• শাপলা গণহত্যার বিচার বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত: মাওলানা আব্দুল হালিম
  • বিএনপি মাঠে থাকলে সেদিন আ.লীগের পতন হতে পারত: রাশেদ প্রধান
  • গণহত্যার দ্রুত বিচার দাবি খেলাফত আন্দোলনের

ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম বলেছেন, ফ্যাসিবাদী সরকার ইসলাম ও ইসলামী নেতৃবৃন্দকে নিশ্চিহ্ন করার নীলনকশার অংশ হিসেবে শাপলা চত্বরে গণহত্যা চালিয়ে ছিলো। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই ফ্যাসিবাদকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে। তিনি অবিলম্বে এই গণহত্যার শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং অপরাধীদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনার জোর দাবি জানান।

গতকাল মঙ্গলবার মতিঝিল শাপলা চত্বরে ছাত্রশিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মতিঝিলে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকার কর্তৃক সংঘটিত গণহত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রশিবির এ মানববন্ধনের আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হাফেজ দেলোয়ার হোসেন।

মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি হাফেজ আনোয়ার হোসাইনের কুরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে মানববন্ধন শুরু হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রশিবিরের সাবেক সেক্রেটারি জেনারেল ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি দেলাওয়ার হোসেন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আব্দুল জব্বার, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহাসচিব মুফতি ফখরুল ইসলাম।

কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম আরও বলেন, শাপলা চত্বরের সেই নৃশংস ঘটনার পর থেকে আলেম-ওলামাদের অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার করে অন্ধকার কারাগারে নিক্ষেপ করা হয়েছিল। রিমান্ডের নামে আলেমদের ওপর যে অমানবিক ও অবর্ণনীয় নির্যাতন চালানো হয়েছে, তা ইতিহাসের এক কালো অধ্যায় হয়ে থাকবে। তিনি উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র শাপলা চত্বরেই নয়, বরং এই ন্যায়সঙ্গত আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকার নারায়ণগঞ্জ, বাগেরহাট ও হাটহাজারীতে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে আরও ৩৪ জন নিরীহ মানুষকে রাজপথে হত্যা করেছে। আলেম-ওলামাদের কণ্ঠরোধ করতে ১ লক্ষ ৮৮ হাজার মানুষকে আসামি করে অসংখ্য হয়রানিমূলক মামলা দায়ের করা হয়েছিল, যার ফলে অনেককে দীর্ঘ ৫ থেকে ১০ বছর পর্যন্ত বিনাদোষে জেল খাটতে হয়েছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ প্রসঙ্গে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, ৫ মে রাতের সেই বিভীষিকাময় সত্যকে বিশ্ববাসীর কাছ থেকে গোপন করার লক্ষ্যে দিগন্ত টেলিভিশন, ইসলামিক টেলিভিশন এবং চ্যানেল ওয়ানসহ একাধিক জনপ্রিয় গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তিনি বর্তমান সরকারের কাছে শাপলা চত্বরের ঘটনার শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং প্রকৃত লাশের সংখ্যা জাতির সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান। একইসাথে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে যথাযথ আর্থিক ক্ষতিপূরণ এবং এই গণহত্যার পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারী প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, শাহজালাল ও তিতুমীরের এই বাংলাদেশে কোনো নাস্তিক্যবাদী বা ইসলামবিদ্বেষী এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না। যারা নবী মুহাম্মদ (সা.) এবং ইসলাম নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চায়, তাদের রুখে দিতে অবিলম্বে ‘ব্লাসফেমি আইন’ প্রণয়ন করতে হবে। তিনি সরকারকে সতর্ক করে বলেন, জনগণের ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে আর কোনো ছিনিমিনি বরদাশত করা হবে না।

২০১৩ সালের ৫ই মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে শান্তিপ্রিয় আলেম-ওলামাদের ওপর পরিচালিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং এর নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানিয়েছেন মানববন্ধনের বিশেষ অতিথি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন, বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের আওতায় আনতে হবে।

বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন যে, তৎকালীন র‌্যাব কর্মকর্তা এবং বর্তমানে উচ্চপদে আসীন কিছু সামরিক কর্মকর্তা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সরাসরি নির্দেশদাতার ভূমিকায় ছিলেন। মাওলানা আব্দুল হালিম স্মরণ করিয়ে দেন যে, ৫ই মে’র ঘটনার পরের দিনই বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের বৈঠকে এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও হরতালের সিদ্ধান্ত হয়েছিল এবং তৎকালীন বিরোধী দল হিসেবে তাঁরা রাজপথে সোচ্চার ছিলেন। তাই শাপলা গণহত্যার বিচার বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর পূর্বের সভাপতি ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহ এবং শাপলা শহীদ খালেদ সাইফুল্লাহর বড় ভাই জনাব আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারিয়েট সদস্য ও বিভিন্ন পর্যায়ের সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

জাগপা: অন্য এক আলোচনা সভায় জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেছেন, “২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও দাবির প্রতি নৈতিক ও রাজনৈতিক সমর্থন জানিয়েছিল তৎকালীন ২০ দলীয় জোট। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমর্থন এবং জোটের প্রস্তুতি থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন বিএনপি নেতৃবৃন্দ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে নাই। হেফাজতের সাথে সেদিন বিএনপি মাঠে থাকলে শাপলা গণহত্যার বদলে আওয়ামী পতন হতে পারত।”

শ্রমিক জাগপার ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ‘গণভোটের আলোকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন’ শীর্ষক প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাশেদ প্রধান এসব কথা বলেন। জাগপা মুখপাত্র বলেন, “আমরা ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা ও শাপলা গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচার চাই। একই সঙ্গে ভারতের ইশারায় এই হত্যাকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়ার উদ্দেশ্যে যেসব মিডিয়া ও সাংবাদিক ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ করেছেন, তাদেরও বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমাদের দেশে এসব অপরাধের বিচার হয় না বলেই নতুন স্বৈরাচার জন্ম নেওয়ার সাহস পায়; ক্ষমতার পালাবদলে কিছু সাংবাদিক ও মিডিয়া হাউস কেবল সরকারের সেবাদাসে পরিণত হয়।” রাশেদ প্রধান আরও বলেন, “গণভোটের আলোকে বিএনপি সরকার যে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন করবে না, তা এখন পরিষ্কার। নতুন ফ্যাসিজমের পদধ্বনি দেশবাসী শুনতে পাচ্ছে। প্রস্তুতি গ্রহণ করুন নতুন যুদ্ধের, নতুন গণঅভ্যুত্থানের এবং নতুন বিজয়ের।”

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পল্টনস্থ শফিউল আলম প্রধান মিলনায়তনে শ্রমিক জাগপা সভাপতি আসাদুজ্জামান বাবুলের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মনোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় প্রতিনিধি সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জাগপা সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইকবাল হোসেন, প্রেসিডিয়াম সদস্য আসাদুর রহমান খান, ঢাকা মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির আহমেদ প্রমুখ।

খেলাফত আন্দোলনের মিছিল ও সমাবেশ:

২০১৩ সালের ৫মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে গণহত্যার দ্রুত বিচার ও হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঘোষিত ১৩ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন। গতকাল মঙ্গলবার মতিঝিল শাপলা চত্বর থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে রাজধাণীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। মিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে খেলাফত আন্দোলনের আমির মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী ১৩ দফা দাবিতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের অবরোধ কর্মসূচিতে আওয়ামী সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নবী প্রেমিকদের ওপর চালানো গণহত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, শাপলা চত্বর ট্রাজেডি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল অধ্যায়। ৫ মে শহীদ দিবস ঘোষণা করতে হবে। পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বলেছিল শাপলা চত্বরে নাকি কেউ নিহত হয়নি, হেফাজতের লোকজন নাকি গায়ে লাল রং মেখে শুয়ে ছিল। সেটা ছিল ইতিহাসের জঘন্যতম মিথ্যাচার। হাবিবুল্লাহ মিয়াজী আরো বলেন, বর্তমান সরকারের তদন্ত সংস্থা শুধু শাপলা চত্বরেই ৩২ জন হত্যার প্রমাণ পেয়েছে । অন্তর্বর্তী সরকারের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার উদ্যোগে গত বছর ১৮অক্টোবর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে শাপলা চত্বর হত্যাযজ্ঞের শিকার ৫৮ পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে চেক প্রদান করে প্রমাণ করেছে প্রকৃত সংখ্যা আনেক বেশি ছিল। তাছাড়া মানবাধিকার সংগঠন “অধিকার” ৬১ জন এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ৫৮ জনের কথা প্রকাশ করেছে। এই সত্য প্রকাশ করার কারণে অনেককে কারাবন্দি করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, শাপলা গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, সাবেক আইজিপি, বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল, ডিআইজি, গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট অর্থায়নকারী ও সহযোগীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায়ে আবারো কঠিন কর্মসূচি আসতে পারে। খুনিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার আগ পর্যন্ত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। ইসলাম বিদ্বেষীদের বিরুদ্ধে শাপলার রক্তাক্ত চেতনা জাগ্রত রাখতে হবে। শাপলা শহীদদের রক্তের বদলা না নিয়ে আমরা রাজপথ ছাড়বো না। সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দলের নায়েবে আমির মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা সাঈদুর রহমান, প্রচার সম্পাদক মাওলানা সাইফুল ইসলাম সুনামগঞ্জী, কেন্দ্রীয় নেতা মুফতী ইলিয়াস মাদারীপুরী, ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা মাহবুবুর রহমান, মুফতি আবুল হাসান কাসেমী, মাওলানা সাজিদুর রহমান ফয়েজী, মুফতী ফয়জুল্লাহ বিন মুখতার, মুফতি আখতারুজ্জামান আশরাফী, মুফতি আল আমিন, মুফতি জাকির হোসেন ও ছাত্রনেতা শফিকুল ইসলাম শরীফ প্রমূখ।

লেবার পার্টি

বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেছেন, ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়। ওই রাতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় আইনশৃংখলা বাহিনী কর্তৃক নিরস্ত্র আলেম-ওলামা, ধর্মপ্রাণ তৌহিদী জনতা ও সাধারণ মানুষের ওপর পরিচালিত নৃশংস দমন-পীড়ন মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চরম লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রকৃত তথ্য আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। এখন সময় এসেছে একটি স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্ত কমিশন গঠন করে প্রকৃত ঘটনা জাতির সামনে তুলে ধরার। কারা এ অভিযানের নির্দেশ দিয়েছিল, কতজন মানুষ নিহত, আহত ও নিখোঁজ হয়েছিল এবং কীভাবে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, এসব বিষয় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করতে হবে।

গতকাল মঙ্গলবার লেবার পার্টির দফতর সম্পাদক মোঃ মিরাজ খান সাক্ষরিত এক বিবৃতিতে ডাঃ ইরান বলেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব নাগরিকের জীবন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। কিন্তু শাপলা চত্বরে রাতের আঁধারে যেভাবে অভিযান পরিচালিত হয়েছিল, তা দেশের জনগণের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের জন্ম দেয়। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ছাড়া জাতীয় জীবনে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

শাপলা চত্বরের প্রতিবাদহীনতাই পরবর্তী দুঃশাসনের পথ খুলে দিয়েছিল

-আলী হাসান উসামা জবি সংবাদদাতা

পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও শাপলা চত্বরের ঘটনার পর যথাযথ প্রতিবাদ না হওয়ায় তৎকালীন পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করেছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট শিক্ষক ও লেখক আলী হাসান উসামা। গতকাল মঙ্গলবার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে জকসুর উদ্যোগে আয়োজিত ‘শাপলা গণহত্যা দিবস’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, সেদিন যারা নবী করিম (সা.)-এর সম্মান রক্ষায় ও ধর্মীয় অনুভূতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে সমাবেশে এসেছিলেন, তাদের ওপর রাষ্ট্রীয় শক্তির কঠোর দমন-পীড়ন চালানো হয়। অথচ ঘটনার পর বিভিন্ন মহলের নীরবতা সত্য উদঘাটনে বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে।" তিনি আরও বলেন, ঘটনার দীর্ঘ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো শহীদদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণ না হওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর খোঁজ না নেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোঃ রইছ উদ্দীন বলেন, “শাপলা চত্বরের ঘটনা নিয়ে কথা বলতে জাতিকে দীর্ঘ ১৩ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এই ঘটনার মধ্যে অনেক আবেগ ও শিক্ষার বিষয় রয়েছে। সেদিন যারা জীবন বাজি রেখে রাজপথে নেমেছিলেন, তারা সাহসী মানুষ। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ইতিহাস জাতির সামনে তুলে ধরতে হবে।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। ঘটনার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রাজনৈতিক দল এবং গণমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে নিবিড় গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

জকসু ভিপি মোঃ রিয়াজুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম আরিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান এবং বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। সভায় বক্তারা ভবিষ্যতে যেন কোনো স্বৈরাচারী বা ফ্যাসিবাদী শক্তি পুনরায় মাথাচাড়া দিতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।