চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতী ইউনিয়নের ফোর সিজন এলাকায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত ও অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।

দুর্ঘটনার পরপরই ঘটনাস্থল ও লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৫ আসনের এমপি আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী। এসময় সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুল ইসলাম, লোহাগাড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মং এছেনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বারবার প্রাণহানি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চালকদের আরও সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে হবে। অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে।”

নিহতদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে— মুহাম্মদ নাইম (২৩), নাইমুল ইসলাম জিহাদ (২৪), রেহানা আক্তার ও মনির আহমদ (২৫)। নিহত নাইমুল ইসলাম জিহাদ বিজিবির সদস্য বলে জানা গেছে।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মুহাম্মদ মাসুম (৩০), আরাফাত (২২), দ্বীপ দত্ত (৩০), রিয়াজ (২৮)সহ আরও অনেকে। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

চিকিৎসকরা জানান, দুর্ঘটনায় আহত কয়েকজনের হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত লেগেছে। বিশেষ করে একাধিক আহতের ডান পা ভেঙে গেছে এবং অনেকের শরীরে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। গুরুতর আহতদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অর্থোপেডিক্স বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. তাসফিক আহমেদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত সাতজনকে ট্রমা সেন্টারে আনা হয়। এর মধ্যে একজনকে মৃত অবস্থায় পাওয়া গেছে। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এদিকে দুর্ঘটনার সাথে সাথেই খবর পেয়ে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করে আহতদের দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করেন শাহজাহান চৌধুরী এমপি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দ্রুতগতিতে আসা দুটি যাত্রীবাহী বাস ফোর সিজন এলাকায় এসে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের বিকট শব্দে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিস, হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ট্রমা সেন্টার এবং বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে পাঠান।

দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়।

এ ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা মহাসড়কে বেপরোয়া যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।