রেল ভ্রমণের অভিষেকটা আমার হয়েছিলো শৈশবেই। সঙ্গত কারণেই তা ছিলো অনেকটা স্বপ্নের মতই। কারণ, ট্রেন জার্নি নিয়ে অনেক চমকপ্রদ গল্প-গুজব শুনেছি অগ্রজদের কাছে। নানাজন নানাভাবেই আমার কাছে এর অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেছেন। সবগুলোই বাস্তবসম্মত ছিলো না বরং কিছু কল্পকাহিনীও ছিলো এসব গাল-গল্পের মধ্যে। শুনেছি ট্রেন নাকি খুবই দ্রুতগামী। এক নিমিষেই বিশ্বের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে পৌঁছে যায়; একেবারে বোরাকের স্টাইলে। মনে হয় অশরীরি এক দ্বৈত্যের পিঠে সওয়ার হয়ে ডালিম কুমার আর কঙ্কাবতীর মত রূপকথার স্বপ্নরাজ্যে পরিভ্রমণ। কাউকে কাউকে বলতে শুনেছি, ট্রেন যখন দ্রুত চলে তখন মনে হয় পুরো পৃথিবীটা ঘুরছে তো ঘুরছেই; একেবারে চক্রাকারে। এসব কথা শুনে বেশ পুলকিতই হতাম, আর কল্পনার রাজ্যে বিচরণ করতাম মনের মাধুরী মিশিয়ে। ফলে রেল জার্নিটা আমার কাছে আরাধ্য হয়েই উঠেছিলো। একটা মহেন্দ্রক্ষণের অপেক্ষায় ছিলাম আমি।
আমার এক মামাতো বোন নাসরিন ফাতেমার বিয়ে হয় নাটোরের লালপুরের দুয়ারিয়া গ্রামের নাজমুল হক সরকারের সাথে। পেশায় ছিলেন একজন নামকরা ব্যাংকার। গ্রামের প্রচলিত প্রথা অনুযায়ী নানি-দাদিদের নাতনির বাড়িতে অতিথি হওয়ার আবশ্যকতা থেকেই মুরব্বীদের নাটোরে যাওয়ার দিনক্ষণ ঠিক হয়েছিলো। যেতে হবে ট্রেনে চেপে। এ সফর নিয়ে মুরব্বীদের মধ্যে যেমন উচ্ছাস ছিলো; তেমনিভাবে ছিল না কৌতুহলের কোন সীমা। বিশেষ করে নানি-দাদি মহলে। আমার মত তারাও লোক মুখে শুনেছেন ট্রেনের দুরন্তপনার কথা। আলাদীনের চেরাগে ঘষা দিলেই নাকি এক বিশালকায় দৈত্য এসে ঝড়ের গতিতে ট্রেন নামের বাহনটিকে টেনে নিয়ে যায় গন্তব্যে। কিন্তু এসব মুরব্বীদের ট্রেনের অবয়ব, গঠন ও পরিসর নিয়ে কোন ধারণাই ছিলো না। কারণ, তারা সাধারণত গরুর গাড়িতে চলাফেরা করতেই ছিলেন অভ্যস্ত। তাই তাদের চিন্তা-চেতনাও গরুর গাড়ির কেন্দ্রিকই ছিলো। এ বৃত্তের বাইরে তাদের পক্ষে যাওয়া সম্ভব ছিলো। কারণ, সবই ছিলো তাদের কল্পনারও অতীত। তাদের ধারণা ট্রেন গরু গাড়ির মত বাঁশে-কাঠে নির্মিত কোন যান। বেশি বেশি গরু বা মহিষের ব্যবহার করে এর গতি বাড়ানো হয়। তাই আমার নানি (মামীর মা) এজনকে রীতিমত প্রশ্নই করে বসেছিলেন, ‘ট্রেনে কতগুলো বলদ জোড়ানো থাকে?’।
অবশ্য আমার প্রথম রেল ভ্রমণ ছিলো খুবই চরমপ্রদ। জীবনে কোনদিন ট্রেন না দেখলেও নানির মত কখনো গরু গাড়ির আদলে চিন্তা করিনি বরং বৃহত পরিসরে আধুনিক যানই মনে করতাম। তবে কল্পনা আর বাস্তবতার মধ্যে অবশ্যই ফারাক ছিলো ঢের। আর তা উপলব্ধি করতে পেরেছিলাম জীবনে প্রথম ট্রেন দর্শনের মাধ্যমে। যা আমার দীর্ঘদিনের অপ্রাপ্তি দূর করেছিলো; বেশ পুলকিতও হয়েছিলাম আমি।
যতদূর মনে পরে আমার প্রথম ট্রেন যাত্রাটা ৮০-এর দশকের শুরুতেই হবে। প্রাইমারীতে ছিলাম তখন। আমার জেঠাতো বোন মনোয়ারার বিয়ে হয় দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার ছাতনী রাওতারা গ্রামে। বোন আমার বয়সে বেশ বড় হওয়ায় তার বাড়িতে যাতায়াত ছিলো ছোট বেলায়। যেতে হতো ট্রেনে। জয়পুরহাট স্টেশনে উঠে নামতে হতো হিলিতে। স্টেশনটা দিনাজপুরের হাকিমপুরে হলেও সেখানে হাকিমপুর নামে কোন স্টেশন ছিলো না; এখনো নেই। হিলি নামেই স্টেশন।
যাহোক, জেঠা মাওলানা নজির হোসেনের সাথে তার মেয়েদের বাড়িতে যাওয়ার দিনক্ষণ ঠিক হয়েছিলো বেশ আগেই। ছোট ভাই (জেঠাতো) শামসুলেরও যাওয়ার কথা হলো আমাদের সাথে। জীবনে প্রথম ট্রেনে উঠবো এ ভেবে আমার আনন্দ ও কৌতুহলের কোন সীমা ছিলো না। এক রোমাঞ্চকর ভ্রমণের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম। কল্পলোকের রূপকথার গল্পের মতই সবকিছু উপলব্ধি করছিলাম আমি। যে সবের অধিকাংশের সাথেই বাস্তবতার কোন মিল ছিলো না।
আশির দশকের প্রারম্ভের কোন এক সকালে জেঠার হাত ধরে ট্রেন যাত্রার জন্য বাড়িতে রওয়ানা দিয়েছিলাম। বিষয়টি আমার কাছে বেশ উপভোগ্য হলেও কিছুটা শঙ্কাও আমাকে তাড়া করে ফিরছিলো। আসলে ট্রেনে উঠতে পারবো কি না, উঠলে সেখানে আমার করণীয় কী? নামবোই বা কেমন করে বা আদৌ নামতে পারবো কি না? এসব আমার ছোট মনে বেশ ঘুরপাক খাচ্ছিল। কিন্তু এসব প্রশ্নের কোন সমাধান খুঁজে পাইনি।
যতদূর মনে পড়ে যাত্রা শুরু করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছিলো। আমরা স্টেশনে পৌঁছার আগেই আমার সে স্বপ্নের ট্রেনটা প্লাটফর্মে দাঁড়িয়েছিলো। খানিকটা তাড়াহুড়া করেই ট্রেনে উঠত হয়েছিলো আমাদেরকে। আমি অনেকটা হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছিলাম যে, আমার সে আরাধ্য স্বপ্নের ট্রেনে উঠতে পেরেছি। বেশ কৌতুহলী দৃষ্টিতে চারদিকে ঘুরে ফিরে দেখছিলাম। কিন্তু জ্যেষ্ঠদের মুখে ট্রেনের দুরন্ত গতির গল্প শুনেছিলাম বাস্তবে তার মিল খুঁজে পাওয়া গেলো না। ট্রেন দ্রুতগামী হলেও গল্পের সাথে একটা বড় ধরনের ফারাক লক্ষ্য করলাম। জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে সবকিছু চক্রাকারে ঘোরার আংশিক সত্যতা মিললো। রেল পুলিশ দেখে কিছুটা হলেও ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম, এ ভেবে যে যদি হাতের লাঠি দিয়ে কিছু একটা করে ফেলে। কারণ, লোক মুখে শুনেছি পুলিশ খুবই খারাপ প্রকৃতির। এরা মানুষ না; পুলিশ।
ট্রেনটা খুব দ্রুতগতির ছিলো না। লোকাল ট্রেন। তাই জয়পুরহাট থেকে হিলির গন্তব্যে পৌঁছতে পুরানাপৈল, পাঁচবিবি ও বাগজানা স্টেশনে দাঁড়িয়েছিলো। যাহোক হিলি স্টেশনে পৌঁছতে খুব বেশি সময় লাগেনি। ট্রেনে টিকিট করে উঠতে হয় তা আমার জানা ছিলো না। হিলি স্টেশনে নামার পর জেঠার কাছে জেনেছি সে কথা। কিন্তু সময় অভাবে আমরা টিকিট করতে পারিনি। তাই বিনা টিকেটেই পৌঁছে গিয়েছিলাম হিলি স্টেশনে। পথে কোন বিপত্তিও হয়নি; বাগড়া হয়নি কোন রেলকর্মীর সাথে এসব নিয়ে বেশি চিন্তা করার অবসর ও ফুরসৎ আমার কোনটাই ছিলো না।
জেঠা স্টেশনে নেমেই হিলি থেকে জয়পুরহাটের ফিরতি ২টি টিকেট কিনে ছিড়ে ফেললেন। বিষয়টির ব্যাংখ্যা দিলেন তিনি আমাদের কাছে। যা বললেন তার নির্যাসটা হলো, বিনা টিকিটে রেল ভ্রমণ শুধু বিবেক বিরুদ্ধ কাজ নয় রবং গুরুতর শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আমরা সময় অভাবে টিকিট করতে পরিনি। পথে কোন সমস্যাও হয়নি। তবে বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে রাষ্ট্র বা রেলকে ফাঁকি দেয়ার সুযোগ নেই। তাই তিনি নিজের জন্য ১টা এবং ২ অপ্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ১টা প্রাপ্ত বয়স্ক টিকিট ক্রয়ের মাধ্যমে তা বিনষ্ট করে বিবেকের কাছে দায়মুক্ত হলেন। তার এ কালজয়ী অভিব্যক্তিকে পুঁজি করেই নিজের জীবনের করণীয় ও বর্জনীয় নির্ধারণ করে নিয়েছি। মূল্যবোধের দিক্ষাটা নিয়েছি সে দিনই। যা আমার জীবনের সর্বোত্তম পাথেয় হয়ে আছে আজো; আর জীবনের শেষদিন পর্যন্তই থাকবে। তাই আমার জীবনের প্রথম রেল ভ্রমণ ছিলো জীবনের নীতিনির্ধারণী ভ্রমণ।
যাহোক আমার কাছে রেল ভ্রমণ অতীতে যেমন রোমাঞ্চকর ছিলো, এখনো আছে এবং আগামী দিনেও থাকবে। তবে রেল ভ্রমণ নিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতাও নেহায়েত কম নয়। কারণ, রেল পরিবহন একটি অতিজনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম হলেও সরকার বা সংশ্লিষ্ট বিভাগ এ মাধ্যমে উন্নত ও কাক্সিক্ষত যাত্রী সেবা নিশ্চিত করতে পারেনি। নিম্নমানের পরিষেবা, পদপদে যাত্রী হয়রানি, সিডিউল বিপর্যয়, রেলকর্মীদের লাগামহীন স্বেচ্ছাচারিতা জনপ্রিয় এ যোগাযোগ মাধ্যমকে লাভজনক ও জনবান্ধব হিসাবে গড়ে উঠতে দেয়নি। আমাদের নিকট প্রতিবেশী রাষ্ট্র ভারতে এসব রীতিমত কল্পনাতীত। যতবার সেদেশে গিয়েছি, সেখানে কোন অনিয়ম বা সিডিউল বিপর্যয় চোখে পড়েনি।
একবার বাড়ি থেকে ঢাকা ফেরার পথে ট্রেনে ওঠার সময় পকেটমারের কবলে পড়েছিলাম। ঈদের ছুটি শেষে সপরিবারে কর্মস্থল ঢাকায় ফিরছি। ট্রেনে ওঠার সময় খুঁইয়ে বসলাম মানিব্যাগ। নগদ টাকা, ক্রেডিট কার্ড ও ট্রেনের টিকিট সবই খোয়া গেল। সিট নং স্মরণে থাকায় অনেকটা উদ্বেগ-উৎকন্ঠা নিয়েই সেখানে বসে পরলাম আমরা। এক স্টেশন যেতে না যেতেই এক ভদ্রলোক আমাদের সিটগুলো নিজের দাবি করে বসলেন। উভয় পক্ষের মধ্যে রীতিমত বচসা শুরু হলো। স্ব স্ব অবস্থানে উভয় পক্ষ অনঢ় থাকলাম। শেষ পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে হস্তক্ষেপ করলেন রেলের দায়িত্বরত টিটিই। তার দাবি, যার হাতে টিকিট আছে তিনিই আসনের বৈধ মালিক। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো আসনের সংখ্যা নিয়ে। যারা সিটের মালিকানা দাবি করছেন তারা মাত্র দু’জন আর সিট সংখ্যা চার। এর উত্তর উপযাজক হয়ে রেলকর্মীই দিয়ে বললেন, অপ্রয়োজনীয় সিট কিনতে আইনগত কোন বাধা নেই। যে কেউ ইচ্ছা করলে তা কিনতে পারে। কেন একজন গাঁটের টাকা দিয়ে অতিরিক্ত টিকিট কিনবেন তার কোন সদুত্তর পাওয়া গেলো না। আমি তো একেবারে আক্কেলগুড়ুুম। তাহলে কি সংশ্লিষ্ট রেলকর্মীই আমার পকেট কেটেছেন, না এ অশুভচক্রের সাথে এদের কোন সখ্য আছে। আমি রেলকর্মীর দাপটের কাছে কোন ভাবেই সুবিধা করতে পারলাম না। হয়ে পড়লাম কিং কর্তব্য বিমূঢ়।
এক্ষেত্রে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন এক উঠতি বয়সের তরুণ। বয়স সর্বোচ্চ ২০/২২ হবে। তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছে কাছে জানতে চাইলেন, ‘আপনি কত তারিখে কোন স্টেশন থেকে টিকিট করেছেন’? তিনি এর কোন সদুত্তর দিতে পারলেন না বরং অবলীলায় স্বীকার করলেন যে তিনি স্টেশনে এসে এক ব্যক্তির কাছে চোরা পথে টিকিট কিনেছেন। এরমধ্যেই রেলকর্মী উধাও হয়ে গেছেন। আমি ফিরতি টিকিটটা বিমানবন্দর থেকে বেশ আগেই নিয়েছিলাম। আমি তারিখ সহ তা উল্লেখ করার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বাস্তবতা মেনে নিলেন। সাথে একজন ভদ্র মহিলা থাকায় মানবিক কারণে একটা সিট ছেড়ে দিতে হয়েছিলো।
রেল ভ্রমণ অভিজ্ঞার একটা অস্বস্তিকর ও বিব্রতকর রাত এসেছিলো আমার জীবনে। মূলত, রেল বিভাগের অব্যবস্থ’াপনা ও অমার্জনীয় উদাসীনতার কারণেই এমন সব অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছিলো। সম্ভবত ২০০৯ সালে খুলনা থেকে জয়পুরহাট ফেরার জন্য ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিলাম খুলনা স্টেশনে। ট্রেনের নির্ধারিত সময় ছিলো রাত ন’টায়। কিন্তু ট্রেনটা নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে উত্তরবঙ্গ থেকে খুলনার গন্তব্যে পৌঁছেছিল। এরপর নেওয়া হয়েছিলো মেরামত খানায়। ধারণা করা হয়েছিলো যে, হয়তো ঘন্টাখানেকের মধ্যেই যাত্রা শুরু করা সম্ভব হবে। কিন্তু কিছুক্ষণ পর জানা গেলো ট্রেনটা সেখানে নেওয়ার পর লাইনচ্যুত হয়েছে। সমস্যা সমাধানের জন্য রেলকর্মীরা প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন আন্তরিকভাবে। মাঝে মাঝে যাত্রীরা স্টেশন মাস্টারের কাছে খোঁজ নিলে তিনি একই কথার পুরনাবৃত্তি করছেন, ‘চেষ্টা চলছে, দ্রুতই ঠিক হয়ে যাবে’।
কোন সুখবর ছাড়াই ঘড়ির কাঁটা তখন রাত ৩টায়। যাত্রীদের কেউ কেউ কৌতুহল বশত মেরামত শালায় ঢু মারলেন। দেখা গেলো, ট্রেন লাইনচ্যুত হলেও তা পুনরুদ্ধারে কোন কাজ চলছে না। মুহূর্তের মধ্যে যাত্রীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলেন। স্টেশন মাস্টারের অফিস অবরুদ্ধ করা হলো। তিনি এবার নতুন কথা বললেন এবং জানালেন, ‘এতো রাতে কোন রেলকর্মীকে পাওয়া যাচ্ছে না, তাই যাত্রীদেরকে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হবে’।
তার এমন জবাবে কেউ আস্থা রাখতে পারলেন না বা আশ্বস্ত হলেন না বরং তারা কোন প্রকার বিলম্ব ছাড়াই তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যা সমাধানের দাবিতে অনড় থাকলেন। মাত্র ১৫ মিনিটের মধ্যেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে গেলো। রেলকর্মীরও কোন সংকট সৃষ্টি হলো না।
এতোকিছুর পরও আমি ট্রেন জার্নিতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করি। যদিও এসব ক্ষেত্রে নানাবিধ তিক্ত অভিজ্ঞতা রয়েছে। একবার এক মহিলা টিটিই (Travelling Ticket Examiner)-এর সাথে আমার বড় ধরনের বচসা হয়েছিলো। আমার কাছে কেন শিমুল তুলা ছিলো এটা ছিলো তার আপত্তি। এমনকি তিনি এক পর্যায়ে তুলার বস্তা ট্রেন থেকে ফেলে দিতে উদ্ধত হয়েছিলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে তাকে বলেছিলাম, ‘এমন কিছু করবেন না যাতে আপনাকে চাকরি হারাতে হয়’। একবার মুখের দিকে চেয়ে চলে গিয়েছিলোন। আর কখনো এ আম্মার সাথে আমার কখনো দেখা হয়নি।
আমার ট্রেন ভ্রমণ নিয়ে কিছু সুখস্মৃতি থাকলেও তিক্ত অভিজ্ঞতার ফিরিস্তিটাই বেশ দীর্ঘ। কারণ, রেলে কালো বিড়াল অতীতে ছিলো, এখনো আছে; আগামী দিনেও থাকবে। এক সময় রেলমন্ত্রী রেলের কালো বিড়াল ধরতে গিয়েছে তিনিও সে দলভুক্ত হয়েছিলেন। তবে এবার রেল ভ্রমণের এক ভিন্ন অভিজ্ঞতা বর্ণনা দেবো। যা আমাদের জীবনের অতি উল্লেখযোগ্য ঘটনা।
সম্ভবত ২০১৪ সালের কথা। রাতে একতা একপ্রেসে বাড়ি থেকে ঢাকা ফিরছিলাম সম্রাজ্ঞিকে সাথে নিয়ে। রাত প্রায় ৩টা। গভীর ঘুম উভয়কেই আচ্ছন্ন করেছিলো। হঠাৎই ঘুমের মধ্যেই সিট থেকে ছিটকে পড়েছিলাম উভয়ই। বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে ট্রেনটা দুর্ঘটনার ঘটেছে। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া স্টেশনে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আশা একতা এক্সপ্রেসের সাথে আরেকটা ট্রেনের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ। হতাহতও কম ছিলো না। তবে ভিসার মেয়াদ থাকায় আল্লাহ আমাদের উভয়কেই হেফাজত করেছিলেন-আলহামদুলিল্লাহ।
মেয়াদ উত্তীর্ণ হলে চলে যেতে হতো মহাপ্রভূর সানিধ্যে; পাঠকদের কাছে অজানাই থেকে যেতো আমার রেল ভ্রমণের উপখ্যান।
www.syedmasud.com.