॥ মুসফিকা আন্জুম নাবা ॥

সুশিক্ষা ও মূল্যবোধ একে অপরের পরিপূরক। একটি বাদ দিয়ে অপরটি একেবারেই অকার্যকর ও মূল্যহীন। সুশিক্ষাকে নৈতিক শিক্ষা বলায় অধিক যুক্তিযুক্ত। বস্তুত, নৈতিক শিক্ষা হলো এমন এক বিশেষ জ্ঞান, যা মানুষকে ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, এবং উচিত-অনুচিতের পার্থক্য বুঝিয়ে উত্তম চরিত্র ও মূল্যবোধ গঠন করতে সাহায্য করে। এটি সততা, দায়িত্ববোধ, শ্রদ্ধা ও সহানুভূতির মতো গুণাবলী অর্জনের মাধ্যমে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনকে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল করে তোলে। নৈতিক শিক্ষার মূল বিষয়গুলো হচ্ছে-

সততা: সবসময় সত্য কথা বলা এবং নিজের কাজে জবাবদিহীতার অনুভূতি; সর্বোপরি সৎ থাকা।

সহানুভূতি: অন্যের সমস্যা ও কষ্ট উপলব্ধি এবং সাহায্য করার সুপ্রবৃত্তি ও মানসিকতা; দায়িত্ববোধ: নিজের কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করা। একই সাথে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ করা; শ্রদ্ধা: বড়দের সম্মান ও ছোটদের স্নেহ করা। আর এ পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধই মনুষ্যত্বের বিকাশ ও মূল্যবোধের চর্চার ক্ষেত্রে সহায়ক।

নৈতিক শিক্ষার অভাবে সমাজে নানাবিধ অশান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টি হয়।

চরিত্র গঠন: এটি মানুষকে ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে এবং মনুষ্যত্ব বিকাশে সহায়ক হয়; সামাজিক শৃঙ্খলা: সমাজ থেকে হানাহানি ও অরাজকতা কমিয়ে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে এবং মানুষে মানুষে অকৃত্রিম ভাতৃত্বের সৃষ্টি করে; সঠিক সিদ্ধান্ত: ন্যায়-অন্যায়ের বিচার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে; যা সমাজে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালনের ক্ষেত্রে সহায়ক হয়; মানবিক মূল্যবোধ: হিংসা ও অসততা দূর করে মানবিক গুণাবলী বাড়ায়। নৈতিক শিক্ষা পরিবার থেকে শুরু হলেও, বিদ্যালয় ও সামাজিক পরিবেশের মাধ্যমে এটি দৃঢ় হয়। এটি মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনের ভিত্তি, যা ছাড়া প্রকৃত মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠা অসম্ভব। নৈতিক শিক্ষা মানুষের মূল্যবোধকে জাগ্রত করে; যা ব্যক্তির আত্মগঠন, দায়িত্ব ও কর্তব্য নির্ধারণে সহায়ক হয়।

বস্তুত, শিক্ষা মানুষের সুুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। সর্বোপরি মানুষের জ্ঞান ও প্রজ্ঞা বৃদ্ধি করে সমাজের সামগ্রিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এ সম্পর্কে বিখ্যাত ইতিহাসবিদ ও দার্শনিক এরিয়াল ডুরান্ট বলেন, ‘শিক্ষা হলো সভ্যতার রূপায়ন’। মূলত, শিক্ষার মাধ্যমে একটি জাতির সার্বিক কল্যাণকর ও ইতিবাচক পরিবর্তন সাধিত হয়। তবে তা হতে হবে অবশ্যই সুশিক্ষা এবং মূল্যবোধভিত্তিক। বস্তুত, সুশিক্ষার অভাবেই মানবসভ্যতার জীবনচিত্রে নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়েছে।

আমাদের দেশের বিদ্যাপীঠগুলোতে লাখ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতি বছর উচ্চ শিক্ষায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন প্রভূত সংখ্যক শিক্ষার্থী। কিন্তু আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী বিভিন্ন ধরনের অসৎ কাজের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে জড়িত। তাদের চরিত্রে ও বৈশিষ্ট্যে শিক্ষার কোন ইতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যায় না বরং একশ্রেণির শিক্ষিত লোকেরাই বিভিন্ন সরকারি চাকুরি সহ রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থপাচার সহ নানাবিধ কেলেঙ্কারীর সাথে জড়িত হয়ে পড়ছেন। অথচ অনেকেই দেশের সেরা বিদ্যাপিঠ সহ ভালো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তারা আমাদের দেশের সম্পদ ও সরকারি অর্থায়নেরই উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেন। তারপরও একশ্রেণির কথিত শিক্ষিতদের নৈতিকতা, আদর্শ ও মূল্যবোধ একেবারেই প্রান্তিক পর্যায়ের। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই আামাদেরকে এ অশুভ বৃত্ত থেকে বেড়িয়ে আসা উচিত।

আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষা এসব শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা ও মূল্যবোধ সৃষ্টিতে মোটেই সহায়ক নয়। কারণ, প্রকৃত শিক্ষার রূপ, রস ও গন্ধ থেকে এরা অনেকটাই বঞ্চিত। ফলে অবক্ষয় তাদেরকে অক্টোপাসের মতো চেপে ধরেছে। একথা কারো অজানা নয় যে, ছাত্রজীবনে অনেক শিক্ষার্থী মাদক গ্রহণ কিংবা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে পড়েন। কিছু শিক্ষার্থী ত্রাসের কালচার চালুর মাধ্যমে বিগত বছরগুলোতে বিশ^বিদ্যালয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর বিভিন্ন ট্যাগ দিয়ে অত্যাচার করে এসেছে। কারও কোনো মতামত পছন্দ নাহলে অশ্লীল গালমন্দ, হুমকি এমনকি হত্যা করার নজির রয়েছে আমাদের দেশের শিক্ষাঙ্গনগুলোতে। তবে আমাদের দেশের বর্তমান প্রজন্মের চিন্তাধারায় পরিবর্তন এসেছে। আমরা তা সহজেই টেলিভিশন কিংবা পত্রিকা পড়লে বুঝতে পারি। অনেক তরুণ-তরুণী নাস্তিকতায় বিশ^াসী। কথিত মুক্ত স্বাধীনতার নামে সমাজ ও জাতির শান্তি, শৃঙ্খলা নষ্টের মাধ্যমে পারিবারিক বন্ধন ভাঙার পায়তারা শুরু হয়েছে বেশ আগে থেকেই। ফলে অবক্ষয় এদের পিছু ছাড়েনি।

নতুন প্রজন্মের মধ্যে অবক্ষয় এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, অনেকে পড়াশোনার মাধ্যমে ভালো ক্যারিয়ার গঠন করলেও পিতামাতার খোঁজ পর্যন্ত রাখেন না। সুসম্পর্ক নেই আত্মীয়-স্বজনদের সাথেও। পিতামাতার শেষ ঠিকানা হয় বৃদ্ধাশ্রম। সম্প্রতিকালে বৃদ্ধাশ্রমে অসহায় পিতামাতার সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে নেমে আসছে ভয়াবহ বিপর্যয়। ফলে আমাদের সৌহার্দ্যপূর্ণ পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কগুলো ধ্বংসের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে। মাত্রাতিরিক্ত অবক্ষয়ের কারণে আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েই চলেছে আত্মহত্যার মতো ঘটনা। পিতামাতা, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের সম্পর্কেও ফাটল ধরেছে ; মানুষের প্রতি মানুষের অবিশ^াস বেড়েই চলেছে। মূল্যবোধ তলানীতে নেমে আসার কারণে খুন, ছিনতাই, সন্ত্রাস, ভেজাল খাদ্য, নকল ওষুধ সহ নানাবিধ অপতৎরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আমাদের অবক্ষয় এতোই প্রান্তিকতায় এসে ঠেকেছে যে, তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে বয়োবৃদ্ধ থেকে শিশু-কিশোরকে পিটিয়ে বা গায়ে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করার মতো নিন্দনীয় ঘটনাও ঘটছে। মূল্যবোধের অভাবে পরিবারগুলো মধ্যে হিংসা, বিদ্বেষ ও ভোগবিলাসের কেন্দ্রস্থল হয়ে উঠেছে। পরোপকারের পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে পরশ্রীকাতরা। আত্মকেন্দ্রিক, স্বার্থপর ও ধনবাদী ধ্যান-ধারণায় গড়ে উঠেছে ভারসাম্যহীন জীবনব্যবস্থা।

