মাহবুবুল হক

‘২৪ সালে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার জন্য আন্দোলন শুরু হয়নি। সত্যিকার অর্থে যদি শুরুটা বলি তাহলে সেটা হবে নিরাপদ সড়কের জন্য। নিরাপদ সড়কের আন্দোলনটা শুরু করেছিলো উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ওদেরই এক ভাই, এক বোন, যানবাহনের ধাক্কায় নির্মমভাবে নিহত হয়েছিলো। সেখান থেকেই বলতে গেলে আন্দোলনের শুরু। নিরাপদ সড়কের আন্দোলন অনেক পূর্ব থেকেই ছিলো। বহুবছর ধরে সে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন চলচ্চিত্রকার ইলিয়াস কাঞ্চন। তাঁর জীবনসঙ্গী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ায়, প্রথমে আবেগের বশে এবং পরবর্তীতে বাস্তব পরিস্থিতির চাপে তিনি এ আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ছিলেন। নানাভাবে এ আন্দোলনকে তিনি সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু কোনো ‘ওয়ে আউট’ বের করতে পারছিলেন না। বিশেষ করে ২০০৯ থেকে আওয়ামী সরকার একাধারে শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকায় এ আন্দোলনে কোনো ভীত তৈরী হচ্ছিল না। সড়ক পরিবহনে সমস্ত অবস্থা ও ব্যবস্থায় মালিক ছিলেন সরকার। এর আগেও যারা শাসন ক্ষমতায় ছিলেন যেমন, জাতীয় পার্টি ও বিএনপি তারাও একইভাবে দেশের পরিবহন কাঠামোকে কুক্ষিগত করে রেখেছিলেন। দেশ ছোট হলে কি হবে জনসংখ্যার কারণে দেশটিতো অনেক বড়। আমদানী নির্ভর দেশ, সমুদ্রপথ মাত্র একদিকে। পূর্বে আমাদের নদী সমূহে পানির প্রবাহ ছিলো, যার ফলে দেশের নদী পথে যানবাহনসহ অন্য সকল পরিবহন অধিকাংশই নদী পথে সম্পন্ন করা সম্ভব ছিলো।

দেশে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে ভারতীয় আগ্রাসনের কারণে আমাদের ঐতিহাসিক নদীপথ সংকোচিত হতে হতে প্রায় বিদীর্ণ হয়ে যায়। ফলে ধীরে ধীরে চাপ পড়ে আমাদের ভাঙ্গাচুরা সড়কের ওপর। গত ৫৪ বছরে অন্যদিকে উন্নতি না হলেও এবং জনকল্যাণকামী সরকার শাসন ক্ষমতায় না থাকলেও সড়ক ব্যবস্থাপনায় উন্নতি সাধিত হয়। এটা অবশ্য প্রয়োজনের কারণেই। প্রয়োজনটা বলতে গেলে সাধারণ মানুষের তুলনায় বিশেষ মানুষদের জন্যই সবসময় বেশি ছিলো। গাড়ীর জন্য রাস্তা দরকার। অথবা রাস্তার জন্য গাড়ী। এই ডিবেটে গেলে গাড়ীর জন্যেই যেন রাস্তা-সড়ক ইত্যাদির ব্যবস্থাপনা জোরদার হয়েছে। যে কোনো কারণেই হোক গরীব দেশে মধ্যবৃত্ত ও উচ্চমধ্যবৃত্তের শ্রেণি তৈরী হয়ে গেল। বিদেশে যেখানে ডাবল ডেকার বা বিশাল-বিশাল যাত্রীবাহি বাস নির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেছে সেই ক্ষেত্রে আমাদের দেশে হয়েছে ঠিক তার উল্টোটি, মাইক্রো ও মিনি পদ্ধতি। সিডান কার-এ ভরে গেল সারা দেশ। বিদেশে যেখানে পণ্য পরিবহন করে সড়কে বড় বড় লরি, সেখানে আমরা পন্য পরিবহনে নির্ভর করি ৩টনি ও ৫টনি ট্রাক। সেখানে আমরা নিয়মের অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করার অন্যায় ও অনৈতিক ব্যবস্থা বজায় রেখেছি। বিষয়টি আমরা জেনেও জানিনা, বুঝেও বুঝি না।

