দেশীয় সংস্কৃতির ধারণ, লালন ও বিকাশে আমরা কিছু ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছি। এ কারণে অপসংস্কৃতি আমাদের ওপর ভর করেছে, যাকে বলা যায় ‘কালচারাল অ্যাগ্রেশন’। এই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ শুধু প্রতিবাদ বা বক্তৃতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়; সাংস্কৃতিক উদ্যোগের মাধ্যমেই সাংস্কৃতিক আধিপত্যবাদ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এর মাধ্যমেই একটি জাতিকে সুস্থ সংস্কৃতির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান এমপি।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে ‘দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদ’ আয়োজিত নাতে রাসূল (সা.) ও কাওয়ালী সন্ধ্যায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে ডা. শফিকুর রহমান নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার তিন বিভাগে প্রথম স্থান অর্জনকারী তিন প্রতিযোগীকে পবিত্র কাবা শরিফে ওমরাহ পালনের সুযোগ করে দেওয়ার ঘোষণা দেন।

Deshiyo Organizes an Evening of Naat-e-Rasul (PBUH) and Qawwali_16x9

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “রাসূলের (সা.) পুরো জীবনের দিকে যদি আমরা নজর দিই, তাহলে দেখব তাঁর পুরো জীবনে রাজনৈতিক কার্যক্রমের চেয়ে সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সবচেয়ে বেশি। কারণ একটি সুন্দর গানও মানুষের অন্তরে ঈমানের নূর জ্বালিয়ে দিতে পারে, অন্তরকে তরতাজা করতে পারে।”

আলোচনার শেষে আমীরে জামায়াত নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের সাফল্য ও সমৃদ্ধির জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

অনুষ্ঠানে নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী, নাত ও কাওয়ালী সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি সিরাতগ্রন্থ প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন ও হাদিস ক্যালিগ্রাফি প্রদর্শনী এবং হাদিস ক্যালিগ্রাফি প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ করা হয়। জমকালো এ আয়োজনে দেশের জনপ্রিয় শিল্পী ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন সংগীত পরিবেশন করে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও সমাজসেবক অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, লেখক ও সম্পাদক আবুল আসাদ, বিশিষ্ট সমাজসেবক নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, ব্যারিস্টার নজিবুর রহমান এমপি, অধ্যাপক মোক্তার আলী এমপি, কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাদ্দামসহ দেশবরেণ্য গুণীজনেরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশীয় সাংস্কৃতিক সংসদের সভাপতি সাইফুল্লাহ মানছুর।

উল্লেখ্য, পবিত্র রবিউল আউয়াল উপলক্ষে দেশীয় দেশব্যাপী ‘নাতে রাসূল (সা.) প্রতিযোগিতা’র আয়োজন করে। তিনটি বিভাগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় কয়েকশ প্রতিযোগী অংশ নেন। সেখান থেকে বিচারকদের মূল্যায়ন এবং দর্শকদের ভিউ ও কমেন্টের ভিত্তিতে প্রতিটি বিভাগ থেকে সেরা ১০ জনকে বাছাই করা হয়। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে নগদ অর্থ, ক্রেস্ট ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।