মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ

আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বলতে ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের দেড় দশকের কর্তৃত্ববাদী শাসনকেই বুঝায়। যেখানে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের অবসান হয়। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ শাসনব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে ছিল একদলীয় বা সর্বগ্রাসী মনোভাব, জামায়াত-বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী মতের ওপর দমনপীড়ন এবং নিয়ন্ত্রিত সরকার কাঠামো ও নির্বাচনব্যবস্থা। আওয়ামী ফ্যাসিবাদ শাসনকালের মূল বৈশিষ্ট্যই ছিল বাকস্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ। ভিন্নমত দমন এবং স্বাধীন সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি। মানবাধিকার লঙ্ঘন করে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে গুম, খুন ও বলপ্রয়োগের মতো চরমপন্থা অবলম্বন। সর্বপর্যায়ে নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে ভোটারবিহীন ও একতরফা নির্বাচন আয়োজনের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া ছিল অন্যতম। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে দেশ থেকে হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটলেও নব্যফ্যাসিবাদীদের আবির্ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

চলতি বছর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ঝিনাইদহ জেলা ছাত্রদল-যুবদলের নেতৃত্বে ২২ মে, শুক্রবার বেলা দুইটার পর পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদের সামনে হামলা করে। হামলার ঘটনার বিষয়ে ঐদিন বেলা ৩টা ১০ মিনিটে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ফেসবুক আইডি থেকে একটি পোস্ট দিয়ে জানানো হয়, ‘ঝিনাইদহে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী জেলা প্রশাসকের বাসভবনের ঠিক বিপরীতে পৌর কালেক্টর জামে মসজিদে জুমআর নামায আদায় শেষে বের হওয়ার পরপরই ছাত্রদল ও যুবদলের নেতা-কর্মীরা পুলিশের উপস্থিতিতে হামলা শুরু করে। প্রথমে ডিম, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়, এরপর হকিস্টিক দিয়ে অতর্কিতভাবে আঘাত করা হয়। তিনজনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় এবং বেশ কয়েকজন আহত হন। আমাকে এবং এনসিপির যুগ্ম সদস্য তারেক রেজাকে লক্ষ্য করেও কিল-ঘুষি মারা হয়।’ হামলাকারীরা মুঠোফোন, ক্যামেরা ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ফেসবুক পোস্টে নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘ঘটনার পর আমরা বর্তমানে থানায় অবস্থান করছি এবং মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি। ছাত্রদল, যুবদল, বিএনপি আবার থানার সামনে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

পাবনার সাঁথিয়ায় একটি মসজিদে পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের জুমার নামায পড়ানোকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী সাইয়েদ আব্দুল্লাহর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায় মসজিদে গত ২৪ জুলাই শুক্রবার জামায়াতের নেতাকর্মী ও মুসল্লিদের ওপর হামলা হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে ‎হামলার শিকার ব্যক্তিরা মামলা করতে থানায় গেলে সেখানে গেট আটকিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ওসি। মামলা করতে তাদের বাঁধা দেওয়া হয়। পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান বলেন, জুমার নামাযকে কেন্দ্র করে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী জড়ো করেছিল এবং পুলিশ তাদের হামলার সুযোগ করে দেয়। এ সময় তার সমর্থকদের বাড়িতেও হামলা করা হয়। বিএনপি তাদের ফ্যাসিবাদী চরিত্রের পরিচয় দিয়েছে। তারা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের হৃদয়ে আঘাত করেছে। আমাকে ঠিকমতো নামায পড়তে দেওয়া হয়নি। রাজনৈতিকভাবে পরাজিত হয়ে সন্ত্রাসের পথ বেঁচে নিয়েছে বিএনপি। ফ্যাসিবাদ বিদায় নিলেও ফ্যাসিবাদের ভূত কিন্তু এখনো যায়নি।

বিএনপি নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে ২৮ জুলাই ২০২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা-২০২৬ কর্মসূচি শেষে ফেরার পথে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। ২৯ জুলাই বুধবার হবিগঞ্জে প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়ার সময় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ দলটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলসহ বিভিন্ন স্থানে ১৪৪ ধারা জারি করে আটকে দেয় পুলিশ। পুলিশের এ ধরনের পদক্ষেপকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন গণতান্ত্রিক অধিকার লঙ্ঘন। রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে কারও ওপর হামলার স্থান গণতন্ত্রে নেই। কোনো বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে তার জবাব রাজনৈতিকভাবেই দিতে হয়, সন্ত্রাসের মাধ্যমে নয়। বিরোধী রাজনৈতিক নেতারা মনে করছেন সরকার রাজনৈতিকভাবে বিরোধীদের মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়ে বিরোধীদলীয় নেতাকর্মীদের ওপর ‘সন্ত্রাসীদের’ লেলিয়ে দিয়েছে।

