ভোলা সংবাদদাতা : বৈরী আবহাওয়া ও টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে ভোলায় ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বর্ণাঢ্য গণমিছিল। গণভোটের রায় এবং জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে শনিবার বিকেলে ৫টায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।

গণমিছিলটি শহরের নতুন বাজার বোডিং মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। বৃষ্টিস্নাত পরিবেশেও মিছিলটি ছিল প্রাণচঞ্চল ও অংশগ্রহণে ভরপুর। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

মিছিল চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা, জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন এবং দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ন্যায্য দাবির পক্ষে বিভিন্ন স্লোগান দেন। পুরো শহরজুড়ে সৃষ্টি হয় এক প্রতিবাদমুখর পরিবেশ।

পরবর্তী সমাবেশে বক্তারা বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতি পূরণ সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি। তারা অবিলম্বে এসব দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানান এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা আমির মাষ্টার মোঃ জাকির হোসাইন, এলডিপির সভাপতি সাংবাদিক বশির আহমেদ, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) জেলা সভাপতি এডভোকেট ইলিয়াস সুমন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ভোলা জেলা সেক্রেটারি মাওলানা হারানো রশিদ , এনসিপির জেলা যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তানভীর আহমেদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ভোলা সদর আমির মাওলানা কামাল হোসেন, পৌর আমির মাওলানা জামাল উদ্দিন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস সদর উপজেলা সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর শরীফ হাওলাদারসহ বিভিন্ন দলের নেতৃবৃন্দ।

চাঁদপুর

গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়ন না করে জনগনের সাথে প্রতারণার প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য চাঁদপুর জেলার গণ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২ মে শনিবার বিকেলে চাঁদপুর শহরের বাইতুল আমিন চত্বরে সমাবেশ শেষে একটি বিশাল গণ বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নতুন বাজার মোড়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে সভাপতিত্বে করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য ও জেলা আমির মাওলানা বিল্লাল হোসাইন মিয়াজী। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব হয়েছে ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার জন্য রচিত বিদ্যমান সাংবিধানিক কাঠামোর পরিবর্তনের জন্য। এ জন্যই সংবিধান সংস্কার করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে হবে। আজও সময় থাকতে সহজে গণভোটের রায় মেনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করলে বিএনপিকে বাধ্য করা হবে। রাজপথের আন্দোলন সরকারের জন্য সুফল আনে না। সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করে তবে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি অ্যাড. মো. শাহজাহান মিয়ার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরা সদস্য, কুমিল্লা অঞ্চল টিম সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মাওলানা আব্দুর রহিম পাটওয়ারী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এড. মাসুদুল ইসলাম বুলবুল, এনসিপির চাঁদপুর জেলা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক মো. মাহবুব আলম।

সমাবেশ ও মিছিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট শাহজাহান খান, সদর উপজেলা আমির মাওলানা আফসার উদ্দিন মিয়াজী, খেলাফত মজলিশের জেলা সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের নেতা মুফতি নুরে আলম, এনসিপির সদর উপজেলার আহবায়ক তামিম খান সহ ১১ দলের বিভিন্ন নেতাকর্মীরা।

চান্দিনা (কুমিল্লা)

অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবিতে কুমিল্লার চান্দিনায় গণমিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় ঐক্যজোট। শনিবার (২ মে) বিকেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনায় এ কর্মসূচি পালন করেন জোটের কুমিল্লা উত্তর জেলার নেতাকর্মীরা।

মিছিলটি চান্দিনা পালকি সিনেমা হল এর সামনে থেকে শুরু হয়ে বাসস্টেশন এলাকায় সমাবেশে পরিণত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন।

জেলা সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম শহীদের সঞ্চালনায় এতে আরো বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও জেলা নায়েবে আমীর অধ্যাপক আলমগীর সরকার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুমিল্লা মহনগরীরর সভাপতি সৈয়দ আব্দুল কাদের জামাল, কুমিল্লা উত্তর জেলার সিনিয়র সহ সভাপতি মাওলানা মতিউর রহমান ফরাজী, জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি মাওলানা মুফতি আমিনুল ইসলাম, অধ্যাপক লোকমান হাকিম ভূইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন কুমিল্লা জেলা সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মোশাররফ হোসেন, জেলা জামায়াতের শূরা ও কর্ম পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম, মাওলানা মিজানুর রহমান আতিকী, জাতীয় নাগরিক পার্টির চান্দিনা উপজেলার প্রধান সমম্বয়কারী আবুল কাশেম অভি প্রমুখ।

টাঙ্গাইল

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে টাঙ্গাইলে ১১ দলের গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২ মে) সকালে টাঙ্গাইল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে গণ মিছিলটি শুরু হয়।

সমাবেশ ও গণ মিছিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন টাঙ্গাইল জেলা ১১ দলের আহবায়ক ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর টাঙ্গাইল জেলা আমির আহসান হাবিব মাসুদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করবেন না, বাংলাদেশের ক্ষমতায় থাকবেন এটা হতে পারে না। অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। ৭০ শতাংশ ভোটারের রায়কে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছেন, এরা যখন রায় বাস্তবায়নে রাস্তায় নামবে তখন কোথায় পালাবেন।

আরো বক্তব্য রাখেন, জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক খন্দকার আব্দুর রাজ্জাক, এনসিপির জেলা আহবায়ক অ্যাডভোকেট কামরুজ্জামান শাওন, জামাতের জেলা সেক্রেটারী মাওলানা হুমায়ুন কবীর, সহকারী সেক্রেটারি হুসনে মোবারক বাবুল, অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম খান,সাংগঠনিক সেক্রেটারি মো. শহিদুল ইসলাম, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব মাসুদুর রহমান রাসেল, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা কামরুল হাসান। অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ড. আতাউর রহমান, শহর আমির অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরী, সদর উপজেলা আমির অধ্যাপক ইকবাল হোসেন বাদল, সেক্রেটারি আলমগীর হোসেন ও শহর সেক্রেটারি সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

ফেনী

শনিবার বিকেলে দূর্যোগপূর্ন আবহাওয়ায় ফেনীতে ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে এক বিরাট গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। মিছিলটি ফেনীর ঐতিহাসিক মিজান ময়দান থেকে বের হয়ে শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিন করে। মিজান ময়দানে গনমিছিল পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ফেনী জেলা আমীর মুফতি আবদুল হান্নান। জামায়াতের জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবদুর রহিমের সন্চালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন, খেলাফত মজলিশের জেলা সভাপতি মাওলানা মোজাফ্ফর, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের সভাপতি, এনসিপির জেলা সদস্য সচিব শাহ ওয়ালি উল্যাহ মানিক, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির জেলা সেক্রেটারী মোঃইসমাইল, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী এড. জামাল উদ্দিন প্রমূখ।

শ্রীপুর (মাগুরা)

মাগুরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ মেহেদী হাসান রাব্বীসহ ১০ শহীদের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিলে উত্তাপ মাগুরা শহরের রাজপথ।

২৯ এপ্রিল (বুধবার) বেলা ১১ টায় মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ থেকে ছাত্র জনতা ও শহীদ পরিবার একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিশেষ ট্রাইব্যুনালে বিচারের দাবি জানান। মিছিলটি শহরের চৌরঙ্গী মোড় প্রদক্ষিণ শেষে জেলা আদালত ভবনের সামনে এক প্রতিবাদ সমাবেশে মিলিত হয়।

মাগুরা

জুলাই আন্দোলনের শহীদ মেহেদী হাসান রাব্বিসহ মাগুরার ১০ জন শহীদের হত্যা মামলাসহ সকল মামলা দ্রুত নিস্পত্তি ও আসামীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মাগুরা সরকারী কলেজের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য, জুলাই যোদ্ধারা এ বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেন। বুধবার সকালে মাগুরা শহরে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সামনে সমাবেশে বক্তারা বক্তব্য রাখেন।

উল্লেখ্য বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেও মামলার কোনো অগ্রগতি নাই, আসামীরা জামিনে মুক্তি পাচ্ছে। সিনিয়ির নেতা ও আইনজীবীদের ভুমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। তাই কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার ট্রাইবুনালের মাধ্যমে মামলাগুলো নিস্পত্তির দাবি জানায় মিছিলকারীরা।