জ্বালানি সংকট নিয়ে মানুষের কষ্ট দূর করার জন্য বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সহযোগিতার প্রস্তাবে সরকার রাজি হয়ে কমিটি গঠন করার পর রাস্তার মানুষের কষ্ট দূর হওয়ার কথা চীফ হুইপ জানিয়েছেন উল্লেখ করেন বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জ্বালানি সংকট সমস্যা নিয়ে সবাই কষ্ট পেয়েছেন, এখানেও যারা তারাও কষ্ট পেয়েছেন। তবে আমাদের চাইতেও সাধারণ নাগরিকরা অনেক বেশি কষ্ট ভোগ করেছেন। আমরা এ বিষয়ে একটা অর্থবহ আলোচনা করেছি। এই আলোচনার পরে যখন কমিটি হলো সম্মানিত চিফ হুইপ বলেছেন এই কমিটি হওয়ার পরে আমরা দেখি যে রাস্তার সেই কষ্ট দূর হয়ে গেছে অনেকটা। দেশবাসী বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে একই বিষয়কে সরকারি দল এবং বিরোধী দল সিরিয়াসলি নিয়েছে, তারা এটা অ্যাড্রেস করবে আমাদের সমস্যার সমাধান হবে। এই আস্থার জায়গাটা ফিরে আসার কারণে সমাধানের পথগুলো খুলে গেছে। আমরা দোয়া করি যেই যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে তার পরিসমাপ্তি হোক। এই যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। এই সংকট এই সরকারের তৈরি নয়, এটা গ্লোবাল ইস্যু, গ্লোবাল প্রবলেম, ক্রাইসিস।
গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর আলোচনা ও অধিবেশন সমাপ্তির আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।
বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুরুর সংসদ অধিবেশন। এটি একটি ঐতিহাসিক অধিবেশন। এই অধিবেশনের চেয়ার এবং স্পিকার হিসেবে অত্যন্ত সফলভাবে দায়িত্ব পালনের জন্য আমি অন্তরের অন্তস্তল থেকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। আজকের এই গ্যালারিটা হচ্ছে বাংলাদেশ। এই গ্যালারির দিকে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ। এই গ্যালারির দিকে শুধু বাংলাদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিরা নয়, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা যত বাংলাদেশি আছে তারা সবাই আজ তাকিয়ে আছে। তারা এটাকে তাদের একটা প্রত্যাশার ঠিকানা হিসেবে দেখতে চায়। দীর্ঘ সময় ধরে চলমান এই অধিবেশন, নিশ্চয়ই আমরা সবাই বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে এবং দায়িত্ববোধ নিয়ে এখানে আমরা অংশগ্রহণ করেছি। আমি সরকারি দল, বিরোধী দল-এই দীর্ঘ সময় ধৈর্য ধরে, আগ্রহ ভরে অধিবেশনকে সফল করার জন্য আমি অভিনন্দন জানাই। এবং সেই সাথে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে সবাই সবার মত ব্যক্ত করার ন্যূনতম সুযোগ পেয়েছেন, এজন্য আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করছি।
তিনি তার বাবার কথা স্মরণ করে বলেন, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করব আমার সম্মানিত কৃষক পিতা, যিনি অতি সাধারণ গ্রামের একজন অতি সাধারণ কৃষক ছিলেন। আমি সোনার চামচ এবং রুপার কাঠি হাতে নিয়ে জন্ম নেইনি। আমি এমন একটি জায়গায় জন্মগ্রহণ করেছিলাম যেখানে আমি অভুক্ত মানুষের সংগ্রাম দেখেছি। আমি দেখেছি দুটা মাস আসলে মানুষের মধ্যে দারুণ হাহাকার। একটা চৈত্র মাস, আরেকটা কার্তিক মাস। তখন বাংলা মাসেরই চর্চা হতো। এখন তো আমরা সবাই ইংলিশ হয়ে গেছি। এবং এই অধিবেশনে হয়ে আসে দেখলাম যে আমরা উর্দুও হয়ে গেছি। অধিবেশনের সুবাদে বিশেষ করে সরকারি দলের বন্ধুদের কাছ থেকে বুঝে না বুঝে উর্দু শুনে কিছুটা হলেও শেখার চেষ্টা করেছি। এই দুইটা সময় মানুষ অগ্রিম তাদের শ্রম বিক্রি করে দিত পেটের ক্ষুধায়। ধান কাটার মৌসুমে একজন মানুষ যদি তখন ১২ টাকা বেতনে কাজ করত, তাহলে অগ্রিম হিসেবে ৫ টাকা বেতনেই পেটের ক্ষুধার কারণে তার শ্রম বিক্রি করে দিত। আলহামদুলিল্লাহ, বাংলাদেশ হাঁটি হাঁটি পা পা করে আজকে সেই অবস্থা থেকে উত্তরণ হয়েছে। তবে এটা ঠিক, আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব যাদের ওপর ছিল, তারা যদি সততা, দক্ষতা এবং দায়িত্বশীলতার সাথে দেশ পরিচালনা করতেন, তাহলে ৫৪ বছর অতীতে ফেলে আসা এই দেশটা আরও বহুদূর এগিয়ে যেত। এজন্য ক্ষমতায় যখন কেউ থাকেন, তখন তিনি অনেকটা ফেরেশতার মতো অভিনয় করেন। অন্যদের শুধু দোষ দেখেন, দুর্নীতি দেখেন, অতীতের সব দুর্নীতি দেখেন।
একটি গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, মনে পড়ে গেল একজন মেহমানের কথা। উনি খাইতে বসেছেন, তো উনি হাত দেন না। অনেকক্ষণ বসে আছেন। যিনি আতিথেয়তা করবেন তিনি এসে বললেন যে, "আপনি যে হাত দিচ্ছেন না?" বলে, "কিসে হাত দিব? সব কয়েকটা ভাত দিয়ে রেখেছ, সাথে আর কিছু লাগবে না?" কয় যে, "আপনারা তো একটু আগেই এখানে এসে বললেন-" "হেই ধুৎ!" আমি এসে জিজ্ঞেস করলাম যে কারে আপনি ধমক দিলেন? কয়, "না, ওই দিকে একটা পবিত্র ঘরে একটা কুকুর ঢুকতে লাগছিল, এখান থেকে ৪ হাজার মাইল দূরে। আমি একটু এখান থেকে তাড়িয়ে দিলাম।" বলল, "বাহ! আপনি ৪ হাজার মাইল দূরের কুকুর দেখলেন, কিন্তু ভাতের নিচের আপনি রোস্টটা দেখতে পারলেন না!" ক্ষেত্রবিশেষে আমাদের অবস্থান এমন হয়েছে। ওরা অনেক দূর দেখে, কিন্তু আমার গায়ে, বগলে, আমার যে দুর্বলতা বা গন্ধ সেটা আমরা দেখি না বা বোঝার চেষ্টা করি না। অন্যের দোষের তালিকা তৈরি করা খুবই সহজ। সে মানুষ কখনো মহৎ হতে পারে না যে শুধু অন্যের দোষের তালিকা তৈরি করে। মানুষ সেই মহৎ হয় যে নিজের দোষ খুঁজে বেড়ায় যে "আমি কোন ভুল করেছি।" যখন মানুষটি নিজের ভুলের দিকে তাকায়, তখনই তার সংশোধনের রাস্তাটা খোলা হয়ে যায়। আর অন্যের ভুল যখন খুঁজতে থাকে, তখন তার কিন্তু আর ওই ভুল থেকে, নিজের ভুল থেকে ফিরে আসার রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়।
তিনি সংসদের আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন, আমি এখানে এসে মাঝে মাঝে কনফিউশনে পড়ে যাই-আমি কি মহান জাতীয় সংসদে বসে আছি, নাকি আমি জেগে জেগে ঘুমাচ্ছি, আমি কি স্বপ্ন দেখছি, নাকি আমি বাস্তবেই ইতিহাস শিক্ষার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হয়ে এখানে বসেছি। আমাদের ১২ তারিখ থেকে শুরু করে আজকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলে আসা বক্তৃতার আমি যদি ভুল না করি, তাহলে ৮০ ভাগ ছিল ইতিহাস চর্চা। ইতিহাস চর্চা কোনো দোষের কাজ নয়। চলতে হলে জানতে হবে এবং অতীতকে ধারণ করে চলতে হবে, আবার অতীতের ভুল থেকেও শিক্ষা নিতে হবে-এটিই হচ্ছে ইতিহাসের চাহিদা। কেন মানুষ আমাদের এখানে নির্বাচিত করে পাঠিয়েছে? আমরা যখন এই নেতৃবৃন্দ সারা দেশ ঘুরেছি, তখন শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ, শ্রমিক-মজুর, মেহনতি জনতা, পেশাজীবী, ছাত্র-শিক্ষক সবার সাথে আমাদের ইন্টারঅ্যাকশন হয়েছে। একটা শিশু যখন আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকত, মনে হতো এই অবুঝ শিশুটি না বলা একটা জিজ্ঞাসা আমাদের দিকে ছুড়ে দিচ্ছেÑ"আমি তো এই দেশের নাগরিক, আমি শিশু, আমাকে প্রটেকশন দিন। আমি ঘর থেকে নিরাপদে বের হতে চাই, আবার আমি স্কুল থেকে নিরাপদে ঘরে ফিরতে চাই। আমি কি সেই প্রটেকশন পাব?" এই শিশুটির না বলা ভাষা হয়তোবা এমন ছিল যে, "অন্য দেশের শিশুদের মতো আমিও কি আমার মেধা বিকাশের পরিচর্যা এবং সহযোগিতা এখানে পরিপূর্ণভাবে পাব? হয়তো সেই শিশুটির অবলা ভাষার মধ্যে এমনটাও ছিল যে, আমি কি একদিন বড় হয়ে মানুষের মতো মানুষ হয়ে রাষ্ট্রের সঠিক জায়গায় গিয়ে আমার মেধার সার্ভিসটা আমি দিতে পারব?"
