বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে নিয়ে অসত্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে গতকাল শনিবার দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় সম্পাদকীয় বিভাগে ‘শিক্ষা খাতকে জামায়াতমুক্ত করতে হবে’ শিরোনামে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর ছাপানোর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, “দেশের গণমাধ্যমগুলো নাগরিকদের মৌলিক মানবাধিকার অক্ষুণ্ন রেখে নিজস্ব সম্পাদকীয় নীতি অবলম্বন করে সত্য তথ্য জনগণের কাছে তুলে ধরার কাজ করবে এমনটাই প্রত্যাশা। কিন্তু, কোনো পত্রিকা বিশেষ কোনো গোষ্ঠীর উদ্দেশ্য সাধন কিংবা কোনো দলের ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করবে, অন্য দল নিয়ে ভ্রান্ত সংবাদ প্রকাশ করবে- তা অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য। দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় আজ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে ‘শিক্ষা খাতকে জামায়াতমুক্ত করতে হবে’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদের আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। একই সঙ্গে একটি সুপ্রতিষ্ঠিত পত্রিকার সম্পাদকীয় নীতি জাতির কাছে প্রশ্নবিদ্ধ ও ন্যক্কারজনক হিসেবে উন্মোচিত হয়েছে।

এডভোকেট জুবায়ের বলেন, জামায়াত সবসময় দেশের ও জাতির কল্যাণের শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্বাসী। শিক্ষাখাতকে কল্যাণমুখী করতে সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ দিতে জামায়াত সবসময় কাজ করে আসছে। সম্প্রতি বিরোধী দলের কয়েকজন মাননীয় সংসদ সদস্য জামায়াতের শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস ও পরামর্শ দিয়েছেন। সুতরাং, শিক্ষাখাতে বিশৃঙ্খলা, দখলবাজিসহ কোনো প্রকার বিশেষ মত প্রতিষ্ঠার সুযোগে বিশ্বাস করে না জামায়াত। এমনকি শিক্ষাঙ্গনগুলো নিজস্ব প্রশাসনিক ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং বোর্ডের নির্দেশনায় পরিচালিত হয়। সেখানে বিশেষ মত প্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু প্রকাশিত ‘সম্পাদকীয়তে’ ‘মওদূদীবাদ’ নামে মিথ্যা মতাদর্শ টেনে সংবাদ সাজানো হয়েছে। দেশবাসীর উদ্দেশে আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, দুনিয়াতে ‘মওদূদীবাদ’ বলে কোনো মতবাদ নেই। এটা একটি বিশেষ মহলের জামায়াত বিরোধিতার জন্য তৈরি ন্যারেটিভ ছাড়া আর কিছু নয়। বরং বাস্তবতা হলো জামায়াতে ইসলামী, ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা, নীতি ও স্পিরিটকে ধারণ করে। জামায়াতে ইসলামী সবসময় সলফে-সালেহীনদের পথ অনুসরণ করে এবং একইভাবে তার নেতাকর্মীদেরও ইসলামের বিধিবিধান অনুসরণে উদ্বুদ্ধ করে থাকে।

তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত সম্পাদকীয়তে বিভিন্ন মাযহাবের অনুসারীদের মধ্যে অত্যন্ত সুকৌশলে বিভেদ, বিদ্বেষ ও বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে। সত্যি ব্যাপার হলো জামায়াত সকল মাযহাবের অনুসারীদের প্রতি সম্মান দেখায়, কাউকে খাটো করে না- যা নেতাকর্মীদের দিকে তাকালে স্পষ্ট হয়। জামায়াত মনে করে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা এমন হবে- যাতে সকল মানুষ তার বোধ-বিশ্বাস লালন করার পাশাপাশি দক্ষ ও যোগ্য হয়ে নিজেকে গড়ে তুলবে এবং জাতির কল্যাণে নিজেকে আত্মনিয়োগ করার সুযোগ পাবে। লেখাপড়া শেষে কেউ বেকার থাকবেন না, কর্মমুখী হবেন।

তিনি বলেন, দেশের নাগরিকরা যেকোনো দলের মতাদর্শের রাজনীতি করতে পারেন- যা তার মৌলিক অধিকার। এ থেকে শিক্ষক সমাজ ব্যতিক্রম নয়, কারণ তারাও নাগরিক অধিকার ভোগ করবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু দুঃখজনক হলো- প্রকাশিত সংবাদে দেশের শিক্ষাঙ্গণের পরিবেশকে বিশৃঙ্খল ও অস্থিতিশীল করতে উসকানিমূলকভাবে জামায়াতের সমর্থকদের অপসারণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে- যা জাতীয় দৈনিক হিসেবে গর্হিত সম্পাদকীয় নীতি। আমি তাদের নীতি পরিবর্তন করে জনগণের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সারাদেশে নিয়মিত গঠনমূলক কাজ করে আসছে। এর ফলে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ব্যাপক জনসমর্থন নিয়ে বিরোধীদলের আসনে বসেছে। দেশ পুনর্গঠন করে ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদী শক্তির উত্থানকে রুখে দিতে সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে সেটি সম্ভব বলে মনে করে জামায়াত। কোনো প্রকার আধিপত্যবাদকে জামায়াত প্রশ্রয় দেয় না, বিশ্বাস করে না এবং নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় রাজনীতি চলমান রেখেছে। একই সঙ্গে নিরপেক্ষতা, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচন দ্রুত আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে জামায়াতে ইসলামী। প্রেস বিজ্ঞপ্তি।