এ্যাডভোকেট আবু হাসিন
প্রায় ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী, স্বৈরাচারি ও মাফিয়াতান্ত্রিক অপশাসন-দুঃশাসন থেকে আমাদের মুক্তি মিলেছিলো ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে। বিজয়টা মোটেই সহজসাধ্য ছিলো না বরং অর্জিত হয়েছিলো হাজারো প্রাণের বিনিময়ে এক রক্তাক্ত পথ পেরিয়ে। হাজার হাজার মানুষ আহত ও বিকলাঙ্গ হয়ে পড়েছিলেন সে বিপ্লবে। অনেকেই দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে স্থায়ীভাবে অন্ধত্ব বরণ করেছিলেন। আশা করা হয়েছিলো যে, ছাত্র-জনতার এমন আত্মত্যাগের বিনিময়ে জাতির ঘাড় থেকে অগণতান্ত্রিক অপশক্তি চিরতরে বিদায় নিয়েছে এবং দেশে একটি ইতিবাচক রাজনীতির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অনেক আশা ও স্বপ্ন নিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য জুলাই চেতনাকে ভিত্তি ধরেই প্রণীত হয়েছিলো জুলাই ঘোষণা ও সনদ। এ সনদের সাংবিধানিক ভিত্তি দিতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিলো গণভোট। গণভোটে জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে ব্যাপক গণরায় প্রদান করেছিলো। মনে করা হয়েছিলো জুলাই সনদকে আইনি রূপ দেওয়ার মাধ্যমে রাষ্ট্রাচারের ইতিবাচক সংস্কার এবং ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার পথ চিরতরে রুদ্ধ হতে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক হলেও আমাদেরকে আশাহত হতে খুব একটা সময় লাগেনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকার এখন অতীতের সবকিছু অস্বীকার করতে কসুর করছে না। এমনকি যেপথ ধরে তারা ক্ষমতায় এসেছেন, সে পথকেও তারা বিতর্কিত করতে কসুর করছে না। ফলে জুলাই সনদের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। আমাদের অভিযাত্রা শুরু হয়েছে রীতিমত পেছন দিকে। সে ধারাবাহিকতায় দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোও রীতিমত পুরনো চেহারায় ফিরতে শুরু করেছে।
আওয়ামী-ফ্যাসিবাদী আমলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেই পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিলো। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার ন্যুনতম কোন পরিবেশ ছিলো না। প্রায় ১৬ বছর দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে রীতিমত মিনি ক্যান্টনমেন্টে পরিণত করা হয়েছিলো। ক্যাম্পাসগুলোতে তৈরি করা হয়েছিলো এক ভীতিকর পরিবেশ। সবকিছুর নিয়ন্ত্রণ ছিলো পতিত সরকার সমর্থিত ছাত্রলীগের। ফলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে লেখাপড়ার তেমন কোন সুযোগ ছিলো না। হলগুলো দখল নিয়ে রীতিমত সিট বাণিজ্য করতো সরকারি দলের ছাত্রসংগঠন। সেখানে ভিন্নমতের কোন স্থান ছিলো না। হলে হলে ভিন্নমতের শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করা হতো। আর এভাবেই নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়েছিলো বুয়েটের মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে। দর্জি দোকানী বিশ্বজিৎও রেহাই পাননি তাদের জিঘাংসা থেকে। কিন্তু জুলাই বিপ্লবের ফ্যাসিবাদের পতনের মাধ্যমে নতুন আশাবাদের সৃষ্টি হয়েছিলো। মনে করা হয়েছিলো দেশে সুস্থ্যধারা ও ইতিবাচক রাজনীতি ফিরে আসবে। কিন্তু সরকারি দলের নেতিবাচক মনোবৃত্তির কারণে আমাদের সে আশা-আকাক্সক্ষা রীতিমত ধুলিস্যাৎ হতে চলেছে। ইতোমধ্যেই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো আবার পুরনো অশুভ বৃত্তের দিকে হাঁটতে শুরু করে। যা অনাকাক্সিক্ষত ও অনভিপ্রেত।