সমাজের সবকিছুই পরিচালিত হচ্ছে আত্মস্বার্থ, গোষ্ঠীস্বার্থ ও শ্রেণিস্বার্থকে কেন্দ্র করে। দিন দিন মানুষের মানসিক বিকৃতি বাড়ছে। হতাশা বা অস্থিরতা বিরাজ করছে ব্যক্তিজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে। মানুষের মধ্যে মায়া-মমতা, স্নেহ ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধের পরিবর্তে স্থান করে নিয়েছে পাশবিকতা ও বেহায়াপনা। অথচ আমরা শৈশব থেকেই জ্ঞান অর্জন ও সফলতার জন্য জীবন নিয়মতান্ত্রিক ছকে বেধে ফেলেছি। সুন্দর জীবনের পাবার আশায় কত শত প্রতিযোগীতা, ছুটে চলা জীবন সংগ্রামে। কিন্তু দিনশেষে আমাদের সারাজীবনের লব্ধ জ্ঞান ও শিক্ষা কাজে লাগাতে পারছি না। পরিস্থিতি এমন যে, শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্যই এখন চাকরি পাওয়া।

মূলত, শিক্ষা ও জ্ঞান মানুষের বোধগম্যতা ও উদ্ভাবনী শক্তি বৃদ্ধি করে। যে জ্ঞান পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার কথা, সেখানে এর বিপরীত চিত্রই সর্বত্রই দৃশ্যমান। পুঁথিগত জ্ঞান দিয়ে হয়তো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন হয়েছে। কিন্তু এর মানবীয় প্রভাব খুব দেখা যায় না। এ সকল কিছুর মূলে রয়েছে রাষ্টীয়ভাবে ধর্মীয় শিক্ষাকে কম গুরুত্ব দেওয়া। আমাদের দেশের প্রচলিত শিক্ষায় বস্তুবাদ ও পশ্চিমা মূল্যবোধের প্রভাব লক্ষণীয়। ফলে অবক্ষয় আমাদের জাতিস্বত্ত্বাকে অক্টোপাসের মতো চেপে ধরেছে। যা আমাদের বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আবেগ-অনুভূতি, আশা-আকাক্সক্ষার সাথে মোটেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। মূলত, রাষ্টের দায়িত্বই শৃঙ্খলা রক্ষা ও মানবিকতা, নৈতিকতা দিয়ে সমাজে ধর্ম, সংস্কৃতি ও জাতীয় মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে শিক্ষাব্যবস্থা প্রণয়ন করা। যা একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও মূল্যবোধভিত্তিক জাতি বিনির্মাণে অত্যন্ত জরুরি। কারণ ধর্মের মূল দর্শন হলো নৈতিকতা ও মূল্যবোধ। ধর্মীয় মূল্যবোধে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে মনুষ্যত্ব বা মানবিকতাকে। মানুষের এসব ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যই অন্যসব প্রাণী থেকে আলাদা করে। যার চরিত্রে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ নেই; সে মানুষ হতে পারে না। মূলত, সকল ধর্মেই মূল্যবোধ ও ব্যবস্থায় শিষ্ঠাচারের শিক্ষা দেওয়া হয়। ধর্মীয় দর্শন কিংবা ধর্মীয় অনুশাসন আমাদের নীতি, মূল্যবোধ ও প্রেরণার মাধ্যমে সকল প্রকার ভালো কাজে উৎসাহিত করেছে। পারিবারিক, সামাজিক দায়িত্ব সংহতি, পারস্পারিক সাহায্য সহ কর্মক্ষেত্র, খাদ্য, পোশাক-পরিচ্ছেদে, কোথায় কীভাবে আচরণ করবে ইত্যাদি নির্দেশনা দেয়। দার্শনিকদের মতে, ধর্ম সমাজ কাঠামোর একটি মূখ্য উপাদান। কারণ অতীত থেকেই ধর্ম মানুষের আচার-আচরণ নিয়ন্ত্রণ, শান্তি, শৃংঙ্খলা আনয়ন, সার্বিক দিকের সর্বাঙ্গীন উন্নতি, অগ্রগতি ও প্রগতি সাধন ও সমাজকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অনুসঙ্গ।

ধর্ম এমন এক চিরন্তন ও মৌলিক বিধান যা মানুষকে পূর্ণ আত্মনিয়ন্ত্রণ এবং আত্মনির্ভরশীল হিসেবে গড়ে তোলে। বিশেষ করে দার্শনিক ও ব্যবহারিক দু’ দিকে ইসলাম অনুশাসন ও অনুপ্রেরণায় ভূমিকা পালন করে। পবিত্র কুরআনে আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক ও বাস্তবমুখী পবিত্রতম জীবন বিধান সুস্পষ্টরূপে উপস্থাপন করা হয়েছে। এখানে কোনো প্রকার বক্রতা রাখা হয়নি। কিন্তু দু:খের বিষয় আমাদের দেশে ধর্ম শিক্ষার জন্য কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেই। আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা কাঠামোয় ধর্ম কম গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত। যেকোনো বিষয়ের উপর পাণ্ডিত্য অর্জনের জন্য স্কুল কলেজে সংশিষ্ট বিষয়ে শিক্ষক আছেন। কিন্তু ইসলাম শেখার উন্নত কিছু করা হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থা থেকে ধর্মকে বিচ্ছিন্ন করার কারণে শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প ও প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বসভ্যতা এগিয়ে গেলেও। আধুনিক সভ্যতার দৌড়ে হারিয়ে যাচ্ছে প্রচলিত নীতি, নৈতিকতা ও মূল্যবোধ। বাড়ছে সামাজিক সংকট।

এমন প্রেক্ষাপটে সমাজের সকল স্তরে চরম অস্থিরতা স্থান করে নিয়েছে। দয়া, পরোপকারিতা , আত্মত্যাগ মতো মানবীয় গুণ বর্তমান সমাজে প্রায় অনুপস্থিত। ইসলামি আদর্শ একজন ব্যক্তিকে তার জীবনের করণীয় নির্ধারণ করে দেয়। ইসলাম পারলৌকিক পুরষ্কার ও শাস্তির কারণ, করণীয় ও ধরন তুলে ধরে। এভাবে ধর্ম আবশ্যকীয় দিক-নির্দেশনা দিয়ে ইহজাগতিক ও পারলৌকিক জীবনকে সুন্দর, সফল ও সার্থক করতে সাহায্য করে। মনস্তাত্ত্বিকভাবে ধর্মের প্রভাব বিশেষভাবে লক্ষণীয়। বই, পুস্তকের পাতায় ইসলামের মহৎ বর্ণনা হলেও ব্যক্তিজীবনে প্রয়োগ নেই। এজন্য ইসলামকে জীবনের সাথে যথাযথভাবে মানিয়ে নিতে পারি না। অনেক ক্ষেত্রে ধর্মীয় বিষয়ে স্বল্প জ্ঞান থাকায়, ভুল ব্যাখ্যা মানুষকে সেকুলারিজমের দিকে ধাবিত করে। আবার অর্ধচিন্তাও ধর্ম থেকে বিরত রাখে। কিন্তু ইসলামি ফিকহে মানবজীবনের ব্যক্তিগত থেকে শুরু করে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, আন্তর্জাতিকসহ জীবন ঘনিষ্ট সকল বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ ও নির্দেশনা প্রদান করেছে।

মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের একমাত্র উপায় হচ্ছে তাওহিদে বিশ্বাস ও আল্লাহর আনুগত্য করা। ইসলামের প্রয়োগ না থাকা আমাদের এ দুরাবস্থার জন্য দায়ী। একটি শিশুকে মানবিক ও আদর্শবান হিসাবে গড়ে তুলতে নিজ ধর্ম শিক্ষা অপরিহার্য। ছোট্ট থেকে শিশুদের ধর্মীয় মূল্যবোধে গড়ে তুলতে পারলে সমাজে অনেকাংশে অবক্ষয় রোধ করা সম্ভব হবে। এজন্য আমাদের দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরূ করে সকল অঙ্গনে ধর্ম শিক্ষার জন্য ব্যবস্থা করা আবশ্যক। সম্প্রতি দেশের ইসলামী দলগুলো প্রাথমিকে ধর্ম শিক্ষক নিয়োগে কথা বলেছেন । যা বর্তমান সময়ের সঙ্গে প্রাসঙ্গিক। কারণ, কোন দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় পাঠ্যক্রম হলো একটি আয়নাস্বরূপ।

যার মধ্যে দেশের মানুষ তাদের এবং পরবর্তী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ দেখতে পায়। এজন্য একটি নিখুঁত পাঠ্যক্রম প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন একটি দেশের নাগরিকদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামি শিক্ষাব্যবস্থা তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও নৈতিক চেতনা বিকাশে ভূমিকা রাখে। কারণ যা কিছু সুন্দর, কল্যাণকর, উপযোগী ও কাম্য তা শুধু ধর্ম থেকেই জানা যায়। শিক্ষা ব্যবস্থার সকল ক্ষেত্রে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা; একই সাথে মূল্যবোধের চর্চা বাধ্যতামূলক করা জরুরি। অন্যথায় সুউচ্চ দালান, অট্টালিকা ও প্রযুক্তিতে ব্যাপক উন্নয়ন ঘটালেও ধর্মহীনতা আমাদের বন্য পশুতে পরিণত করবে। যা কোন জাতির জন্যই কাক্সিক্ষত নয়।

লেখক : শিক্ষার্থী ও প্রাবন্ধিক।