ইরানের ওপর মার্কিন হামলার কারণে খুবই সংকটময় পরিস্থিতিতে রয়েছে বিশ্বের তেলের বাজার। অপরিশোধিত তেলের মূল্য অনেকখানি বেড়েছে। অন্যদিকে তেল রপ্তানিকারক দেশ সমূহের সংস্থা ওপেকে সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ঐক্যবদ্ধ থাকার কথা থাকলেও সপ্তাহ খানেক আগে সংস্থার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত ওপেক ত্যাগের ঘোষণা দিয়েছে। কেন ওপেকে এ সংকট সৃষ্টি হলো এ নিয়ে ভাবছেন বিশ্লেষকরা। তারা বলছেন নানা কথা।
যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের স্থাপনাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়ায় এবং ইরান-মার্কিন প্রথম দফা শান্তি আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন বাহিনীর অবরোধ আরোপ করায় বৈশ্বিক এ সংকটের সৃষ্টি। হরমুজ প্রণালি বিশ্ব তেল সরবরাহের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ। এ জলসীমা দিয়ে বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল রপ্তানি করা হয়। আর এর অধিকাংশই আসে এশিয়ার দেশগুলোতে।
আপাতত যুদ্ধ থেমে থাকলেও স্থায়ীভাবে বন্ধের কোন আলামত নেই। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কথায় আস্থা রাখতে পারছে না ইরান। আর ট্রাম্পও তার সিদ্ধান্তে কোনো স্থিরতা দেখাতে পারছেন না। বিশ্লেষকদের মতে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে সামরিক হামলার ঘটনার পর নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। এ অস্থিরতা তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বিদ্যমান ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে এখন বিশ্ব জ্বালানি পরিস্থিতি এতটাই নাজুক হয়ে পড়েছে যে এটা এখন রাষ্ট্রমাত্রই বড় মাথাব্যথার কারণ। আমাদের দেশ তো বটেই আশপাশের দেশগুলোতেও জ¦ালানি মূল্য বেড়ে গেছে।
ওপেক দীর্ঘদিন ধরেই সংকটে। ওপেকের আগের সেই ঐক্য আর নেই। ২৮ এপ্রিল ওপেক থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত। ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন হামলা শুরুর ২ মাসের মাথায় এ সিদ্ধান্ত নিল দেশটি। ওপেক-এর তৃতীয় বৃহত্তম উৎপাদক সংযুক্ত আরব আমিরাত ঘোষণা করে যে তারা ১ মে, ২০২৬ থেকে কার্যকরভাবে ওপেক এবং ওপেক প্লাস থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। আমিরাত জানায় যে তারা ওপেক-এর নিয়ন্ত্রণের বাইরে তেল উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবে, যা পূর্ববর্তী বছরগুলিতে আলোচিত একটি বিকল্প ছিল।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা এবং জ্বালানি সংকটের মধ্যে এটি একটি বড় এক সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমিরাতের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অন্যদিকে ইরান এই ঘটনায় সমালোচনা করেছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিদ্যমান উত্তেজনার মধ্যে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, সদস্য দেশগুলোর প্রতি নেতিবাচক বা প্রতিশোধমূলক প্রতিক্রিয়া হিসেবে আরব আমিরাতের জোট ত্যাগ করা কোনোভাবেই গঠনমূলক নয়।
ইউএইর রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিইএএম জানিয়েছে, এ সিদ্ধান্ত দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কৌশলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ ঘোষণার কারণে ওপেক বড় ধাক্কা খাবে, বিশেষ করে সৌদি আরবের জন্য শঙ্কা বাড়তে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। সংস্থাটি আরও জানায়, বর্তমান সিদ্ধান্তের পেছনে জাতীয় স্বার্থ এবং বাজারের জরুরি চাহিদা পূরণের বিষয়টি রয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, আরব উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিতে সরবরাহ বিঘ্নের কারণে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এ প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে হঠাৎ করে আরব আমিরাত কেন ওপেক ত্যাগ করল? বিষয়টি কি শুধু তেলের না সংহতির বিষয় যুক্ত? না আরকিছু? এমন প্রশ্ন করছেন আল জাজিরার বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে আলোচনার আগে ওপেকের বিষয়ে কিছু বলে নিই। পাঠকের সুবিধে হবে। ১৯৬০ সালে ইরাকের রাজধানী বাগদাদে প্রতিষ্ঠিত হয় অরগানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিস (ওপেক)। ওপেক সদস্যরা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশের বেশি উৎপাদন করে, যা জোটটিকে তেলবাজারের সবচেয়ে শক্তিশালী খেলোয়াড়ে পরিণত করেছে। ১৯৭০-এর দশকে ওপেক বিশ্ব তেলের ৫০ শতাংশের বেশি উৎপাদন নিয়ন্ত্রণ করত, যা পরে উত্তর সাগরসহ ওপেক-বহির্ভূত উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে কমে যায়। পরবর্তী দশকগুলোতে ওপেকের বাজার অংশীদারিত্ব ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করে। তবে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী উৎপাদনকারীদের রেকর্ড উৎপাদন এই অংশীদারিত্ব ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয়।
ওপেক গঠনের সময় বৈশ্বিক তেলের বাজারের নিয়ন্ত্রণ ছিল পশ্চিমা কিছু তেল কোম্পানির হাতে, উৎপাদন থেকে দাম সবকিছুই ছিল তাদের নিয়ন্ত্রণে। এ পরিপ্রেক্ষিতে তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো নিজেদের নীতিসমন্বয়, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা ও সম্পদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ওপেক গঠন করে। এই জোট গঠনের মূল লক্ষ্য ছিল সদস্যদেশগুলোর তেলনীতি সমন্বয় করা, উৎপাদকদের জন্য স্থিতিশীল ও ন্যায্য দাম নিশ্চিত করা, ভোক্তাদের জন্য নিয়মিত সরবরাহ বজায় রাখা ও বিনিয়োগকারীদের জন্য যুক্তিসংগত মুনাফা নিশ্চিত করা। বাস্তবে ওপেকের কার্যক্রম অনেকটাই নির্ভর করে উৎপাদন কোটার ওপর। সদস্যদেশগুলো নিয়মিত বৈঠকে বসে ঠিক করে, কে কত তেল উৎপাদন করবে। উৎপাদন কমলে বৈশ্বিক সরবরাহ কমে গিয়ে দাম বাড়ে আর উৎপাদন বাড়লে সরবরাহ বাড়ে ও দাম কমে। এভাবেই বৈশ্বিক জ্বালানিবাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলে তারা।
ওপেক প্লাস ওপেকের মতোই তেল উৎপাদকদের একটি সহযোগী সংস্থা, যার জন্ম ২০১৬ সালে। বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেলের বাজারকে আরও ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য এটি গঠিত হয়েছিল। কানাডা, মিশর, নরওয়ে এবং ওমান পর্যবেক্ষক হিসাবে কিছু বৈঠকে অংশ নিয়েছে। ওপেকের প্রভাব পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে রাশিয়াসহ ১০টি অ-সদস্য দেশকে নিয়ে এ জোট গঠন করা হয়, যার নাম দেওয়া হয় ওপেক প্লাস। এর ফলে ২০২৫ সালে এই জোটের বাজার অংশীদারিত্ব বেড়ে প্রতিদিন প্রায় ৫১ দশমিক ১৫ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছে যায়, যা বৈশ্বিক তেল ও তেলজাত উৎপাদনের প্রায় ৫০ শতাংশ।
তেলের ‘বাজারে স্থিতিশীলতা’ বজায় রাখতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে খবর। তেলের উৎপাদন বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া ও সৌদি আরবসহ ওপেক প্লাসভুক্ত সাতটি দেশ । ওপেক প্লাস দেশগুলো জানিয়েছে, জুন মাস থেকে উৎপাদন বৃদ্ধি শুরু হবে এবং এর বেশির ভাগই আসবে সৌদি আরব ও রাশিয়া থেকে । সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, কাজাখস্তান, আলজেরিয়া ও ওমান ভার্চুয়াল বৈঠকে মিলিত হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিদিন ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।
এখন ফিরি বিশ্লেষকদের প্রসঙ্গে। আল-জাজিরার একজন বিশ্লেষক বলছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপেক ত্যাগ তেলের বিষয় নয়; এটি উপসাগরীয় সংহতির অবসান। এই পদক্ষেপটি সৌদি আরবের সাথে ক্রমবর্ধমান সংঘাত এবং জোটের একটি মৌলিক পুনর্গঠনকে প্রতিফলিত করে। তার মতে এটি কোনো ট্যাকটিকেল ডিসপিউট বা কৌশলগত বিরোধ নয়। এটি একটি গভীর স্ট্রাটেজিক কনট্রাডিকশনের বা কৌশলগত দ্বন্দ্বের বহিঃপ্রকাশ। সৌদি আরব আরব রাষ্ট্রগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে এবং নিজেকে একটি আঞ্চলিক স্থিতিশীল শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমিরাতের এই প্রক্রিয়া সেটাকে বাধাগ্রস্ত করবে।
