॥ জসিম উদ্দিন মনছুরি ॥

বাংলাদেশের উদয়মান অর্থনীতি ঈর্ষণীয়। তৈরি পোশাক রপ্তানি, শ্রমবাজার এবং রেমিটেন্স প্রবাহে বাংলাদেশ দ্রুতগতিতে শক্তিশালী অর্থনীতির দেশ হিসেবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করছে। কৃষি নির্ভরতা ছাড়িয়ে নানামুখী উদ্যোগে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। তবে বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে দ্রুত উন্নয়নশীল হলেও নানামুখী চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তৈরি পোশাক ও রেমিটেন্স নির্ভর এই অর্থনীতি বিশ্বের ৩৫তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার ২য় বৃহত্তম। এতদ্বসত্ত্বেও উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রিজার্ভ সংকট, এবং আমদানিনির্ভরতার কারণে অর্থনীতি সংকটের মুখোমুখি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৪৯% হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অবস্থার প্রধান দিকসমূহ : জিডিপি ও প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশ গত এক দশকে গড়ে ৬% এর বেশি প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছিল। কিন্তু, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি কমে ৩.৪৯%-এ নেমেছে, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সর্বনি¤œ। মূল্যস্ফীতি ও রিজার্ভ : দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ঘাটতি অর্থনীতির বড় চ্যালেঞ্জ। দেশের অর্থনীতি কৃষি থেকে শিল্প ও সেবামুখী হচ্ছে। জিডিপিতে সেবার অবদান ৫১% এবং শিল্পের অবদান ৩৭% এর বেশি। তৈরি পোশাক শিল্প রপ্তানি আয়ের মূল চালিকাশক্তি। বাংলাদেশ উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ২০২৬ সালে স্বল্পোন্নত দেশের (LDC) তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ হতে যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগের (FDI) প্রবাহ ইতিবাচক ধারায় ফিরছে, যা ২০২৫ সালে প্রায় ৮০% বেড়েছে। বাংলাদেশ একটি উদীয়মান অর্থনীতি হলেও, বর্তমান সামষ্টিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা-যেমন ডলার সংকট এবং মূল্যস্ফীতি-অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কিছুটা মন্থর হয়েছে।

বাংলাদেশের মাথাপিছু দেশজ উৎপাদন ১৯৭০-এর দশকে সর্বোচ্চ ৫৭% প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। তবে এ প্রবৃদ্ধি বেশিদিন টেকেনি। ১৯৮০-এর দশকে এ হার ছিলো ২৯% এবং ১৯৯০-এর দশকে ছিলো ২৪%। বাংলাদেশের অর্থনীতি বিশ্বের মধ্যে ৩৫ তম এবং ক্রয়ক্ষমতার ভিত্তিতে (পিপিপি) ২৯ তম যা দক্ষিণ এশিয়ায় ২য়। বাংলাদেশ গত এক দশক ধরে গড়ে ৬.৩ শতাংশ হার ধরে রেখে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে এবং বর্তমানে বিশ্বের ৭ম দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতি। ক্রয়ক্ষমতার সমতা অনুসারে (পিপিপি) বর্তমানে বাংলাদেশে মাথাপিছু জিডিপি ৪,৬০০ মার্কিন ডলার।

২০২৬ সালের মে মাসের তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক (World Bank) এবং ট্রেডিং ইকোনমিক্স-এর প্রক্ষেপণ তথ্য মতে বাংলাদেশে মোট শ্রমশক্তি প্রায় ৭৭.৩৫ মিলিয়ন (বা ৭ কোটি ৭৩ লাখ ৫৫ হাজার ১৬৮ জন)। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (অক্টোবর-ডিসেম্বর) দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রাক্কলিত প্রবৃদ্ধি কমে ৩.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩.৫৩ শতাংশ। ২০২৬Ñ২৭ অর্থবছরের মধ্যে জিডিপির প্রায় ৪১.৭ শতাংশে পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে প্রথম প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল তুলনামূলক বেশি-৪.৯৬ শতাংশ। আগের বছরের একই সময়ে যা ছিল ৩.৯১ শতাংশ। ৬ এপ্রিল প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসেবমতে, এখনও বাংলাদেশের ৮৭ % গ্রামীণ মানুষের আয়ের উৎস কৃষি। দুই-তৃতীয়াংশ গ্রামীণ পরিবার কৃষি ও অকৃষিজ উভয় ধরনের আয়ের ওপর নির্ভরশীল এমনকি শহরে বসবাসকারীদের মধ্যেও ১১ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষিকাজের সাথে যুক্ত। ২০১৩ সালের বাংলাদেশ শ্রমশক্তি জরিপের হিসেবমতে, বাংলাদেশের মোট শ্রমশক্তির ৪৫.৭ শতাংশই কৃষিতে নিয়োজিত। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ধান উৎপাদনে বিশ্বে ৩য়, সবজি উৎপাদনে ৩য় এবং আলু উৎপাদনে ৭ম বা ৮ম স্থানে রয়েছে। চীন ও ভারতের পর সবজি উৎপাদনে বাংলাদেশ তৃতীয় স্থান অর্জন করেছে। এছাড়াও মাছে ৪র্থ, আমে ৭ম, পেয়ারায় ৮ম এবং খাদ্যশস্য উৎপাদনে বিশ্বে ১০ম। বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষির অবদান ১৬.৬ %। বাংলাদেশের ‘কৃষি যান্ত্রিকীকরণ নীতিমালা ২০১৯’ এ বিনা সুদে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ের জন্য ঋণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে এবং ‘জাতীয় কৃষি সম্প্রসারণ নীতি ২০১৯’ চূড়ান্তকরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়াও কৃষির উন্নতিকল্পে ‘ক্ষুদ্রসেচ নীতিমালা’, ‘জৈব কৃষিনীতি’ এবং ‘কৃষিতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নীতিমালা ২০১৯’ প্রণয়ন করা হয়েছে। এছাড়াও ‘জাতীয় কৃষিনীতি’ ও ‘ডেল্টাপ্লান: ২১০০’ তৈরি করা হয়েছে। সরকার কৃষকদের জন্য সর্বোমোট ৪৯৯টি ‘কৃষি তথ্য ও যোগাযোগ কেন্দ্র’ (এআইসিসি) স্থাপন করেছে। বাংলাদেশের কৃষিকে যান্ত্রিকীকরণ করার উদ্দেশ্যে হাওর ও দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকার কৃষকদের জন্য ৭০ শতাংশ এবং অন্যান্য এলাকার জন্য ৫০ শতাংশ হারে কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়ে ভর্তুকি প্রদান করে সরকার। এছাড়া বর্তমান সরকার কৃষকদের উন্নয়নের জন্য স্বল্পমূলক কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয় করতে কৃষক কার্ডের উদ্যোগ নিয়েছে।

২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে উৎপাদিত চালের পরিমাণ প্রায় ৪১৯.১৬১ লক্ষ মেট্রিক টন (যা চাল হিসেবে হিসাব করা হয়েছে)। (২০২৫-২৬ বিপণন বছর) তথ্য ও বিভিন্ন প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের পরিমাণ মোটামুটিভাবে ৩.৭৬ কোটি মেট্রিক টন হতে পারে বলে মার্কিন কৃষি বিভাগ (USDA) পূর্বাভাস দিয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সব চাইতে বেশি অবদান রাখে তৈরি পোশাক শিল্প, এই শিল্প দেশীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। মোট প্রবৃদ্ধির ৬-৮% আসে পোশাক খাত থেকে। বাংলাদেশের এই শিল্পকে বর্তমানে উন্নতবিশ্বসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো অনুকরণ করছে। স্বাধীনতার পরে যে শিল্প আমাদের অর্থনীতিকে দাঁড় করিয়েছে তার মাঝে একমাত্র মাধ্যম কিন্তু এই পোশাক শিল্পই। বিশ্বের বুকে নিজেদের কঠোর শ্রম ও উৎপাদন দক্ষতা দেখাতে পারার প্রমাণ মিলে এই শিল্পের মাধ্যমে। স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে ১৯৭২-৭৩ সালে রপ্তানি আয় ছিল মাত্র ৩৪৮.৩৩ মিলিয়ন মার্কিন। যার সিংহভাগ (৯০%) আসত পাট ও পাটজাত পণ্য রপ্তানি করে। তৎকালীন অন্যান্য প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যে অন্যতম চা শিল্প ও চামড়া শিল্প। পরবর্তী চার দশকে বাংলদেশের রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমান অবস্থায় পৌঁছানোর পেছনে প্রধান খাত হল তৈরি পোশাক শিল্প। অন্যান্য সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাত হল ঔষধ শিল্প ও জাহাজ নির্মাণ শিল্প।

