গ্রিসের ক্রিট দ্বীপের কাছে দুটি নৌকা থেকে বাংলাদেশিসহ ৭৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধার করেছে দেশটির কোস্টগার্ড। তাদের মধ্যে অন্তত দুই নারী ও দুই শিশু রয়েছে। উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিকের পাশাপাশি যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদানের নাগরিকও রয়েছেন।
মঙ্গলবার দক্ষিণ ক্রিটের কালিলিমেনেস বন্দরের কাছে এ উদ্ধার অভিযান চালানো হয়। গ্রিক কোস্টগার্ডের এক প্রেস কর্মকর্তা জানান, ইউরোপীয় সীমান্ত সংস্থা ‘ফ্রন্টেক্স’-এর একটি ড্রোন সমুদ্রে দুটি নৌকার অবস্থান শনাক্ত করে। পরে কোস্টগার্ডের একটি জাহাজ ঘটনাস্থলে গিয়ে নৌকায় থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধার করে।
প্রথমদিকে গ্রিসের এএনএ নিউজ এজেন্সি ৮৫ জনকে উদ্ধারের খবর দিয়েছিল। পরে কোস্টগার্ড জানায়, প্রকৃত সংখ্যা ৭৯। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের কালিলিমেনেস বন্দরে নেওয়া হয়, যেখানে তাদের নিবন্ধন ও পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার কথা।
ক্রিট-গাভদোসে বাড়ছে অভিবাসনপ্রবাহ
সাম্প্রতিক সময়ে গ্রিসের ক্রিট এবং এর দক্ষিণে অবস্থিত গাভদোস দ্বীপ অনিয়মিত অভিবাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে পরিণত হয়েছে। গাভদোস লিবিয়ার উপকূল থেকে প্রায় ৩২০ কিলোমিটার দূরে। উত্তর আফ্রিকা থেকে ছোট ও ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে এসব দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষ।
২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসেই ক্রিট ও গাভদোসে ৮ হাজার ৫৫২ জন শরণার্থী ও আশ্রয়প্রত্যাশীর আগমন নথিভুক্ত হয়েছে বলে রিফিউজি সাপোর্ট এজিয়ান-এর হেলেনিক কোস্টগার্ডের তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে। তাদের মধ্যে বাংলাদেশি ছিলেন ৩ হাজার ৫৩৬ জন এবং সুদানের নাগরিক ৩ হাজার ১৫৯ জন। অর্থাৎ এই দুই দেশের নাগরিকই ওই সময়ের আগতদের বড় অংশ তৈরি করেছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা UNHCR-এর ২০২৬ সালের প্রথম দিকের তথ্যেও ক্রিটকে গ্রিসে শরণার্থী ও আশ্রয়প্রত্যাশীদের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
ইউরোপে আরো কঠোর হচ্ছে নীতি
ইউরোপে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসননীতি আরো কঠোর করা হয়েছে। অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন লিবিয়ার মতো ট্রানজিট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়িয়েছে।
গ্রিসের অভিবাসনমন্ত্রী থানোস প্লেভরিস অভিবাসীদের আগমন ঠেকাতে কঠোর নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। অভিবাসীদের আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ‘রিটার্ন হাব’ স্থাপনের বিষয়েও জার্মানি ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশের সঙ্গে আলোচনা করছে গ্রিস।
এই নীতিগত কড়াকড়ির মধ্যেই ক্রিটের কাছে বাংলাদেশিসহ ৭৯ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে উদ্ধারের ঘটনা ঘটল। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টায় থাকা মানুষের জন্য এ পথ যে এখনো সক্রিয়, এ ঘটনাও তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সূত্র: এএফপি