গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে গতকাল শনিবার ১১ দলীয় ঐক্যৈর ডাকে দেশের বিভাগীয় শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমাদের ব্যুরো ও অফিস থেকে এ খবর জানানো হয়েছে।

বরিশাল অফিস : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেছেন, অন্যদেরকে গুপ্ত ট্যাগ দিয়ে একজন তার লন্ডনে পালিয়ে থাকার ইতিহাসকে ঢাকতে চাইছেন। জনগণকে এত বোকা ভাববেন না। তারা সবই বুঝে গেছে। আবারো ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার জন্য জুলাই আন্দোলনে এত মানুষ জীবন দেয়নি। ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর টাউনহল প্রাঙ্গণে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, দুই মাসেই সরকারের ফ্যাসিবাদি চেহারা জনগণের সামনে প্রকাশ পেয়েছে। ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে একমত হয়ে ক্ষমতায় গিয়ে এখন প্রতারণা করতে চাইছে। তারা আইন আদালতকে কুক্ষিগত করে জুলুমকে বৈধতা দিতে চায়। জনগণ চূড়ান্ত আন্দোলনের জন্য প্রস্তুত। সময় থাকতে গণভোটের রায় অনুযায়ী জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করে জনদাবি মেনে নিন।

সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে মহানগর জামায়াতের আমীর মাওলানা জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, দুই মাস না যেতেই সরকার জাতিকে হতাশ করেছে। ফ্যাসিবাদি আমালের আইনগুলোকে পুনর্বহাল করা হচ্ছে। ক্যাম্পাস দখলের রাজনীতি শুরু হয়েছে। থানার মধ্যে ডাকসু নেতাদের ওপর আক্রমণ হয়েছে। এসব ফ্যাসিবাদি আচরণ জনগণ কোনভাবেই মেনে নেবে না। ছাত্রশিবির এদেশের ছাত্র সমাজের আস্থার ঠিকানা, ছাত্রশিবিরকে একা ভাবার সুযোগ নেই। ছাত্রশিবিরের উপর আক্রমণ হলে এদেশের ছাত্র-জনতা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর প্রফেসর মাহমুদ হোসাইন দুলাল, সহকারী সেক্রেটারি হাফেজ মাওলানা আতিকুল্লাহ, এনসিপির বরিশাল জেলা আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা, এনসিপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য রফিকুল ইসলাম কনক, লেবারপার্টি মহানগর সভাপতি এসএম সোহেল মাহমুদ, এবি পার্টির সুমন তালুকদার সহ ১১দলীয় ঐক্যের জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মতিউর রহমান। সমাবেশ শেষে বিশাল এক বিক্ষোভ মিছিল টাউনহল থেকে শুরু হয়ে সদর রোড, ফজলুল হক এভিনিউ, চকবাজারসহ নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

রাজশাহী ব্যুরো : গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে রাজশাহীতে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়। পরে পথসভায় নেতৃবৃন্দ বলেন, গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তীতে বর্তমান সরকার এই রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে এই গণমিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি কুমার পাড়া মোড়, সাহেব বাজার জিরো পয়েন্ট, মনি চত্বর, রাজশাহী কলেজ ও লোকনাথ স্কুলের সামনে দিয়ে এবং সোনা দিঘি মোড় হয়ে বাটার মোড়ে এসে এক বিশাল সমাবেশে রূপ নেয়। সমাবেশে উপস্থিত বক্তারা বর্তমান সরকারের কড়া সমালোচনা করে বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি (২০২৬) জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও একই দিন গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। সেই গণভোটে দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটের পক্ষে রায় দেয়। কিন্তু নির্বাচন পরবর্তীতে বর্তমান সরকার এই রায় বাস্তবায়নে টালবাহানা করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে তারা মানুষের সাথে প্রতারণা করেছে। বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে বিগত স্বৈরাচারী সরকার দেশ ছেড়ে পালানোর সময় পেলেও, বর্তমান সরকার পালানোর পথও খুঁজে পাবে না। জনদুর্ভোগের কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশের মানুষ নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট না থাকলেও বাংলাদেশের মানুষ ১০-১২ ঘণ্টা লাইনে দাড়িয়েও তেল পাচ্ছে না। ক্ষমতায় আসার মাত্র তিন মাসের মধ্যেই বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়েছে। বর্তমানে বিদ্যুতের খাম্বা আছে কিন্তু বিদ্যুৎ নেই।

সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের নায়েবে আমীর ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের সেক্রেটারি এমাজউদ্দীন মন্ডল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের সহকারী আমীর অ্যাডভোকেট আবু মোহাম্মদ সেলিম, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক জসীম উদ্দিন সরকার, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাজশাহী মহানগরের আহবায়ক মো. মোবাশ্বের আলী, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের ব্যবসা ও শিল্প বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক এ কে এম সারোয়ার জাহান প্রিন্স, ইসলামী ছাত্রশিবির রাজশাহী মহানগরের সভাপতি ইমরান নাজির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগরের যুব বিভাগের সাধারণ সম্পাদক হাফেজ সালাউদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।

চট্টগ্রাম ব্যুরো : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম বলেন, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার রক্তের বিনিময়ে দেশ ফ্যাসিবাদ মুক্ত হলেও কাক্সিক্ষত পরিবর্তন এখনো অধরা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে একটি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও এটি বিতর্কমুক্ত না থাকা দুঃখনজনক।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গতকাল শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম মহানগরীর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে জমিয়াতুল ফালাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে গণমিছিল ও সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সরকার দলীয় সিন্ডিকেটের কারণে দেশে জ্বালানি নিয়ে চরম নৈরাজ্য চলছে। নিত্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। ১৫ দিনের ব্যবধানে ২ বারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ৫০০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। কিন্তু সরকারের মন্ত্রী এমপিরা ব্যর্থতার দায় স্বীকার না করে উল্টো জাতিকে নিয়ে তামাশা করছেন। এভাবে কোন দেশ চলতে পারে না।

তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল যুবদল যেভাবে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে ছাত্রদের ওপর রামদা নিয়ে হামলা চালিয়েছে, প্রকাশ্যে অস্ত্রের ঝনঝনানি দেখিয়েছে এতে মনে হয় ছাত্রদল বিএনপি সরকারকে খাঁদের কিনারায় নিয়ে যাচ্ছে। সরকার নিজেদের ছাত্র সংগঠনের মাধ্যমেই ছাত্র সমাজকে ক্ষিপ্ত করে তুলছে। তিনি বলেন, চট্রগ্রামের ঘটনার পর সরকার যদি জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করে ছাত্রদলের সন্ত্রাসীদের আটক করতো তবে ডাকসু নেতাদের থানার ভেতরে হামলা করা, কুমিল্লা পলিটেকনিক, ঈশ্বরদী কলেজে হামলা করার সাহস ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা দেখাতে পারতো না। সরকার দলীয় নেতাকর্মীরা একের পর এক মব সৃষ্টি করে যাচ্ছে আর সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা রেখে মব সন্ত্রাসকে আশ্রয়-প্রশয় দিচ্ছে।

১১ দলীয় ঐক্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর সমন্বয়ক ও চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহর সঞ্চালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন নেজামে ইসলাম পার্টির চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হোসাইন,

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি মাওলানা রিদুয়ানুল ওয়াহেদ, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ নুরুল আমিন, খেলাফত মজলিস চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোস্তাফা কামাল, এনসিপির নগর যুগ্ম সমন্বয়ক জোবায়ের হোসাইন, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির নগর সভাপতি আবু মোজাফফর মোহাম্মদ আনাস, খেলাফত আন্দোলন মহানগর সভাপতি মাওলানা আতিক বিন ওসমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি মুহাম্মদ সৈয়দ গিয়াস উদ্দীন আলম, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির নগর সহ সভাপতি এডভোকেট আব্দুল মোতালেব, লেবার পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর সহ সভাপতি মুজিবুল রহমান প্রমুখ।

এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যক্ষ মাওলানা খাইরুল বাশার, ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাংগঠনিক সম্পাদক ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি এস এম লুৎফর রহমান, নেজাম ইসলাম পাটির মহানগর নেতা অধ্যাপক নজরুল ইসলাম চৌধুরী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সহ সভাপতি শাহ আলম, এনসিপির মহানগর যুগ্ম সমন্বয়ক আরিফ মঈনউদ্দীন, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির মহানগর সেক্রেটারি জাফর আহমদ চৌধুরী প্রমুখ।