বিশ্বব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বাংলাদেশের ঋণ সংকটের ঝুঁকি ‘নি¤œ’ থেকে বেড়ে এখন ‘মধ্যম’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। প্রতিবেদনে এসব ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল। বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনীতিতে ৬টি নি¤œমুখী ঝুঁকি রয়েছে। যেমন- ব্যাংকিং খাতের সম্ভাব্য দুর্বলতা, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সংস্কার বাস্তবায়নে বিলম্ব, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিঘœ, প্রত্যাশার তুলনায় ধীরগতিতে মূল্যস্ফীতি হ্রাস এবং জ্বালানি সরবরাহে সীমাবদ্ধতা। তবে আগামী অর্থবছরে বিনিয়োগ কার্যক্রমের পুনরুদ্ধারের ফলে প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, এই প্রবৃদ্ধি মূলত মূল্যস্ফীতি হ্রাস ও শক্তিশালী রেমিটেন্স দ্বারা সমর্থিত হবে, যা বেসরকারি ভোগব্যয়কে আরও জোরদার করবে। এছাড়া শ্রমবাজারের পরিস্থিতিতে সামান্য উন্নতি হবে। জাতীয় দারিদ্র্যের হার ২০২৬Ñ২০২৭ অর্থবছরে কমে ১৯.১ শতাংশে নেমে আসবে এবং মূল্যস্ফীতি প্রায় ৫.৫ শতাংশে স্থিতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া মূলত সংস্কারের কার্যকর বাস্তবায়ন, ব্যাংকিং খাতের পুনর্গঠন, এবং অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক পরিবেশের ধারাবাহিক উন্নতির ওপর নির্ভর করবে।

এলডিসি থেকে উত্তরণ : বিশ্বব্যাংক বলেছে, ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ রপ্তানি খাতে তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না বলে আশা করা হচ্ছে।