তিনি বলেন, একজন শ্রমিকের কাছে যখন গিয়েছি, তখন ঘাম ঝরানো শ্রমিক সে বলেছে, "আমি তো আমার শ্রমের ন্যায্য মজুরি তো পাই-ই না, মর্যাদা পাওয়া তো কল্পনার বিষয়। আজকে আমার মজুরি এবং মর্যাদাটা পাবো? ছাত্রদের কাছে যখন গিয়েছি, তাদের জিজ্ঞাসা ছিল অস্ত্রের ঝনঝনানি মুক্ত আমরা কি একটি পবিত্র শিক্ষাঙ্গন পাবো? যেখানে শিক্ষকদেরকে পিতার মতো পাবো, সহপাঠিকে ভাই এবং বোনের মতো পাবো। এমন একটা শিক্ষাঙ্গন কি আমরা পাবো? এ ছিল তাদের জিজ্ঞাসা। চা শ্রমিকদের কাছে যখন গিয়েছি, তাদের চাউনি, তাদের ভাষা ছিলÑ আমরা কি একটু মানবিক মর্যাদা পাবো? এই সমাজ তো আমাদেরকে ন্যূনতম মানবিক মর্যাদাটাও দিচ্ছে না। একজন জেলের কাছে আমরা যখন গিয়েছি, তার জিজ্ঞাসা ছিল- 'জল যার জলা তার' এতো শুধু স্লোগান, এটা তো আমাদের কপালে জোটে না, বরং বেনিয়ারা আমাদের নামে এগুলা লুট করে নিয়ে যায়। আমি কি সেই জেলের অধিকার পাবো? আমাকে সেটি দেওয়া হবে? কৃষক ভাইটির কাছে যখন গিয়েছি, তখন বলেছে-আমাদের তো হাঁসফাঁস অবস্থা। আমি যখন জমিতে ফসল ফলাতে যাই, তখন এই ফসল কোনো সময় ঘরে তুলতে পারি না প্রাকৃতিক বিভিন্ন বন্যা, খরা, দুর্যোগের কারণে। আর সৌভাগ্যক্রমে যদি ঘরে উঠাই, তাহলে আমার প্রোডাকশন কস্ট-টাও আমি আমার পকেটে ফিরে আনতে পারি না। কেন পারি না? পারি না একারণে পারি না- কৃষি উপকরণ যেগুলো আছে; বীজ আছে, সার আছে, কীটনাশক আছে, সেচের পানি আছে- এগুলার খরচ আমাদের প্রাপ্তির চাইতেও অনেক বেশি। সারের যে দাম লেখা আছে তার চাইতে দ্বিগুণ-দেড়গুণ দামে আমাকে কিনতে হয়। এখানেও বেনিয়াদের দৌরাত্ম্য। আবার আমি যখন ফসল ফলালাম, আমার ফলানো ফসলটা আমি তার কাছে যদি ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি, রাজধানীতে গিয়ে সেটা ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। এখানে মধ্যস্বত্বভোগীদের লুটতরাজ। এই যন্ত্রণা থেকে আমরা কি মুক্তি পাবো? আমি যখন ফসল ফলালাম, ফল উৎপাদন করলাম, তখন পর্যাপ্ত রক্ষণাগার না থাকার কারণে আমি তো তাড়াহুড়া করে এই ফসলগুলা বিক্রি করে দিতে বাধ্য হই। আমি কি সরকার থেকে এইটুকু সাপোর্ট আশা করতে পারি? তিস্তা পাড়ে যখন গিয়েছি, সে এলাকার দুই কোটি আড়াই কোটি মানুষের মধ্যে যাদের সাথে দেখা হয়েছে- আমরা এখানে যারা বসে আছি মাশাল্লাহ, আমাদের চেহারা গাল-গোল সব-ই সুন্দর, নূরানী। কিন্তু ওই জায়গার মানুষগুলার দিকে তাকানো যায় না। তাদের হাড়ের ভিতরে চামড়া ঢুকে গেছে। জীবনের ঘানি টানতে টানতে তারা হয়রান হয়ে গিয়েছে। পুরা নদীটা একটা মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণে পাশের প্রতিবেশী দেশ থেকে যখন বন্যা তেড়ে আসে, তখন নদীর ধারণ ক্ষমতা একেবারেই নির্জীব হয়ে যাওয়ার কারণে দুকূল ভাসিয়ে আবার তাদেরকে পানিতে ডুবিয়ে মারে। শীত মৌসুমে যখন সে ফসল ফলাবে তখন তার চাহিদার পানি নাই। বর্ষায় যখন সে একটু আত্মরক্ষা করবে তখন পানির তোড়ে ভেসে যায়। প্রতি বছর শত নয় হাজার হাজার ঘর-বাড়ি বিলীন হয়ে যায় নদী তটে। এভাবেই তাদের জীবন চলছে।
তিনি আসাদুল হাবিব দুলু সাহেবকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি সম্মানিত সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রী। তিনি একটি আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন-'জাগো বাহে'। এই জাগা লোকগুলো এখন এই সংসদ, এই প্রধানমন্ত্রী, এই মন্ত্রীপরিষদ, এই সরকার- আমাদের সবার দিকে তাকিয়ে আছে। আমাদেরকে তো জাগিয়েছে তো ঠিকই, আমরা কিন্তু আমাদের দাবি এখন বাস্তবায়ন হচ্ছে দেখতে পাই।
তিনি বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের গল্প শুনতে শুনতে মানুষগুলো ক্লান্ত। এখন আর গল্প শুনতে চায় না, এখন তারা পদক্ষেপ দেখতে চায়। আমরা নির্বাচনের সময় কথা দিয়েছিলাম- কে সরকারে আসবে না আসবে আল্লাহ তায়ালা নির্ধারণ করবেন। আমরা যদি সে সুযোগ পাই, আমাদের প্রথম পদক্ষেপ হবে তিস্তা নদীতে প্রথম কোদালটা কোপানো। আমরা এখান থেকে শুরু করবো। সারা বাংলাদেশ কমবেশি ঘোরার সুযোগ হয়েছে। রিয়েলি, রিয়েলি, তিস্তা পাড়ের মানুষগুলার মতো এত দুর্ভাগ্যপীড়িত মানুষ আমি বাংলাদেশের কোথাও আর দেখিনি। অবশ্যই আমাকে তাদের কথা বলতে হবে। আমার কথা এখানে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন অতিসত্বর, বিশ্বাসযোগ্য, দৃশ্যমান ভূমিকা নেওয়া হচ্ছে আমরা দেখতে চাই। কারো চোখ রাঙানিকে আমরা পরোয়া করবো না। ২০ কোটি মানুষের আলহামদুলিল্লাহ আল্লাহ তায়ালা ৪০ কোটি হাত দিয়েছেন। প্রত্যেকটি হাত সরকারের পাশে দাঁড়াবে সরকার যদি সাহস করে এই পদক্ষেপ নেয়। আমি দাঁড়াবো, সবার আগে আমি দাঁড়াবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি নিজ এলাকার সর্ম্পকে বলেন, আমাকে একটি আসনের লোকেরা নির্বাচিত করে এখানে পাঠিয়েছে। মাঝে মাঝে আমি হাঁটি, ঘুরি, দেখি আর মনে মনে ভাবি এটা কি রাজধানীর ছিটমহল? ছোট্ট একটি এলাকা, মাত্র দুটি খাল- ময়লার ভাগাড়, অবৈধ দখলদারিত্ব। রাস্তাগুলো সরু, আবার সেই রাস্তার মাঝখানে লাইট পোস্ট। হ্যাঁ, অবশ্যই আমি বলবো, দুই মাস আড়াই মাসের সরকারের জন্য সবকিছু একেবারেই চোখের পলকে সমাধান করা সম্ভব নয়। শুরু হোক। আমাকে লোকেরা বলে সংসদে আমাদের কথা বলবেন। আমি বলছি- বলবো ইনশাআল্লাহ। আমি সেই কথাগুলো এখন বলতে চাই। আবার আমি ফিরে আসবো আমাদের দায়িত্ব কর্তব্যে। কিন্তু আজকে আমি এখানে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছি ওই এলাকার মানুষগুলো তাদের ভালোবাসা, সমর্থন আর ভোট দিয়ে আমাকে এখানে পাঠিয়েছে বলে। আমি এজন্য তাদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। একেবারেই '৪৭-কে আমি সম্মান করি, কারণ ওই সীমারেখাটাই বর্তমানে বাংলাদেশের সীমারেখা। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে আমরা আমাদের নদী রক্ষা করতে পারিনি বলে আমাদের কিছু জমি চলে গেছে প্রতিবেশী দেশের পেটের ভিতর। আমরা বাড়াতে পারিনি, যা ছিল তাই। ওই একখ- জমি আমরা পেয়েছিলাম- এজন্য ৭০ সালের নির্বাচন হয়েছিল, ৯৪ ভাগ ভোট যেগুলো কাস্ট হয়েছিল তার মধ্যে ৯৪ ভাগ পেয়েছিল আওয়ামী লীগ। তারা আসলে এত ভোট পেয়ে নিজেদেরকে ধরে রাখতে পারে নাই। সম্ভবত তারা আবেগে সীমালঙ্ঘন করে ফেলেছিল। কিন্তু মানুষের ভোটের প্রতি তারা সম্মান দেখাননি। যে ভোটের সম্মান পাকিস্তানি সরকার না দেখানোর কারণে অনিবার্য হয়ে উঠলো মুক্তিযুদ্ধ, তারাই সেই ভোটটাকে আবার গলা টিপে হত্যা করলেন। আমাদের অনেক বন্ধু ৭২-এর সংবিধান সম্পর্কে তাদের হোল হার্টেড রেসপেক্ট তারা পে করেন। আমি পারি নাই এ পর্যন্ত। যারা করেন তারা এখন সরকারি ট্রেজারি বেঞ্চে অনেকে বসে আছেন। আপনিও পারেন না। কারণ ৭২-এর সংবিধানটাকে পরিবর্তন করে দিয়ে গেছেন মরহুম প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমান। তিনি ৭২-এর জায়গাগুলোতে ওটা রাখেন নাই। যে জায়গাগুলো তার দৃষ্টিতে সংস্কার মেরামতের দরকার ছিল তিনি করেছেন। তাহলে এখন কেমনে আমরা বলতে পারি যে আমরা ৭২-এর সংবিধান চাই? আমরা বলতে পারি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমাদেরকে এমনভাবে বলা হয় আমরা যেন সংবিধানই মানি না। তো সংবিধান না মানলে এখানে আসলাম কেমনে? বসলাম কেমনে? এই দেশে বসবাস করি কেন? উই আর ল অ্যাবাইডিং পিপল। যত সময় পর্যন্ত দেশে বিদ্যমান সংবিধান আছে, আমরা তার বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে পারি কোনো পরিবর্তনের জন্য কিন্তু বিদ্রোহ করবো না। একজন নাগরিক হিসেবে এটাই আমার দায়িত্ব। আমি আমার দাবি অব্যাহতভাবে জানিয়ে যাবো যতক্ষণ পর্যন্ত আমার দাবি বাস্তবায়ন না হয়। তবে হ্যাঁ, আমার দাবিটা যদি যৌক্তিক না হয় তাহলে এটাকে আমি যেকোনো সময় এবানডন ঘোষণা করতে পারি। তাতেও কোনো সমস্যা নেই।
তিনি নিজ এলাকা সর্ম্পকে আরো বলেন, এই ছোট্ট এলাকাটি মাত্র দুইটি থানা নিয়ে গঠিত- কাফরুল এবং মিরপুর। মিরপুরের পুরাটা না, আংশিক। এই জায়গাটির মধ্যে কিছু অবকাঠামো গত সমস্যা আমাদের রয়েছে, সেগুলোর দিকে একটু নজর দেওয়ার জন্য আমি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত মন্ত্রীবর্গকে আহ্বান জানাবো, অনুরোধ জানাবো। ইব্রাহিমপুর বাজার এলাকার যানজট নিরসনে মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী ১০০ ফুট রাস্তা বাস্তবায়ন এবং উত্তর কাফরুলের ৩৫০ মিটার দৈর্ঘ্য সরু রাস্তাটি প্রশস্ত করা জরুরি। ওখানকার একটা মাস্টার প্ল্যান আগে থেকে আছে, এখন এটা বাস্তবায়ন হওয়া দরকার। এই এলাকায় প্রায়ই যানজট লেগে থাকে, অসহনীয় থাকে। সেই জায়গাটার দিকে আমি দৃষ্টি আকর্ষণ করলাম। ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সরকার বাড়ি মোড় থেকে পলাশনগর এবং ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বড়বাগ থেকে পূর্ব মনিপুর পর্যন্ত অত্যন্ত জরাজীর্ণ রাস্তাগুলোর দ্রুত সংস্কার। বছরের পর বছর ভাঙাচোরা পড়ে আছে। এখানকার কন্টাক্টর নাকি পালিয়ে গেছে। তো এখন কন্টাক্টর আবার ফিরে এসে যতক্ষণ পর্যন্ত ওই ফ্যাসিস্টরা ধরা না দিবে ততক্ষণ পর্যন্ত কি মানুষগুলোকে এই যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে মাননীয় স্পিকার? এটার একটা সমাধান হওয়া দরকার। এজন্য আমি মাননীয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত মন্ত্রীকে আমি অনুরোধ করবো তিনি সদয় দৃষ্টি দিবেন।
তিনি বলেন, ইব্রাহিমপুর এবং উত্তর কাফরুলের রাস্তার মাঝখানে অবস্থিত বিদ্যুতের খুঁটিগুলো জরুরি ভিত্তিতে সরানো দরকার। এর মাঝে বহু এক্সিডেন্টও হয়েছে এগুলোকে কেন্দ্র করে। এবং রাস্তা এত সরু তার মাঝখানে আবার ইলেকট্রিক লাইট পোস্ট। এটা একেবারেই সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মিরপুর ১০ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত জলাবদ্ধতা দূর করতে এখানে বগালেক খালের অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং গভীরতা বৃদ্ধি করা একান্ত প্রয়োজন। মনিপুর ও শেওড়াপাড়া এলাকার পুরাতন ও সরু সুয়ারেজ পাইপ পরিবর্তন করে বড় মাপের পাইপ সেখানে স্থাপন করা অতি জরুরি। এখন বর্ষা হলে ওই ৫২ ইঞ্চি বর্ষার কোনো দরকার পড়ে না, বৃষ্টির দরকার পড়ে না, সামান্য বর্ষা হলেই সেখানে ফ্লাড শুরু হয়ে যায়। এজন্য বলছিলাম যে এটা ছিটমহল কি না আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
তিনি আরো বলেন, বাউনিয়া বাঁধ এবং একটা শব্দ এখানে আছে- আমি না বলে পারছি না যেহেতু ওই নামেই এটা পরিচিত- বগার মার খাল। সেই কালের গড়া নির্মিত নিচু কালভার্টগুলো পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা দিচ্ছে। এগুলো পুনর্নির্মাণ একান্ত প্রয়োজন। কতগুলা এলাকায় পানির জন্য এখন হাহাকার। গ্রামাঞ্চলে সুপেয় পানি পায় না, সেখানে হয়তো আর্সেনিক যুক্ত পানি কিন্তু পানি পায়। আর এখানে পানিই পাচ্ছে না। এটা একটা ছোটখাটো কারবালায় পরিণত হয়ে গেছে। আবার বিশেষ করে গত এক মাস ধরেই এই প্রবলেমটা খুব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। কী জন্যে আমি ঠিক জানি না। এ বিষয়ে ওয়াসা-র এমডি-র সাথে কথা হয়েছে, সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত তার কোনো সমাধান হয়নি। আমি লোকদের কাছে যাই, বলে কিচ্ছু দরকার নেই আমাদের বাঁচার জন্য এক ফোঁটা পানি দেন। আমি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে অনুরোধ করবো যে এই এলাকাগুলায় পানির জন্য লোকরা হাহাকার করছে। আমি এই নামগুলো অনেক দীর্ঘ, আমি এখানে পড়ে আপনার সময় নষ্ট করছি না, এগুলো সবই সবাই জানে। আমি শুধু অনুরোধ করবো যে এই পরিত্যক্ত এলাকাটাকে একটু শনাক্ত করে যেন তার প্রতি সঠিক মনোযোগ দেওয়া হয়।
আইন শৃংঙ্খলা সর্ম্পকে তিনি বলেন, আইন শৃঙ্খলা এবং সামাজিক সুরক্ষার ক্ষেত্রে সব জায়গায় যে প্রবলেম এখানেও সেই একই প্রবলেম- মদ, মাদকতা, কিশোর গ্যাং। এর সাথে সারা দেশের মতোই এখানে সীমাহীন, বলগাহীন, লাগামহীন চাঁদাবাজি। ফুটপাত দখল করে চাঁদা নিয়ে লোকদেরকে রাস্তার মধ্যে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরেও যারা নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবসা করেন তাদেরকেও চাঁদা দিয়েই ব্যবসা করতে হয়। ৫ আগস্টের পর আমরা কি এমন একটা বাংলাদেশ চেয়েছি মাননীয় স্পিকার? কে চাঁদাবাজ আমি এটা শুনতে চাই না। চাঁদাবাজ আমি হলেও আমার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হোক। চাঁদাবাজ কোনো দলের হতে পারে না, এরা দলের নাম ভাঙানো বর্ণচোরা। এদেরকে শনাক্ত করে এই সংসদ থেকে আমরা শপথ নিই যে এই চাঁদাবাজদেরকে যেকোনো মূল্যে বাংলাদেশ থেকে নির্মূল করবো ইনশাআল্লাহ।
তিনি বলেন, দখলবাজি নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ইন-ফাইটে কতগুলো মূল্যবান জীবন ঝরে গেছে। আমি তাদের জন্যও দুঃখ প্রকাশ করছি। কেন? তারা তো এদেশেরই সন্তান, এভাবেই মরতে হবে কেন? হালাল রুজির পথ ৯৯ ভাগ মানুষের জন্য থাকলে এই ১ ভাগ মানুষের হাতে কেন ৯৯ ভাগ মানুষ জিম্মি হবে? এদের যন্ত্রণা থেকে দেশটাকে মুক্ত করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি উন্নতি আমি এগুলা বুঝি না। যে সরকার আসে আইসেই বলে যে আগের চেয়ে এখন অবস্থা ভালো। এই 'আগের' টা কি সেইটাও বুঝি না। আমি এই আগ-পাস কিছুই শোনার পক্ষপাতী নই। আমি শোনার পক্ষপাতী আমাদের বর্তমানটা কী? এই বর্তমানে আমরা একটা নিরাপদ বাংলাদেশে বসবাস করতে চাই। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অনুরোধ করবো বাংলাদেশের সকল জায়গার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একই ধরনের হয়। কিন্তু যে জায়গাটা বেশি ঝুঁকিপূর্ণ, বেশি ভালনারেবল, সেই জায়গায় যেন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আগেই নজর দেওয়া হয়। এর সাথে আমাদের শিক্ষাঙ্গনগুলোকে সকল ধরনের সন্ত্রাস মুক্ত যেন রাখার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়। আমরা আর দেখতে চাই না- যে দলেরই হোক, চাপাতির কোপে কিংবা আগ্নেয়াস্ত্রের বুলেট তার জীবন নিয়ে গেছে এটা দেখতে চাই না। আমরা দেখতে চাই শিশু হয়ে ঢুকবে, পরিণত মানুষ হয়ে ওখান থেকে বের হবে। আদর্শ সম্পন্ন নাগরিক হয়ে বের হবে, দেশপ্রেম বুকে নিয়ে বের হবে, দেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে বের হবে। আমরা সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটাকে দেখতে চাই। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আছেন। দেশকে যদি আগাতে হয় তাহলে শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য এই দুইটাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষার প্রাণ হচ্ছে টারশিয়ারি লেভেলে সেখানে রিসার্চ হবে, গবেষণা হবে। জাতির ভবিষ্যৎ ওখান থেকেই বের হয়ে আসবে। দুঃখের বিষয় গবেষণায় ফকিরের ভিক্ষা দেওয়া হয়। ফকিরের ভিক্ষা দেওয়ার কারণে ওই ভিক্ষাগুলোও লুটপাট হয়ে যায় অনেকে, সেগুলোও কাজে লাগে না। তবে আমি একটা সেক্টরকে বরাবর ধন্যবাদ দেই আজও ধন্যবাদ দেই, এটি হচ্ছে আমাদের কৃষি বিভাগ। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, তাদের অর্জনকে আমরা অস্বীকার করা মানে নিজেকে অস্বীকার করার শামিল। তারা এই দেশকে অনেক কিছু দিয়েছেন। মেধাকে, ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পরে আমাদের সময় যেটা ছিল সবচেয়ে বড় মেধাবীরা যেতো বুয়েটে। এরপরে যারা মেডিকেলে, তারপরে যারা কৃষিতে, এরপরে যারা পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে। অবশ্যই তার ব্যতিক্রম ছিল। অনেক প্রখর মেধাবীও হয়তো পাবলিক ইউনিভার্সিটিকে ফার্স্ট চয়েস হিসেবে গ্রহণ করেছেন। কিন্তু ইন জেনারেল ট্রেন্ড এমন ছিল। সেই জায়গা থেকে তৃতীয় অবস্থানের লোকেরা যদি দেশকে এত কিছু দিতে পারলেন, প্রথম এবং দ্বিতীয় অবস্থান কী দিল সেটা এখন পর্যালোচনার দাবি রাখে। এইখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব কতটুকু, দায় কতটুকু সেটাও পর্যালোচনা করতে হবে। তাদের হাতে যদি পর্যাপ্ত উপকরণ তুলে না দিয়ে আমরা বলি যে কেন তোমরা আমাদেরকে দিচ্ছ না এটা হবে অবিচার। এজন্য আমি দাবি করবো বাজেট অধিবেশন সন্নিকটে, সর্বাধিক গুরুত্ব যেন শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যে দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, যদি একটা সুস্থ সবল জাতি গঠন করতে হয় অবশ্যই একটি সুস্থ স্বাস্থ্য ব্যবস্থা আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে। কিন্তু এখানে সবাই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ব্যাপারে হাহাকার করেছেন। সবচেয়ে বেশি হাহাকার করেছেন স্বাস্থ্য সেবার বিষয় নিয়ে। অনেকে বলেছেন স্বাস্থ্য সেবা নিজেই রোগী, আমাদেরকে সারিয়ে তুলবে কীভাবে? সঠিক। ১০০০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে রোগী ভর্তি থাকে ৩৭০০। হাউ কুড বি পসিবল? আবার এখন অন্য সমস্যাও দেখছি। এই ফ্যাসিস্ট আমলে যোগ্য দক্ষ ডাক্তারদেরকে বহু দূরে বদলি করা হয়েছে যেখানে তাদের মেধার কোনো মূল্যায়ন করা হয়নি এবং সেখানে এটাকে কাজে লাগানোরও কোনো সুযোগ ছিল না। আবার অনেককে ওএসডি করা হয়েছে। আমাদের সম্মানিত মন্ত্রী তার ছোট ভাই সে-ও একজন ডাক্তার। আমাকে একদিন আক্ষেপের সুরে বলেছিল- শফিক ভাই, আগামীতে যদি আমাদের সরকার গঠিত হয়, একটা গাল দিয়ে বলেছিল- গাল অবশ্য সহ্য করার মতো- যে আমাদেরকে অমুক জায়গায় তমুক জায়গায় দিয়েছে ওদেরকে আমরা বাংলাদেশের সীমানার ভিতরে না রেখে ওদেরকে আমরা ট্রান্সফার করবো তালপট্টিতে। আমি বলেছিলাম হোয়াটস ডিফারেন্স? তুমি আর আমি যদি এটাও করি তাইলে তো একই কাজ হলো। মাননীয় স্পিকার কিছু কিছু কাজ দুঃখজনকভাবে এখনো ওরকমই শুরু হয়ে গেছে। ফ্যাসিস্ট আমলে যারা বঞ্চিত ছিল, নিগৃহীত ছিল, ওএসডি ছিল, খালে-বিলে তালপট্টিতে যাদের পোস্টিং ছিল এখন আবার তাদের ওপর সেই সময় চলে এসেছে কেন? আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সম্মান রেখেই বলছি, তিনি বলেছেন আমরা একটা মেরিটোটিক নেশন বিল্ডআপ করতে চাই। আমি তাকে বলবো দল আদর্শের ভিত্তিতে না হয় মেধা এবং কমিটমেন্টের ভিত্তিতে সমস্ত নাগরিকগুলোকে আপনার নেতৃত্বে যেন মূল্যায়ন করা হয়।
তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট সমস্যা যাই বলি এসেছিল, সবাই কষ্ট পেয়েছেন, এখানেও যারা তারাও কষ্ট পেয়েছেন। তবে আমাদের চাইতেও সাধারণ নাগরিকরা অনেক বেশি কষ্ট ভোগ করেছেন। আমরা এ বিষয়ে একটা অর্থবহ আলোচনা করেছি। এই সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ জানাই। এই আলোচনার পরে যখন কমিটি হলো সম্মানিত চিফ হুইপ বলেছেন এই কমিটি হওয়ার পরে আমরা দেখি যে রাস্তার সেই কষ্ট দূর হয়ে গেছে অনেকটা। কেন মাননীয় স্পিকার? দেশবাসী বিশ্বাস করতে শুরু করেছে যে একই বিষয়কে সরকারি দল এবং বিরোধী দল সিরিয়াসলি নিয়েছে, তারা এটা অ্যাড্রেস করবে আমাদের সমস্যার সমাধান হবে। এই আস্থার জায়গাটা ফিরে আসার কারণে সমাধানের পথগুলো খুলে গেছে। আমরা দোয়া করি যেই যুদ্ধ এখনো অব্যাহত রয়েছে তার পরিসমাপ্তি হোক। এই যুদ্ধ গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা আগেই বলেছি এই সংকট এই সরকারের তৈরি নয়, এটা গ্লোবাল ইস্যু, গ্লোবাল প্রবলেম, ক্রাইসিস। আমরা এই জায়গায় দেখতে পাচ্ছি যে আমাদের পররাষ্ট্র নীতিতে আমরা অতীতের যে নিয়ম ছিল শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কারো মুখের দিকে তাকিয়ে তার পররাষ্ট্র নীতি পরিচালনা করেননি। তিনি দেশবাসীর মুখের দিকে তাকিয়ে করেছিলেন। এখন এই জায়গা থেকে আমরা কেন সেই আওয়াজটা একইভাবে দিতে পারলাম না? আমাদের একটি বন্ধু রাষ্ট্র কেন আক্ষেপ করে বলে যে আমাদের চরম কষ্টের সময়ে আমরা বাংলাদেশকে পাশে পেলাম না। কেন এই কথা বললেন? উইল বি ইন এ জাস্টিফাইড রানার। আমাদের রেইস হবে জাস্টিফিকেশনের ওপর। যেই মজলুম হবে সে আমার প্রতিবেশী কিংবা দূরবর্তী যেই হোক তার প্রতি আমাদের সমর্থন থাকবে। আর যে জুলুম করবে তার জুলুমেরও আমরা প্রতিবাদ করবো আমাদের ভাষায় আমরা যে ভাষাটা বলছি। কারো শিখিয়ে দেওয়া ভাষায় নয়।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারে আমরা যেমন বলেছি বিএনপি-ও তেমন বলেছে যে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি হবে স্বাধীন পররাষ্ট্র নীতি। সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা সেই জায়গাটা দেখতে চাই। আমরা কাউকে বরাবর বলে এসেছি আমাদের সীমাহীন বন্ধুর প্রয়োজন আছে কিন্তু একজন প্রভুর দরকার নাই আমাদের। আমরা সেই জায়গাটাই দেখতে চাই। মর্যাদার সাথে মাথা উঁচু করে সমতা ন্যায্যতা এবং মিউচুয়াল রেসপেক্ট-এর ভিত্তিতে পরিচালিত হবে আমাদের পররাষ্ট্র নীতি। এই জায়গাটা নিশ্চিত করুক সরকার, আমরা এটাই সরকারের কাছে প্রত্যাশা করি।
তিনি বলেন, আমাদেরকে বলা হয় মাঝে মাঝে আমাদের ট্রেজারি বেঞ্চের বন্ধুরা বলেন যে এমন কোনো কাজ আপনারা করবেন না যে কারণে আবার পতিত ফ্যাসিস্টরা ফিরে আসে। আমরা তো এটা চাই না। কিন্তু নির্বাচনের আগে আমরা দেখলাম কিছু কিছু সিনিয়র নেতা পর্যন্ত তাদেরকে আশ্বস্ত করে নিশ্চয়তা দিয়ে বলছেন আপনাদের সকল মামলা উঠিয়ে দেব। আপনাদের জন্য আমাদের দুয়ার খোলা, আপনাদেরকে আমরা পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দেব। আমরা জানি না এখনো তাদের সেই সম্পর্ক বিদ্যমান আছে কিনা। আমাদের কথা একদম পরিষ্কার। যতগুলো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, যতগুলা খুন হয়েছে, গুম হয়েছে, যত জায়গায় মানবতা লঙ্ঘিত হয়েছে, ধর্ষণ হয়েছে-এই প্রত্যেকটি অপরাধের বিচার করতে হবে এবং সেই বিচার ওসমান হাদি পর্যন্ত আসতে হবে। কিন্তু বিচারের দিকে তাকিয়ে আমরা কিছুই বুঝতে পারছি না। বিচারের অঙ্গনে কি সবুজ পতাকা উড়ছে, না লাল পতাকা উড়ছে, না কালো পতাকা উড়ছে-বুঝতে পারছি না। আমরা একটা সবুজ পতাকা দেখতে চাই। ওখান থেকে বলা হবে, জাতিকে আমরা হতাশ করব না। জাতির প্রত্যাশার আলোকে মজলুমের পাওনা তার কাছে পৌঁছে দেব। নাহলে শহীদরা, শহীদদের আত্মা, তাদের আপনজন, গুমের শিকার লোকগুলো, তাদের আপনজন, ধর্ষণের শিকার হয়েছে যে মা কেঁদেছে-যার চোখের পানিতে হয়তো একটা নালা, নদী তৈরি হয়ে গেছে-তাদের আত্মা আমাদেরকে অভিশাপ দেবে। এই অভিশাপের ভার এই পার্লামেন্টের বহন করা ঠিক হবে না।
বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, এই বাংলাদেশ-বাংলাদেশটাকে আমরা সবাই বলি যে আসেন ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই। কিন্তু ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে হলে আসলে মানসিকতায় আমাদের সবার পরিবর্তন আনতে হবে। পরিবর্তন বক্তব্যে নয়, পরিবর্তন আনতে হবে মানসিকতায়। সেটা কী? সেটা আর কিছুই নয়-' Let us agree to disagree'। আমার ওপেনিয়ন আমি দেব, আপনার ওপেনিয়ন আপনি দেবেন। আমারটা আপনি শ্রদ্ধাভরে শুনবেন, আপনারটা আমি শ্রদ্ধাভরে শুনব। এরপরে যা যৌক্তিক তা নিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে যাব। আমরা যদি এতই ক্ষ্যাপা বিরোধী দল হতাম, তাহলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এই প্রস্তাবে আমরা সাড়া দিতাম না। আমরা তো বিরোধী দলকে ভালোবাসি না, আমরা তো এখানে বিরোধী দলকে প্রতিনিধিত্ব করতে আসি নাই। আমরা এখানে এসেছি ২০ কোটি মানুষের জন্য কথা বলতে। আমরা প্রথম দিনই বলেছি-সকল ভালো কাজে সহযোগিতা, আর যখনই ভুল দেখব তখনই আমরা কিন্তু প্রতিবাদ করব, আমরা চুপ করে বসে থাকব না। মাঝে মাঝে এখান থেকে আমাদেরকে বলা হয় এভাবে চলবেন, ওভাবে চলবেন, না চললে এই হবে। আসলে কী হবে-সেইটা দেখতে দেখতেই তো বাংলাদেশিরা আজকে এই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে। এটা মজলুমের মিলন মেলা। আমরা সবাই দেখে দেখে এখানে এসেছি। আর কপালে যদি ওই দেখাটা আর একবার দেখি-অসুবিধা নেই। জনগণের জন্য কাজ করতে গিয়ে একবার কেন শতবার দেখব, তাতেও অসুবিধা নেই। এতেও কোন অসুবিধা নেই। হ্যাঁ, আমি সর্বশেষ উদাহরণ দেব। যখন কেউ ক্ষমতায় থাকে তখন ওইরকমই কথাবার্তা সুন্দর করে বলে, গলার আওয়াজ বেড়ে যায়, চেহারার ভাবমূর্তি অন্যরকম হয়ে যায়। এই যে আমাদের জুলাই যোদ্ধারা যারা নেতৃত্ব দিচ্ছিল, আমাদের তরুণ যুবসমাজ-তাদেরকে হয়তো ডিবিতে নিয়ে অনেক কিছু করা হয়েছে কা-কারখানা। তাদের সেই দিনের করুণ আহাজারি, আর্তনাদ জাতি দেখেছে, বিশ্ব দেখেছে। কিন্তু তাই দিয়ে কি আন্দোলন দমানো গেছে? তাই বলে কি এদেরকে দমানো গেছে? এটা হয় না। চাবুক পিঠে দিতে পারবেন, কিন্তু চাবুক আপনি হৃদয়ের উপরে দিতে পারবেন না। কাজেই আমাদের ভাষা যদি হয় পরস্পরকে শ্রদ্ধা করে, পরস্পরকে মেনে নিয়ে সম্মান করে-ইনশাআল্লাহ নতুন বাংলাদেশ দেখব। এখানে মাঝে মধ্যে আমি ধারণা করি যে কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এসে এখানে বসেন। তারা অবজার্ভ করেন। উই ডু স্যালুট-এই উদ্যোগ নেওয়ার জন্য। ওরা যেন এখানে এসে আমাদের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়-'ইয়েস, আমরা আমাদের এনসেস্টরদের ( Ancestors) সত্যিকারের এনসেস্টর হিসেবে পেয়েছি। আমরা গর্বিত সাকসেসর (Successor) হতে চাই তাদের।' আমাদের সবকিছু দেখে যেন তাদের মধ্যে সেই উদ্দীপনাটা আসে। ইতিহাসের বিশাল কোপাকুপির পরে কোনো কোনো সম্মানিত সদস্য একেবারে শেষে এসে বলেন যে এগুলো বাদ দিয়ে আসেন আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই। আগে দাঁত-কোদালগুলা ফেলে দেন। ওই কোপাকুপিগুলো আমরা বাদ দেই-সেইটা আমিই দেই আর ওখান থেকেই দেওয়া হোক। ওগুলা ফেলে দিয়ে যখন ঐক্যের ডাক দেওয়া হবে, সেই ডাকটা তখন হবে কার্যকর ডাক।
