# দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বিরোধীদলের সঙ্গে যেকোনও আলোচনা রাজি বিএনপি-তারেক রহমান

দেশে চলমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের সমাধানের লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দলীয় বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান এর নোটিশের প্রেক্ষিতে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাকালে তিনি জানিয়েছেন, দেশে চলমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পড়ে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে ৩ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। একই সঙ্গে এই জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। পরে প্রধানমন্ত্রী বিরোধী দলের সাথে যে কোন আলোচনা করতে রাজি আছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় বিরোধী দলের সঙ্গে যেকোনও আলোচনা করতে জাতীয়তাবাদী দল সম্মত রয়েছে।

গতকাল বুধবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৯তম দিন বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের আনীত ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে তারা এ কথা জানান। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বৈঠকের সভাপতিত্ব করছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আমি প্রথমেই বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধীদলীয় সকল সংসদ সদস্যবৃন্দকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকে যে বিষয়টি নিয়ে আমরা এতক্ষণ এখানে আলোচনা করলাম অবশ্যই যে বিষয়টি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সকলের জন্য যে বিষয়টি বিরোধীদলীয় নেতা উপস্থাপন করেছেন এখানে আজকে এই মুহূর্তে আমরা যেই সংসদে দাঁড়িয়ে আছি এই সংসদটি বহু শহিদের রক্তের ওপরে প্রতিষ্ঠিত। এই সংসদটি এই সংসদটি বাংলাদেশের মানুষের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ সুন্দর একটি ভবিষ্যৎ কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে বাংলাদেশের মানুষের সেই আশা আকাক্সক্ষার ওপরে প্রতিষ্ঠিত। সেজন্যই আজকে এই সংসদে আমরা যে বিষয়টি নিয়ে মাত্র আলোচনা প্রায় শেষ প্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছি। সেই বিষয়টি নিয়ে হয়তোবা আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। তবে নিঃসন্দেহে কেউই আমরা অস্বীকার করছি না বিষয়টি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এবং এই বিষয়টি শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, এই মুহূর্তে আমরা যদি বিশ্ব রাজনীতি বিশ্ব পরিস্থিতি বিশ্ব বাস্তবতা বিবেচনায় সমগ্র বিশ্বের জন্য এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। যেই যে যেভাবেই আমরা বলি না কেন যে পরিস্থিতির ভেতর দিয়ে আমরা যাচ্ছি সমগ্র বিশ্ব বাংলাদেশসহ প্রত্যেকটি মানুষ প্রত্যেকটি দেশ প্রত্যেকটি জাতির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, সবচেয়ে ভালো যে বিষয়টি আজকের আলোচনা সেটি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি মনে করি যে আজকের এই সংসদের প্রত্যেক সংসদ সদস্য আজকে এই সংসদ সংসদে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল আমরা মনে হয় একটি জায়গা উপনীত হয়েছি। আমাদের আর যা কিছুর ব্যাপারে মতপার্থক্য থাকুক না কেন দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষার ব্যাপারে আমাদের কোন মতপার্থক্য নেই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল সময় আমার দলের পক্ষ থেকে আমি বলতে পারি দেশ এবং দেশের মানুষের কোনও বিষয় যদি আমাদের সামনে কেউ উপস্থাপন করেন যদি আমাদের কাছে দেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থের ব্যাপারে কেউ কোনও প্রস্তাবনা দেন আলোচনা করতে চান পরামর্শ দেন সুপারিশ দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সকল সময় প্রস্তুত সেই বিষয়ে আলোচনা করার সেটি আমরা যে অবস্থানেই থাকি না কেনও সকল সময় আমরা সেই প্রস্তাব গ্রহণ করতে সেই প্রস্তাবে আলোচনা করতে আমরা রাজি আছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা একটি প্রস্তাব দিয়েছেন যে আমরা বিরোধী দল সরকারি দল সকলে মিলে কেন আমরা আলোচনা করতে পারি না? আমি সংসদকে অবহিত করতে চাই সংসদ নেতা হিসেবে যে অবশ্যই আমরা বিরোধী দলকে আমন্ত্রণ জানাবো। আমাদের অবস্থান থেকে আমরা বসবো আমরা আলোচনা করব। আমরা উনাদের প্রস্তাব দেখবো। যদি উনাদের প্রস্তাবে বাস্তবতার নিরিখে যদি কোনও কিছু থাকে যেটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব অবশ্যই আমরা তা করবো। কেন করবো আমরা? কারণ আমরা যে যেই অবস্থানেই যে এই ফ্লোরে যেদিকেই বসি না কেন বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে এখানে পাঠিয়েছে তাদের স্বার্থ দেখার জন্য। কাজেই বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ যে আলোচনা করলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে। যে কাজ করলে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা হবে ইনশাআল্লাহ আমরা অবশ্যই সে কাজ করব। পরিশেষে আমি আবারও বিরোধীদলীয় নেতা এবং বিরোধীদলীয় সকল সদস্যকে আজকের এই আলোচনায় উপস্থাপন করার জন্য আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাতে চাই।

জ্বালানি সংকট সমাধানে যৌথ কমিটির প্রস্তাব বিরোধীদলীয় নেতার

দেশে চলমান জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে পড়ে তেল সংগ্রহ করতে গিয়ে ৩ জন কৃষকের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান। একই সঙ্গে এই জাতীয় সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জ্বালানি তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে দুই-চার লিটার সংগ্রহ করতে এসে হিট স্ট্রোক করে ৩ জন কৃষক মারা গেছেন। মানুষ দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাম্পে অপেক্ষা করছে। আমি নিজে দেখেছি, ৫ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে। যারা দিনে ১৫০০-২০০০ টাকা রুজি করতেন, তেলের অভাবে এখন তাদের ৫০০-৭০০ টাকাও হচ্ছে না। এই গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষগুলোর প্রতি আমাদের সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত।’

জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমি সরকারি দলকে ধন্যবাদ জানাই। কারণ আগে তারা বলেছিলেন জ্বালানির কোনো সংকট নেই, কিন্তু আজ ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতির চেয়ে বাস্তবমুখী ও পজিটিভ বক্তব্য এসেছে। আগের চেয়ে কিছুটা হলেও সত্য স্বীকার করা হয়েছে।’

সংসদে ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন বা চরিত্র হনন বন্ধের আহ্বান জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, ‘আসেন আমরা ঠেলাঠেলির রাজনীতি বন্ধ করি। একে অপরকে গালি দেওয়া বা দোষারোপ করা নয়, বরং কনস্ট্রাক্টিভ বা গঠনমূলক সমালোচনা করি। দেশের মানুষ আমাদের দিকে তাকিয়ে আছে। আমরা না পারার কালচার থেকে বেরিয়ে আসার কালচারে যেতে চাই।’

জ্বালানি খাতের দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য সরকারি ও বিরোধী দলের বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য আমাদের শর্ট টার্ম, মিড টার্ম এবং লং টার্ম স্ট্র্যাটেজি থাকতে হবে। যদি সরকারি দল মনে করে একটি কমন বা যৌথ কমিটি করা দরকার, তবে আমরা তাতে সাড়া দেব। আমাদের কাছে কিছু প্রপোজাল (প্রস্তাবনা) আছে, যা আমরা সরকারের হাতে তুলে দিতে চাই।’

অসাধু ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘সংকট এলে কিছু লোক ঘাপটি মেরে বসে থাকে সুযোগ নেওয়ার জন্য। এই অসাধু লোক যদি আমি নিজেও হই, আমাকেও ছাড় দেবেন না। জাতির স্বার্থে তাদের পাকড়াও করুন এবং জনগণের সামনে উন্মোচিত করে দিন।’

