১১ মে ঐতিহাসিক কুরআন দিবস উপলক্ষে চাঁপাইনবাবগঞ্জে ছাত্র গণজমায়েত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে গতকাল সোমবার বিকেল ৩ টায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পার্কে বিশাল ছাত্র জমায়েতে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম। বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর শাখার সভাপতি ইউসুফ আল গালিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডঃ মিজানুর রহমান, সংগঠনটির কেন্দ্রীয় ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক হাফেজ মোহাম্মদ আবু মুসা। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও জেলা সাবেক আমীর অধ্যাপক মোঃ রফিকুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র অধ্যক্ষ মোঃ নজরুল ইসলাম, জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মোহাঃ লতিফুর রহমান, জেলা আমীর মাওলানা আবু জার গিফারী, সেক্রেটারি অধ্যাপক মোহাঃ আবু বক্কর প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে নির্মুল করা যাবে না। যারা একসময় নির্মুল কমিটি গঠন করেছিল, আজ তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না। কুরআন তথা ইসলামী আন্দোলনকে নির্মুল করা যায় না। কুরআনের গভীর জ্ঞান অর্জন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের কোনো বিকল্প নেই। বৈষম্যহীন, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে কুরআনের শাসনই একমাত্র পথ। তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলন এক সরকারকে হটিয়ে আরেক সরকার আনার জন্য ছিল না। একদলকে সরিয়ে আরেক দলকে আনার জন্য ছিল না। আবারও সেই একই কায়দায় লুটপাট হচ্ছে, দুর্নীতি অনিয়ম হচ্ছে। পাম্পে তেলের জন্য লাইন ধরছে, সিন্ডিকেট করে লুটপাট করছে। মনে রাখতে হবে, এরাই ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল, আবার তারা দেশকে সেই জায়গায় নিয়ে যেতে চাই। এমপি এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, গণভোট জনতার রায় মেনে নিন, রাজপথে এ বিষয়টি ঠেলে নিয়ে যাবেন না। আপনাদের পায়ের নীচ থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। আমরা জনতার পাশে আছি থাকবো, ইসলামের বিরুদ্ধে অব¯’ান নেবেন না। অতীতের মত আবার জঙ্গীবাদের পাঁয়তারা করছেন। ৭১ এর স্লোগান দিয়ে জামায়াতকে থামানো যায়নি। গুপ্ত, জঙ্গী ও স্বাধীনতা বিরোধী এসকল ট্যাগ দিয়ে জামায়াতকে থামানো যাবে না। এসব করে আওয়ামী লীগ রক্ষা পায়নি, আপনাদের বাড়াবাড়ি করেও লাভ হবে না।

প্রধান বক্তা হিসেবে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, পবিত্র কুরআনের অবমাননার প্রতিবাদে ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনতা জীবন দিয়েছেন। যারা কুরআনের আলো নিভিয়ে দিতে চেয়েছিল, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকেই ধ্বংস করেছেন। কুরআনের একটি অক্ষরও পৃথিবীর কোনো শক্তি পরিবর্তন করতে পারবে না। কলকাতার আদালতে কুরআন বাজেয়াপ্তের সিদ্ধান্তের সময় স্বৈরাচার এরশাদ কোনো কার্যকর ব্যব¯’া নেয়নি। কুরআন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও সেটিকে নিঃশেষ করা যায়নি।

সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, যারা এক সময় কুরআনের আয়াতকে বিশৃঙ্খলাকারী বলে বাজেয়াপ্ত করেছিল, পরে তারাই সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছে। কুরআন বিজ্ঞানে পরিপূর্ণ, এতে রয়েছে অসংখ্য নিদর্শন। ইসলামী ছাত্রশিবির কখনো অর্থলুট, ধর্ষণ বা অপরাধে লিপ্ত নয় বরং তারা কেবল কুরআনের দিকেই ছাত্রসমাজের প্রতি আহ্বান জানায়। এমপি নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সেদিন কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় ছাত্র ও জনতা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল। স্বৈরাচার এরশাদ সরকার সে সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে খুশি করতে গিয়ে কুরআন প্রেমিক জনতার ওপর দমননীতি চালিয়েছিল। যারা পরে ক্ষমতায় এসেছে, তারাও একই নীতিতে চলেছে। ১৭ বছর ধরে ইসলামী ছাত্রশিবির কোনো কর্মসূচি পালন করতে না পারায় নতুন প্রজন্ম তাদের সম্পর্কে অনেক কিছুই জানে না। তাই তাদের কুরআন দিবসের ইতিহাস ও গুরুত্ব জানানো জরুরি। তিনি আরও বলেন, কুরআনের গভীর জ্ঞান অর্জন ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনের কোনো বিকল্প নেই। বৈষম্যহীন, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে কুরআনের শাসনই একমাত্র পথ। শেষে শহিদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

টাংগাইলে জামায়াতের কুরআন দিবসের আলোচনা সভা

টাংগাইল জেলা সংবাদদাতা : টাংগাইলে জামায়াতের উদ্যোগে ঐতিহাসিক কুরআন দিবসের আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ মে (সোমবার ) বিকেলে টাংগাইল শহর জামায়াতের কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শহর জামায়াতের আমীর অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি মো. সাইফুল ইসলামের পরিচালনায় এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জেলা জামায়াতের আমীর আহসান হাবীব মাসুদ। জেলা আমীর তার বক্তব্যে ১৯৮৫ সালের চাঁপাইনবাবগঞ্জের রক্তাক্ত নৃশংস ঘটনার ইতিহাস স্মরণ করে বলেন, কুরআন প্রেমিরা অকাতরে জীবন বিসর্জন দিতে পারে কিন্তু কুরআনের অবমাননা সহ্য করতে পারে না। তিনি সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কুরআনের শাসন কায়েমের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানোর আহবান জানান।

এতে অন্যান্যের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন শহরের সহকারী সেক্রেটারি মাস্টার রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলার সাবেক আমীর জহির উদ্দিন বাবর প্রমুখ।

খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভায় বক্তারা

ঐতিহাসিক কুরআন দিবস উপলক্ষে খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবিরের আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে কুরআনের গভীর জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। বৈষম্যহীন, নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে কুরআনের শাসনই একমাত্র পথ। বক্তারা আরও বলেন, ১৯৮৫ সালের ১১ মে কুরআনের মর্যাদা রক্ষায় ছাত্র ও জনতা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছিল। স্বৈরাচার এরশাদ সরকার সে সময় প্রতিবেশী রাষ্ট্রকে খুশি করতে গিয়ে কুরআনপ্রেমী জনতার ওপর দমননীতি চালিয়েছিল। যারা পরে ক্ষমতায় এসেছে, তারাও একই নীতিতে চলেছে। ১১ মে (সোমবার) সকাল ৮টায় নগরীর শহীদ সাংবাদিক শেখ বেলাল উদ্দিন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা এ সব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ইসলামীর ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক কেন্দ্রীয় প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট সেক্রেটারি ও মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন।

সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় মহানগর ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন দপ্তর সম্পাদক আহমেদ সালেহীন, বায়তুলমাল সম্পাদক কামরুল হাসান, প্রচার ও এইচআরডি সম্পাদক এস এম বেলাল হোসেন, সাহিত্য সম্পাদক আব্দুর রশিদ, প্রকাশনা ও মিডিয়া সম্পাদক ফারহান তূর্য, প্ল্যানিং এন্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক ইমরানুল হক, পাবলিক রিলেশন ও ক্রীড়া সম্পাদক সেলিম হোসেন, ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক গোলাম মুয়িজ্জু, তথ্যপ্রযুক্তি ও গবেষণা সম্পাদক জে আই সাবিত, স্কুল ও বিতর্ক সম্পাদক আদনান মল্লিক যুবরাজ, মাদরাসা ও তথ্য সম্পাদক হাফেজ নাঈম হোসাইন, গবেষণা সম্পাদক হামজা, পরিবেশ ও ফাউণ্ডেশন সম্পাদক সুলাইমান আবিদ, কলেজ ও ছাত্র অধিকার সম্পাদক হযরত আলী, পাঠাগার ও সমাজসেবা সম্পাদক হাবিবুল্লাহ রাজু প্রমুখ। মহানগর শাখার সকল ক্যাম্পাস ও থানার সদস্যরা আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে ১৯৮৫ সালের ১১ মে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কুরআনের সম্মান রক্ষায় শাহাদাতবরণকারী মুসলিমদের মাগফিরাত কামনায় দোয়া পরিচালনা করেন প্রধান অতিথি মহানগর জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মীম মিরাজ হোসাইন।

এছাড়া ১১ মে ঐতিহাসিক কুরআন দিবস উপলক্ষে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে হাফেজে কুরআন সংবর্ধনার আয়োজন করে খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবির। সকাল ১০টায় নগরীর শহীদ আমানউল্লাহ আমান মিলনায়তনে এ হাফেজে কুরআন সংবর্ধনার আয়োজন করে। ছাত্রশিরির কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও খুলনা মহানগরী সভাপতি রাকিব হাসানের সভাপতিত্বে হাফেজে কুরআন সংবর্ধনায় প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মাজলিসুল মুফাসসিরীনের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি, খুলনা নেছারিয়া কামিল মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা আবুবকর সিদ্দিক।