২৯ জুলাই নেত্রকোণার এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক ও নেত্রকোনা পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মেয়র প্রার্থী মো. সোহাগ মিয়া প্রীতমের ওপর বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী হামলা করেছে। হবিগঞ্জের পর সিলেটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) গাড়িবহরে ৩০ জুলাই বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার পর সিলেটের গোলাপগঞ্জ ও পাঁচ মাইল বাজার এলাকায় দুবার হামলা হয়েছে। ওই গাড়িতে দলটির শীর্ষ কয়েকজন নেতা ছিলেন বলে নিশ্চিত করেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু। এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতা ও সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা আলম মিতু নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে লেখেন, শহীদ পরিবারের সঙ্গে প্রোগ্রাম করে ফেরার পথে সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবারও ভয়াবহ হামলা করলো বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়িতে আমি, সারজিস এবং অন্যান্য কয়েকজন ছিলাম। এরা আসলে মেরে ফেলার জন্য চেষ্টা করেছে। আমাদের গাড়ির ডান পাশের, পেছনের গ্লাসগুলো গুঁড়ো গুঁড়ো করে ফেলছে। তিনি লেখেন, পুলিশ নির্বিকার হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। তারেক রহমানের কাছে জবাব চাওয়া যাবে না তাতে আবার নাকি বেয়াদবি হবে! এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এক ফেসবুক পোস্টে লেখেন, সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপির সন্ত্রাসীরা। গাড়ি ভাঙচুর করেছে। দ্বিতীয় দফায় বিএনপির সন্ত্রাসীরা আমাদের উপরে আবার আক্রমণ করেছে সিলেটের পাঁচ মাইল বাজারে। তারেক রহমান কি শেখ হাসিনা হতে চায়?

আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলেও আজকের মতো বিরোধীদল ও মতের ওপর এমন হামলার ঘটনা সরকারী দলের নেতাকর্মী ও পুলিশের পৃষ্ঠপোষকতায় করা হতো। ২০১১ সালের ৬ জুলাই বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সাবেক বিরোধীদলীয় চিফহুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের ওপর পুলিশ কর্তৃক ঢাকার শেরেবাংলা নগর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকার হামলা ও হত্যার চেষ্টার ঘটনা সংগঠিত হয়। ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশিদ ও ডিএমপির অতিরিক্ত যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমারের নেতৃত্বে ফারুককে হামলা করে নির্মম নির্যাতন করে মাথা ফাঠিয়ে ও শরীর রক্তাক্ত জখম করা হলেও এর কোন রকম বিচার হয়নি বরং বিগত হাসিনা রেজিম অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোন আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে হামলাকারীদেরকে পুরস্কৃত করে পদন্নতি দিয়েছে। প্রায় ৯ বছর আগে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের গাড়িবহরে হামলা করে ভাঙচুর ও বিএনপি নেতৃবৃন্দকে আহত করা হয়েছিল। উক্ত ঘটনায় সেদিন আহত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চট্টগ্রাম জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমানসহ অনেকে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান সাম্প্রতিক সরকারের কর্মকাণ্ডে সমালোচনা করে সিলেটের ১১দলীয় সমাবেশে বলেছেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের পথে বিএনপি হাঁটা শুরু করেছে। তিনি বলেন, এখন যারা সরকারে আছে, তারাও (বিএনপি) মজলুম ছিল। সমাজের সব ক্ষেত্রে বেপরোয়া নির্লজ্জ দলীয়করণ করে দুর্নীতিকে তারা জাতীয়করণ করতে যাচ্ছে। জামায়াতের আমীর বলেন, ‘আমরা হাসিনাকে তাড়িয়েছি, যদি আপনারা (বিএনপি সরকার) ফ্যাসিবাদ কায়েম করেন, আপনাদেরও জনগণ তাড়াবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনগণ পরিবর্তনের জন্য, সংস্কারের জন্য গণভোটে হ্যাঁ বলেছে। ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ বলেছে। গণভোটকে আমরা অপমান করতে দেব না। ইনশা আল্লাহ, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করেই আমাদের আন্দোলন সফলতার দ্বারপ্রান্তে পৌঁছাবে।’ আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন-‘আপনাদেরকে ছেড়ে জনগণ কথা বলবে না, ভালোয় ভালোয় আপনারা মেনে নিন। এই দেশের মানুষ জীবন দিয়ে পঙ্গুত্ববরণ করে গুলি খেয়ে শিখে নিয়েছে মুক্তির পথে কীভাবে হাঁটতে হয়। আমরা আমাদের শহীদদের সঙ্গে বেঈমানি করব না। জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে বেঈমানি করব না। ১৮ কোটি মানুষের সঙ্গে বেঈমানি করব না। আমরা কথা রাখব ইনশা আল্লাহ। জীবন দিয়ে হলেও লড়াই করে কথা রাখব ইনশা আল্লাহ।’ মুক্তির মঞ্জিলে না পৌঁছা পর্যন্ত ১১-দলীয় ঐক্যের আন্দোলন থামবে না উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ঢাকার জন্য ডাক (সমাবেশ) আসবে। দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিবাজ, দুঃশাসন দূর না হওয়া পর্যন্ত লড়াই তীব্র থেকে তীব্রতর হবে।

বিএনপি সরকার সম্প্রতি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে এক বছরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদেরকে দায়িত্ব দিয়েছে। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে একজন সাবেক বিএনপি-সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, যা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও স্বাধীনতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। এসব নিয়োগ বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ও ৩১ দফায় দেওয়া রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণমুক্ত রাখার প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক। এটা আওয়ামী ফ্যাসিস্টদের মতো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয়করণের পুনরাবৃত্তি এবং জবাবদিহিমূলক শাসনের প্রত্যাশার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা থাকা ব্যক্তির নিয়োগ দেওয়া কোনভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। সরকার যদি এ ধরনের অবৈধ নিয়োগ চাপিয়ে দেয়, তাহলে কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে এবং একটি স্বতন্ত্র ‘ইলেকশন সার্ভিস কমিশন’ গঠন এখন আরও জরুরি বলে মনে করেন রাজনৈতিক সচেতন মহল। ইসি সচিবালয়ে বিএনপি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া ছাড়াও বাংলাদেশ জুট করপোরেশন, বাংলাদেশ স্টিল অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশন, বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিসি, বিসিক, বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদেও বিএনপির নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান শিল্প, পরিবহন, সামাজিক কল্যাণ, প্রবাসী কর্মসংস্থান ও রাষ্ট্রীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত পরিচালনা করে।

রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ মনে করেন, হবিগঞ্জে এনসিপির পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে গত দিনে যা ঘটেছে তা নিছকই রাজনৈতিক উত্তেজনা বলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। বরং অবস্থাদৃষ্টে এটা বিএনপির ভেতরে থাকা সুপ্ত স্বৈরাচারী মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে হচ্ছে। পদযাত্রায় এনসিপি নেতাদের ঝাঁঝালো বক্তব্য, ছাত্রদলের কর্মীদের হামলা স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অসৌজন্যতা ও রাজনৈতিক দিক্ষার অভাব। সরকারদলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে সহনশীলতার অভাব এবং ক্ষমতায় থাকলে বিরোধীমতকে সহিংসপন্থায় দমন করার প্রবণতায় হতাশ রাজনৈতিক মহল। এনসিপি আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ এনসিপির সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে হবিগঞ্জে যাওয়ার পথে যেভাবে জায়গায় জায়গায় বাধা দেওয়া হয়েছে তাতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের বহুল চর্চিত অপকৌশলের পুনঃমঞ্চায়ন দেখেছে জাতি।

অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, ফ্যাসিবাদের পতন থেকে বিএনপি শিক্ষা না নিয়ে বরং তাদের অপকৌশল রপ্ত করেছে। চব্বিশের জুলাইয়ে এতো রক্ত ঝরার পরও এমন দৃশ্যের মঞ্চায়ন জাতি প্রত্যাশা করে না। রাজনীতিতে সহিষ্ণুতা আনার দায়িত্ব সরকারেরই বেশি। বিরোধীদল সরকারের কঠোর সমালোচনা করবে এটাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। সরকারকে এটা ধারণ করতে হবে। বিরোধীদল ও মতকে কঠোরতার বদলে কৌশল ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। না হলে ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তিগুলোর মধ্যে অনাকাঙ্খিত দূরত্ব তৈরি হবে, যা কারও জন্যই শুভ হবে না।