বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ২০২৭ সালের মধ্যে তাদের বহর সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক রুটে যাত্রী পরিবহনের সক্ষমতা বাড়াতে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ লিজ (ভাড়া) নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। নতুন কেনা ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ২০৩১ সালের আগে সরবরাহ না পাওয়ায় মধ্যবর্তী সময়ের শূন্যতা পূরণ করতে লিজের এই সাময়িক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গত ১৫ জুলাই এই লিজ প্রক্রিয়ার দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারির মধ্যে এই উড়োজাহাজগুলো সরবরাহের বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দরপত্র বা প্রস্তাব জমার শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ আগস্ট।
২০২৭ সালের মধ্যে লিজের মাধ্যমে বহরে সর্বোচ্চ ১০টি উড়োজাহাজ যুক্ত করার এই পরিকল্পনা নিয়েছে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটি। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, প্রাথমিকভাবে চারটি উড়োজাহাজ লিজ নেওয়ার কথা থাকলেও প্রয়োজন অনুযায়ী এই সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে। আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। এই লিজ কার্যক্রমের জন্য ইতিমধ্যে প্রায় ৪০টি আবেদন জমা পড়েছে।
বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও এই উদ্যোগ সফল হলে সংখ্যাটি ২৯টিতে উন্নীত হবে। নতুন কেনা ১৪টি বোয়িং উড়োজাহাজ ২০৩১ সালের আগে হাতে না পাওয়ায় মধ্যবর্তী সময়ের জন্য লিজকেই কার্যকর বিকল্প হিসেবে দেখছে সরকার। ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ওই চুক্তির উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ থেকে ২০ ৩৫ সালের মধ্যে সরবরাহ করা হবে। এর ফলে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গন্তব্যে সেবা চালু করা সম্ভব হবে।
ড্রাই লিজের শর্ত অনুযায়ী উড়োজাহাজের ক্রু, রক্ষণাবেক্ষণ ও বীমার দায়িত্ব বিমানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় থাকবে। বর্তমানে বিমানের বহরে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ইআর, ছয়টি ড্রিমলাইনার, চারটি বোয়িং ৭৩৭ এবং পাঁচটি ড্যাশ-৮ কিউ৪০০ উড়োজাহাজ রয়েছে। আমেরিকান কোম্পানি বোয়িংয়ের পাশাপাশি ভবিষ্যতে ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের উড়োজাহাজও বহরে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করছে সরকার। বাংলাদেশের জন্য দুই ধরনের উড়োজাহাজই প্রয়োজন বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
বেসরকারি এয়ারলাইনসগুলোর দ্রুত সম্প্রসারণের মুখে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা ধরে রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস ২০২৭ সাল থেকে লিজের মাধ্যমে ২১টি বোয়িং ৭৩৭-৮ উড়োজাহাজ বহরে যুক্ত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এ ছাড়া এয়ার অ্যাস্ট্রা ও নভোএয়ারও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণে নতুন উড়োজাহাজ সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে। বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক রুটে নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিমানের এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলছেন বিশেষজ্ঞরা।