এ্যাডভোকেট আবু হাসিন
আজ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস; যা সচরাচর মে দিবস নামে অভিহিত। দিনটি শ্রমিকদের দাবি আদায়ের ক্ষেত্রে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। এ দিন শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের রক্তস্নাত ঐতিহাসিক দিন; যা ইতিহাসের পাতায় চিরস্মরণীয় হয়ে আছে । দিনটি প্রতি বছর ১ মে শ্রমিক দিবস হিসেবে বিশ্বব্যাপী উদযাপিত হয়ে আসছে। মূলত,এটি আন্তর্জাতিক শ্রমিক আন্দোলনের উদ্যাপন দিবস। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে শ্রমজীবী মানুষ এবং শ্রমিক সংগঠনসমূহ রাজপথে সংগঠিতভাবে মিছিল ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটি পালন করে থাকে। ভারত ও বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় ৮০টি দেশে ১ মে জাতীয় ছুটির দিন। আরো অনেক দেশে এটি বেসরকারিভাবে পালিত হয়। বাংলাদেশেও এটি পালিত হয়ে আসছে কালের পরিক্রমায়।
মে দিবস ইতিহাসের অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যময় দিন। দিনটি শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন এবং রক্তের মূল্যে অধিকার আদায়ের স্মারক। দিবসটির প্রেক্ষাপট সৃষ্টি হয়েছিল শ্রমিক সমাজের দীর্ঘদিনের শোষণ-বঞ্চনার ইতিহাস থেকে। অবহেলিত, উপেক্ষিত, অধিকার বঞ্চিত, শোষিত মানুষের নির্ভিক উচ্চারণের দিনের নাম ‘মে দিবস’ বা ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’। এদিন আন্দোলন করে দাবি আদায়ের দিন; মে দিবস দুনিয়ার শ্রমিকদের এক হওয়ার বা ঐক্যবদ্ধ হওয়ার দিন। শ্রমিক সমাজের নায্য অধিকার আদায়ের অঙ্গীকারের মাধ্যমেই এ রক্তাক্ত আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। আর শেষ বিজয় হয়েছিল শ্রমিকদেরই। যা বিশ্ব ইতিহাসে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এবং অদ্বিতীয় ঘটনা, যা শ্রমিক আন্দোলনের পথচলাকে চিরস্মরণীয় করে রেখেছে।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে শ্রমিকরা সব সময়ই অবহেলিত ও অধিকার বঞ্চিত। কায়েমী স্বার্থবাদীরা এসব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ব্যবহার করে অর্থ-বিত্তের প্রাচুর্য সৃষ্টি করতে সক্ষম হলেও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় তারা সব সময়ই ছিলো উদাসীন। তাই শ্রমিক ও মালিক শ্রেণি সব সময়ই ছিলো মুখোমুখি অবস্থানে। সার্বিক দিক পর্যালোচনায় দেখা যায়, ঊনিশ শতকের শেষার্ধ পর্যন্ত শ্রমিকদের ছিল না কোনো ন্যায্য মজুরির নিশ্চয়তা, ছিল না কাজের নির্দিষ্ট সময় সীমা। এমনকি তাদের ন্যুনতম মজুরী থেকেও বঞ্চিত করা হতো। এক কথায় অধিকার বলতে তাদের কিছুই ছিল না। ছিল না শ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন। সবকিছুই ছিল বিশেষ পক্ষের দয়া ও অনুগ্রহ নির্ভর। নায্যতা তাদের কাছে ছিলো সব সময়ই অধরা। মালিকরা তাদের খেয়ালখুশি মতো শ্রমিকদের দৈনিক ১২ থেকে ১৬ ঘন্টা পর্যন্ত একটানা শ্রম দিতে বাধ্য করতেন। কিন্তু তাদের নায্য পারিশ্রমিকও মিলতো না। সে জুলুমের প্রতিবাদেই ১৮৮৬ সালের ১ মে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো শহরে অনেক শ্রমজীবী মানুষ গড়ে তুলেছিলেন এক দুর্বার ও অপ্রতিরোধ্য শ্রমিক আন্দোলন। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের ১১ হাজার ৫৬২টি শিল্পকারখানাসহ সব শিল্পাঞ্চলে আট ঘণ্টা কাজের দাবিতে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন শ্রমিকরা। ফলে আন্দোলনরত শ্রমিকদের নির্মম পরিণতি বরণ করতে হয়েছিল। যা ছিলো ইতিহাসের এক রক্তাক্ত ও কলঙ্কিত অধ্যায়।
