সংগ্রাম ডেস্ক

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন আয়োজিত রক্তাক্ত জুলাই প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা শীর্ষক আলোচনা সভা রাজধানীর পুরানা পল্টন ডি সি সি হলে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী বলেন, ওলামায়ে কেরামকে শুধু মসজিদের ইমামতি করলেই চলবেনা তাদেরকে জাতীর ইমামতির দায়িত্ব নিতে হবে। তারা যদি সকল ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে ঐক্য বদ্ধ হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার ইমামতির জিম্মাদারী নেন তাহলে আমরা তাদের নেতৃত্বে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছি। তিনি বলেন, আমরা সরকারের শত্রু নই বন্ধু, আমরা যে সকল কথা বার্তা বলি তা সরকারকে সতর্ক ও সহযোগিতার জন্য, বিরোধিতার জন্য নয়।

পাটওয়ারী আরো বলেন, দেশ গড়তে দেওবন্দী, আহলে হাদীস, সুন্নি, জামায়াতী সহ সকলে কয়েকটি বিষয়ের উপর ঐক্য বদ্ধ হয়ে কাজ করতে পারি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন প্রধান আমীরে শরীয়ত আবু জাফর কাসেমী বলেন, আমরা দ্বিতীয়বার দেশ স্বাধীন করে কোন কিছুই পাইনি এমনকি বাক স্বাধীনতাও পাইনি। সরকারের উচিত জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা।

বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর আমীর মাওলানা মুহাম্মদ হোসাইন আকন্দের সভাপতিত্বে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন এন সি পির মুখ্য সমন্বয়ক জনাব নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী।

বিশেষ অতিথি ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব মুফতী হারুন ইজহার, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল অব: মাহবুবুল আলম, লে. কর্নেল অব: হাসিনুর রহমান, ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্স এর সদস্য সচীব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, মাওলানা আবুল কাসেম কাসেমী, আলী মাকসুদ খান মামুন, রফিকুল ইসলাম বাবুল, মনিরুজ্জামান মনির, জাতীয় ওলামা মুভমেন্ট এর সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ মাসুদ খান, মাওলানা আতাউর রহমান বিক্রমপুরী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, হাফেজ আবু দারদা ও হাফেজ আশরাফুল ইসলাম প্রমুখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রাশেদ প্রধান বলেন, দেশে আজ বাক স্বাধীনতাটুকুও নেই, তার প্রমাণ নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারীদের উপর দেশের বিভিন্ন স্থানে হামলা। সরকার জুলাই সনদ নয় নিজেদের নোট বাস্তবায়ন করতেই ব্যস্ত। সবাই বলে অভ্যুত্থান আমি বলি অভ্যুত্থান নয় সামনে আসবে বিপ্লব।

নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা দেশটাকে দ্বিতীয়বার স্বাধীন করে কিছুই পায়নি সামনে কিছু পাবো বলে আশাও রাখতে পারিনা। দেশে তেল গ্যাস সহ নিত্য প্রয়োজনীয় সকল পন্যেরই মুল্য বৃদ্ধি পেয়ে গেছে। সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে সম্পুর্ন ব্যর্থ। আমাদেরকে জুলাই সনদ, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন সহ সকল অধিকার আদায়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আরেকটা বিপ্লবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।