তিনি বলেন, অতীতকে স্মরণ রাখা ভালো, ইতিহাস শিক্ষা ভালো; কিন্তু ইতিহাসকে নিয়ে পড়ে থাকলে আমরা নিজেরাই ইতিহাস তৈরি করতে পারব না। ইতিহাসকে ইতিহাসের জায়গায় রেখে আসুন আমরা এগিয়ে যাই। আমার কথায় কেউ যদি কষ্ট পেয়ে থাকেন ক্ষমা চাই। ভালো যদি কিছু বলে থাকি আল্লাহ আগে আমাকে আমল করার তৌফিক দান করুন এবং আমাদের সবাইকে এটা মানার তৌফিক দান করুন।
তিনি আরো বলেন, আমি একটা কৈফিয়ত না দিয়ে পারছি না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে জড়িয়ে যারা অশ্লীল আচরণ করেছে-উনি এখনও বিচার চান নাই, আমি তাঁর পক্ষে তাদের বিচার চাই। উনার মেয়েÑআল্লাহ তায়ালা আমাকেও দুইটা মেয়ে সন্তান দান করেছেন-আমার মেয়ে। উনার মেয়ের সম্মান মানে আমার মেয়ের সম্মান, মানে আমাদের মেয়ের সম্মান। এই ইতর প্রাণীগুলা কারা? তাদেরকে নির্মোহভাবে খুঁজে বের করা হোক। প্রি-কনসিভড ( Pre-conceived) কোনো আইডিয়া থেকে নয়, ব্লেইম গেমের ( Blame game) জায়গা থেকে নয়-ভেরি ট্রান্সপারেন্টলি ( Transparently) এটা বের করে আনা হোক। আমার নিজের দুঃখের কথা নাই বা বললাম। একটা মানুষ বয়ঃপ্রাপ্ত হওয়া পর্যন্ত সব সময় গায়ে কাপড় রাখার চেষ্টা করেছি-মা-বাপ যেটুকু পেরেছেন, আমি এখন যেটুকু পারি সামর্থ্যের আলোকে। কিন্তু আমার যে কতবার কাপড়-চোপড় খুলে ফেলে... নিজেরটা আমি কারে বলব? মাননীয় স্পিকার, কী শিখাচ্ছি? মনে রাখবেন, আমাদের কেউ যদি এদেরকে প্রশ্রয় দেয়, একদিন এরা আমাদেরও কাপড় নিয়ে টান দেবে। এই নোংরা ধারা বন্ধ হওয়া উচিত। এর অস্ত্র সরকারের হাতে; আমরা সরকারকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিচ্ছি। সকল টেকনোলজি কাজে লাগিয়ে প্রথমত বলব যে, এই নোংরামি বন্ধ করার পথ বের করুন। উল্টা এদেরকে ফিঙ্গার দিয়ে আউট করুন। তারপরে বলব, ইন্সিডেন্টালি ( Incidentally) বা এক্সিডেন্টালি ( Accidentally) কিছু হয়ে গেলে সেটার কঠোর ব্যবস্থা নিন।
তিনি বলেন, সংসদ সদস্যরা দুজন দাঁড়িয়ে তাদের নিরাপত্তা চেয়েছেন-আমি খুশি হতাম তারা যদি বলতেন, আমরা আমাদের নিরাপত্তা চাই না, আমরা ২০ কোটি মানুষের নিরাপত্তা চাই। আমি বলব, আমরা ২০ কোটি মানুষের নিরাপত্তা চাই।
তিনি সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ধন্যবাদ জানাচ্ছি বিশেষভাবে এই অধিবেশনকে সফল করতে যারা প্রচুর খাটুনি করেছেন, কষ্ট করেছেন-সমস্ত কর্মচারী-কর্মকর্তাবৃন্দ, মিডিয়ার লোকেরা, যারা শৃঙ্খলার দায়িত্বে ছিলেন তারা-সবাইকে আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বা সারা অধিবেশনের পক্ষ থেকে। অতীতের রেওয়াজ এটাকে সামনে রেখে, এটা তাদের পারিশ্রমিক নয়, তাদের প্রতি সম্মান এবং ভালোবাসার নিদর্শন স্বরূপ-আমি অনুরোধ করব মাননীয় স্পিকার, আপনি তাদের এক মাসের সমপরিমাণ বেতনের একটা ইনসেন্টিভ ( Incentive) তাদের হাতে এই অধিবেশন শেষ হওয়ার সাথে সাথে... সেই সিদ্ধান্তটি আপনাকে নেওয়ার জন্য আমি আমার সমস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী ভাই-বোনদের পক্ষ থেকে আমি আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি। তবে এই দিয়ে তাদের অবদানের সম্পূর্ণ কৃতজ্ঞতা আদায় করা সম্ভব নয়। আমি বিশ্বাস করি, আমরা যেমন দেশের জন্য কাজ করেছি, এই কয়টা দিন তারা সীমাহীন পরিশ্রম করেছেন দেশের জন্য।
আপনার দেওয়া অডিও রেকর্ডিংটির হুবহু ট্রান্সক্রিপ্ট নিচে দেওয়া হলো:
"...ফ্যাসিস্টদের বিচার বাংলার মাটিতে হতে হবে। এই বিচারের প্রশ্নে কোনো আপস করা চলবে না। যদি আপস করা হয় তাহলে দেশের ১৮ কোটি মানুষ কখনো আমাদের ক্ষমা করবে না। আমরা চাই প্রতিটি হত্যার বিচার হোক, প্রতিটি জুলুমের বিচার হোক। এই বিচার প্রক্রিয়া যেন স্বচ্ছ হয়, নিরপেক্ষ হয় এবং আন্তর্জাতিক মানদ- বজায় রেখে হয়। কেউ যেন বলতে না পারে যে আমরা প্রতিহিংসার রাজনীতি করছি। আমরা ন্যায়ের পক্ষে, আমরা সত্যের পক্ষে।
মাননীয় স্পিকার, পরিশেষে আমি বলতে চাই- আমাদের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার জন্য আমাদের জাতীয় ঐক্য প্রয়োজন। দলমত নির্বিশেষে দেশের স্বার্থে আমাদের এক হতে হবে। যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি, তবে কোনো অপশক্তিই আমাদের অগ্রযাত্রাকে রুখতে পারবে না। ইনশাআল্লাহ, আমরা একটি সমৃদ্ধ, বৈষম্যহীন এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবোই।
আমাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার জন্য আপনাকে আবারও ধন্যবাদ জানিয়ে আমি আমার বক্তব্য শেষ করছি। খোদা হাফেজ, বাংলাদেশ
গন্তব্য একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, আত্মনির্ভরশীল বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, এটি সংসদ, জাতীয় সংসদ। মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা বলেছেন, আমরা এগ্রি করছি ডিজেগ্রিমেন্টের জন্য। এগ্রি টু ডিজেগ্রি মাননীয় স্পিকার। পৃথিবীর তাবত দেশ যারা গণতন্ত্রের চর্চা করে, প্রত্যেকটি পার্লামেন্টেই এটি একটি স্বীকৃত বিষয়। মাননীয় স্পিকার, ইয়েস, আজকে হয়তো জুলাই সনদ নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। আমি সেই ডিবেটে যাব না। কারণ একটু আগেই আমি বলেছি, আমাদেরও লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, গন্তব্য হচ্ছে এই দেশ, দেশের জনগণ এবং একটি আত্মনির্ভরশীল সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ।
