- তৃনমূলে শক্তি বাড়াতে বিভিন্ন স্থানে দলীয় লোক ও প্রশাসক নিয়োগ
সিটি কর্পোরেশন ও জেলা পরিষদের পর এবার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারের দিকে নজর দিয়েছে সররকারি দল। তৃনমূলে নিজেদের শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ বাড়াতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরুর আগেই অনেক স্থানে দলীয় লোক ও প্রশাসক বসানো হয়েছে। দেশের ৪,৫৮৮ ইউনিয়ন পরিষদের নিয়ন্ত্রন যাতে নিজেদের লোক দিয়ে পরিচালিত হয় সেজন্য আগে ভাগেই তোড়জোড় শুরু হয়েছে।
সরকারের এমন কর্মকান্ডের তীব্র সমালোচনা করেছে সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামী। ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখাকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রলম্বিত করার ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে দেখছে তারা। এছাড়া বিভিন্ন মহল থেকেও কঠোর সমালোচনা শুরু হয়েছে। ইউপিতে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে যাতে জনগণের প্রতিনিধি বসতে না পারে তারই ষড়যন্ত্র বলে মনে করছেন অনেকে।
সূত্র জানায় সরকার চলতি বছরের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিচ্ছে, যার তফসিল সেপ্টেম্বরে ঘোষণা করা হতে পারে। তবে, সরকার বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদগুলিতে প্রশাসক নিয়োগ করছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে অন্তত ৩৮টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩১টি পুরোনো ইউনিয়ন এবং সাতটি নতুন গঠিত। অনেক স্থানে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, আবার অন্য জায়গায় সরকারি দল বিএনপির নেতাদের এই পদগুলোতে বসানো হয়েছে। দলীয় নেতাদের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে যে, আরও ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ প্রক্রিয়া বর্তমানে চলছে। তবে মন্ত্রণালয় বলছে ,সরকারি পরিষেবা সুষ্ঠুভাবে চালু রাখার জন্যই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রশাসক নিয়োগে কোনো আইনি বাধা নেই।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ১৭ জুলাই সচিবালয়ে সাংবাদিকদের জানান, চলতি বছরের মধ্যেই পাঁচ স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, এই নিয়োগগুলোর সঙ্গে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই এবং ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন এই বছরের মধ্যেই অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, প্রশাসকদের তালিকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। এতে শুধু ব্যক্তির নাম থাকে, তাই কে সরকারি কর্মকর্তা বা রাজনৈতিক দলের নেতা, তা জানার কোনো সুযোগ থাকে না।
সূত্র জানায়, দেশে ইউনিয়ন পরিষদের সংখ্যা ৪,৫৮৮টি। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুলাই পর্যন্ত নির্বাচনের যোগ্য ইউনিয়নের সংখ্যা ছিল ৩১১টি। ৪,২৩৭টি ইউনিয়নের মেয়াদ শেষ না হওয়ায় সেখানে নির্বাচন করা যাচ্ছে না এবং ৪০টিতে মামলা চলমান রয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনেক ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আত্মগোপন করেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে অনেক জায়গায় সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছিল। তবে সে সময় কোনো দলীয় সহযোগীকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
এর আগে জুলাই মাসে সরকার ১১টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে বিএনপি নেতাদের এক বছরের চুক্তিতে নিয়োগ দিয়েছে। এছাড়াও ১১টি সিটি কর্পোরেশন, ৬৩টি জেলা পরিষদ এবং ৮টি নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের প্রশাসক হিসেবে বিএনপি নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. নূরনবী ভুঁইয়াকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নের প্রশাসক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১২ মেম্বারকে অপসারণ করে বিএনপির ১২ নেতাকে সদস্যপদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ (সংশোধিত ২০২৪ পর্যন্ত)-এর ১৮(১) ধারা অনুযায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় ১২০ দিনের জন্য স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
পরিষদের সদস্যরা হলেন- রূপগঞ্জ ইউনিয়নের ১ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. ওবায়দুল হক ইয়াজুল, ২ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি তৈয়বুর রহমান, ৩ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. সফিউদ্দিন মোল্লা, ৪ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফ মিয়া, ৫ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম, ৬ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. মামুন হোসেন ভূঞা, ৭ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি সাইদুর রহমান, ৮ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বাচ্চু মিয়া, ৯ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আল আমিন মাসুদ, রূপগঞ্জ উপজেলা মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিনা আক্তার, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন মহিলা দলের নেত্রী হাসনারা বেগম ও রুমি আক্তার।
নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক রায়হান কবির জানান, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়েছিল ২০১৯ সালে। যে কারণে এটি নির্বাচন মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরেই উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একজন সরকারি কর্মকর্তার পক্ষে নিজস্ব সরকারি দায়িত্ব পালনের পর অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কিছুটা সমস্যা হচ্ছিল। যে কারণে স্থানীয় লোকজন আবেদন করে কাজের গতি বাড়ানোর জন্য। সেই আলোকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এখানে প্রশাসক বসানোর জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় আবেদন করেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় একজন রাজনৈতিক নেতাকে প্রশাসক করে ৯টি ওয়ার্ডে নয় জন মেম্বার, ও তিনটি সংরক্ষিত আসনে মহিলা সদস্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়। আগামী ১২০ দিন তারা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
বরিশালের বাকেরগঞ্জ, মুলাদী ও উজিরপুর উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন দিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের ইউনিয়ন-১ শাখা থেকে গত ১৯ আগস্ট এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। উপসচিব জিয়াউর রহমান স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে প্রশাসকদের নাম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর (সংশোধিত ২০২৪) ১৮ ধারা অনুযায়ী বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১টি, মুলাদী উপজেলার ৪টি এবং উজিরপুর উপজেলার ৪টি- মোট ১৯টি মেয়াদোত্তীর্ণ ইউনিয়ন পরিষদের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত শর্তে প্রশাসক নিয়োগের প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বাকেরগঞ্জ উপজেলার ১১ ইউনিয়নের প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়, চারান্দি ইউনিয়ন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, বাকেরগঞ্জের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আনিছুর রহমান। দাড়িয়াল ইউনিয়ন - বাকেরগঞ্জ উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রদীপ দাস। দুর্গাপাশা ইউনিয়ন, বাকেরগঞ্জের অতিরিক্ত কৃষি কর্মকর্তা শেখ তৌহিদুর রহমান। ফরিদপুর ইউনিয়ন, বাকেরগঞ্জের অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার মো. এনামুল হক। কবাই ইউনিয়ন, বাকেরগঞ্জের সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. এনামুল হক। নলুয়া ইউনিয়ন, বাকেরগঞ্জের সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ইলিয়াছ আহমেদ আকন। কলসকাঠী ইউনিয়ন - বাকেরগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলাউদ্দিন মাসুদ। গারুড়িয়া ইউনিয়ন - বাকেরগঞ্জের সহকারী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. রেজাউল করিম। ভরপাশা ইউনিয়ন - বাকেরগঞ্জ উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস সোহা। রঙ্গশ্রী ইউনিয়ন - বাকেরগঞ্জ উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মৃ. ওয়ায়ামুল্লাহ। পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়ন, বাকেরগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
মুলাদী ইউনিয়ন, মুলাদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম। নাজিরপুর ইউনিয়ন - মুলাদী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের ভেটেরিনারি সার্জন মো. নজরুল ইসলাম। কাজিরচর ইউনিয়ন, মুলাদী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা উত্তম কুমার বিশ্বাস। চরকালেখান ইউনিয়ন, মুলাদী সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল কাশার।
উজিরপুর উপজেলার সাতলা ইউনিয়ন, উজিরপুর উপজেলা অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজার সুমন চৌধুরী। জল্লা ইউনিয়ন, উজিরপুর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান। শোলক ইউনিয়ন, উজিরপুর উপজেলা দারিদ্র্য বিমোচন কর্মকর্তা শামছুদ্দোহা চৌধুরী। বড়াকোঠা ইউনিয়ন - উজিরপুর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রসেন মজুমদার।
বাকেরগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল জানান, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০২৪) অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের জনসেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে মেয়াদ শেষ হওয়া ১১ ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা দায়িত্ব পালনকালে ইউনিয়ন পরিষদের দৈনন্দিন প্রশাসনিক কার্যক্রম, জনসেবা ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত মাসে বরগুনার বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নে ফারুক হোসেন খোকনকে প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বেতাগী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক। মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদে ইবাদুল হক নতুন প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং বাউশিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ছিলেন, যেখান থেকে তিনি পূর্বেও সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফজলুর রহমান ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার বরিশাল ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য।
সুশানের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মনে করেন , শিগগির নির্বাচন হলে স্বল্প সময়ের জন্য প্রশাসক নিয়োগের প্রয়োজন নেই। সরকারি পদে দলীয় সহযোগীদের নিয়োগ বন্ধ করা প্রয়োজন। সরকারের উচিত যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন করা। নির্বাচন না করে প্রশাসক নিয়োগ করা হলে অনেকেই সন্দেহ করতে শুরু করতে পারেন যে সব ইউনিয়নে নির্বাচন নাও হতে পারে।
এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তবে এরই মধ্যে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করেছেন বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আসার আগেই বিভিন্ন এলাকায় তাঁরা মাঠে নেমে পড়েছেন।
দলীয় ও মাঠপর্যায়ের সূত্রগুলো বলছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় সব জায়গায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। কেউ কেউ এলাকায় জনসংযোগও শুরু করেছেন। কোনো কোনো ইউনিয়নে তিন চারজন পর্যন্ত বিএনপি নেতা প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে দল-সমর্থিত একক প্রার্থী ঠিক করা এবং অন্যদের তাঁর পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করাই বিএনপির সামনে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) বছরের শেষ দিকে ইউপি নির্বাচন শুরু করতে চায়। এ জন্য আগামী সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকেও চলতি অর্থবছরের মধ্যে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন সম্পন্ন করার কথা বলা হয়েছে।
বিএনপির নেতারা বলছেন, কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই বা নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা তাঁরা পাননি। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের মতো করেই প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে সমর্থন দেওয়ার সাংগঠনিক প্রক্রিয়াও শুরু হয়নি।
বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থীর ওপর জোর দিয়ে আসছেন। বিভিন্ন জেলা ও মহানগর কমিটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং দলের ঘরোয়া অনুষ্ঠানগুলোয় তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলে আসছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ‘একক প্রার্থী’ ঠিক করতে হবে এবং সবাইকে মিলে দল-সমর্থিত প্রার্থীকে বিজয়ী করতে হবে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায়ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি না করে ঐক্য বজায় রাখার জন্য সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান তারেক রহমান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে ইসি। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন সম্প্রতি বলেছেন, ইসি বছরের শেষ দিকে ইউপি নির্বাচন শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউপির মধ্যে যেগুলো নির্বাচনের উপযোগী, প্রথম ধাপে সেগুলোতে ভোট নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। সে ক্ষেত্রে আগামী সেপ্টেম্বরে তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। তফসিল ও ভোটের মধ্যে গড়ে দুই মাস সময় রাখার রীতি এবং ইউপির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ১৮০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করার আইনি বাধ্যবাধকতা বিবেচনায় রেখে সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে।
ইউনিয়ন পরিষদে প্রশাসক নিয়োগ অব্যাহত রাখাকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রলম্বিত করার ‘ষড়যন্ত্র’ হিসেবে উল্লেখ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদে দলীয় প্রশাসক নিয়োগ জাতির জন্য ‘চরম উদ্বেগের’ বিষয়।