শিশুরা যখন নিরাপদ সড়কের আন্দোলন শুরু করেছিলো তখন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তারা বলেছিলো আমরা এ আইডিয়াটা পেয়েছি কাঞ্চন আংকেলের কাছ থেকে। তিনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে গিয়ে বুঝিয়েছেন, কেন শিক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য বড় বড় বাস দরকার । শুরুতে বড় বড় বাস না হলেও অন্ততঃ এলাকা ভিত্তিক মাইক্রো বাস দরকার। তার আন্দোলনের সময় একথাও ওঠে এসেছিলো যে, যেখানেই আবাসন সেখানেই প্রাইমারি থেকে অন্ততঃ কলেজ পর্যন্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যেন অবশ্যই বিদ্যমান থাকে। এটাকে তখন বলা হয়েছিল, এলাকা ভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। যাতে এক এলাকার শিক্ষার্থী যেন সেই এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পছন্দমত, সাধ্যমত রুচিমত ভর্তি হতে পারে। এক এলাকার শিক্ষার্থীকে যেন অন্য বা দূরবর্তী এলাকায় যেতে না হয়। দুনিয়ার বিভিন্ন দেশে এই অবস্থা ও ব্যবস্থা রয়েছে। যেখানে এই অবস্থা এখনও বিরাজমান নেই সেখানে এই যথার্থ, উন্নত, বাস্তব ও মানবিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার সংগ্রাম ও পরিকল্পনা একইতালে চলছে। এটা একটা ‘সিনথিসিস’। থিসিস ও এন্টিথিসিস অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। আবাসিক এলাকার সাথে বা স্বল্প দূরত্বে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, চিকিৎসা ব্যবস্থা, হাসপাতাল, বাজার, খেলাধুলার ব্যবস্থা, বিনোদনের ব্যবস্থা, ইবাদতের ব্যবস্থা, পরিবহন ব্যবস্থা অর্থাৎ যাপিত জীবনের সকল ব্যবস্থাই যেন আবাসিক এলাকায় বিদ্যমান থাকে।

এত কথার মূল কথা হলো, সড়ক বা রাস্তাকে একট খালি রাখা। যাতে যেকোনো পরিবহন বা চলাচল আনন্দময় করা যায়। কথাটা আমাদের দেশে বিলাসিতার মতো মনে হলেও এটাই বাস্তবতা। সড়ক এবং রাস্তাকেও, বিশ্রাম দিতে হবে। গাড়ীগুলো ফাঁকা ফাঁকা অবস্থায় অর্থাৎ একটা উপভোগ্য অবস্থায় মানুষ ভ্রমণ করবে, সফর করবে, চলাচল করবে। আমাদের মতো ‘জ্যাম অবস্থায়’ পড়ে থাকবেনা। হিউমেন রাইটসের বড় কথা হলো মানুষকে মানুষের মতো বেড়ে ওঠার, যেমন ব্যবস্থা করতে হবে তেমনি ক্রমে ক্রমে সে যখন শক্তি হারাবে তাকে নানারকম সুযোগ সুবিধার মধ্য দিয়ে জীবন যাপনের এমন কি সহজ-সরলভাবে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। একটি বিশেষ বিষয়কে সামনে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নানা কথা এসে গেল। প্রাসঙ্গিক হলেও বিস্তৃত হয়ে গেল। ‘কান টানলে মাথা আসে’ সেভাবেই আমরা অনিবার্যভাবে নানা বিষয়ে জড়িয়ে পড়লাম।

কথা বলছিলাম ‘২৪শের জুলাইতে যে বিশাল পরিবর্তন সংঘটিত হলো তার মূল লক্ষ্য স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদ তাড়ানোর বিষয় ছিলো না। প্রথমদিকে নিরাপদ সড়ক থেকে উত্তরণ ঘটলো কোটা আন্দোলনে। এই আন্দোলনের সময় তদানিন্তন প্রধান মন্ত্রী বলে বসলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নাতি-নাতনিদের কোটা নিশ্চিত করবো নাকি রাজাকারদের নাতি-নাতনিদের কোটা নিশ্চিত করবো। ‘তোরা সব রাজাকার’। ব্যাস, আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটে গেল। আন্দোলনকারীরা আকাশ-বাতাস ফাটিয়ে জবাব দিলো। হ্যাঁ, আমরাই রাজাকার।

