ওমর বিশ্বাস

আবদুল কুদ্দুস ফরিদী কবি, ছড়াকার, প্রাবন্ধিক। সাহিত্যের প্রতি তার ত্যাগ ছিল অপরিসীম। বিভিন্ন বিষয়ের উপর তিনি প্রচুর লেখা লিখেছেন। বলা যায়, সব বিষয়ের উপর লিখতেন। কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যের উপর তার ভালো দখল ছিল। বাংলা ভাষার উপর কাজ করেছেন। শব্দের গাঁথুনি ও বাক্যবিন্যাস নিয়ে গবেষণা করতেন। বাংলা ব্যাকরণ ও বানান নিয়ে কাজ ছিল তার নিয়মিত চর্চার অংশ। জ্যোতির্বিজ্ঞানের উপর তার ব্যাপক ধারণা ছিল। ব্যক্তি জীবনে তিনি একজন অত্যন্ত সাদাসিধে মানুষ ছিলেন। তবে সাহিত্যের প্রতি ছিল তার গভীর ভালোবাসা। সাহিত্যের জন্যই ব্যয় করেছেন জীবনের সময়গুলো। নীল সাগরের ডাক, নন্দিত সুন্দর, পারিজাত, রূপঝলমল প্রজাপতি ও ১০০ রুবাই Ñ এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত বই। প্রকাশের অপেক্ষায় ছিল অনেক। বিভিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে তার অসংখ্য প্রকাশিত. অপ্রকাশিত লেখা।

তিনি ১৪ আগস্ট, ১৯৫৭ সালে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ সময় ধরে ঢাকায় থেকে কর্মজীবন ও লেখালেখি করেছেন। শেষের দিকে তার নিজ বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ভেদরগঞ্জের লাকার্তা গ্রামে বাস করতেন। দীর্ঘদিন অসুস্থ ছিলেন। সেখানেই তিনি গত ৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ এ ইন্তেকাল করেন।

ছন্দবিষয়ক একটি বই ’কবিতার ভিতর বাহির’। সাহিত্যমোদীদের জন্য হলেও বইটি নতুন কবি, লেখকদের জন্য বেশি উপযোগী। এটি ২০১৭ সালে প্রকাশিত হলে কবি আবদুল কুদ্দুস ফরিদী বইটির উপর একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন। নিজ থেকেই তিনি তার অনুভূতি লিখিত আকারে জানিয়েছিলেন। কপিটি এতদিন সংগ্রহে থাকলেও কোথাও প্রকাশিত হয়নি। অপ্রকাশিত সেই লেখাটি এখানে হুবহু তুলে ধরা হলো।

“কবিতার ভিতর বাহির : একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা

আবদুল কুদ্দুস ফরিদী

যারা কবিতা লেখেন এবং যারা কবিতা পড়েন তারা তো বটেই, অন্য শিক্ষিত মাত্রই কবিতার প্রতি একটি অদম্য, দুর্নিবার আগ্রহ, আকাক্সক্ষা ও কৌতূহল পোষণ করেন। কারণ কবিতার ভেতরের রহস্যময়তা ও অলঙ্করণ পাঠকের চিত্তকে মোহাচ্ছন্ন ও ললিত সৌন্দর্য বোধে আন্দোলিত করে তোলে। করে তোলে মুগ্ধতায় বিভোর। কিন্তু অনেকেই জানেন না কবিতা কিভাবে লিখতে হয় বা কবিতা লেখার উপকরণগুলো কি, অন্য কথায় কবিতার মালমশলাগুলো কেমন বা কি রূপ। কেউ যদি সঙ্গীত, চিত্রকলা বা নৃত্যকলা আয়ত্ত করতে চান তা হলে তাকে সঙ্গীতের স্বরলিপি জানতে ও গায়েন ভঙ্গি আয়ত্ত করতে হয়, ছবি অঙ্কন ও রঙের কারুকাজ জানতে এবং নাচের মুদ্রা শিখে নিতে হয়। ঠিক তেমনি কবিতা লিখতে হলেও কিছু উপকরণ অর্থাৎ এরও কিছু কলা কৌশল ও ট্যাকনিক জেনে নিতে হয়।

সে সব নৈপুণ্য শেখার অত্যন্ত সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ বই হচ্ছে ‘কবিতার ভিতর বাহির’ নামক বইটি।

ওমর বিশ্বাস একজন অত্যন্ত রুচিশীল লেখক। তিনি সব ধরনের কবিতা, ছড়া এবং ছোটদের উপযোগী গল্প লেখেন। কবিতার বিষয়ক আলোচিত বইটির লেখক তিনি। তিনি আলোচ্য বইটিতে শব্দের স্বর (যাকে তিনি সিলেবল বলেছেন), যতি, মাত্রা ও পর্ব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেছেন। স্বরের দুটি রূপ মুক্তস্বর ও রুদ্ধস্বর ছাড়াও ছন্দ নিয়ে উপমাসহ বিস্তৃত মনোজ্ঞ আলোচনা করেছেন। ছন্দের তিনটি রূপ Ñ স্বরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত ও অক্ষরবৃত্ত নিয়ে যে বিশদ আলোচনা করেছেন তা কবিতার একজন অগ্রসর কর্মীকে সুনির্দিষ্ট পথরেখা দেখাবে কাব্যকলার।

বইটির কিছু ভুল বানান এড়িয়ে যাওয়া যেতো Ñ যেমন ‘আনুষঙ্গিক’ না হয়ে হয়েছে ‘আনুষাঙ্গিক’, কবি জসীম উদ্দীনের নাম দুই শব্দে না হয়ে হয়েছে এক শব্দে জসীমউদ্্দীন। মূলত হবে দু’ শব্দে। তবে ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে এক শব্দই লেখা হয়েছে। এবং ‘পৈত্রিক’ এভাবে না হয়ে হবে ‘পৈতৃক’। আরো আছে Ñ হবে ‘যথেষ্ট’ হয়েছে ‘যথেষ্ঠ’ এবং হবে ‘লক্ষ’ হয়েছে ‘লক্ষ্য’।

ক্রাউন সাইজের বইটির প্রচ্ছদ, কাগজ, মুদ্রণ ও বাঁধাই মনের মতো। মূল্য একদম হাতের নাগালে, মাত্র ১২০ টাকা। এর প্রকাশককে অসংখ্য ধন্যবাদ। বইটির বহুল প্রচার কামনা করছি।”