বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। অবিলম্বে বন্দর শ্রমিকদের ন্যায্য বেতন ও সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে

তিনি আজ বন্দর ইসলামী শ্রমিক সংঘের উদ্যোগে স্থানীয় কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। শ্রমিক সংঘের সভাপতি মোঃ হেলাল উদ্দিনের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মো. ইয়াসিনের সঞ্চালনায় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন নগর ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মকবুল আহমদ ভূঁইয়া।

প্রধান অতিথি বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়—এটি শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতীক। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে শ্রমিকদের বেতন, ভাতা, কর্মপরিবেশ ও নিরাপত্তা এখনো অনেক ক্ষেত্রে উপেক্ষিত। বিশেষ করে বন্দর খাতে কর্মরত শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।

তিনি বন্দর খাতের বিভিন্ন দাবির কথা তুলে ধরে বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বন্দর হিসেবে আলাদা স্বতন্ত্র পে-স্কেল প্রণয়ন করতে হবে। শ্রমিকদের জন্য ৯০ দিনের ইনসেনটিভ বোনাস প্রদান এবং প্রতি বছর বন্দর দিবসে প্রতিষ্ঠানের লভ্যাংশের ১০ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সমভাবে বণ্টনের দাবি জানান।

এস এম লুৎফর রহমান আরও বলেন, সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল বিদেশি প্রতিষ্ঠানের নিকট ইজারা দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তা দেশের শ্রমিক ও অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তিনি এ ধরনের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানান এবং বন্দরকে জাতীয় স্বার্থে পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে শূন্য পড়ে থাকা প্রায় ৪০০০ পদে দ্রুত নিয়োগ না দিলে কাজের চাপ বাড়বে এবং শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন হবে। তাই অবিলম্বে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ সম্পন্ন করার দাবি জানান। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন ইসলামী শ্রমিক সংঘের সহ-সভাপতি মোঃ রবিউল হাসান, রেজাউল করিম সেলিম ও মোঃ শহিদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ আলম ভূঁইয়া, মোঃ আমান উল্লাহ, বাহলুল উদ্দিন, জামাল হোসেন খান, আইন আদালত সম্পাদক আতিক উল্লা কায়ছার ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক মোঃ হারুনর রশীদ হেলালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।