কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতি, খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক স্থিতিশীলতার মূলভিত্তি। কৃষি শুধু দেশের অর্থনীতির মেরুদন্ডই নয়, বরং এই ভূখণ্ডের ইতিহাস, সভ্যতা, সংস্কৃতি, রাষ্ট্রগঠন ও আগামীর মেধাবী ও শক্তিশালী জাতি গঠনের অন্যতম নিয়ামক শক্তি।

সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও কৃষি বিভাগের আহ্ববায়ক মোঃ মোবারক হোসাইন।

বৃহস্পতিবার কৃষি বিভাগের এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্র ও সমাজের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। আজ দেশের বহু কৃষকের ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে, নষ্ট হয়ে গেছে বীজতলা ও সবজি ক্ষেত। অনেক কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তাদের এই দুর্দিনে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

জামায়াতের কৃষি বিভাগের আহ্ববায়ক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা, কৃষিঋণে বিশেষ সুবিধা, বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ এবং পুনর্বাসন কর্মসূচি গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এমন দুর্যোগ মোকাবিলায় টেকসই বাঁধ, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ও কৃষি অবকাঠামো উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে কৃষকদের জমি তলিয়ে গিয়ে ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল নষ্ট হচ্ছে। এতে কৃষক পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ছে। অনেক কৃষক ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করলেও ফসলহানির কারণে তারা সেই ঋণ পরিশোধে হিমশিম খাচ্ছেন।

মোঃ মোবারক হোসাইন বলেন, দেশের কৃষকরা খাদ্য নিরাপত্তার প্রধান চালিকাশক্তি। তাই তাদের সুরক্ষা ও পুনর্বাসনে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, বীজ ও সার বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মাত্রা বাড়ছে। এজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার মাধ্যমে টেকসই পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নদী ও খাল পুনঃখনন এবং কৃষিবান্ধব নীতি বাস্তবায়ন জরুরি।

সমাজের বিত্তবান ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।