রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর মাতুয়াইল এলাকায় ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় আব্দুর রহমান জিসানকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়সহ ২৯ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কাউছার হুসাইন গত ৮ জুলাই আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। আগামী ৬ অক্টোবর মামলার চার্জশিট গ্রহণের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক মহিউদ্দিন চৌধুরী। তিনি জানান, তদন্ত শেষে মামলার ২৯ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।
চার্জশিটভুক্ত আসামিদের মধ্যে শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয় ছাড়াও রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
এ ছাড়া সাবেক স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম, সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, হাসানুল হক ইনু, আনিসুল হক ও জাহাঙ্গীর কবীর নানক, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী মনিরুল ইসলাম মনু ও মশিউর রহমান সজল, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ঢাকার সাবেক ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ, র্যাবের সাবেক মহাপরিচালক হারুন অর রশীদ, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং যাত্রাবাড়ী থানার সাবেক ওসি আবুল হাসানসহ আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।
যেভাবে শহীদ হন জিসান
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন মাতুয়াইল এলাকায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন আব্দুর রহমান জিসান। আন্দোলনকারীদের মধ্যে তিনি পানি বিতরণ করছিলেন।
এ সময় গুলিতে জিসান আহত হন এবং পরে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, আন্দোলনকারীদের ওপর গুলিবর্ষণের সময় জিসানকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
ঘটনার পর জিসানের বাবা বাবুল মিয়া ২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট যাত্রাবাড়ী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ২৯ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এখন আদালতে চার্জশিট গ্রহণের শুনানির পর মামলাটি পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের দিকে এগোবে।