রয়টার্স
ইরানের সঙ্গে গত দুই মাস ধরে চলা ব্যয়বহুল ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ বন্ধের জন্য নজিরবিহীন রাজনৈতিক চাপের মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুদ্ধের ক্রমবর্ধমান ক্ষয়ক্ষতি এবং আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে এখন হন্যে হয়ে ‘এক্সিট রুট’ বা বের হওয়ার পথ খুঁজছে হোয়াইট হাউস। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখন একটি বিশেষ পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যদি হঠাৎ করেই এই যুদ্ধে নিজেকে ‘একতরফা বিজয়ী’ ঘোষণা করেন, তবে ইরান তার জবাবে কী করতে পারে—তা নিয়েই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে ইতোমধ্যে কয়েক হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, এই যুদ্ধ এখন ট্রাম্পের জন্য বড় ধরনের ‘রাজনৈতিক দায়’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। গোয়েন্দা ও রাজনৈতিক উপদেষ্টারা সতর্ক করেছেন যে, যুদ্ধ বন্ধ না হলে বড় ধরনের পরাজয়ের মুখে পড়তে পারে রিপাবলিকান পার্টি।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক মূল্যায়নে উঠে এসেছে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। ট্রাম্প যদি নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব মার্কিন সেনা সরিয়ে নেন, তবে ইরান একে তাদের নিজেদের বিজয় হিসেবে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরবে। আর যদি যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে জয়ী দাবি করে কিন্তু বিপুল সংখ্যক সৈন্য মোতায়েন রাখে, তবে ইরান বিষয়টিকে গুরুত্ব দেবে না। সেক্ষেত্রে এটি কেবল একটি আলোচনার কৌশল হিসেবে থেকে যাবে, যা স্থায়ী শান্তি আনবে না। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প এখন এমন এক সংকটে আছেন যেখানে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি হুট করে সরে আসাও মানহানিকর। শেষ পর্যন্ত হোয়াইট হাউস ‘বিজয়ীর বেশে’ ফেরার কোনো নাটকীয় ঘোষণা দেয় কি না, তা-ই এখন দেখার বিষয়।