তিনি বলেন, আমি আবারও বিরোধীদলীয় নেতার সাথে একমত পোষণ করছি। আমরা গত প্রায় দেড় মাস ধরে আলোচনা করেছি এই সংসদে। হ্যাঁ, আমরা অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস করেছি। বিলের বিষয়ে কোনো কোনো বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি, কোনো কোনো বিষয়ে হয়তো আমাদের দ্বিমত আছে। পরিষ্কারভাবে আমার দলের অবস্থান থেকে আমি বলতে চাই যে, যেসকল বিষয়ে আমাদের দ্বিমত রয়েছে, আমরা বিরোধী দলের সদস্যদের সাথে বসব, আলোচনা করব, দেশের স্বার্থে আমরা সমাধান বের করব।
তিনি আরো বলেন, এখানে সকলেরই মনে আছে। রোজার সময় বিরোধীদলীয় নেতা আমাকে উনাদের ইফতার পার্টিতে দাওয়াত করেছিলেন। আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। আমি গিয়েছিলাম, আমার সাথে আজকের হোম মিনিস্টারও ছিলেন। আমরা সেখানে উনাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাবটি। ওটা উনাদের দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে উনারা সেটা গ্রহণ করেননি, সেটা উনাদের পলিসির ব্যাপার। কিন্তু আমরা উনাদেরকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে আমরা চাই যে ডেপুটি স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার আমরা উনাদের কাছ থেকে চেয়েছিলাম মাননীয় স্পিকার। আজকে আবারও পরিষ্কারভাবে আমি বলতে চাই এই প্রস্তাবটি মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা এবং মাননীয় বিরোধীদলীয় সদস্যবৃন্দ আপনাদের কাছে আমাদের এই প্রস্তাবটি এখনো ওপেন আছে। আমরা এখনো এই প্রস্তাবটি ওপেন রেখেছি। এই প্রস্তাবটি দেওয়ার মাধ্যমে আবারও আমরা আমাদের পরিষ্কার ইনটেনশন বোঝানোর চেষ্টা করেছি। যেভাবে ঠিক বিরোধী দলীয় নেতা সেদিন বলেছিলেন যে আসুন আমরা দুই দল মিলে যদি একসাথে একটি কমিটি গঠন করি যেখানে জ্বালানির বিষয়ে কোনো সমস্যা থেকে থাকে আমরা আলোচনা করে একটি সিদ্ধান্ত নিতে পারব। উনারা যেরকম উনাদের ইনটেনশন দেখিয়েছেন, আমরাও সেই সময়ে আমাদের ইনটেনশন পরিষ্কারভাবে তুলে ধরেছি। একইভাবে এই সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে আমি উনার বাসায় গিয়েছিলাম। উনার বাসায় গিয়ে দেশ পরিচালনা করার জন্য উনাদের সহযোগিতা আমি চেয়ে এসেছিলাম। একইভাবে আমি নাহিদ ইসলামেরও বাসায় গিয়েছিলাম। এনসিপি’র কাছে আমি বলেছি, দেশ পরিচালনায় আপনাদেরও সহযোগিতা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি এবং বিরোধী দলীয় নেতা উভয়ই আমরা বলেছি যে সমগ্র বাংলাদেশ এই সংসদ তাকিয়ে আছে। সমগ্র বাংলাদেশ এই সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে। তাকিয়ে আছে একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য। তাকিয়ে আছে একটি সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের জন্য। মাননীয় স্পিকার, এবং সেকারণেই কিন্তু সেকারণেই আমরা মনে করি এটি হয়তো বোঝার ভুল হতে পারে বা দেখার ভুল হতে পারে। হতেই পারে মানুষ মাত্র ভুল হতেই পারে। কিন্তু আমাদের পক্ষ থেকে সরকারের পক্ষ থেকে মাননীয় স্পিকার, আমি বলেছি, আমি বলব এবং বলছি ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতেও বলব এখনো বর্তমানেও বলছি আমরা চাই আমরা একসাথে কাজ করব।
প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, অতীতে যতবারই গণতন্ত্র চলতে শুরু করেছিল বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে দেশের মানুষের কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হয়েছে। গণতন্ত্র যতবারই বাধাগ্রস্ত হয়েছে দেশের অর্থনীতি মাননীয় স্পিকার বাধাগ্রস্ত হয়েছে। কাজেই এই মুহূর্তে আমরা সকলেই যদি গিয়ে একটি সাধারণ মানুষকে জিজ্ঞেস করি যে তুমি কি চাও? আমি বিশ্বাস করি একজন সাধারণ মানুষ বলবে আমরা শান্তি চাই। একজন সাধারণ মানুষ বলবে আমরা নিরাপদ রাস্তা চাই। একজন সাধারণ মানুষ বলবে আমি আমার লেখাপড়া শেষ করে আমি একটি কর্মসংস্থান চাই। একজন গৃহিণী বা একজন নারী বলবে আমি নিরাপদে রাস্তায় যেতে চাই। আজকে আমরা ইতিহাস নিয়ে হয়তো অনেক ডিবেট করেছি। কিন্তু মাননীয় স্পিকার, আমাদের এই ইতিহাসের ডিবেট সেই হামে অসুস্থ বাচ্চার মায়ের মন কি শান্ত করতে পারবে? পারবে না।
তিনি বলেন, যে ছেলেটি ইউনিভার্সিটি পাস করে চাকরি সংস্থানের জন্য মাসের পর মাস ঘুরে বেড়াচ্ছে, তাকে কি আমরা আমাদের এই যে ঐতিহাসিক ডিবেট, কে আমরা কি করেছি অতীতে সেই ডিবেট দিয়ে তাকে কি আমরা কিছু বুঝতে পারব? পারব না। আমি একটু আগেই বলেছি যে বোরো ধানের এই যে যেখানে অতিবৃষ্টি হয়েছে, সেখানে যে ফসল কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাদের কাছে যদি আমরা আমাদের এই মহান সংসদের মূল্যবান ঐতিহাসিক ডিবেট উপস্থাপন করি সে যে ফসলহানির যে কষ্ট, সেই কষ্ট কি তার লাঘব করা সম্ভব হবে? যদি তার জন্য আমরা কোনো একটি ব্যবস্থা করতে না পারি যে আগামী তিন মাস সে কি খাবে? হবে না। তাকে আমার খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে। ওই বেকার যুবকটির জন্য আমার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। হামে আক্রান্ত শিশুর জন্য তার মায়ের সান্ত¡নার জন্য আমাকে ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে। আমার কাছে একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে মনে হয় খুব সম্ভবত বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন নতুন একটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। এবং হবেই হবে আমাকে সেই দিকেই এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরো বলেন, এই যে চেয়ারটি আপনি দেখছেন যেই চেয়ারে আমি এখানে বসছি আপনার সামনে মাননীয় স্পিকার, এই চেয়ারটি খুব কঠিন একটি চেয়ার। এই চেয়ারটি দেখলে মনে হয় বসতে খুব আরাম, আসলে মাননীয় স্পিকার মোটেও আরামের না। এই চেয়ারটিতে বসলে প্রতি মুহূর্তে মনে হয় যে আগুনের তপ্ত হিট আসছে। আমি যা ফিল করি আমি আপনাদেরকে তাই বলছি। আমি আপনাদেরকে তাই বলছি। এই চেয়ারের থেকে উঠে দাঁড়িয়ে আপনার সামনে বক্তব্যে আমি হয়তো অনেক পপুলার কথা বলতে পারতাম যেটাতে আরও অনেক বেশি তালি হতো মাননীয় স্পিকার। কিন্তু এই চেয়ার আমাকে বলে যে আমি সবসময় পপুলার কথা বলতে পারি না। একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমারও তো ইচ্ছে করে পপুলার কথা বলতে যাতে জোরে জোরে তালি পাই। কিন্তু এই চেয়ার প্রতি মুহূর্তে আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, 'ঘড়, ুড়ঁ যধাব ঃড় ঃধশব ঃযব ৎরমযঃ ফবপরংরড়হ, হড়ঃ ঃযব ঢ়ড়ঢ়ঁষধৎ ফবপরংরড়হ'।"
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই দেশকে যদি সামনে নিয়ে যেতে হয় তাহলে অবশ্যই আমাদের উভয় পক্ষকে একসাথে কাজ করতে হবে। হ্যাঁ, বাংলাদেশে আইটি শিল্পের বিকাশ কীভাবে হবে এ ব্যাপারে হয়তো আমাদের মধ্যে ডিবেট হতে পারে, এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে দ্বিমত থাকতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের আইটি শিল্পের বহিঃপ্রকাশ হতে হবে এ ব্যাপারে আমাদের মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো ডিবেট নেই । সেজন্যই আসুন আজকে, আজকে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি যে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হবে এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন। আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হবে যে আমরা অন্য দেশের উদাহরণ দেবো না বরং আমাদের দেশকে আমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যাবো।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে এই দেশ যখন স্বাধীন হয়েছে, এই মুহূর্তে আমরা বিভিন্ন বিবেচনায় আমাদের দেশকে যদি একটি স্ট্যান্ডার্ডে ধরি আমাদের মতন অনেকগুলো দেশ ছিল যারা হয়তো ১৯৭২-৭৩ সালে স্বাধীন হয়েছে তারা আমাদের থেকে এগিয়ে গিয়েছে। আমরা পারিনি কেন? বিকজ বিভিন্নভাবে এই দেশকে একটু আগেই যেটি বলেছি বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে গণতন্ত্রকে। গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত যদি হয়, গণতন্ত্র প্রতিবার বাধাগ্রস্ত হলে অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য সবকিছু বাধাগ্রস্ত হবে। কাজেই আমি বিরোধীদলীয় সহকর্মীদের কাছে আহ্বান জানাতে চাই আসুন আমরা ডিবেট করবো, আমরা বিতর্ক করবো, আমরা আলাপ করবো, আমরা আলোচনা করবো, আমরা বসবো, কথা বলবো, কিন্তু কোনোভাবেই এই সংসদকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।
তিনি বলেন, অতীতে আমরা দেখেছি, অতীতে আমরা দেখেছি সরকারকে ব্যর্থ করার জন্য ১৭৩ দিন হরতাল ডাকা হয়েছিল। হ্যাঁ সেই সরকার হয়তোবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, সরকার হয়তো পরবর্তীতে ক্ষমতায় থাকেনি, ক্ষমতায় আসেনি। কিন্তুকেউ একজন সদস্য সেটি আমার দলের সদস্য হোক সেটি বিরোধীদলীয় সদস্যরা হোক, বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে যে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি? এই ১৭৩ দিনের হরতালে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে যেই ক্ষতির মাশুল আজও আমাদেরকে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ ।
তিনি বলেন, এই সংসদ মানে এই সংসদের সফলতা মানে ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। এবং মাননীয় স্পিকার এটি সংসদের রীতি, সংসদের নীতি মাননীয় স্পিকার একটি দল সরকারে থাকবে একটি দল বিরোধীদলে থাকবে। এই সেজন্যই আমি বারে বারে বলছি এই সংসদের দ্বারা গঠিত সরকার, এই সরকারের টিকে থাকা, এই সরকারের সফলতা মানেই কিন্তু সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাওয়া। সংসদ এমন একটি সংসদ, যা বাংলাদেশের অতীতে কোনোদিন হয়নি। বর্তমানে, বর্তমানে সংসদ বর্তমান এবং ভবিষ্যতে হবে যেটি, সেটি হলো উভয় পক্ষ দেশের স্বার্থে আমরা একসাথে কাজ করব।
তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আমরা উভয় পক্ষ আসুন, কেউ কাউকে ব্যর্থ করতে চাইব না। কারণ, আপনি এবং আমি, আপনারা এবং আমরা, আমরা মিলেই কিন্তু পূর্ণ সংসদ। আমরা মিলেই কিন্তু পূর্ণ সংসদ। কাজেই আপনি ব্যর্থ হলে আমি ব্যর্থ, আমি ব্যর্থ হলে আপনি ব্যর্থ। এই কথাটি আমাদেরকে মনে রাখতে হবে এবং আমরা যেকোনো একজন ব্যর্থ হলেই বাংলাদেশ ব্যর্থ হয়ে যাবে। আমরা কেউই এই সংসদের কোনো একজন সদস্য, আমরা স্বয়নে স্বপনে কেউ ব্যর্থ বাংলাদেশ দেখতে চাই না। কারণ, বর্তমান বাংলাদেশ ৭১-এর পরবর্তী বাংলাদেশ যেরকম শহীদের রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে ছিল, বর্তমান বাংলাদেশ এবং বর্তমান সংসদ একইভাবে হাজারো শহীদের রক্তের উপরে দাঁড়িয়ে আছে।
তিনি বলেন, আমার সরকারের অবস্থান থেকে আবার পরিষ্কার করে দিতে চাই যে আমরা সবসময় সকল সময় প্রস্তুত আছি বিরোধী দলের সদস্যের সাথে বাংলাদেশের স্বার্থে বাংলাদেশের মানুষের সাথে যেকোনো আলাপ আলোচনায় অংশগ্রহণ করার জন্য। এবং আলাপ আলোচনার ভিত্তিতেই, আলাপ আলোচনার ভিত্তিতে আমরা উভয়ে সকলে একসাথে এই দেশকে ইনশাআল্লাহ সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। এই দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করার আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে চেষ্টা করব।
তিনি সংসদ অধিবেশন সফলভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধণ্যবাদ জানান।
তিনি সংসদ সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, সকল সংসদ সদস্যের প্রতি আমার বিনীত আহ্বান থাকবে আসুন আমরা এই সবুজ চেয়ারের পবিত্রতা রক্ষা করি। যে দায়িত্ব দিয়ে, যে প্রত্যাশা, যে আশা নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আমাদেরকে পাঠিয়েছে এখানে, আসুন আমরা সেই দায়িত্বের সেই কর্তব্যের সর্বোচ্চ সম্মান আমরা প্রদান করি। যার মাধ্যমে আমরা দেশের মানুষকে সম্মান প্রদর্শন করব। কারণ দেশ এবং জনগণ থাকলেই আমরা আছি। দেশ এবং জনগণের সম্মান যদি আমরা না করি তাহলে আমাদের রাজনীতি হয়তো ব্যর্থ হয়ে যাবে। সেই জন্যই আমাদের সবচেয়ে প্রথম এবং সবচেয়ে প্রথম এবং সবচেয়ে প্রথম হচ্ছে এই দেশের জনগণ এবং এই প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ।