নতুন বাংলাদেশ ও রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রমকে সফল করতে গণমাধ্যমকে একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেছেন, গণমাধ্যমকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ এবং সংবাদপত্রের সঙ্গে যুক্ত সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষা করতে সরকার নীতিগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে দৈনিক জনতা পত্রিকার ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দৈনিক জনতার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি সৈয়দ এম আলতাফ হোসাইনের সভাপতিত্বে ও সম্পাদক ওবায়দুর রহমান শাহীনের সঞ্চালনায় এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রেস কাউন্সিলের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আব্দুল হাকিম।
অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী,ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম ,ফটো জার্নালিষ্ট এসোসিয়েশনের সভাপতি মহসিন হোসেন, সাবেক সভাপতি বুলবুল আহমেদসহ দৈনিক জনতার সম্পাদক ও প্রকাশকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, “রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমকে সর্বাগ্রে গুরুত্ব দিয়ে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করতে হবে। রাষ্ট্র মেরামতের যে লক্ষ্য নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকার কাজ করছে, তা সুনির্দিষ্টভাবে সম্পন্ন করতে গণমাধ্যমের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি উল্লেখ করেন, সংবাদপত্রের মালিক পক্ষ যাতে নিরাপদে বিনিয়োগ করতে পারে এবং সেই বিনিয়োগ লাভজনক প্রক্রিয়ায় যেতে পারে, সে জন্য সরকার পলিসি সাপোর্ট বা নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। পাশাপাশি সম্পাদক, সাংবাদিক ও ছাপাখানার কর্মীসহ গণমাধ্যম শিল্পের সঙ্গে যুক্ত সবার স্বার্থ নিশ্চিত করার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
সাংবাদিকতার মূল নীতি তুলে ধরে সাবেক এই তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, “সাংবাদিকতার প্রধান কাজই হচ্ছে ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকার প্রশ্নকে সম্পদ মনে করে। যত বেশি প্রশ্ন করা হবে, সরকার তত বেশি জবাবদিহিতার মাধ্যমে জনগণের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা ও কাজ পরিষ্কার করতে পারবে।”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের ১৭ বছরের ভুল জ্বালানি নীতি, অপরিকল্পিত প্রকল্প এবং ব্যাপক লুটপাটের কারণে দেশ আজ এক ভঙ্গুর অর্থনীতির মুখোমুখি। সরকার যে ঐতিহ্য ও সংকট উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে আসতে আন্তরিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের রেখে যাওয়া সংকট সমাধান এবং ধ্বংসাত্মক শাসনব্যবস্থার বিষাক্ত প্রভাব থেকে জনগণকে মুক্ত করার যোগ্যতা ও সততা ধানের শীষ, বিএনপি এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রয়েছে বলেই জনগণ তাদের ওপর আস্থা রেখেছে।
গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রতি আলোকপাত করে তিনি বলেন, গঠনমূলক সমালোচনার আড়ালে অতীতের ফ্যাসিবাদের সমর্থকরা যাতে পুনরায় কোনো সুযোগ নিতে না পারে, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।
গণমাধ্যমে বহুমতের প্রকাশ ঘটবে এবং সেখান থেকেই বস্তুনিষ্ঠ তথ্য বেরিয়ে আসবে—এটাই স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের মূল ভিত্তি।