বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও চিন্তাবিদ স্যামুয়েল পি. হান্টিংটন তার একটি বিখ্যাত গ্রন্থে তৃতীয় বিশ্¦ের উন্নয়নশীল দেশগুলোর রাজনৈতিক চরিত্র বিশ্লেষণ প্রসঙ্গে বলেছেন, উন্নয়নশীল দেশের নতুন সরকারের নিকট জনগণের আকাশচুম্বি প্রত্যাশা থাকে। সরকার তা পূরণে ব্যর্থ হলে জনগণ বিকল্প খোঁজে। বিকল্প হিসেবে নতুন কোন রাজনৈতিক দলকে না পেলে তারা আবারো পুরোনা বিরোধীদের বেছে নেয়। স্যামুয়েল পি. হান্টিংটনের এ মন্তব্য যে কতটা বাস্তবসম্মত তা আমরা উন্নয়নশীল ও দরিদ্র দেশগুলোর রাজনৈতিক ক্ষমতার পালাবদলের দিকে দৃষ্টি দিলে সহজেই বুঝতে পারবো। জনগণ অনেক আশা নিয়ে একটি রাজনৈতিক দলকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পন করে। নির্বাচনের আগের রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের সামনে নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি দেয়।
কিন্তু একবার ক্ষমতায় আরোহণ করতে পারলে তারা কৃত অঙ্গীকার ভুলে যায় এবং তাদের একমাত্র কাজ হয়ে দাঁড়ায় কিভাবে ক্ষমতা আঁকড়ে থাকা যায়। জনগণ যে রাষ্ট্রের মূল মালিক তা ক্ষমতাসীনরা ভুলে যান। নিজেদের রাষ্ট্রের সর্বময় ক্ষমতার মালিক বলে মনে করেন। আমাদের মতো দেশগুলোতে জনগণ কার্যত নির্বাচনের দিনই রাষ্ট্রের মালিক হন এবং তাদের মতামত ব্যক্ত করেন। নির্বাচনের আগে যে ব্যক্তিটি সাধারণ ভোটারদের হাতে-পায়ে ধরে অনুনয়-বিনয় করে ভোট প্রার্থনা করেন সে ব্যক্তিই একবার ক্ষমতায় যেতে পারলে জনগণকে আজ্ঞাবাহী দাস বলে ভাবতে থাকেন। তারা সাধারণ মানুষের আশা-আকাক্সক্ষা বাস্তবায়নের পরিবর্তে নিজেদের আখের গুছিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কেউ প্রতিবাদ করলেই তার উপর নেমে আসে বর্বর নির্যাতন। ক্ষমতাসীনরা জনগণকে তাদের প্রবল প্রতিপক্ষ হিসেবে বিবেচনা করতে থাকে। ক্ষমতার বাইরে থাকা অবস্থায় যে রাজনৈতিক দলটি জনকল্যাণের কথা বলে তারাই ক্ষমতায় যেতে পারলে গণবিরোধী চরিত্র ধারণ করে। এটাই চলে আসছে দিনের পর দিন ধরে। উন্নয়নশীল এবং তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে সরকার পরিবর্তন হয় কিন্তু রাজনৈতিক কালচার এবং জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তন হয় না।
নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতায় আরোহণের জন্য রাজনৈতিক দলগুলো জনগণকে ‘সিঁড়ি’ হিসেবে ব্যবহার করে। একবার ক্ষমতায় যেতে পারলে তারা ক্ষমতারোহণের সিঁড়িটিকে লাথি মেরে ফেলে দিতেও দ্বিধা করেন না। দিন বদল হচ্ছে, পৃথিবী দ্রুত উন্নতির পথে ধাবিত হচ্ছে কিন্তু রাজনৈতিক কালচারের এই পুরানো ধারা টিকে আছে বহাল তবিয়তে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, রাজনীতির এ ধারা অপরিবর্তনীয় ভাবে যুগের পর যুগ চলতে থাকবে। ক্ষমতাসীনরা জনগণের মনোভাব এবং চাওয়া-পাওয়া অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়। রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুট এবং ব্যাপক মাত্রায় দলীয়করণের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে কার্যত অচল করে দেন। তারা দৃশ্যত কিছু উন্নয়নমূলক কাজও করে থাকেন, যাতে জনগণ খুশি হয়। স্বৈরাচারি সরকারগুলো সাধারণত অবকাঠামোগত খাতে