- তেল-চিনি ও আটার দাম লাফিয়ে বাড়ছে
- দিশেহারা নিম্ন-মধ্যবিত্তের ক্রেতারা
- চট্টগ্রামে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি, মাছ কিনতে হিমশিম ক্রেতারা
বাজারে ফের অসাধুচক্র মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছেন। ফলে সিন্ডিকেটে বন্দি হয়ে পড়েছে দ্রব্যমূল্য। ভোক্তার পকেট কাটতে তারা পুরোনো মোড়কে নতুন করে কারসাজি করছেন। বাজার তদারকিতে সরকারের তৎপরতা দৃশ্যমান না থাকায় যৌক্তিক কারণ ছাড়াই সঙ্ঘবদ্ধ সিন্ডিকেট ভোক্তাদের পকেট কাটছে এমন অভিযোগ উঠেছে। এতে প্রতি সপ্তাহে কোনো না কোনো পণ্যের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। একর পর এক নত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধিতে দেশের নিম্ম-মধ্যবিত্তের মানুষ অসহায় হয়ে ওঠছেন। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের অভিযোগ-আওয়ামী আমলের পুরনো সিন্ডিকেট পন্যের বাজারে আবারো সক্রিয় হয়ে ওঠছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, গ্যাসসঙ্কট ও আন্তর্জাতিক বাজারে বুকিং রেট বাড়ার অজুহাতে যে যার মতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে। ভোজ্যতেল, চিনি, ময়দাসহ নিত্যপন্যের দাম লাফিয়ে বাড়ছে। স্বস্তি নেই কাঁচাবাজরেও। গরিবের আমিষ বলে পরিচিত ডিমের দামও বাড়তি। ফলে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে। দাম বাড়ার পাশাপাশি কয়েকটি পণ্যের সরবরাহও কমে গেছে। চাহিদামতো পণ্য কিনতে গিয়ে একাধিক দোকান ঘুরতে হচ্ছে ক্রেতাদের। কোথাও কোথাও বাড়তি দাম দিয়েও প্রয়োজনীয় পণ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
গতকাল শুক্রবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে চিনি, ভোজ্যতেল, আটা ও ডিমের বাজারে অস্থির চিত্র দেখা গেছে। নতুন করে ফনা তুলেছে চিনি সিন্ডিকেট। বাজারে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তি তৈরি করেছে চিনির দাম। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহ আগেও অনেক জায়গায় প্রতি কেজি চিনি প্রায় ১১০ থেকে ১১৫ টাকা দরে পাওয়া গেছে। লাল চিনি একেকে দোকানে একেক দাম। ১৪০ টাকা কেজির প্যাকেটজাত চিনি বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনির দামও বেড়েছে। বিভিন্ন ব্র্যান্ডের প্যাকেটের গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য (এমআরপি) কেজিপ্রতি ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে। ফলে খোলা ও প্যাকেটজাত— দুই ধরনের চিনিই এখন বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। আবার প্যাকেট জাত একই লাল চিনি মোড়ক পরিবর্তন করে বিক্রি হচ্ছে ১৯০ টাকা কেজি দরে।
পাইকারি বিক্রেতাদের দাবি, গ্যাসসঙ্কটের অজুহাতে খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে বাড়ছে চিনির দাম। গত ১৫ দিনের ব্যবধানে পাইকারিতে প্রতি মণ (৩৭.৩২০ কেজি) চিনির দাম বেড়েছে ৩০০ টাকা পর্যন্ত। গতকাল খাতুনগঞ্জের পাইকারি বাজারে প্রতি মণ চিনি ৩৮০০ টাকা দরে বিক্রি হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি কেজি দশমিক ৪ ডলার হিসেবে প্রতি টন চিনির আন্তর্জাতিক বুকিং রেট ছিল ৪০০ ডলার। সেই হিসেবে প্রতি কেজি চিনির ক্রয়মূল্য পড়ে ৫০ টাকা। অর্থ বিনিয়োগ করা বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্যাস সঙ্কটের অজুহাতে বাজারে চিনির সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছেন মিল মালিকরা। এসব মিল মালিক পুরনো কায়দায় সিন্ডিকেট করে চিনির দাম বাড়াচ্ছেন বলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের অভিযোগ। জানা গেছে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চিনির আমদানি উন্মুক্ত করার কারণে সঙ্ঘবদ্ধ ওই চিনি সিন্ডিকেট কয়েক মাস কোণঠাসা ছিল। কিন্তু কিছুদিন না যেতেই পুরনো কায়দায় মিল মালিকদের সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে কস্টিংয়ের চাইতে কম দামে চিনি বিক্রি করে সাধারণ চিনি আমদানিকারকদের লোকসানের মুখে ঠেলে দেয় এবং একপর্যায়ে বাজারের নিয়ন্ত্রণ আবারো তারা নিয়ে নেয়।