সেদিন শিকাগো শহরের ‘ হে’ মার্কেট উত্তাল হয়ে ওঠেছিল বিক্ষুব্ধ লাখো শ্রমিকের পদভারে। শ্রমিক বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছিলো সমগ্র শিকাগো নগরী। কিন্তু ক্ষমতাসীনরা শ্রমিকদের নায্য আন্দোলনকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেয়নি বরং বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ওপর বিনা উসকানিতে নির্বিচারে গুলী চালিয়েছিল সরকারের পুলিশ বাহিনী। ফলে ওই দিনই নিহত হয়েছিলেন ১০ জন বিক্ষুব্ধ শ্রমিক। আহত হন হাজার হাজার কর্মজীবী মানুষ। তবুও আন্দোলনরত শ্রমিকরা দমে যাননি বা পিছু হটেনি বরং তারা তাদের চলমান আন্দোলন অব্যাহত রেখেছিলেন। এরপর ৩ মে রিপার কারখানার সামনে প্রতিবাদ সভায় পুলিশের গুলীতে প্রাণ হারান আরো ছয়জন শ্রমিক। এসব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ৪ মে শিকাগোর ‘ হে’ মার্কেট স্কয়ারে বিশাল শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। যা ছিলো স্মরণকালের সর্ববৃহত শ্রমিক সমাবেশ।
তারপরও কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের দাবির প্রতি নমনীয় বা শ্রদ্ধাশীল হয়নি বরং সমাবেশে আবারো হামলা চালায়ে বসে সরকারের পুলিশ বাহিনী। এ হামলায় চারজন শ্রমিক ও সাত পুলিশ নিহত হয়। আন্দোলনে অংশ নেয়ায় গ্রেফতার করা হয় অগণিত শ্রমিককে। গ্রেফতারকৃত ছয়জন শ্রমিককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। কারাগারে আটকে রেখে নির্মম নির্যাতন করা হয় হাজার হাজার শ্রমিকের ওপর। ‘হে’ মার্কেটের শ্রমিকদের আত্মত্যাগ ও রক্তস্নাত প্রতিরোধ যুদ্ধে এবং আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে দৈনিক কাজের সময় আট ঘণ্টা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের ঐতিহাসিক বিজয় অর্জিত হয়। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর শোষণ থেকে মুক্তি পেতে অধিকার আদায়ের সংগ্রামের এদিনে শ্রমিকরা বুকের রক্ত ঝরিয়ে সৃষ্টি করেছিলেন এক নতুন উপাখ্যান। যা ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় ও অম্লান।
এ মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে ১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত ‘দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক’ শ্রমিক সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর রক্তঝরা অর্জনকে স্বীকৃতি দিয়ে ‘১লা মে’ তারিখকে ঘোষণা করা হয় ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’। সে সিদ্ধান্তে ১৮৯০ সাল থেকে প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয়ে আসছে ‘মে দিবস’। ঐতিহাসিক ও মহান ‘মে দিবস’ শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের এবং বিশ্বের শ্রমজীবী মানুষের আন্তর্জাতিক সংহতি প্রকাশের দিন; অধিকার আদায়ের স্মারক। যা ইতিহাসের পাতায় চির অম্লান।