কে রাজাকার। কে রাজাকার।

আমরাই রাজাকার। আমরাই রাজাকার।

যে রাজাকার শব্দের কারণে মুক্তিযুদ্ধের দেশ উন্মাতাল হয়ে ওঠেছিলো এখন ঘুরে ফিরে ফ্যাসিবাদের দোসররা রাজাকার, জংগী, ইত্যকার কথা পুনরায় বলতে শুরু করেছে। একবার বলে, কয়েকদিনের মধ্যে নিজেদের পতন ডেকে আনলো। যে শব্দ বলার কারণে শুধু সরকার প্রধান নয়, সরকারের সর্বোচ্চ মহলে সবাইকে দেশ থেকে পালাতে হলো। পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিতে হলো। সে একই কথা কেন তারা বলছে, সেটা নিয়ে এখন বিশ্বময় বিশেষ করে বাংগালী বা বাংলাদেশীরা যেসব দেশে অবস্থান করছে সেখানে তুমুল বাক-বিতন্দ্রা, হাতাহাতি, মারামারিসহ দেশভেদে লন্ডভন্ড অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এইতো মাত্র সেদিন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর হঠাৎ বলে ফেললেন, ‘জামায়াতে ইসলাম’কে নির্মূল করার চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। তারমতে একজন সিনিয়র মোস্ট পলিটিশিয়ান এই ধরনের একটা অগণতান্ত্রিক ও অমানবিক কথা বলায় রাজনীতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ইতিপূর্বে এতো সরাসরি এ ধরণের একটা অনিয়মতান্ত্রিক বাক্য বিএনপির কোনো নেতা উচ্চারণ করেছে বলে জানা যায়নি। পরোক্ষভাবে অনেকে অনেক কথা বলেছেন, কিন্তু নির্মূল অর্থাৎ ধ্বংস করার কথা খোদ বিএনপি’র মূল রাজনীতিক ব্যক্তি বলে ফেলায় নতুন একটা রাজনৈতিক পোলারাইজেশন সামনে এসে যায়। অথচ মাত্র ক’দিন আগে জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমীর শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামির সম্পর্কে এক সাংবাদিক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, মাওলানা নিজামি অত্যন্ত ভালো মানুষ ছিলেন, বড় আলেম ছিলেন, জ্ঞানী মানুষ ছিলেন, পড়ালেখা করতেন, অনেক বইপত্র লিখেছেন। যে সময় তিনি এ ধরণের কথাবার্তা বলছেন, তখন আবার তিনি তলে তলে রাজনীতি থেকে অবসর গ্রহণের চেষ্টাও করছেন। সংবাদপত্র, মিডিয়া এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খবর প্রচারিত হয়েছিলো যে, দলের প্রধান নেতার কাছে এবং সরকার প্রধানের কাছে অব্যাহতি লাভের জন্য তিনি পত্র প্রদান করেছেন। তথ্যাবিজ্ঞ মহল তার এই দ্বি-চারিতাকে নানাভাবে বিশ্লেষণ করছেন। একপক্ষ বলছেন, রাজনীতিতে তার শেষ কথাটি এতদিন তিনি খোলাসা করেননি। অব্যাহতি লাভের পূর্বে এ ধরণের একটি নির্মম, নিষ্ঠুরতম কথা বলে তিনি তার আজীবন লালিত জীবনবোধকে উম্মুক্ত করেছেন। এটা তার জীবনবোধের দায়বদ্ধতা। যে আদর্শ ও মতবাদকে ধারণ করে ছাত্রজীবন থেকে পরিণত বৃদ্ধ বয়সে তিনি উপনিত হয়েছেন তারই মূলকথা হলো কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র বিরোধী যা কিছু এখনও বিরাজমান রয়েছে তার সবকিছুই ধ্বংশ করা। পাঠকদের নিশ্চয়ই খেয়াল রয়েছে জামায়াতে ইসলামের আমীর অধ্যাপক গোলাম আযমের বাংলাদেশের নাগরিকত্ব ফেরত পাওয়ার আইনি লড়াই যখন করছিলেন তখন ছিলো বিএনপি আমল। বিএনপি অধ্যাপক গোলাম আযমের শক্ত বিরোধীতায় অবতীর্ণ হয়েছিলো। আইনি লড়াইয়ের সময় জামায়াতের ১১-১২জন নেতাকর্মী শাহাদাত বরণ করেছিলেন। সে উত্তাল সময়ে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নামে একটি হিউম্যান রাইটস বিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলা হয়। প্রকাশ্যে এর নেতা ছিলেন জাহানারা ইমাম। তাঁর অধীনে সাবেক সেনাবাহিনীর কয়েকজন জেনারেলসহ বিএনপি ও আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধারাই এই আন্দোলনের সাথে সক্রিয় ছিলেন। সমাজের প্রায় সকল শে্িরণর নেতৃত্ব ধারণকারী বুদ্ধিজীবীদের এখানে সমবেত করা হয়েছিল এবং তারা গণআদালত সৃষ্টি করে অধ্যাপক গোলাম আযমের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলো।

বিএনপি ক্ষমতায় থেকে এ কাজটি করতে পেরেছিল এ কারণে যে, শহীদ জিয়াউর রহমানের নিহত হওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্বে বিপুলভাবে সেকুলার, কমিউনিস্ট, সাম্যবাদী, সমাজতন্ত্রী, নাস্তিকবৃন্দ খুব সন্তর্পনে বিএনপিতে আশ্রয় পেয়েছিলেন। শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন টপ মুক্তিযোদ্ধা, স্বাধীনতার ঘোষক। অপরদিকে দেশ যাতে মুক্তিযোদ্ধা ও রাজাকারে বিভক্ত ও অবিভাজিত না হয় সে কারণে তিনি শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে রাষ্ট্র কাঠামো ও সরকার পরিচালনা করার একক চিন্তা-ভাবনা করেননি। কারণ মুক্তিযুদ্ধে কারা অংশ-গ্রহণ করেছে আর কারা অংশগ্রহণ করেনি এই নিয়ে নানা মত ও বির্তক রয়ে গেছে। এক দলের মতে, যারা মুক্তিযুদ্ধকালে সরাসরি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছে তারাই একমাত্র মুক্তিযোদ্ধা, আবার আরেক দলের মতে মুক্তিযুদ্ধকালে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয়-প্রশ্রয় গ্রহণ করেছে তারাই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু শহীদ জিয়াউর রহমান বিষয়গুলিকে এত সংকীর্ণ-ভাবে বিবেচনা করতে প্রস্তুত ছিলেন না।

তিনি বিষয়টিকে স্থান-কাল-পাত্র হিসেবে বড় ক্যানভাসে বিবেচনা করেছিলেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন, শেখ মুজিবুর রহমান ভারত বিভাগকালে অর্থাৎ পাকিস্তান ও ভারত স্বাধীনতা লাভের পর ভারত এই ধরণের বিষয়ে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলো। সে দৃষ্টান্তকে সামনে রেখে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আদালত কর্তৃক অপরাধী প্রমাণিত ছড়া বাকি সবাইকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছিলেন। এসব অভিজ্ঞতার আলোকে শহীদ জিয়াউর রহমান জামায়াতে ইসলামী ছাড়া প্রাথমিকভাবে মুসলিম লীগ সহ সকল দল-মত নির্বিশেষে বিএনপিতে সংযুক্ত ও সংশ্লিষ্ট করেছিলেন। তিনি রাষ্ট্র সরকার ও দল গঠনে বেশি সময় পাননি। পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া জামায়াতে ইসলামীর সাথে রাজনৈতিক আঁতাত সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির বিরোধীতায় বহু বছর লড়াই করে বিজয় লাভ করেছিলেন। বলতে গেলে গোটা আশির দশক ছিল সেই লড়াই। এ লড়াইয়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে এদেশের প্রকৃত ইসলামিস্ট ও জাতীয়তাবাদী শক্তি যদি নির্বাচনী আঁতাত করে অগ্রসর হয় তাহলে এদেশের বিরুদ্ধে আদর্শগত, মতবাদগত, চিন্তাগত, দর্শনগত, লক্ষ্যগত যত ষড়যন্ত্র আছে সব বিলীন হয়ে যাবে। মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে থাকবে ডান ও মধ্যপন্থা।

এ পন্থার মধ্যেই দেশ ও জাতির উন্নতি, সমৃদ্ধি ও বিকাশ সম্ভব। এই বিষয়টি খুব গভীরভাবে বিবেচনা করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। এই পন্থায় জামায়াত যেমন বিএনপিকে অগ্রসর হওয়ার পথে সহযোগিতা করেছে তেমনি বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে জামায়াতে ইসলামীও আধ্যাত্মিকতার সাথে সাথে রাজনীতি ক্ষেত্রেও যথেষ্ট পরিমাণ অগ্রসর হয়েছিলো। জামায়াত সেকুলার রাজনৈতিক দল নয়। জামায়াত বিশেষভাবে ইসলামী দল। এই জায়গায় মূল বিষয় হলো ইসলাম। মুসলিম লীগের মতো ইসলাম ছাড়া শুধু মুসলমান নয়। বিষয়টি খালেদা জিয়া গভীরভাবে অনুভব করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া বেঁচে থাকতে বা অন্ততঃ অসুস্থ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত বক্ষমান দুটি দলের মধ্যে ঐতিহাসিক ও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সম্পর্ক বিরাজমান ছিলো। তিনি চলে গেছেন। তাঁর স্বামী ও তাঁর অনেক পূর্বেই চলে গেছেন। এখন ক্ষমতায় আছেন বেঁচে থাকা তাঁর একমাত্র জ্যেষ্ঠ পুত্র এবং আন্দাজ করা যায় তাদের নাতনী ব্যারিস্টার জাইমা রহমান রাজনীতিতে বা ক্ষমতার রাজনীতিতে প্রবেশ করতে যাচ্ছেন। তাদের উচিত হবে তাদের দল থেকে ব্যর্থ কমিউনিস্টদেরকে অব্যাহতি দেয়া।