ব্যাংক খাত : প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংক গত অর্থবছরে খেলাপি ঋণ শনাক্তকরণ ও সংরক্ষণ প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার পদক্ষেপ নিয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালের মার্চ নাগাদ ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার বেড়ে ২৪.১ শতাংশে পৌঁছায়, যা দক্ষিণ এশিয়ার ব্যাংকগুলোর গড় হার ৭.৯ শতাংশের তুলনায় অনেক বেশি। বাহ্যিক খাত : বাহ্যিক খাতের বিষয়ে বিশ্বব্যাংক বলেছে, প্রবাসী আয় বছরওয়ারি ভিত্তিতে ২৬.৮ শতাংশ এবং রপ্তানি আয় ৮.৮ শতাংশ বেড়েছে যা মূলত প্রস্তুত তৈরি পোশাক, চামড়া, প্লাস্টিক, কৃষিপণ্য ও জুতা শিল্পের শক্তিশালী পারফরম্যান্সের ফল। উন্নয়ন সহযোগীদের উল্লেখযোগ্য বাজেট সহায়তাও গত অর্থবছরে আর্থিক হিসাবকে শক্তিশালী করেছে। নিট প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ ২০.১ শতাংশ বেড়ে ১.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যদিও এটি মোট জিডিপির মাত্র ০.৪ শতাংশ। এর ফলে সামগ্রিক পরিশোধ ভারসাম্য উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে, যা আগের বছরের ৪.৩ বিলিয়ন ডলারের ঘাটতি থেকে ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের উদ্বৃত্তে পরিণত হয়েছে। এই ইতিবাচক পরিবর্তন বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে। কর জিডিপি অনুপাত কমেছে : প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজস্ব ঘাটতি গত অর্থবছরে কিছুটা বেড়েছে, যার প্রধান কারণ ছিল কর আয়ের মন্থর প্রবৃদ্ধি এবং ভর্তুকি ও সুদ পরিশোধজনিত বর্তমান ব্যয় বৃদ্ধি। তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জিডিপির অনুপাতে করের হার ৭.৪ শতাংশ থেকে কমে ৬.৮ শতাংশে নেমে এসেছে— যা প্রথম প্রান্তিকে দুর্বল অর্থনৈতিক কার্যক্রম এবং অর্থবছরের শেষ দিকে কর আদায়ে বিঘœতার প্রতিফলন। ২০২৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার ২য় এবং বিশ্বের ৩৫তম-৩৬তম বৃহত্তম অর্থনীতি (নামমাত্র জিডিপি ভিত্তিতে)। ৪৫০-৪৬০ বিলিয়ন ডলার জিডিপির এই দেশটিকে উদীয়মান অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে গণ্য করা হয়। এটি বর্তমানে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে এবং ২০২৬ সালের নভেম্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এই যোগ্যতা অর্জন করবে। প্রধান রপ্তানি অংশীদার জার্মানি ১৬%, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ১৫.২%, যুক্তরাজ্য ৭.৪১%, স্পেন ৭.১৭%, পোল্যান্ড ৫.৫৫২%, ফ্রান্স। আমদানি নেতিবাচক বৃদ্ধি $৮২.৪৯ বিলিয়ন (২০২১-২০২২)। আমদানি পণ্য তরল প্রাকৃতিক গ্যাস, অপরিশোধিত তেল এবং পেট্রোলিয়াম, যন্ত্রপাতি এবং সরঞ্জাম, রাসায়নিক, তুলা, খাদ্যদ্রব্য। প্রধান আমদানি অংশীদার চীন ২১.৫%, ভারত ১২.২%, সিঙ্গাপুর ৯.২%, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৬.২%, হংকং ৫.৫% অন্যান্য ৪৫.৩%।

২০২৬ এর তথ্য অনুযায়ী রেমিটেন্স প্রবাহ: মে মাসের প্রথম ৪-৫ দিনে রেমিটেন্স প্রবাহে উচ্চ প্রবৃদ্ধি (প্রায় ২৯%-৪৬%) দেখা গেছে, যা রিজার্ভের স্বস্তি ধরে রাখতে সাহায্য করছে। ২০২৬ সালের অন্যান্য উল্লেখযোগ্য তথ্য:ফেব্রুয়ারি ২০২৬: রিজার্ভ ২৯.৪৮ বিলিয়ন থেকে ৩৪ বিলিয়ন ডলারের উপরে উঠেছিল। এপ্রিল ২০২৬: ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত রিজার্ভ ৩৪.৮৭ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছিল।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীমাহীন দুর্নীতি, অর্থ পাচার, দলীয়করণ ইত্যাদির কারণে অর্থনীতি ব্যাপক সংকটে পড়ে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে রেমিটেন্স প্রবাহও অনেকটা কমে গিয়েছিল। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য কতিপয় উদ্যোগ গ্রহণ করা অতীব জরুরি। রেমিটেন্স প্রবাহের উপর গুরুত্ব, কৃষি খাতে ভর্তুকি, অর্থ পাচার রোধে কঠোর নীতিমালা প্রণয়ন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ, দলীয়করণমুক্ত সরকারি অফিস আদালত যদি গড়ে তোলা যায় তাহলে দেশের অর্থনীতি অতি শিগগির ঘুরে দাঁড়াবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে বর্তমান সরকার যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ করলে দেশের অর্থনীতি সচল হবে এবং একটি শান্তিপূর্ণ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে বাংলাদেশ।

লেখক : কথাসাহিত্যিক ও প্রাবন্ধিক।