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, শ্রমিক সমাজ সব সময়ই উপেক্ষিত ও অধিকার বঞ্চিত থেকেছে। অধিকার আদায়ে অনেক আন্দোলন-সংগ্রাম হলেও কর্তৃপক্ষ তাদের প্রতিবাদকে কোন ভাবেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখেনি বরং দলন-পীড়নই ছিলো তাদের নিয়তি। বস্তুত, শ্রমজীবী মানুষদেরকেই শ্রমিক শ্রমিক হিসাবে বিবেচনা করা হয়। শুধু পরিবহন, পোশাক কিংবা কলকারখানায় কাজ করা, নিম্নপদস্থ মানুষকে শ্রমিক হিসেবে গণ্য না করে কায়িক পরিশ্রম করা মানুষকেই শ্রমিক হিসেবে দেখা যেতে পারে। হোক তিনি দিনমজুর কিংবা চাকরিজীবী বা ব্যবসায়ী। মূলত, যারা বিভিন্নভাবে শ্রম বিক্রি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন তারাই শ্রমিক। সঙ্গত কারণে আমরা প্রত্যেকেই এক একজন শ্রমিক। তাই আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত শ্রমিকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা ও নায্য অধিকার আদায়ে সদা সচেষ্ট থাকা। কারণ, আমরা প্রায় প্রত্যেকেই শ্রমের মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। তাই শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে আমাদের প্রত্যেককেই সচেষ্ট ও সচেতন থাকতে হবে। মূলত, এটিই হচ্ছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের গুরুত্ব ও তাৎপর্য।
মূলত, ন্যায়-ইনসাফভিত্তিক ইসলামী শ্রমনীতি না থাকার কারণেই শ্রমিকরা আজও তাদের নায্য অধিকার ফিরে পাননি। অথচ ইসলামে শ্রমিকদের সর্বোচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত করা হয়েছে। হাদিসে রাসূল (সা.)-এ শ্রমিকদের মর্যাদা সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘শ্রমিকরা আল্লাহর বন্ধু’। অনত্র শ্রমিকদের গায়ের ঘাম শুকানোর আগেই তাদের পারিশ্রমিক পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই শ্রমিকদের অধিকার আদায় ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলামী শ্রমনীতি অনুসরণের কোন বিকল্প নেই। আর শ্রমিকদের অধিকার বঞ্চিত ও অবহেলিত রেখে কোনভাবেই শিল্পের বিকাশ সম্ভব নয়। শিল্পবিকাশ না ঘটলে কোন জাতির সামনের দিকে এগুতে পারে না। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই দেশের শ্রমিক সমাজের যথাযথ মূল্যায়ন করতে অবশ্যই ইসলামী আদর্শ ও মূল্যবোধ অনুসরণ করতে হবে। তাদেরকে অবহেলিত ও উপেক্ষিত রেখে কোন ভাবেই জাতিকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।
দেশে প্রতিবছর ঘটা করে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পালন করা হলেও আজও আমাদের দেশে শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ নিরাপদ করা সম্ভব হয়নি। ফলে তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়েই জীবিকা অন্বেষণ করতে বাধ্য হন। অনেক সময় তাদেরকে অকাতরে জীবন ও বিলিয়ে দিতে হয়। ঘটনার ধারাবাহিকতা সেদিকেই অঙ্গুলী নির্দেশ করে। উল্লেখ্য, গত ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারের রানা প্লাজায় পোশাক তৈরি কারখানা ভবন ধসে পড়ে। এতে পাঁচটি পোশাক কারখানার এক হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক প্রাণ হারান। আহত হয় সহস্রাধিক শ্রমিক। তাদের মধ্যে অঙ্গ হারিয়েছেন ২৭ জন।
