যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন যেকোনো মূল্যে ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতা বা চুক্তি করতে চাইছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা। হরমুজ প্রণালি ও আঞ্চলিক উত্তেজনা নিরশনে ওয়াশিংটনের এই দ্রুত চুক্তির প্রবণতা এবং সামরিক পদক্ষেপ থেকে পিছু হটাকে ভালোভাবে নিচ্ছে না তেল আবিব, যা দুই মিত্রের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদনে এক জ্যেষ্ঠ ইসরায়েলি কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে বলা হয়, ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে তেলে আবিবের উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। তিনি মন্তব্য করেন, ‘ট্রাম্পের নীতিতে যুদ্ধ ও শান্তির মধ্যকার ব্যবধান হলো কিবোর্ডের টি, আর এবং ইউ অক্ষরের দূরত্বের মতো।’ এর মাধ্যমে মার্কিন প্রশাসনের দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনের অভ্যাসের দিকে ইঙ্গিত করেন তিনি।
চ্যানেল ১২ জানায়, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীসংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে ওয়াশিংটন সরাসরি ইসরায়েলকে কোনো তথ্য দিচ্ছে না। ফলে বাধ্য হয়ে পরোক্ষ মাধ্যমে সার্বিক পরিস্থিতির খোঁজখবর নিতে হচ্ছে তেলে আবিবকে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আড়ালে ইসরায়েলি কর্মকর্তারা এই কূটনৈতিক উদ্যোগকে উপহাস করছেন।
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, আন্তর্জাতিক গুরুত্বপূর্ণ জলপথগুলোতে নৌযান চলাচলের বিষয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের আলোচনা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। তবে দ্রুতই একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের সরকারি সূত্রের বরাতে আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার লক্ষ্যে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা একটি চুক্তিপত্র তৈরি করছেন। এ নিয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও অন্যান্য আঞ্চলিক সহযোগীদের সঙ্গে আলোচনা জোরদার করেছেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তেহরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে এই সংঘাতের সূচনা হয়। জবাবে ইরানও উপসাগরীয় দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। পরে এপ্রিলে দুই পক্ষ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় এবং জুনে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সামরিক সংঘাত অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। তবে গত মাসে সেই চুক্তি ভেঙে গেলে দুই সপ্তাহ ধরে পাল্টাপাল্টি হামলা চলে। পরবর্তীতে সংঘাত নিরসনে আলোচনার খবরের মধ্যে ট্রাম্প হঠাৎ করে বোমাবর্ষণ বন্ধের নির্দেশ দেন।