এমতাবস্থায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারের লড়াই নতুন করে তীব্র হয়ে উঠেছে। ফলে ক্যাম্পাসগুলোতে নতুন করে সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাতীয় রাজনীতির পটপরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে ক্যাম্পাসগুলোতে, যেখানে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল সমর্থিত ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যকার সংঘাত সাধারণ শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। শুধু ছাত্ররাজনীতিই নয়, শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের পুরনো সংস্কৃতি এখন আরো প্রকট আকার ধারণ করেছে। এমনকি নির্বাচিত ছাত্র সংসদকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন স্বাধীনভাবে কাজ করতে দিচ্ছে না। ফলে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে নতুন করে সহিংসতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এমনকি তা এখন রীতিমত উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে অন্তত ২০-২৫টি বড় ধরনের সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। হল দখল, প্রশাসনিক ভবনে হামলা এবং ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষাকার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে। বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় রাজনীতির দ্বন্দ্ব যখন ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তা কেবল সহিংসতার জন্ম দেয় না, বরং শিক্ষার মূল উদ্দেশ্যকেও ব্যাহত করে। প্রতিপক্ষ ঘায়েল করার জন্য নানা ধরনের অপবিশেষণ ও ট্যাগ লাগানো হচ্ছে। যা আগামী দিনের রাজনীতিকে সমস্যা সঙ্কুল করে তুলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সে ধারাবাহিকতায় ছাত্র রাজনীতিতে ফিরতে শুরু করেছে নেতিবাচক ধারা। সম্প্রতি ‘গুপ্ত’ বা ছদ্মনামীয় রাজনীতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পরিস্থিতিকে জটিল ও অস্থির করে তুলেছে। সরকার সমর্থিত ছাত্রদলের অভিযোগ করছে, শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে ব্যবহার করে ‘ছদ্মনামে’ হলের ভেতরে অবস্থান নিচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘বট আইডি’ ব্যবহার করে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কিন্তু এমন অভিযোগকে সংশ্লিষ্টরা মোটেই যৌক্তিক ও কাক্সিক্ষত মনে করছেন না। অবশ্য শিবির এসব অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তারা প্রকাশ্যে কাজ করতে পারেনি। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে ক্যাম্পাসে তাদের কল্যাণমূলক কাজের জন্যই তারা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সমর্থন পাচ্ছে। আর তাদের এ দাবির পক্ষে যথেষ্ট যৌক্তিকতা রয়েছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।
চলমান বৈরী সম্পর্কের প্রতিফলন দেখা গেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বড় ক্যাম্পাসগুলোতে, যেখানে দেয়াল লিখন ও সাইবার যুদ্ধ এখন প্রকাশ্য সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। রাজনৈতিক অঙ্গনেও এর প্রভাব পড়েছে যথারীতি। বিএনপির নেতা ও সংসদ সদস্য শাহাদাত হোসেন সেলিম এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, ‘একটি ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করতে ছদ্মনামে গুপ্ত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। তাদের এ গোপন অবস্থান ও ভিন্নমতাবলম্বীদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারই সাম্প্রতিক অস্থিরতার মূল কারণ।’ অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষে পাল্টা অভিযোগ করে বলা হয়েছে, ‘ক্ষমতাসীন দলের ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করতে চায়। সরকারের উচিত এখনই কঠোর হওয়া, অন্যথায় এর দায়ভার তাদেরই নিতে হবে।’ আর সরকার ও বিরোধীদের এমন দ্বিমূখী ও মুখোমুখি অবস্থানের কারণেই সার্বিক পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে শুরু করেছে।