২০০৫ সালের ১১ এপ্রিল সাভারের পলাশবাড়ির শাহরিয়ার ফ্যাব্রিকস ইন্ডাস্ট্রিজ ও স্পেকট্রাম সোয়েটার ইন্ডাস্ট্রিজের ভবন ধসে ৬২ জন শ্রমিকের মৃত্যু, ২০১০ সালে ১ জুন তেজগাঁও এলাকার বেগুনবাড়িতে ভবনধসে ২৫ জনের মৃত্যু, ২০১২ সালের নভেম্বরে আশুলিয়ার তাজরীন গার্মেন্টস ভবনে অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক শ্রমিকের মৃত্যু, আশুলিয়ার প্রাণকেন্দ্রের একটি ভবনধসে কয়েকজনের মৃত্যু এবং গাজীপুরসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিক প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পুরান ঢাকার চকবাজার ও বনানীর বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিকসহ অনেকের প্রাণহানীর মতো হৃদয়বিদারক ঘটনা আমাদের দারুণভাবে শোকাহত ও বেদনাহত করে রেখেছে। কিন্তু এতোকিছুর পরও আমাদের দেশে শ্রমিকরা নিজেদের কর্মপরিবেশে আজও অনিরাপদই রয়ে গেছেন। ফলে জাতীয় উন্নয়নের সম্মুখযোদ্ধারা আজও অধিকার বঞ্চিতই রয়ে গেছেন।
মূলত, নায্য অধিকার আদায়, জাগরণ ও শোষণমুক্তির অঙ্গীকারই হচ্ছে মে দিবসের অঙ্গীকার। জীবন দানের বিনিময় শ্রমিকদের সে দাবি আজ বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। আমাদের দেশেও এ দিনটি পালন করা হয়। কিন্তু শ্রমিকরা আজও অবমূল্যায়িতই রয়ে গেছেন; বৈষম্যের শিকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত। অথচ এসব শ্রমিক জাতীয় উন্নয়ন অন্যতম কারিগর। কিন্তু তারা আজো যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছেন না।
বস্তুত, বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নতির মূলে প্রান্তিক শ্রমিক শ্রেণির অবদানের কথা অনস্বীকার্য। তাই মালিক ও শ্রমিক পক্ষের মধ্যে সেতুবন্ধন রচনা করে শ্রমিকবান্ধব শ্রমনীতি প্রণয়নের কোন বিকল্প নেই। পরিবহন শ্রমিক, পোশাক শ্রমিক, বিভিন্ন শিল্প কলকারখানার শ্রমিকসহ ক্ষুদ্র থেকে বৃহত্তর সব কর্মকাণ্ডের নিয়োজিত সব শ্রমিকের সামগ্রিক স্বার্থ ও সঠিক মর্যাদা রক্ষার্থে মালিক পক্ষকে সব গাফিলতির ঊর্ধ্বে উঠে ন্যায্য মজুরি প্রদান শ্রমিকসেবা নিশ্চিত ও ত্বরান্বিত করা জরুরি।
মূলত, ইসলামী শ্রমনীতিই পারে মালিক ও শ্রমিক সমাজের সকল নায্য অধিকারের নিশ্চয়তা প্রদান করতে। আর যেদিন শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষিত হবে সেদিনই মহান ‘মে দিবস’ তথা আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবসের অঙ্গীকার সফল ও স্বার্থক হয়ে উঠবে। অন্যথায় তা শুধু কথামালার ফুলঝুরির মধ্যেই থাকবে সীমাবদ্ধ। যা জাতীয় উন্নয়ন ও অগ্রগতির ক্ষেত্রে বড় ধরনের অন্তরায়! যা অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত।
তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত শ্রমিকদের অধিকার আদায়ে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সোচ্চার হওয়া। কারণ, দেশের শ্রমজীবী মানুষকে অধিকার বঞ্চিত ও অবহেলিত রেখে কোন ভাবেই সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। মূলত, শ্রমিক সমাজই হচ্ছে আমাদের জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম নিয়ামক ও জীবনীশক্তি। আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধেও আমাদের শ্রমিক সমাজ অসামান্য অবদান রেখেছেন। অনেকে শহীদও হয়েছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, স্বাধীনতার পর কোন সরকারই শ্রমিক সমাজকে যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেনি। ফলে তারা আজও অবহেলিত, উপেক্ষিত ও অধিকার বঞ্চিত। তাই সময় এসেছে শ্রমিক শ্রেণির মানুষের যথাযথা মূল্যায়ন করার। অন্যথায় আমরা একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্চ মোকাবেলায় সক্ষম হবো না বরং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা রীতিমত পিছিয়ে পড়বো; যা হবে আত্মঘাতি।
লেখক : আইনজীবী ও প্রাবন্ধিক।