এদিকে, ভোজ্যতেলের বাজারও অস্থির। সরবরাহ সংকটের অভিযোগে লিটারে ১০ টাকা বেড়েছে সয়াবিন তেলের। বর্তমানে প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেল বিক্রি হচ্ছে প্রতি লিটার ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা দরে। অন্যদিকে সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা। তবে নির্ধারিত দামে বোতলজাত তেল কিনতে গিয়ে অনেক ক্রেতাই বিপাকে পড়ছেন। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো বাজারে চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল সরবরাহ করছে না। ফলে অনেক দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আমদানিকারক জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন এবং পামতেলের বুকিং রেট প্রতি টনে ১০০ ডলার বেড়েছে।
এদিকে আটা ও ময়দার দামেও অস্বস্তি বেড়েছে। বাজারে প্যাকেটজাত ময়দা প্রতি কেজি ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও একই ময়দা প্রতিকেজি প্রায় ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। অর্থাৎ অল্প সময়ের ব্যবধানে কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। দুই কেজির প্যাকেটজাত ময়দার গায়েও এখন ১৬০ টাকা মূল্য লেখা রয়েছে। আগে একই পরিমাণ ময়দার প্যাকেটের দাম ছিল ১৪০ টাকা। ফলে ময়দার ক্ষেত্রেও ভোক্তাকে আগের তুলনায় বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, উৎপাদন ও আমদানি ব্যয়, পাইকারি পর্যায়ের মূল্য এবং সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে আটা-ময়দার দাম ওঠানামা করে। তবে খুচরা বাজারে স্বল্প সময়ে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়ে যাওয়ায় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে ডিমের দামও এখনো বাড়তি। রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চারটি ডিম কিনতে গুনতে হচ্ছে ৫০ টাকা। আবার কিছু পাড়া-মহল্লার দোকানে প্রতি ডজন ডিম ১৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতে দেখা গেছে। ডিমের দাম বাড়তি থাকায় নিয়মিত বাজার করা পরিবারগুলোতে এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে মাছ-গোশতের তুলনায় তুলনামূলক কম খরচে প্রোটিনের চাহিদা পূরণে ডিম গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এর দাম বাড়লে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের খাদ্য ব্যয়ও বেড়ে যায়। ক্রেতারা বলছেন, একটি পণ্যের দাম বাড়লে কোনোভাবে ব্যয় সমন্বয় করা সম্ভব হলেও একসঙ্গে কয়েকটি নিত্যপণ্যের দাম বাড়লে সংসারের বাজেট ঠিক রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। তেল, চিনি, আটা ও ডিম প্রতিদিনের খাবারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এসব পণ্যের দাম বাড়ায় বাজারের চাপ আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। আর ক্রেতাদের দাবি, কোম্পানি, ডিলার ও পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ পরিস্থিতি নজরদারির পাশাপাশি খুচরা বাজারে নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি নিশ্চিত করতে কার্যকর তদারকি প্রয়োজন।
ক্রেতারা বলছেন, তেল, চিনি, আটা ও ডিমের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম একসঙ্গে বাড়ায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বাজারে গিয়ে প্রতিদিনই আগের চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হচ্ছে। বিশেষ করে বোতলজাত তেল ও প্যাকেটজাত চিনি অনেক দোকানে না পাওয়ায় বাড়তি দাম দিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, আয় না বাড়লেও নিত্যপণ্যের দাম বাড়ছে নিয়মিত। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের দৈনন্দিন বাজার খরচ চালানো কঠিন হয়ে পড়ছে। মাইনুল ইসলাম নামের ক্রেতা বলেন, বাজারে গেলে কোনো একটি পণ্যের দাম বাড়তি পাওয়া এখন আর নতুন কিছু নয়। কিন্তু একই সঙ্গে তেল, চিনি, আটা ও ডিমের দাম বাড়লে সংসারের খরচ সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট আয়ের মানুষের জন্য প্রতিদিনের বাজার খরচ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। রাজধানীর মিরপুর এলাকার মুদি দোকানি আমিনুল হক বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ডিলার পর্যায়ে ৯০০ থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়েছে। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিতে প্রায় ১০ টাকা বেড়েছে। শুধু দাম বাড়াই নয়, চিনির সরবরাহ নিয়েও তৈরি হয়েছে সংকট। বাজারের অনেক দোকানে চিনি পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও প্যাকেটজাত চিনি থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের এক দোকান থেকে অন্য দোকানে ঘুরে চিনি কিনতে হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, কোম্পানি বা মিলগেট পর্যায়ে চিনির দাম বাড়ার পাশাপাশি সরবরাহও আগের তুলনায় কমেছে। পাইকারি পর্যায়েও দাম বেড়েছে। এর প্রভাব ধাপে ধাপে খুচরা বাজারে এসে পড়েছে।
কাঁচাবাজার
এদিকে, বর্ষার মৌসুমে রাজধানীর কাঁচামালের বাজারে আগুন ধরিয়েছে শীতের আগাম সবজি শিম। ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে এই সবজি। আর সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে। সেই সঙ্গে স্বস্তি ফিরেছে কাঁচা মরিচে। রায়ের বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে। বাজারে বেগুন, করলা, বরবটি, ঢেঁড়স, পটল ও কাঁকরোলসহ বেশির ভাগ সাধারণ সবজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে। তবে তুলনামূলক কিছুটা কম দামে শসা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। শীতের আগাম সবজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজিতে। এর মধ্যে সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে পেঁপে কেজি ৩০ টাকা।
তবে, সবজির উচ্চমূল্যের মধ্যে একমাত্র স্বস্তি এসেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। কয়েক সপ্তাহ আগে যে কাঁচা মরিচ কেজিপ্রতি ৪০০ টাকায় ঠেকেছিল, সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় তা এখন মানভেদে ১২০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম সবচেয়ে বেশি এমন সবজির মধ্যে লম্বা বেগুন ১০০ টাকা, গোল বেগুন ১২০ টাকা ও টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। বরবটি, ঝিঙে ও করলার কেজি ৮০ টাকা। লাউ প্রতি পিচ ৫০ থেকে ৭০টাকা, কচুরমুখি ৮০ টাকা বিক্রি করা হচ্ছে। সবজি ক্রেতা নয়ন হোসেন বলেন, বেগুন কিনেছি ১০০ টাকা, করলা ৮০ টাকা, ছোট লাউ ৬০ টাকা, একপোয়া মরিচ কিনেছি ৩০টাকায়। সব কিছুর দাম বেশি। আমাদের খাওয়া মতো বাজার নাই। বাজারে আরও ঘুরে দেখা যায়, মুরগির বাজারেও দামে তেমন পরিবর্তন নেই। রাজধানীর বাজারে ব্রয়লার মুরগি কেজি ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই চিত্র দেখা গেছে মাছের বাজারেও। তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০, পাঙাস ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজর ৩০০ টাকা কেজি। পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০, বড় আকারের রুই ৪৫০ থেকে ৫০০ ও ট্যাংরা ৭০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ভেটকি ৪০০ থেকে ৫৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা এবং সইল ৭০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। মাঝারি আকারের রুই কেনা যাচ্ছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দরে। এ ছাড়া রূপচাঁদা, শোল ও নদীর বেলে মাছ কিনতে গেলে হাজারের বেশি টাকা গুনতে হবে। তবে মাছের সাইজ ও জীবিত ও মৃত উপর দাম নির্ভর করে। প্রতিটি বাজারে ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি কম বেশি হতে পারে। মাছ বিক্রেতা আলিম বলেন, মাছের দাম আগের মতোই আছে। মাছের দাম নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারবে না। দাম সরবরাহের উপর নির্ভর করে। এখন এক দাম, বিকেলে আরেক দাম। আবার ক্রেতা বেশি আসলেও দাম বেড়ে যায়। আবার মাছ বেশি আসলেও দাম কমে যায়।
চট্টগ্রামে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি, মাছ কিনতে হিমশিম ক্রেতারা
চট্টগ্রাম ব্যুরো: কয়েক ধরনের সবজির দাম কমায় চট্টগ্রামের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ বাড়ায় অধিকাংশ সবজি আগের তুলনায় কম দামে বিক্রি হলেও বেগুন ও টমেটোর বাজার এখনও চড়া। অন্যদিকে, মাছের বাজারে স্বস্তির কোনো খবর নেই। প্রায় সব ধরনের মাছই বিক্রি হচ্ছে বাড়তি দামে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য মাছ কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
গতকাল শুক্রবার নগরের চকবাজার, বহদ্দারহাট ও কাজীর দেউড়ি কাঁচাবাজার ঘুরে সবজি ও মাছের দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে অধিকাংশ সবজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজির মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। ঢেঁড়শ, পটল, কাকরোল ও ঝিঙে ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, লাউ ও ধুন্দল ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ভালো মানের বেগুন ও টমেটোর দাম এখনও ১২০ টাকা কেজি। আগাম শীতকালীন সবজি শিমের দামও বেশ চড়া। প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত।
ষোলশহর এলাকার ক্রেতা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আগের তুলনায় কয়েক ধরনের সবজির দাম এখন কম। ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে অনেক সবজি পাওয়া যাচ্ছে। এতে বাজারের খরচ কিছুটা সামলানো যাচ্ছে। তবে বেগুন ও টমেটোর দাম এখনও বেশি।’
আরেক ক্রেতা বলেন, পটল, ঢেঁড়শ, ঝিঙে ও পেঁপে তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে। বেগুন-টমেটোর দামও যদি কিছুটা কমত, তাহলে বাজারে আরও স্বস্তি আসত। এক-দুই ধরনের সবজির দাম কমলেও সব পণ্যের দাম না কমলে পুরো বাজারের চাপ কমে না।
বিক্রেতারা বলছেন, বাজারে সরবরাহ বাড়ার কারণে কয়েক ধরনের সবজির দাম কমেছে। তবে বেগুন ও টমেটোর সরবরাহ তুলনামূলক কম। আড়ত থেকে এসব সবজি বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়েও দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
বহদ্দারহাট কাঁচাবাজারের সবজি বিক্রেতা নাদিম বলেন, ‘কয়েক ধরনের সবজি এখন বাজারে বেশি আসছে। তাই দাম কমেছে। পটল, ঢেঁড়শ, ঝিঙে ও জালি ৬০ টাকার মধ্যে বিক্রি করছি। পেঁপের দাম আরও কম, ৩০ টাকা কেজি। তবে বেগুন ও টমেটো আড়তেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই এগুলোর দাম কমাতে পারছি না।’
এদিকে সবজির তুলনায় মাছের বাজারে পরিস্থিতি আরও কঠিন। বাজারে তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা, পাঙাস ২৩০ থেকে ২৫০, রুই-কাতল ৩৮০ থেকে ৪২০, পাবদা ৩৫০ থেকে ৪০০ এবং চিংড়ি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় আকারের রুই বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা এবং ট্যাংরা ৭০০ টাকা কেজি দরে।
এ ছাড়া মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, দেশি কই ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, চাষের কই ৩০০ টাকা এবং পোয়া ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আকারভেদে চাষের শিং মাছের দাম ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা পর্যন্ত। মাছের আকার, মান এবং জীবিত বা মৃত থাকার ওপর দাম কিছুটা কমবেশি হচ্ছে। বাজারভেদেও কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত পার্থক্য দেখা গেছে।
সবচেয়ে বেশি চড়া ইলিশের বাজার। ছোট আকারের জাটকা বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৯০০ টাকা কেজি। ৭০০ থেকে ৮০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের দাম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশের দাম প্রায় ২ হাজার টাকা। আর দেড় কেজির বেশি ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩ হাজার টাকারও বেশি দামে।
ফলে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি এলেও মাছের বাজারের চড়া দামে সাধারণ ক্রেতাদের স্বস্তি পুরোপুরি ফিরছে না। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরবরাহ ও দামের ওপর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন ক্রেতারা।