বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী গাজীপুর মহানগরী মহিলা বিভাগের উদ্যোগে থানা বিভাগীয় দায়িত্বশীলাদের অংশগ্রহণে বিভাগভিত্তিক ষান্মাসিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বিকেলে দারুল ইসলাম ট্রাস্টের ৫৪ নং মডেল ওয়ার্ড অফিসে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে গত ছয় মাসের সাংগঠনিক কার্যক্রমের মূল্যায়ন, ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সম্মেলনে গাজীপুর মহানগরীর আটটি থানার ছয়টি বিভাগের মোট ৪৮ জন প্রতিনিধি ও বিভাগীয় দায়িত্বশীলা অংশগ্রহণ করেন। এতে প্রতিটি বিভাগের ষান্মাসিক প্রতিবেদন উপস্থাপন, কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সীমাবদ্ধতা পর্যালোচনার পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে গাজীপুর মহানগরী মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য আমেনা বেগম বলেন, পরিকল্পিত, সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল সাংগঠনিক কার্যক্রমই একটি আদর্শ সংগঠনের শক্তির ভিত্তি। তিনি প্রত্যেক বিভাগকে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনে আন্তরিকতা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, বিভাগের কার্যক্রম যত মানসম্মত ও কার্যকর হবে, সংগঠনের ভিত্তি ততই সুদৃঢ় হবে এবং সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সহজ হবে।

সম্মেলনের শুরুতে গাজীপুর মহানগর ওলামা বিভাগের সভাপতি মুহতারাম আব্দুল কাইয়ূম পবিত্র কুরআন থেকে দারসুল কুরআন পেশ করেন। তিনি কুরআনের আলোকে দায়িত্ববোধ, আমানতদারিতা, ঐক্য ও জনকল্যাণমূলক কাজে আত্মনিয়োগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

পরে বিভাগীয় প্রতিনিধিরা নিজ নিজ বিভাগের দায়িত্বশীলাদের নিয়ে পৃথক গ্রুপভিত্তিক অধিবেশনে অংশ নেন। সেখানে বিগত ছয় মাসের কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা, সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ করার বিষয়ে মতবিনিময় ও প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সমাপনী বক্তব্যে গাজীপুর মহানগরী মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ও কেন্দ্রীয় শূরা সদস্য মারুফা শহীদ বলেন, সংগঠনের প্রতিটি বিভাগকে সমন্বয়, জবাবদিহিতা ও আন্তরিকতার মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি নৈতিকতা, আদর্শিক চর্চা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সমাজকল্যাণমূলক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে সংগঠনের ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দক্ষ ও আদর্শিক নেতৃত্ব গড়ে তোলা, সাংগঠনিক কার্যক্রমের মানোন্নয়ন এবং সমাজের কল্যাণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।