উন্নয়ন করে থাকে। কারণ অবকাঠামোগত খাতে যে উন্নয়ন সাধিত হয় তা দৃশ্যমান। কিন্তু এর পেছনে থাকে অন্য উদ্দেশ্য। উন্নয়ন নয় তাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে উন্নয়নের নামে জনগণের চোখে ধুলো দিয়ে দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়া। প্রতিটি স্বৈরাচারি সরকারই তাদের দেশের অর্থ-সম্পদ লুটে নিয়ে বিদেশে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলে। এদের অন্যতম একটি উদ্দেশ্য বা লক্ষ্য থাকে জনমতের তোয়াক্কা না করে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় টিকে থাকা। এক সময় জনগণ এসব সরকারের প্রতি চরম ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারকে লজ্জাজনকভাবে ক্ষমতা থেকে বিদায় করে দেয়। বিশ্বের বহু দেশে এমন ঘটনা ঘটেছে। স্বৈরাচারি সরকারকে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বিদেয় করার পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আরোহণ করে। সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের গণআকাক্সক্ষা সৃষ্টি হয়। তারা মনে করেন, এবার বুঝি তাদের সমস্যা সমাধান হবে। নতুন সরকার তাদের প্রত্যাশা পূরণে সমর্থ হবে। কিন্তু কিছুদিন যেতে না যেতেই তাদের মোহভঙ্গ হয়। আবারো তারা সেই পুরানো আবর্তে ঘূর্ণিপাক খেতে থাকে।
দেশের কোন নাগরিকই প্রত্যাশ করে না যে সরকার সকাল-সন্ধ্যা তাদের জন্য খাবারের প্লেট নিয়ে দুয়ারে হাজির থাকবে। কিন্তু তারা নিশ্চয়ই এটা প্রত্যাশা করে যে, তারা শান্তিতে ঘুমাতে পারবে। উপযুক্ততা অনুযায়ী কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে দু’বেলা দু’মুঠো আহারের সংস্থান করবে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের কল্পনা বিলাসের মাধ্যমে জনপ্রত্যাশা পূরণ করা যায় না। কারণ অগণতান্ত্রিক বা স্বৈরাচারি সরকার যে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে তার উদ্দেশ্য জনকল্যাণ নয়, অর্থ লোপাট করাই থাকে মুখ্য। দেশের নাগরিকগণ কোন কিছুর বিনিময়ে তাদের বাক স্বাধীনতা, চলাচলের স্বাধীনতা,মত প্রকাশের স্বাধীনতা হারাতে চায় না। স্বৈরাচারি এবং গণবিরোধি সরকারের একটি কমন বৈশিষ্ট হচ্ছে তারা সাধারণত অবকাঠামোগত খাতের উন্নয়নের প্রতি বেশি মনোযোগী থাকেন। কারণ অবকাঠামোগত খাতে যে উন্নয়ন হয় তা দৃশ্যমাান এবং সহজেই মানুষের প্রশংসা পাওয়া যায়। কিন্তু অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাটের সুযোগ থাকে বেশি। উল্লেখ্য, স্বৈরাচারি বা গণবিরোধি সরকার সাধারণত অর্থনৈতিক উন্নয়নকেই উন্য়নের একমাত্র মাপকাঠি বলে বিবেচনা করে থাকে। কিন্তু উন্নয়ন বলতে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নকে বুঝায় না। উন্নয়ন একটি সামগ্রিক ধারণা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সামাজিক ইত্যাদি ক্ষেত্রে যদি কাক্সিক্ষত উন্নতি না হয় তাহলে তাকে কখনোই সঠিক এবং টেকসই উন্নয়ন বলা যেতে পারে না।
