বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ বিভাগের উদ্যোগে ‘ডিপ্লোমা দায়িত্বশীল শিক্ষাশিবির-২০২৬’ সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সের মিলনায়তনে দিনব্যাপী বিভিন্ন সেশন, প্রশ্নোত্তর পর্ব ও বিষয়ভিত্তিক আলোচনার মধ্য দিয়ে এ কর্মসূচি শেষ হয়।
কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ শিক্ষাশিবিরে দেশের বাছাইকৃত পলিটেকনিক ও টেকনিক্যাল প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীলরা অংশগ্রহণ করেন। কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহীর সঞ্চালনায় এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সূরা আলে ইমরানের ১৫৯-১৬০ নম্বর আয়াতের ওপর দারসুল কুরআনের মাধ্যমে আয়োজনের মূল পর্ব শুরু হয়। দারস পেশ করেন তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদরাসার (যাত্রাবাড়ী শাখা) প্রধান ফকিহ মাওলানা মহিউদ্দিন। এরপর শুরু হয় ধারাবাহিক বিষয়ভিত্তিক সেশন।
শিক্ষাশিবিরে উপস্থিত আলোচকবৃন্দ ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের জন্য কাঙ্ক্ষিত মান অর্জন, সময়ের সঠিক ব্যবস্থাপনা এবং ভারসাম্যপূর্ণ জীবনপদ্ধতি অনুসরণের ওপর বিশেষ নসিহা প্রদান করেন। বিশেষ করে ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের জন্য দেশ ও বিদেশে উচ্চশিক্ষার সুযোগ, সম্ভাবনা এবং প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় করণীয় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
আয়োজনের মূল পর্বে সভাপতির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম দায়িত্বশীলদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং নৈতিকতা ও আমানতদারিতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। তিনি বক্তব্যে দক্ষ ও আদর্শিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, একজন দায়িত্বশীলকে অবশ্যই ব্যক্তিগত জীবনে আমানতদারিতা ও পরকালীন জবাবদিহিতার সর্বোচ্চ মানদণ্ড বজায় রাখতে হবে। তিনি পলিটেকনিক শিক্ষার্থীদের নৈতিক মানোন্নয়ন এবং ক্যাম্পাসগুলোতে দাওয়াতি কাজ সম্প্রসারণে আধুনিক ও সৃজনশীল কৌশল অবলম্বনের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি দায়িত্বশীলদের ব্যক্তিগত আমল ও খুলুসিয়াত বৃদ্ধির মাধ্যমে আল্লাহর সাহায্য কামনার ওপর বিশেষ তাগিদ দেন।
এ ছাড়া বিষয়ভিত্তিক আলোচনা পর্বে ‘পর্দা, খুলুসিয়াত, আমানতদারিতা ও জবাবদিহিতা’ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নসিহা পেশ করেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা পলিটেকনিকে দাওয়াতি কাজের কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক আজিজুর রহমান আজাদ দায়িত্বশীলদের উদ্দেশে ‘ইসলামী আন্দোলনের কর্মীদের কাঙ্ক্ষিত মান’ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা উপস্থাপন করেন।
এ ছাড়া ‘ইসলামী আন্দোলন ও ক্যারিয়ার’ বিষয়ে আলোচনা করেন সাবেক ডুয়েট সভাপতি ইরফানুল হাসান সাকিব। ‘বিদেশে উচ্চশিক্ষায় ডিপ্লোমা শিক্ষার্থীদের সুযোগ ও সম্ভাবনা’ নিয়ে আলোচনা করেন সাবেক কেন্দ্রীয় ব্যবসায় শিক্ষা সম্পাদক আবু হানিফা মোহাম্মদ নোমান। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডুয়েট শাখার সেক্রেটারি তাসনীম আলম। তিনি ডুয়েট প্রস্তুতির চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা করেন।
পরিশেষে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহীর সমাপনী সেশনের মাধ্যমে দিনব্যাপী এ আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে।