বিরোধী দল প্রার্থী দেয়ায় ৩৫ বছর পর

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ কাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায়

মিয়া হোসেন

গোপনে নয় প্রকাশ্যে ভোট দিতে হবে। ব্যালটের মধ্যে নিজের নাম লিখে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। কে কাকে ভোট দিলেন তা ব্যালটেই দেখা যাবে। নিজ দলের বাইরে কাউকে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারাতে হবে। ভোটের আগেই ফলাফল নিশ্চিত হয়ে আছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীই বিজয়ী হবেন। এমন একটি পদ্ধতির নির্বাচনের মাধ্যমে আজ বৃহস্পতিবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। নিশ্চিত পরাজয় জেনেও নির্বাচনে অংশ নিয়ে প্রার্থী দিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ৩৫ বছর পর ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সংসদ সদস্যরা। তবে জুলাই সনদের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের মাধ্যমে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন হলে এ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতো বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

জাতীয় সংসদ ও ইসি থেকে জানা গেছে, পূর্ব ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবারে নির্বাচনে দেশের ২৩তম প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্ণেল অব. অলি আহমেদ। ইতোমধ্যে ভোটের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। ৩৪৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনী কর্তা হিসেবে সিইসি এক দিনের অধিবেশন আহবান করেছেন। ভোট গ্রহণ সমাপ্ত হলে প্রকাশ্যে গণণা করে সেখানেই ফলাফল ঘোষণা করা হবে। এর আগে ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তারপর থেকে বিরোধী দল প্রার্থী না দেয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতেন এবং সংসদ সদস্যরা ভোট দেয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। গণতন্ত্রের স্বার্থে এবার বিরোধী দল প্রার্থী দিয়েছে এবং সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধন হলে তাদের প্রার্থী বিজয়ী হতেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বিতর্ক

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে বির্তক রয়েছে দীর্ঘ দিনের। তবে এবারের ভোটে এ বির্তক আরো বড় আকারে হয়েছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করে জুলাই সনদ অনুয়ায়ী সংবিধান সংশোধন করলে এবারের ভোটেই সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতেন। কিন্তু সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় তা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে সংসদের সরকার দলীয় চীফ হুইপ সম্প্রতি জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি বলেছেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ যেহেতু সংশোধিত হয়নি, সুতরাং কোনো সংসদ সদস্য দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারবেন না। ভোট দিলে তাদের সদস্যপদ বাতিল হবে।

বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনটা হওয়া উচিত ছিল। যেহেতু গণভোটের রায়ও সংস্কারের পক্ষে এসেছে, তাই ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কার করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা যেত। তাহলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি আরও বেশি সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য হত।

এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী জেনারেল ও এগারো দলীয় ঐক্যজোটের সমন্বয়ক ড এ এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, যদি সংস্কার হত কর্নেল (অব.) অলি নিশ্চিতভাবে বিজয়ী হতেন এবং সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচিত হতেন। এই সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এটা জাতির জন্য দুর্ভাগ্য। সেই জায়গাটা বিএনপির দ্বিচারিতা এবং তাদের সংস্কারের ব্যাপারে ইতিবাচক মানসিকতা না থাকার কারণে জাতি এখান থেকে বঞ্চিত হলো। একজন দক্ষ যোগ্য লোকের সার্ভিস থেকে রাষ্ট্র বঞ্চিত হলো।

এ বিষয়ে ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, বিএনপির ইশতিহারের ১১ নাম্বার ধারায় ৭০ অনুচ্ছেদ সংশোধনের কথা। সেখানে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট ছাড়া রাষ্ট্রপতির ভোটসহ অন্যান্য সকল বিষয়ে সংসদ সদস্যরা মতামত দেয়ার বিধান রেখেছে। আর জুলাই সনদের ৭০ অনুচ্ছেদ সম্পর্কে বিএনপির কোন নোট অব ডিসেন্ট নেই। সুতরাং সংসদ সদস্যরা তাদের ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

তবে এ বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ এডভোকেট মনজিল মোরশেদ। তিনি দৈনিক সংগ্রামকে বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ এখনো সংশোধন হয়নি। এ অনুচ্ছেদ সংশোধন হওয়ার আগে রাষ্ট্রপতি পদে দলের বাইরে কাউকে ভোট দেয়া হলে সংসদ সদস্যপদ থাকবে না।

প্রস্তুতি সম্পন্ন: সিইসির ব্রিফিং:

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ‘নির্বাচনী কর্তা’ এ এম এম নাসির উদ্দীন ব্রিফিং এ বলেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর ওই দিনই ক্যাবিনেট ডিভিশন থেকে এ বিষয়ে গ্যাজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশে ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতিতে এই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। মাঝে দীর্ঘ সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রত্যক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ভোট না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতায় কিছুটা ঘাটতি থাকলেও তা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনীয় সব মহড়া ও প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করা হয়েছে। ১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন ও বিধিমালার আলোকে নির্বাচন কমিশন এই পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে সফলভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

জাতীয় সংসদ বর্তমানে নিয়মিত অধিবেশনে না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন অনুযায়ী সিইসি নিজেই সংসদ সদস্যদের বৈঠকের আহ্বান জানিয়েছেন। গত ১১ আগস্ট ন্যূনতম সাত দিন সময় রেখে এই সংক্রান্ত গ্যাজেট প্রকাশ করা হয়। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই এই নির্বাচনের ভোটার। নির্বাচন কমিশন আগেই ভোটার তালিকা ও তফসিল প্রকাশ করেছে। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী গত ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের দিনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষে দুটি মনোনয়ন জমা দেওয়া হয় ড. অলি আহমদের নামে এবং বর্তমান সরকারি দল বিএনপির পক্ষে একটি মনোনয়ন জমা দেওয়া হয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নামে। পরবর্তীকালে ১৬ আগস্ট জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সহায়তায় প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হয়। সংসদ সদস্যদের শপথ নেওয়ার দিনের মূল স্বাক্ষর রেজিস্টারের সঙ্গে প্রস্তাবক ও সমর্থকদের স্বাক্ষর মিলিয়ে দেখে তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে নিয়ম অনুযায়ী একই প্রার্থীর দুটি বৈধ মনোনয়নপত্রের মধ্যে একটি বাড়তি হিসেবে গণ্য হওয়ায় চূড়ান্তভাবে দুই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বীর মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে কোনো প্রার্থীই নাম প্রত্যাহার করেননি।

ভোটার ৩৪৯ জন, ভোট গ্রহণ ২ থেকে ৫টা

ভোটার তালিকার ক্রমিকে কিছুটা বৈচিত্র্যের ব্যাখ্যা দিয়ে সিইসি জানান, সংসদীয় সীমানার সিরিয়াল অনুযায়ী পঞ্চগড়-১ থেকে শুরু হয়ে বান্দরবানে গিয়ে ৩০০ আসন শেষ হলেও এই নির্বাচনে মূলত সংসদের ‘বিভক্তি নম্বর’ অনুযায়ী ভোটিং কার্যক্রম পরিচালিত হবে। চট্টগ্রাম-৪ আসনের উপনির্বাচন বা শূন্যতার কারণে ভোটার তালিকায় বিভক্তি নম্বরে কিছুটা ডিসকন্টিনিউইটি রয়েছে। তবে তা নিয়মানুগভাবেই সমাধান করা হয়েছে এবং মোট ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জন। ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা এবং সংসদ সদস্যরা এই নির্বাচনে ভোটার হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

নির্বাচন পরিচালনার জন্য স্পিকারের সঙ্গে পরামর্শ করা আইনগত বাধ্যবাধকতা এবং সে অনুযায়ী কমিশন পরামর্শক্রমেই সব সূচি নির্ধারণ করেছে বলে জানান সিইসি। ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার পরপরই তাৎক্ষণিকভাবে ভোট গণনা শুরু হবে এবং ফলাফলের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন সিইসি নিজে। পুরো গণনার প্রক্রিয়া থাকবে শতভাগ স্বচ্ছ। নির্বাচন চলাকালীন ও ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবেন। ভোটার ও প্রার্থীদের নাম ব্যালট পত্রে স্পষ্ট উল্লেখ থাকায় কে কাকে ভোট দিচ্ছেন তা উপস্থিত সবার কাছে উন্মুক্ত থাকবে। ভিআইপি ভোটারদের ভোটদান এবং ফলাফল গণনার পর্বটি বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সিইসি স্পষ্ট করেন যে, সংসদ ভবনের ভেতরের পরিবেশ ও বিধিমালা বজায় রাখার দায়িত্ব স্পিকারের, যা তাদের নিজস্ব আইনের অধীনে পরিচালিত হয়। তবে ভোটের দিন হাউজের ভেতরে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। এছাড়া এই নির্বাচনকে ঘিরে অতিরিক্ত বা কোটি কোটি টাকা খরচের খবর গুজব ছাড়া কিছু নয় বলে তিনি জানান। সংসদের বৈঠক ডাকার মতো নিয়মিত বিষয় এবং কিছু ব্যালট ও স্টেশনারি ছাড়া কমিশনের আলাদা কোনো বড় ধরনের আর্থিক ব্যয় বা অতিরিক্ত বাজেট তৈরি হয়নি।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশ ও আন্তর্জাতিক মহল এই নির্বাচনের দিকে বিশেষ নজর রাখছে উল্লেখ করে সিইসি নাসির উদ্দীন আশা প্রকাশ করেন, সবার আন্তরিক সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন একটি অত্যন্ত সুন্দর, স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতিকে উপহার দিতে সক্ষম হবে।

বঙ্গভবনে কাল সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ

আগামীকাল শুক্রবার বঙ্গভবনে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। বুধবার বিকেলে সংসদ সচিবালয়ে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান তিনি।

চিফ হুইপ বলেন, সব সংসদ সদস্যের কাছে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য ভোট চাওয়া হয়েছে। আমরা গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মধ্যদিয়ে ইতিহাসের নতুন যাত্রা শুরু হবে, ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণ।

এ সময় আগামী শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতির শপথ অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।

৩৫ বছর আগের ভোট যেমন হয়েছিল

নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে এরশাদ সরকারের পতনের পর সংসদীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালু হয় বাংলাদেশে। ৯১'র জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। আর বিরোধী দলে যায় আওয়ামী লীগ। ওই বছরেই আটই অক্টোবর সংসদীয় গণতন্ত্রে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাসের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী। ওই নির্বাচনে প্রার্থী ছিলেন ওই দুইজনই। নির্বাচন শেষে ফলাফলে আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন। আর তার বিপরীতে ৯২টি ভোট পেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরী। নির্বাচনে সংরক্ষিত এমপিসহ ৩৩০ জন ভোটার থাকলেও ভোট দিয়েছিল মাত্র ২৬৪ জন। আর ভোট দেননি ৬৬জন এমপি। বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি পদে ওই নির্বাচনের পর গত ৩৫ বছরে আটবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হলেও একক প্রার্থী থাকায় কোন ভোট অনুষ্ঠিত হয়নি।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশের পঞ্চম জাতীয় সংসদে বিএনপি'র ছিল ১৪০টি, আওয়ামী লীগের ৮৮টি, জাতীয় পার্টির ৩৫টি, জামায়াতে ইসলামীর ১৮টি, বাকশালের ৫টি এবং সিপিবির ৫টি আসন। সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন ছিল ৩০টি। কোন দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি ওই নির্বাচনে। পরে জামায়াতের সমর্থন নিয়ে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার গঠন করে।

বিএনপি সরকার গঠনের পর আবার সংসদীয় ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হয়। রাষ্ট্রপতিকে সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত করার বিধানও ফিরিয়ে আনতে ওই সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনও তৈরি করা হয়। ১১৯১ সালে অগাস্টে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইন প্রণয়নের পর, সেপ্টেম্বর নির্বাচনের বিধিমালাও প্রস্তুত করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালের ৮ই অক্টোবর সংসদ কক্ষে রাষ্ট্রপতি পদে ভোটের আয়োজন করে তৎকালীন নির্বাচন কমিশন। সেই সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার ছিলেন বিচারপতি আব্দুর রউফ।

তখনকার পত্রিকার খরব থেকে জানা গেছে, সংসদ কক্ষে স্পিকারের বিশাল চেয়ারটির বদলে একটি ছোট চেয়ার বসানো হয়। এতে উপবিষ্ট ছিলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। ঠিক বেলা ২টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়'। ২টা তিন মিনিটে খালেদা জিয়ার ভোটদানের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল ভোটগ্রহণ। পরবর্তীতে আব্দুর রহমান বিশ্বাস, স্পিকার, ডেপুটি স্পিকারসহ বিএনপি প্রার্থীরা একে একে ভোট দেন। ভোট গ্রহণ শেষে বিকেল ৫টা ভোটগ্রহণ শেষে ভোট গণনা করা হয়। ১৭২ ভোট পেয়ে বিএনপি প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। সেই সংসদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ ও বর্তমান চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ছিলেন স্বতন্ত্র সংসদ।