বক্তব্যের শেষে বিরোধীদলীয় নেতা আবেগপ্রবণ কণ্ঠে বলেন, ‘আসুন সুন্দরবনের মধু একটু আমরা ঠোঁটে লাগাই, রংপুরের ছ্যাঁকা মরিচের কথা ভুলে যাই। আমরা সবাই মিলে দেশের জন্য ভালো কিছু করে যেতে চাই। যেন তৃপ্তি নিয়ে মরতে পারি যে, এই জাতির জন্য কিছু একটা করতে পেরেছি।’

জ্বালানি সংকট ‘কৃত্রিম’, মজুত ও সরবরাহ আগের চেয়ে বেশি-জ্বালানিমন্ত্রী

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো প্রকৃত সংকট নেই, বরং এটি একটি ‘আর্টিফিশিয়াল’ বা কৃত্রিম সংকট বলে দাবি করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় বর্তমানে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ অনেক বাড়ানো হয়েছে। অসাধু চক্র একটি ইনফর্মাল (অনানুষ্ঠানিক) বাজার তৈরির জন্য পাম্পগুলোতে কৃত্রিম লাইন তৈরি করছে।

বিরোধী দলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমানের আনীত ‘দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভাগ লাঘবে অবিলম্বে সরকারের কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ’ শীর্ষক আলোচনায় অংশ নিয়ে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান।

সংসদে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ১ লক্ষ ৩২ হাজার ২৭১ টন ডিজেল, ৪২ হাজার ৩০০ টন অকটেন, ১৮ হাজার ৪৪০ টন পেট্রোল এবং ১৯ হাজার ৪৩৯ টন জেট ফুয়েল মজুত আছে। এছাড়া মেরিন ফুয়েল ও ফার্নেস অয়েলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

সরবরাহের তুলনা করে তিনি বলেন, ‘২০২৫ সালে এই সময়ে প্রতিদিন ৩১৩ টন ডিজেল সরবরাহ করা হতো, আর ২০২৬ সালে আমরা দিচ্ছি ৪৬৭ টন। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার সাড়ে ৩৭ শতাংশ বেশি ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। একইভাবে পেট্রোল ৩৩.৬ শতাংশ এবং অকটেন ২৬ শতাংশ বেশি সরবরাহ করা হচ্ছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাড়ি আসাদগেটে দুটি পেট্রোল পাম্পের উল্টো দিকে। আমি দেখেছি দীর্ঘ লাইন, কিন্তু এটি ন্যাচারাল লাইন নয়। তেলের একটি ইনফর্মাল মার্কেট বা কালোবাজার তৈরির জন্য অসাধু লোকরা এই কৃত্রিম লাইন তৈরি করছে। পাম্পে যারা আসলেই নিডি (প্রয়োজনীয়), তারা অসাধুদের ভিড়ে তেল পাচ্ছে না। আমি সাংবাদিকদের অনুরোধ করব ইনভেস্টিগেশন করে দেখুন, এই লাইন কি প্রয়োজনের নাকি অসাধু ব্যবসার জন্য।’

জ্বালানি পাচার ও কালোবাজারি রোধে সরকারের সক্রিয়তার কথা জানিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘প্রশাসন, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবি প্রতিদিন রেইড (অভিযান) পরিচালনা করছে। আমরা অভিযান চালিয়ে ইতোমধ্যে লক্ষ লক্ষ লিটার তেল উদ্ধার করে বাজারে ছেড়েছি। প্রতিদিন সকালে আমরা ডিসি-এসপিদের সঙ্গে বৈঠক করে পরিস্থিতির বিশ্লেষণ করছি।’

এলপিজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার একটি আইন পাস করে পুরো এলপিজি খাতকে প্রাইভেট সেক্টরের হাতে দিয়ে গিয়েছিল। সরকার এটি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করে না, নিয়ন্ত্রণ করে এনার্জি কমিশন। তবে আমরা ক্ষমতায় এসে ইনডেমনিটি বা ইউটিলিটি ল’ বাতিল করেছি। এখন কোনো কিছু ক্রয় করতে হলে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ফলো করে পারচেজ কমিটিতে যেতে হয়। আমরা জ্বালানি খাতকে স্বচ্ছতা ও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করছি।’

থাইল্যান্ড বা পাকিস্তানের মতো ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ বা স্কুল বন্ধের মতো সিদ্ধান্ত বর্তমান সরকার নেয়নি জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চান না। তিনি অত্যন্ত লিবারেল। আমরা যথাসাধ্য তেল সরবরাহ করে যাচ্ছি।’

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘সংকট’ বলতে চান না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের যে পরিস্থিতি বিরাজ করছে, তাকে ‘সংকট’ বলতে চান না স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ। তিনি দাবি করেন, জ্বালানি সংকটের কারণে দেশে বোরো চাষাবাদ ব্যাহত হয়নি এবং কোনও কলকারখানা বা ব্যবসা-বাণিজ্যও বন্ধ হয়নি।

বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘আমি এটাকে সংকট বলতে চাই না। বিরোধী দলীয় নেতা দেশব্যাপী তীব্র জ্বালানি সংকটের কথা বলেছেন, কিন্তু আমি জিজ্ঞেস করতে চাইÑ জ্বালানির কারণে কি বোরো চাষ ব্যাহত হয়েছে? ১৪ এপ্রিলের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সহনীয় মাত্রায় জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধি করা হয়েছে। যদি সংকটই হতো, তবে কি কোনও মিল-ইন্ডাস্ট্রি বন্ধ হয়েছে? চাষাবাদ, স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-বাণিজ্য তো সবকিছুই স্বাভাবিক চলছে। তাহলে সংকট কোথায়?’’

জ্বালানি তেলের কালোবাজারি ও মজুত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘‘কোথাও কালোবাজারি বা মজুত হলে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থাগুলোই (র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি) খুঁজে বের করছে। অনলাইনে তেল বিক্রির কালোবাজারি চক্রকেও ধরা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিন-রাত মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে এবং প্রতিটি ডিপো ও পাম্পে রুটিন মাফিক তদারকি করা হচ্ছে।’’

সীমান্ত দিয়ে জ্বালানি পাচারের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, বর্ডার এলাকায় দাম কম থাকলে কিছু পাচারের প্রবণতা থাকে। তবে সরকার সফলভাবে জ্বালানি তেল বা সিলিন্ডার পাচার রোধ করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই কৃতিত্ব অনেকে স্বীকার করতে চায় না। কিন্তু আমরা সফলভাবে পাচার ঠেকিয়ে দিয়েছি।’’

পুলিশ বাহিনীকে নতুন করে গড়ে তোলার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘উত্তরাধিকার সূত্রে আমরা যে পুলিশ কাঠামো পেয়েছি, তাকে রাতারাতি পাল্টে ফেলা সম্ভব নয়। তবে আমরা তাদের মোরালি স্ট্রং (মানসিকভাবে শক্তিশালী) করছি এবং জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ করছি। ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশে আর কোনও ‘মব কালচার’ থাকবে না। অপরাধ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা সম্ভব না হলেও আমরা একটি নজির স্থাপন করতে চাই।’’

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘‘চট্টগ্রামের সলিমপুর জঙ্গল যা রাষ্ট্রের ভেতর আরেক রাষ্ট্র হয়ে গিয়েছিল, আমরা তা উদ্ধার করেছি। সুন্দরবন ও সমুদ্র অঞ্চলেও দস্যুতা দমনে সফল অভিযান চলছে। ইনশাআল্লাহ, আপনাদের সহযোগিতায় আমরা সারা দেশে শান্তি বজায় রাখবো।’’

সবশেষে তিনি জাতীয় ইস্যুতে সরকারি ও বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান এবং বিরোধী দলকে নেতিবাচক ধারণা প্রচার না করার অনুরোধ করেন।