সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়েছে। এতে একটি গাড়ির কাচ ভেঙে যায়। তবে কেউ হতাহত হননি। গতকাল বৃহস্পতিবার আনুমানিক বেলা ৩টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা বিএনপির ছাত্রদলের সন্ত্রাসী বলে অভিযোগ করেছেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।
জানা যায়, গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে এনসিপির নেতাকর্মীরা শহীদ পরিবারের সদস্যদের সাথে অনুষ্ঠান শেষ করে কানাইঘাট যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন। এসময় অনুষ্ঠানস্থল থেকে বের হলে গোলাপগঞ্জ পৌরসভা গেইটের নূর ম্যানশনের সামনে সারজিস আলমের গাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটে। এছাড়া এনসিপির গাড়িবহর ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিয়েছেন একদল যুবক। তারা ছাত্রদলের নেতাকর্মী বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে গোলাপগঞ্জে শহীদ হওয়া পরিবারের সদস্যদের সাথে মতনিবিনিময় করতে গতকাল দুপুরে গোলাপগঞ্জে যান এনসিপির উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা। এরআগে থেকেই গোলাপগঞ্জ চৌমহনী এলাকায় জড়ো হন স্থানীয় ছাত্রদল নেতাকর্মীরা। সারজিস আলমদের গাড়িবহর গোলাপগঞ্জে পৌঁছামাত্র ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে শুরু করেন। এরপর এনসিপি নেতারা গোলাপগঞ্জ পৌরসভা মিলনায়তনে শহীদ পরিবারের সাথে মতবিনিময় করেন। মতবিনিময় শেষে বেলা আড়াইটার দিকে পৌরসভা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা সারজিস আলমদের গাড়ি ঘিরে ‘ভুয়া ভুয়া’, ‘এনসিপি ভুয়া’ স্লোগান দেন। এসময় গাড়ির দিকে তেড়ে যায়ও কয়েকজন। এসময় একটি গাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দিয়ে এনসিপির গাড়িবহর নিরাপদে চলে যেতে সহযোগিতা করে।
গোলাপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ছবেদ আলী বলেন, এতে কেউ হতাহত হননি এবং পরে এনসিপি নেতারা নিরাপদে গোলাপগঞ্জ ছেড়েছেন।
এদিকে, এ ঘটনার পর এনসিপি নেতা সারজিস আলম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে লিখেন- সিলেটের গোলাপগঞ্জে আবার আমাদের গাড়িতে রক্তাক্ত হামলা করেছে বিএনপি-ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা। আমাদের গাড়ি ভাঙচুর করেছে।
২০ লাখ টাকার জিনিস ছিনিয়ে নেওয়া অভিযোগ
মৌলভীবাজার সংবাদদাতা
মৌলভীবাজার থেকে গাড়িবহর নিয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সিলেটের উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছেন গতকাল বৃহস্পতিবার। এর আগে গতকাল এনসিপি নেতারা দিনভর হবিগঞ্জ যেতে চাইলে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন। পরে সেখান থেকে মামলা করতে চাইলে বাহুবলের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে মামলা করেন। পরে রাতে সেখান থেকে ফিরে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউজে এনসিপি নেতৃবৃন্দ রাত্রিযাপন করেন। মৌলভীবাজার ছাড়ার সময় এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী সাংবাদিকদের বলেন, আমরা আহত ও শহীদ ভাইদের বিচার চেয়েছি। বাংলাদেশের মানুষের নিরাপত্তার জন্য চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস বন্ধ করার জন্য। এই কর্মসূচীগুলো নিয়ে আমরা জুলাই মাসে দেশব্যাপী পদযাত্রা করছি। জনগণ গণভোটে ৭০ শতাংশ ভোট দিয়েছে যাতে আমরা সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারি। আমাদের সেই পূর্বঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী হবিগঞ্জ জেলায় এই কর্মসূচী ছিল। আমরা প্রোগ্রাম শেষ করে যখন বের হলাম তখন আমাদের মিডিয়া টিমের ওপর হামলা করা হলো দফায় দফায়। ড্রাইভারকে তারা বেধড়ক প্রহার করেছে যা বাংলাদেশের ইতিহাসে নেই। ইন্টার পড়ুয়া একটা ছেলের চোখ তুলে নেওয়া হয়েছে। জেলা সদস্য সচিবের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। আমরা এই ন্যক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে একটা বিক্ষোভ কর্মসূচী ডাকি। সেখানে পুলিশ পদে পদে আমাদের বাধা দিয়েছে। প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে। তিনি বলেন, ট্রাক দিয়ে আমাদের গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের মধ্যখানে পুলিশ আমাদের ব্যারিকেড দিয়ে আটকে দিয়েছে। সেখানে হবিগঞ্জের একটি পুলিশ ফাঁড়িতে আমরা গিয়ে ছাত্রদল ও যুবদলের ১১ জনকে আসামী করে একটি মামলা দিয়েছি। আমাদের ২০ লাখ টাকার জিনিস তারা নিয়ে নেয়। এছাড়া নগদ ৫ লাখ টাকা নিয়ে যায়। একটি গাড়ি ভাংচুরের কারণে সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী আরও বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় পর একটি ফ্যাসিবাদী বাংলাদেশ থেকে উত্তরণের পর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি তখন এই ধরনের ন্যক্কারজনক হামলা, আমাদের ওপর অত্যাচার, চোখ কেড়ে নেওয়া ও মালামাল ছিনিয়ে নেওয়া এগুলো দেশবাসী প্রত্যক্ষ করল। আমরা এখনও চাই একটি শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ। যেখানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হবে। এনসিপির গাড়ি বহরে রয়েছেন এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চীফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, সংসদ সদস্য ড. আতিক মুজাহিদ, ডা. মাহমুদা মিতু, এনসিপি নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী, সার্জিস আলমসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।