স্বৈরাচারি সরকারগুলোর মূল উদ্দেশ্য থাকে কিভাবে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে রাষ্ট্রীয় অর্থ লোপাট করা যায়। আমরা যদি বাংলাদেশ এবং তৎকালীন পাকিস্তানের উন্নয়ন কার্যক্রম বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখবো, স্বৈরাচারি সরকার আমলেই সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন অর্জিত হয়েছে। সেনা শাসক আইয়ুব খানের আমলে অবকাঠামোগত খাতে যে উন্নয়ন অর্জিত হয়েছে তা এখনো দৃশ্যমান। এরশাদ আমলেও ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে অবকাঠামোগত খাতে। বাংলাদেশে অবকাঠামোগত খাতে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হয়েছে আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে। কিন্তু সেই উন্নয়ন কতটা টেকসই এবং গুণগত মানসম্পন্ন তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশ্ব যেসব দেশে অবকাঠামোগত খাতে উন্নয়ন ব্যয় সবচেয়ে বেশি তার মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ। বিগত সরকারের উন্নয়ন কৌশল ছিল, ‘ অতি উন্নয়ন, অতি দুর্নীতি।’ স্বজনতোষি অর্থনীতির বাস্তবায়ন করে বিগত সরকার। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে গঠিত শ্বেতপত্র কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে ২৩ হাজার ৪০০ কোটি মার্কিন ডলার সমতুল্য ২৮ লাখ কোটি টাকা বিদেশের পাচার করা হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটা পাচারকৃত অর্থে একটি সামান্যতম অংশ মাত্র। প্রকৃতপক্ষে অর্থ পাচারের পরিমাণ আরো অনেক বেশি। বিগত সরকার আমলে এক সময় বলা হয়েছিল, উন্নয়ন নাকি গণতন্ত্র? তারা বুঝাতে চেয়েছিল উন্নয়নের জন্য গণতন্ত্র বিসর্জন দেয়া যায়। কিন্তু তারা জনগণের পার্লস বুঝতে পারেনি। উন্নয়নের নামে কিছুদিন জনগণকে মোহাবিষ্ট করে রাখা গেলেও এক সময় না এক সময় তারা জেগে উঠবেই। চব্বেশের জুলাই-আগস্টে আমরা সে বিষয়টিই প্রত্যক্ষ করি।
বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিরোধি রাজনৈতিক দল তাদের সুকর্মের কারণে জনপ্রিয়তা অর্জন করে ক্ষমতায় আসে না। ক্ষমতাসীনদের ব্যর্থতার কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিশোধমূলক ভোট দিয়ে বিরোধি দলকে ক্ষমতায় আনে। ক্ষমতা পরিবর্তনের সাধারণ তিনটি পদ্ধতি আছে। এগুলো হচ্ছে নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করে জনগণ তাদের পছন্দের রাজনৈতিক দলকে ক্ষমতায় আনতে পারে। দ্বিতীয়ত, তা সম্ভব না হলে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকারকে বিতাড়িত করে নতুন কাউকে ক্ষমতায় বসাতে পারে। তবে গণঅভ্যুত্থান সব সময় চাইলের সংঘঠিত করা যায় না। এ জন্য অনুকূল প্রেক্ষাপট প্রয়োজন হয়। তৃতীয়ত সেনা বাহিনী অভ্যুত্থানের মাধ্যমে রাষ্ট্র ক্ষমতায় পরিবর্তন সাধন করতে পারে। তবে কোন দায়িত্বশীল সেনা বাহিনী চায না তারা রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করবে। বিভিন্ন দেশে সরাকর পরিবর্তিত হলেও জনগণের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয় না। রাশিয়ার দ্বিতীয় নিকোলাস ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুৎ হন। লিবিয়ার কর্নেল গাদ্দাফি, ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেন, শ্রীলঙ্কা গোতাবায়া ও মাহিন্দা রাজাপাকসে সরকারের পতন হয় ২০২২ সালের জুলাই মাসে। আফগানিস্তানের আশরাফ ঘানি সরকার পতন হয় ২০২১ সালের জুলাই মাসে। ১৯৯০ সালে প্রচণ্ড গণঅভ্যুত্থানের মুখে সামরিক সরকার এরশাদের পতন ঘটে। সে সময় দেশের মানুষ প্রত্যাশা করেছিল এইবার তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু সে প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে এসব দেশে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মানুষ প্রত্যাশা করেছিল তারা গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা ফিরে পাবে। তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে। রাজনৈতিক ধারায় শুদ্ধতা ফিরে আসবে। কিন্তু নতুন সরকার সে প্রত্যাশা পূরণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ব্যর্থ হয়েছে। অর্থাৎ গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তিত হলেও রাজনীতিতে কোন গুণগত পরিবর্তন প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে না।
মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ভি ও কি জুনিয়ার তার এক গ্রন্থে উল্লেখ করেন, ভোটারগণ ভবিষ্যৎ প্রতিশ্রুতি দেখে ভোট দেয় না বরং তারা অতীত পারফর্মেন্সের ভিত্তিতে পুরস্কার অথবা শাস্তি দেওয়ার জন্য ভোট দেয়। ক্ষমতাসীন সরকার ব্যর্থ হলে ভোটারগণ বিরোধী দলকে ভোট দেয়। অর্থাৎ নির্বাচনে ভোটারগণ ক্ষমতাসীন সরকারের প্রতি প্রতিশোধমূলকভাবে বিরোধী দলকে ভোট দেয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এ তত্ত্ব প্রযোজ্য। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি সরকার পরিচালনার দায়িত্ব লাভ করেছেন। ইতিমধ্যেই রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে ৫ মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেলেও রাজনীতির সে চিরাচরিত ধারা এখনো অব্যাহত আছে। নতুন সরকারকে দেশের প্রচলিত রাজনৈতিক কালচার পরিবর্তনের জন্য কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে দেখা যাচ্ছে না। বরং চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছিল তা নস্যাৎ করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। চব্বিশের যোদ্ধারা ইতিমধ্যেই হতাশ হতে শুরু করেছে। উল্লেখ্য, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান সরকার পরিবর্তনের প্রথাগত কোন আন্দোলন ছিল না। এটা ছিল সমাজের সর্বস্তরে বিদ্যমান বৈষম্য দূরীকরণের আন্দোলন। কিন্তু প্রত্যাশায় ধূলো জমতে শুরু করেছে। কোন কোন ক্ষেত্রে দলীয় নেতাদের আত্মপ্রচারের অপচেষ্টা প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে। প্রতিষ্ঠানের নামকরণ, বা প্রতিষ্ঠান প্রধান নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা এবং জবাদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দলীয়করণ-আত্মীয়করণের সে পুরনো রীতি এখনো চলছে বরং আগের চেয়ে জোড়ালো ভাবে তা জেঁকে বসেছে। মনে রাখতে হবে, দলের তৃণমূল পর্যায়ের যে কোন নেতা বা কর্মীর অন্যায় কর্মের দায়ভার কিন্তু শেষ পর্যন্ত দলের শীর্ষ ব্যক্তির উপরই বর্তায়। তাই এসব ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। দলীয় প্রধান যদি কর্মীদের অন্যায় কাজের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন তাহলে তার সুফল তার ভান্ডারেই জমা হবে।
লেখক : সাবেক ব্যাংকার ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক।