোভ? বৃটিশরা গেল, সৃষ্টি হলো পাকিস্তান ও ভারত। বাগচীর ভাষায়, ‘দেশভাগ হয়ে শরণার্থীরা পূর্ব পাকিস্তান থেকে হুহু করে পশ্চিমবঙ্গে ঢুকতে শুরু করলেন। তাদের আশ্রয় দিতে শুরু করলেন বামপন্থীরা। রাতারাতি তাদের জনপ্রিয়তা, বিশ্বাসযোগ্যতা এবং ভোট বাড়লো। আর অন্যদিকে ১৯৪৩-এর মন্বন্তর, তেভাগা আন্দোলন, খাদ্যসংকট ও আন্দোলন থেকে ভূমিহীনদের ভেতর আংশিকভাবে জমিবণণ্টনসহ একাধিক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বামরা ক্ষমতায় এলো। হারিয়ে গেলেন দক্ষিণপন্থীরা, কিন্তু মানুষের মন থেকে কি হারিয়ে গেলেন? একেবারেই নয়।’ ‘দেশভাগের’ বিষয়টা আমাদের উপমহাদেশের রাজনীতিতে বারবার ফিরে আসে। এ সময় হিন্দু ও মুসলিমরা এপারর-ওপার করেছেন। এই জনসংখ্যাটি নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়ার কারণে ক্ষুব্ধ। রাজনীতিও ইতিহাসেরদায়ভারটা একেকজন একেকভাবে চাপাচ্ছেন। যেমন, পশ্চিমবঙ্গের বুদ্দিজীবীদের কেউ কেউ বলছেন, দেশ ভাগের কারণে শরণার্থী হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গের অনেকেই ‘পূর্ব পাকিস্তান’ তথা বাংলাদেশের মুসলমানদের ওপর ক্ষুব্ধ। ‘অনুপ্রবেশ’ ও ‘পুশব্যাক’ শব্দগুলোও রাজনীতিতে যুক্ত হয়ে গেছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে এবার এই বিষয়গুলোকে ব্যবহার করেছে বিজেপি। সাম্প্রদায়িক এই কৌশল নির্বাচনে ভালো কাজ করেছে। প্রশ্ন হলো, ‘দেশভাগ’-এর কারণে যেসব মুসলমান পশ্চিমবঙ্গ থেকে তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানে আসতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে কি ক্ষোভ নেই? রাজনীতি ও ইতিহাসের দায়ভার আমরা কিভাবে কার ওপর চাপাবো? সাম্রাজ্যবাদী ও আগ্রাসীশক্তি অতীতেও বিশ্বে সংকট সৃষ্টি করেছে এখনও করছে। প্রশ্ন হলো, এমন বাস্তবতায় মানুষ কী করবে? মানুষ কি সাম্রাজ্যবাদীদের উসকে দেয়া সাম্প্রদায়িকতা ও বর্ণবাদকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হবে, খণ্ড-বিখণ্ড হয়ে হিংসা-বিদ্বেষের আগুনে জ্বলেপুড়ে করবে? নাকি ন্যায়ের চেতনায়, মানবিক বিবেচনায় আপন আপন অঙ্গনে মানুষের মতো বাঁচার চেষ্টা করবে? এ পথে চলতে গেলে রাজনৈতিক চাতুর্যের ওপর আমাদের স্থান দিতে হবে সত্যকে।