দেশের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এমন সংঘাতময় পরিস্থিতিকে ‘অশনিসঙ্কেত’ হিসেবে দেখছেন এবং যেকোন মূল্যে ছাত্র রাজনীতিতে সংঘাতময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দিচ্ছেন; যা জনগণের মনোভাবেরই প্রতিফলন। রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী মনে করেন, রাজনৈতিক সংস্কার যদি যথাযথভাবে না হয়, তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো আবার ‘নিয়ন্ত্রণমূলক রাজনীতির’ কবলে পড়বে। এতে গণতান্ত্রিক চর্চা এবং মুক্তবুদ্ধির বিকাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনে যখন দলীয় বিবেচনা মেধার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়ায়, তখন শিক্ষার মান ধ্বংস হয়ে যায়। তবে একথা ঠিক যে, জাতীয় পর্যায়ের সংঘাত তৃণমূল বা শিক্ষাঙ্গন পর্যায়ে সহিংসতাকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। যা দেশ ও জাতির জন্য মোটেই কল্যাণকর নয়।
শিক্ষাবিদরা আশঙ্কা করছেন, পরিচালনা পর্ষদে যোগ্যতার মান কমিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় লোক নিয়োগ করলে শিক্ষাঙ্গনে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ স্থায়ী রূপ নেবে। তারা মনে করেন, বাংলাদেশের শিক্ষাখাতের মূল সমস্যা শুধু সহিংসতা নয় বরং কাঠামোগত দুর্বলতা। গবেষণায় বিনিয়োগের অভাব এবং জরাজীর্ণ অবকাঠামোর সাথে যখন রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি যুক্ত হয়, তখন সঙ্কট বহুমাত্রিক রূপ নেয় এবং এক সময় তা পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিজ্ঞমহল মনে করে, ছাত্ররাজনীতি থাকতে পারে, তবে তা হওয়া উচিত ইতিবাচক ও সহিংসতামুক্ত। কিন্তু বর্তমানে ‘অন্ধ আনুগত্যের’ যে সংস্কৃতি দেখা যাচ্ছে, তা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধাকে ধ্বংস করছে। যা আমাদের ভবিষ্যতের জন্য অশনিসংকেত।
বর্তমান সরকার অবশ্য শিক্ষাকে রাজনীতিমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না। আমরা শিক্ষা নিয়ে রাজনীতি নয়, বরং শিক্ষা দিয়ে রাষ্ট্র গঠন করতে চাই।’ তবে প্রতিমন্ত্রীর এ দৃঢ় অঙ্গীকারের বিপরীতে মাঠপর্যায়ের চিত্র এখনো ভিন্ন। তিনি তার কথায় আন্তরিক হলে আমাদের পুরো শিক্ষাব্যবস্থায় কলুষমুক্ত হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রেই সরকারি প্রতিশ্রুতির পূর্ণ বাস্তবায়ন দেখা যাচ্ছে না। ফলে সমস্যা যে তিমিরে ছিলো সে তিমিরেই রয়ে যাচ্ছে।
মূলত, নির্বাচন-পরবর্তী এ উত্তাল সময়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে যদি দলীয় প্রভাব ও ক্ষমতার লড়াই থেকে মুক্ত রাখা না যায়, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জ্ঞানচর্চা ও গবেষণা অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষাঙ্গনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এখন কেবল সময়ের দাবি নয়, বরং জাতীয় অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন। তাই এ বিষয়ে সকল রাজনৈতিক শক্তিকে ইতিবাচক হতে হবে। হানাহানী আর অস্থিরতার মাধ্যমে কোন কিছুই অর্জন করা সম্ভব নয়।
মূলত, নতুন সরকার গঠনের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েই নানাবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচিত ডাকসুকে যথারীতি ফাংশন করতে দিচ্ছে না। বাধা দেওয়া হচ্ছে ডাকসুর উন্নয়ন কার্যক্রমে। এমতাবস্থায় সরকার ও বিরোধী দল সমর্থিত ছাত্র সংগঠন এখন রীতিমত মুখোমুখি অবস্থানে। যা কোন সুসংবাদ নয়।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। আর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষকরা হলো সে মেরুদণ্ডের প্রাণশক্তি। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সহিংসতা ও অপরাজনীতি মুক্ত করতে হবে। জাতিকে এভাবেই বিভক্ত রেখে কোন জাতিই সামনের দিকে এগুতে পারে নি আর কখনো পারবেও না। তাই এ বিষয়ে সরকারকেই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে। বিরোধীদেরও করতে হবে সার্বিক সহযোগিতা। শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতা ও অস্থিরতা কোন ভাবেই কাম্য নয়।
লেখক : আইনজীবী ও প্রাবন্ধিক।