নেপালে সাম্প্রতিক আকস্মিক ভয়াবহ বন্যার মূল কারণ হিসেবে তিব্বত সীমান্তবর্তী উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলে হিমবাহ গলন বা বরফ ধস (Ice avalanche), হিমবাহ হ্রদ বিস্ফোরণ (GLOF) এবং একই সময়ে তিব্বত অংশে মৃদু ভূকম্পনকে চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত ও কারণসমূহ
হিমবাহ ধস ও হ্রদ বিস্ফোরণ: জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উচ্চ পাহাড়ি অঞ্চলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় তিব্বত ও নেপাল সীমান্তে হিমবাহ থেকে বরফ ধস বা বরফ গলা পানির আকস্মিক প্রবাহ তৈরি হয়। এর ফলে সৃষ্ট হিমবাহ হ্রদ ফেটে (Glacial Lake Outburst Flood) এই আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
ভূমিকম্পের প্রভাব: বিশেষজ্ঞদের মতে, তিব্বত অঞ্চলে ঠিক ওই সময়ে একটি মৃদু ভূমিকম্প (৪.৪ মাত্রা) আঘাত হানে। এর ফলে পাহাড়ি ঢলে ভূমিধস বা তুষারধস নেমে নদীর গতিপথ সাময়িকভাবে আটকে যায় এবং পরবর্তীতে সেই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে বিশাল পানিররাশি একসঙ্গে নিচের উপত্যকায় নেমে আসে।
প্রবল বৃষ্টিপাত ও নদীপ্রবাহ: নেপালের স্থানীয় অংশে তীব্র বৃষ্টি না হলেও উপরিভাগ বা তিব্বতের অংশে ভারী বর্ষণ এবং ভোতে কোশী ও লেন্দে খোলা নদীর পানির হঠাৎ বৃদ্ধিতে ধ্বংসাত্মক রূপ নেয়।
ভৌগোলিক ঝুঁকি: হিমালয়ের সংকীর্ণ উপত্যকা দিয়ে পানি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে নিচে নেমে আসায় এই আকস্মিক বন্যায় (Flash flood) ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানির মাত্রা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
স্থানীয় বৃষ্টির অনুপস্থিতি: সবচেয়ে রহস্যজনক ও বিপজ্জনক দিক হলো, যে এলাকায় এই আকস্মিক প্লাবন আঘাত হেনেছে (যেমন রাসুয়া জেলা) সেখানে বড় ধরনের কোনো স্থানীয় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি, বরং উপরের তিব্বত অংশে প্রবল প্রাকৃতিক পরিবর্তন ও বৃষ্টি বা বরফ গলার কারণে এই জোলোচ্ছ্বাস তৈরি হয়।
ভৌগোলিক দুর্বলতা: হিমালয়ের সংকীর্ণ উপত্যকা দিয়ে এই পানি প্রচণ্ড গতিতে নিচের দিকে নেমে আসায় রাসুয়া, ধাদিং ও নুওয়াকোট জেলায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালায়।