বগুড়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাকে জুতাপেটার ঘটনা ঘটেছে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, এক নারী এনসিপি নেতা আলী আজম সাব্বিরকে জুতা দিয়ে মারছেন। ভিডিওটি ভাইরাল হলে স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
এদিকে, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) নারী প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগে আলী আজম সাব্বিরকে দলীয় সব পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (২৯ মে) রাতে এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে তাকে এই অব্যাহতির বিষয়টি জানানো হয়।
অব্যাহতি পাওয়া আলী আজম সাব্বির এনসিপির শিবগঞ্জ উপজেলা সমন্বয় টিমের সমন্বয়কারী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আলী আজম সাব্বির বগুড়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে (টিটিসি) ড্রাইভিং প্রশিক্ষণ কোর্সের একজন প্রশিক্ষণার্থী। সেখানে প্রশিক্ষণ নিতে আসা বেশ কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে অশালীন আচরণ, মোবাইল ফোনে আপত্তিকর বার্তা পাঠানো এবং অশ্লীল ভাষায় কথা বলার অভিযোগ ওঠে। এরই ধারাবাহিকতায় ২৪ মে দুপুরে কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থী তাকে টিটিসির একটি কক্ষে আটকে রাখেন। পরে এক নারী প্রশিক্ষণার্থী তাকে জুতা দিয়ে মারেন। এসময় সাব্বির নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চান।
শনিবার (৩০ মে) এ বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) ড্রাইভিং-বিষয়ক প্রশিক্ষক রাশেদুল হাসান বলেন, আলী আজম সাব্বির বেশ কয়েকজন নারী প্রশিক্ষণার্থীর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন। যার কারণে একজন নারী প্রশিক্ষণার্থী তাকে জুতাপেটা করেছেন। পরে আলী আজম সাব্বির দোষ স্বীকার করে লিখিত অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন। বিষয়টি এরইমধ্যে স্থানীয় প্রতিমন্ত্রী, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অবগত আছেন। অফিস খোলার পর অ্যাকাডেমি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এনসিপি বগুড়া জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক শওকত ইমরান বলেন, ‘অভিযোগ সংগঠনের নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই আলী আজম সাব্বিরকে দলের সব দায়িত্ব ও কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাকে অভিযোগের বিষয়ে কারণ দর্শানোর জন্য তিন দিনের সময় দিয়ে নোটিশ পাঠানো হয়েছে। অপরাধী কোনো দলের বা সংগঠনের হয় না। ব্যক্তিগত অপরাধের দায় তাকেই নিতে হবে।’