আরব উপসাগরীয় রাষ্ট্র ইনস্টিটিউটের একজন বিশ্লেষক এটিকে আমিরাতের স্বার্থের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন প্রতিষ্ঠানগুলি থেকে “স্বাধীনতার ঘোষণা” এবং সৌদি প্রভাবের প্রত্যাখ্যান হিসাবে বর্ণনা করেছেন। নিউইয়র্ক টাইমস এটিকে আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতি এবং তার প্রতিবেশীদের পররাষ্ট্রনীতির মধ্যে ক্রমবর্ধমান মতপার্থক্যের সাথে যুক্ত করেছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটিকে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক তেল উৎপাদক জোটের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। আমিরাতের এই সিদ্ধান্ত ওপেকের অভ্যন্তরীণ ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরব নয়, যার অর্থনীতি এই ধাক্কা সামলে নিতে পারে। প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত হলো আরব জ্বালানি-উৎপাদনকারী রাষ্ট্রগুলোর বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবস্থাকে রূপ দেওয়ার সম্মিলিত সক্ষমতার ধারণাটিই। প্রতিটি প্রস্থান বা ওপেক ত্যাগের ঘটনা গতকাল কাতারের, আজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের , সংস্থাটিকে ক্রমশ একটি অ-প্রতিনিধিত্বমূলক হাতিয়ারে পরিণত করছে, যা ক্রমবর্ধমানভাবে কেবল সৌদি স্বার্থের সঙ্গেই একাত্ম হয়ে পড়ছে। যে কথা আগেই বলেছি। তাই বলা যায় ইরান যুদ্ধের এই পর্যায়ে তা আরব সংহতিকেই ব্যহত করবে। আরব দেশগুলোও যুদ্ধ চায় না।
কতটা বেড়েছে তেলের দাম? জানা যাচ্ছে, ৪ মে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৪ দশমিক ৪৪ ডলারে পৌঁছায়। ৫ মে কিছুটা কমে ১১৩ দশমিক ৫৪ ডলারে লেনদেন হয়। ওপেক প্লাস বাড়তি তেল উৎপাদন করবে বলে ঘোষণা দিলেও পরিস্থিতির সহসাই উন্নতি হবে কি? না বিশ্লেষকেরা এমনটা মনে করেন না। ফলে বিশ্ব জ¦ালানি সংকট দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।
প্রশ্ন দাঁড়াচ্ছে ওপেকের এ সংকট বিশ্ব জ¦ালানি পরিস্থিতিকে আরো গভীর সংকটে ফেলে দিচ্ছে তা থেকে উত্তরণের উপায় কী? আসলে এর কোন সরল উত্তর দেয়া যাচ্ছে না বা বিশ্লেষকেরা দিতে চাইছেন না। আলজাজিরার সংবাদে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলা শুরুর পর ইরানের সবচেয়ে তীব্র হামলার মুখে পড়া দেশগুলোর একটি হলো আরব আমিরাত। ইরানের আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের মধ্যে ইসরাইল ও সব উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর মধ্যে আমিরাতই বেশি হামলার শিকার হয়েছে। জানা গেছে, আরব আমিরাত ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থানের পক্ষে। এর বিপরীতে সৌদি আরব, কাতার ও ওমান তুলনামূলকভাবে কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ওপেক থেকে আমিরাতের আকস্মিক এই সরে যাওয়া প্রকৃতপক্ষে তাদের পররাষ্ট্রনীতিরই ধারাবাহিকতা, যার বদৌলতে তারা ধীরে ধীরে প্রতিবেশীদের থেকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে আমিরাতই প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে। সেটার সঙ্গে অনেকে মিলিয়ে দেখতে চাইছেন।
উপসাগরীয় অঞ্চলের সংঘাত কবে শেষ হবে এবং তারপর কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক হলে কিংবা নতুন পাইপলাইন নির্মাণে গতি এলে ওপেকের বাধ্যবাধকতা ছাড়া ইউএইর তেল উৎপাদন ও সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। তখন হয়তো এর একটা সমাধানের রাস্তা খুলতে পারে। ওপেক ত্যাগের ঘটনা যেমন আছে তেমনি ফিরে আসারও ঘটনায় রয়েছে। ফলে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক।