মুন্সী আবু আহনাফ
গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি হলো জনগণের সাথে রাজনৈতিক নেতৃত্বের সততার সম্পর্ক। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কেবল ভোট আদায়ের কৌশল নয়, এটি একটি পবিত্র অঙ্গীকার যা রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরি করে। কিন্তু ২০২৬ সালে নির্বাচিত সংসদ অধিবেশনে জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্নে যা ঘটেছে, তা কেবল রাজনৈতিক ব্যর্থতা নয়, বরং এটি জনগণের সাথে সুপরিকল্পিত তামাশা। যে জনগণ তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে এই সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছে, সেই জনগণের ন্যায্য দাবিকে ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়েছে কেবল ক্ষমতার রাজনীতির স্বার্থে। ২০২৬ সালের প্রথম সংসদ অধিবেশন ১২ মার্চ ২০২৬ তারিখে শুরু হয়ে ৩০ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সমাপ্ত হয়। এই অধিবেশনটি মোট ২৯টি কার্যদিবস পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। অধিবেশনের মোট সময়কাল ছিল প্রায় ১০৪ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট। ২০২৬ সালের ১২ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মোট ৯৪টি বিল (আইন) পাস হয়েছে। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনের সমাপনী ভাষণে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হয়, যার অনেকগুলোই এই অধিবেশনে আইনে পরিণত হয়েছে। প্রথম অধিবেশনে ৯৪টি আইন পাশ করা হলেও জুলাই জাতীয় সনদ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রশ্নে বিএনপির সরকার পরিষ্কার জনগণের সাথে তামাশা করেছে। জুলাই সনদ ছিল সেই ঐতিহাসিক দলিল, যেখানে জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটেছিল। গণভোটের দাবি ছিল প্রত্যক্ষ গণতন্ত্রের একটি অনুশীলন। সেই জন্য দেশের ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছেন ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। কিন্তু নির্বাচনের আগে বিএনপি মুখে মুখে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও, ক্ষমতায় আসার পর সংসদের প্রথম অধিবেশনেই এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে পাশ কাটিয়ে যাওয়া হয়েছে। এটি একটি সুস্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ক্ষমতাসীনরা জনগণের কাছে নয়, ক্ষমতার কাছে দায়বদ্ধ।
এক. জুলাই সনদ ছিল এমন একটি দলিল যা জনগণের মৌলিক অধিকার, সুশাসন, রাষ্ট্র সংস্কার এবং রাজনৈতিক সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণ করেছিল। এই সনদে অন্তর্ভুক্ত ছিল বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ, প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ এবং নাগরিকের মৌলিক স্বাধীনতার সুরক্ষা। এছাড়াও আর কোনো ক্ষমতাশীন দল যেন আওয়ামী লীগের মতো ফ্যাসিস্ট হিসেবে আবির্ভূত না হয়। এটি কোনো একটি দলের দলিল ছিল না, বরং এটি ছিল জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে ধারণ করে জাতির সামগ্রিক প্রত্যাশার দলিল।
নির্বাচনী প্রচারণায় এই সনদকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপক আলোড়ন তুলেছিল। জনগণ বিশ্বাস করেছিল যে নির্বাচিত সংসদ অধিবেশনে জুলাই সনদ আইনি মর্যাদা পাবে এবং এর বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। কিন্তু অধিবেশনের পর অধিবেশন কেটে গেছে, সংসদে দীর্ঘ বিতর্ক হয়েছে অর্থহীন বিষয় নিয়ে। আর জুলাই সনদ পড়ে রয়েছে ধুলোমাখা কাগজের স্তূপে। এই প্রতারণার পেছনে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট। প্রথমত, জুলাই সনদের বাস্তবায়ন ক্ষমতাসীনদের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়। দুর্নীতি দমন করলে দলীয় কোষাগার সংকুচিত হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হয়ে পড়বে। দ্বিতীয়ত, সনদ বাস্তবায়নের জন্য যে সাহস ও সদিচ্ছা দরকার, তা এই বিএনপি সরকারের নেই। তৃতীয়ত, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গোষ্ঠীর চাপ এই সরকারকে সংস্কারমুখী পদক্ষেপ নেওয়া থেকে বিরত রাখছে।
দুই. গণভোট হলো গণতন্ত্রের সবচেয়ে প্রত্যক্ষ এবং শক্তিশালী অস্ত্র। এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে জনগণ সরাসরি কোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রশ্নে তাদের মতামত দিতে পারে, কোনো মধ্যস্থতাকারীর ছায়া ছাড়াই। বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে সাংবিধানিক পরিবর্তন, গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় পরিচয়ের প্রশ্নে গণভোটের অনুশীলন রয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে গণভোটের দাবিকে ক্ষমতাসীনরা সবসময় তাদের ক্ষমতার প্রতি হুমকি হিসেবে দেখে। ২০২৬ সালের সংসদ অধিবেশনে গণভোটের প্রশ্নটি উত্থাপিত হয়েছিল বিরোধী পক্ষ এবং সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে। কিন্তু সরকারি দল এটিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং ‘বিভ্রান্তিকর’ বলে নাকচ করে দিয়েছে। যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে সংসদই জনগণের প্রতিনিধিত্ব করে, তাই আলাদা গণভোটের প্রয়োজন নেই। কিন্তু এই যুক্তি মূলত একটি ফাঁকি। সংসদ সদস্যরা দলীয় শৃঙ্খল আওতায় ভোট দেন, দলীয় নির্দেশনা মেনে চলেন, তারা সবসময় জনগণের সত্যিকারের ইচ্ছার প্রতিনিধিত্ব করেন না। গণভোটের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করা আসলে জনগণের সার্বভৌমত্বকে অস্বীকার করা। এটি বলে দেয় যে ক্ষমতাসীনরা জনগণের রায়কে ভয় পান। কারণ তারা জানেন, প্রত্যক্ষ গণভোটে জনগণ তাদের পক্ষে রায় নাও দিতে পারে। ক্ষমতার মসনদ টিকিয়ে রাখতে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে, এটিই হলো জনগণের সাথে সবচেয়ে বড় তামাশা।
তিন. ২০২৬ সালের সংসদ অধিবেশন শুরু হয়েছিল বহু প্রত্যাশা নিয়ে। নতুন নির্বাচিত সরকার, নতুন সংসদ, এই নতুনত্বের মধ্যে মানুষ ভেবেছিল হয়তো কিছু পরিবর্তন আসবে। কিন্তু অধিবেশনের প্রথম দিন থেকেই স্পষ্ট হয়ে গেল যে এই সংসদ জনগণের জন্য নয়, এটি দলীয় স্বার্থ রক্ষার মঞ্চ। কারণ সংসদের প্রথম অধিবেশনের মোট সময়কাল ছিল প্রায় ১০৪ ঘণ্টা ৫৩ মিনিট। অর্থাৎ ৬২৯৩ মিনিট * ৪.৫৪ লাখ টাকা (টিআইবি হিসেব মতে অনুমানিক ব্যয়) = ২৮৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অর্থাৎ প্রথম অধিবেশনেই রাষ্ট্রের জনগণের প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হয় কিন্তু জনগণের আকাক্সক্ষার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। কারণ অধিবেশনের অধিকাংশ সময় ব্যয় হয়েছে অর্থহীন বিতর্ক, রাজনৈতিক দোষারোপ এবং দলীয় কোন্দলে। জনগণের দৈনন্দিন সমস্যা; নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, বেকারত্ব, শিক্ষার মান, স্বাস্থ্যসেবার অবনতি, এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনার টেবিলে আসেনি। জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রশ্ন উত্থাপন করা হলে সরকারি দল কৌশলে বিষয় পরিবর্তন করে দিয়েছে, বিরোধীদের সময় কেটে নিয়েছে, এবং ভোটিংয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন ওঠে, সংসদ কি আদৌ জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল প্রতিষ্ঠান, নাকি এটি কেবল দলীয় আজ্ঞাবহ সদস্যদের একটি সমাবেশ? যেখানে দলীয় হুইপের নির্দেশে সংসদ সদস্যরা ভোট দেন, সেখানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার কোনো অর্থ থাকে না। জনগণ ভোট দেন ব্যক্তিকে, কিন্তু সেই ব্যক্তি সংসদে গিয়ে দলের হাতিয়ারে পরিণত হন। এই ব্যবস্থাই জুলাই সনদ ও গণভোটের মতো জনগণের মৌলিক দাবিগুলোকে হত্যা করছে।
চার. এই সংকটের শেকড় অনেক গভীরে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা রয়েছে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পালনের কোনো জবাবদিহিতার ব্যবস্থা নেই। কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনের আগে যা বলেছে, তার কত অংশ বাস্তবায়িত হয়েছে তার কোনো মূল্যায়ন হয় না। গণমাধ্যম প্রশ্ন করলেও সরকার উত্তর দিতে বাধ্য নয়। এই জবাবদিহিতার শূন্যতাই তামাশার রাজনীতির সবচেয়ে বড় ভিত্তি। দ্বিতীয় সমস্যা হলো নির্বাচনী ব্যবস্থার দুর্বলতা। অর্থ ও পেশীশক্তির দাপটে নির্বাচনে জনগণের প্রকৃত পছন্দ প্রতিফলিত হয় না। যারা নির্বাচিত হন, তারা অনেক সময় জনগণের চাওয়া-পাওয়ার সাথে পরিচিত নন। তারা বরং তাদের পৃষ্ঠপোষক ও দলীয় নেতৃত্বের কাছে দায়বদ্ধ। ফলে সংসদে জনগণের কণ্ঠস্বর দুর্বল থেকে যায়। তৃতীয় সমস্যা হলো নাগরিক সমাজের বিভাজন ও দুর্বলতা। রাজনৈতিক দলগুলো নাগরিক সমাজকেও তাদের নিজস্ব প্রভাব বলয়ে বিভক্ত করে ফেলেছে। ফলে স্বতন্ত্র কণ্ঠস্বর যে চাপ সৃষ্টি করতে পারত, তা অনেকটাই অকার্যকর হয়ে পড়েছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমাজের বিভিন্ন স্তর থেকে যে ঐক্যবদ্ধ চাপ আসা দরকার ছিল, তা আসেনি।
পাঁচ. জনগণ নীরব থাকলেও মূর্খ নয়। রাজনৈতিক প্রতারণার প্রতি জনমানসে একটি ধীরে ধীরে ক্রোধ পুঞ্জীভূত হচ্ছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়ে সরকারের নীরবতা ও প্রতারণা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনার মুখ পড়েছে। তরুণ প্রজন্ম বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ, কারণ তারাই এই সনদের জন্য সবচেয়ে বেশি সোচ্চার হয়েছিল। ইতিহাস সাক্ষী দেয় যে জনগণের সাথে বারবার বিশ্বাসঘাতকতা করলে একসময় বড় পরিবর্তন আসে। বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন অপেক্ষা করতে পারে, কিন্তু চিরকাল নয়। যে রাজনৈতিক শক্তি জনগণের সাথে তামাশা করে, তার পতন অনিবার্য। প্রশ্ন কেবল সময়ের। নাগরিক সমাজ, সাংবাদিক, আইনজীবী এবং বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠন এখন একটি ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কথা ভাবছেন। জুলাই সনদের বাস্তবায়ন এবং গণভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নামার প্রস্তুতি চলছে। এই আন্দোলন যদি সংগঠিত ও ধারাবাহিক হতে পারে, তাহলে সরকারকে পিছু হটতে হবে।
ছয়. এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ অপরিহার্য। সবার আগে দরকার সংসদীয় জবাবদিহিতার একটি স্বাধীন কাঠামো তৈরি করা। যেখানে নির্বাচনী ইশতেহার পর্যালোচনা করা হবে, এবং প্রতিশ্রুতি পালনে ব্যর্থতার জন্য জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে। এই কাঠামো হতে পারে একটি স্বাধীন সাংবিধানিক কমিশনের আকারে। দ্বিতীয়ত, গণভোট আইন প্রণয়ন করা জরুরি। সংবিধানে গণভোটের বিধান থাকলেও তার প্রয়োগের পথ দীর্ঘ ও জটিল। একটি সহজ ও স্বচ্ছ গণভোট আইন তৈরি হলে জনগণ যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রশ্নে সরাসরি মতামত দিতে পারবে। এটি গণতন্ত্রকে আরও অংশগ্রহণমূলক ও কার্যকর করবে। তৃতীয়ত, নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কার দরকার। অনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতি চালু করলে সংসদ আরও বৈচিত্র্যময় ও জনপ্রতিনিধিত্বশীল হবে। একটি দলের একচেটিয়া আধিপত্য কমে গেলে আলোচনা ও আপোষের মাধ্যমে জনগণের স্বার্থরক্ষা সহজ হবে।
পরিশেষে, ২০২৬ সালের সংসদ অধিবেশনে জুলাই সনদ ও গণভোটের বিষয়ে যা ঘটেছে, তা বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য একটি বিপজ্জনক নজির স্থাপন করেছে। এটি প্রমাণ করে যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কেবল ভোট আদায়ের কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি প্রমাণ করে যে জনগণের সার্বভৌমত্ব এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এটি প্রমাণ করে যে আমাদের গণতন্ত্র এখনো পরিপক্ক নয়। তবু হতাশার কারণ নেই। বাংলাদেশের মানুষ স্বাধিকারের জন্য অনেক রক্ত দিয়েছে। এই জাতি জানে কীভাবে অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হয়। জুলাই সনদের দাবি ও গণভোটের অধিকার আদায়ের আন্দোলন একদিন সফল হবে। কারণ এই দাবি কোনো দলের নয়, এটি সমগ্র জনগণের। যে সরকার জনগণের সাথে তামাশা করে, ইতিহাস তাদের মাফ করে না। গণতন্ত্রের প্রকৃত পরীক্ষা হয় প্রতিশ্রুতি পালনে, ক্ষমতার নয়। যে সরকার ক্ষমতায় থাকার জন্য জনগণের কণ্ঠ রোধ করে, সে সরকার জনগণের নয়। জুলাই সনদ ও গণভোটের বাস্তবায়ন কেবল একটি রাজনৈতিক দাবি নয়Ñএটি বাংলাদেশের গণতন্ত্রের অস্তিত্বের প্রশ্ন। এই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত জনগণের সংগ্রাম অব্যাহত থাকবে, এবং ইতিহাস এই সংগ্রামের পাশে দাঁড়াবে।