খুলনা ব্যুরো : বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, খুলনা মহানগরী আমীর এবং ১১ দলীয় ঐক্যের কর্মসূচির বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান বলেছেন, “গণভোটের রায় মেনে না নেওয়ার অর্থ হচ্ছে ফ্যাসিজম প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান জাতিকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে এখন জনরায় মেনে নিচ্ছে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে গতকাল শনিবার বিকেলে নগরীর নিউমার্কেটস্থ বায়তুন নূর জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের উত্তর গেটে ১১ দলীয় ঐক্যের গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে সভাপতির বক্তৃতায় তিনি এ সব কথা বলেন।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরী সেক্রেটারি এডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল এমপির পরিচালনায় বক্তৃতা করেন এনসিপি খুলনা মহানগরীর সংগঠক আহমদ হামীম রাহাত ও সাইফ নেওয়াজ, খেলাফত মজলিসের খুলনা মহানগরী সভাপতি হারুন অর রমীদ, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মহানগরী সভাপতি মুফতি আব্দুল্লাহ মাহমুদী, খুলনা মহানগরী ছাত্রশিবিরের সভাপতি রাকিব হাসান, জুলাই যোদ্ধা মো. হুযাইফা। এ সময় খুলনা মহানগরী জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর অধ্যাপক নজিবুর রহমান, সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুহাম্মদ শাহ আলম ও প্রিন্সিপাল শেখ জাহাঙ্গীর আলম, অফিস সেক্রেটারি মিম মিরাজ হোসাইন, খুলনা সদর থানা আমীর এস এম হাফিজুর রহমান, খালিশপুর থানা আমীর আব্দুল্লাহ আল মামুন, সোনাডাঙ্গা থানা সেক্রেটারি জাহিদুর রহমান নাঈম, খুলনা এনসিপি সংগঠক মাহমুদ হাসান ফয়জুল্লাহ, খেলাফত মজলিসের এইচ এম সাজ্জাদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক মো. সাকিব প্রমুখ। পরে এক বিশাল বিক্ষোভ মিছিল নগরীর শিববাড়ি মোড়, ময়লাপোতা মোড়, সাতরাস্তা মোড় হয়ে রয়্যাল মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে দুপুরের পর থেকেই খুলনা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা খ- খ- মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তাদের হাতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’, ‘গণভোট মানতে হবে’Ñ এমন নানা দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। নেতাকর্মীরা গণভোটের পক্ষে ও সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জনগণের মতামতের প্রতিফলন হিসেবে গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করা জরুরি। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা এবং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

রংপুর অফিস : অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহবান, জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং জ্বালানি সংকট নিরসনের দাবীতে গতকাল শনিবার বিকেলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রংপুর মহানগর শাখা ও ১১ দলের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসূচীর অংশ হিসেবে রংপুর নগরীতে এক গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের গণমিছিলটি স্থানীয় টাউন হল চত্বর পাবলিক লাইব্রেরী মাঠ থেকে শুরু হয়ে নগরীর সিটি বাজার, সুপার মার্কেট, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেসক্লাব চত্বর, গ্রান্ড হোটেল মোড় হয়ে শাপলা চত্বরে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর রংপুর মহানগর সহকারী সেক্রেটারি ও রংপুর-১ গঙ্গাচড়া আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক মাওলানা রায়হান সিরাজী সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন। গণমিছিল ও সমাবেশে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও রংপুর মহানগরী শাখার আমীর উপাধ্যক্ষ মাওলানা এটিএম আজম খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জাতীয় নাগরিক র্পাটির রংপুর মহানগর সদস্য সচিব আব্দুল মালেক, খেলাফত মজলিশ নেতা ইব্রাহীম খলিল, ইসলামী ছাত্রশিবিরের রংপুর মহানগর সভাপতি আনিসুর রহমান।

অনুষ্ঠিত সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সেক্রেটারি আনোয়ারুল হক কাজল, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি আল আমীন হাসান, বাংলাদেশ স্থল বন্দর শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চলের সহকারী অঞ্চল পরিচালক অধ্যাপক আবুল হাশেম বাদল, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের মহানগর সভাপতি এবং জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এডভোকেট কাওছার আলী, মহানগর জামায়াতের তালিম উল কোরআন বিভাগের সভাপতি ও কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা শাহজাহান সিরাজ, জাতীয় নাগরিক র্পাটির মহানগর আহবায়ক আল্ মামুন, জেলা ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব অধ্যাপক আবু রেজা, যুগ্ম আহবায়ক আলা উদ্দিন কাদেরী, এবি পার্টির মহানগর সদস্য সচিব মাহবুবার রহমান, জেলা সভাপতি মাওলানা নুর আলম সিদ্দিকী, মহানগর সাধারণ সম্পাদক মুফতি নেয়ামত উল্লাহ, জাতীয় ছাত্রশক্তির রংপুর মহানগর আহবায়ক ইমতিয়াজ আহমেদ ইমতি সহ ১১ দলের নেতৃবৃন্দ এসময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন।

কুমিল্লা অফিস : ‎গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে কুমিল্লায় বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ১১ দলীয় ঐক্য, কুমিল্লা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন।

গতকাল শনিবার বিকাল ৫টায় কুমিল্লা টাউন হল মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরীর আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সমাবেশ পরিচালনা করেন মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান।

‎সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের নায়েবে আমীর মো. মোছলেহ উদ্দিন, অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন এবং খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরীর সভাপতি মাওলানা আব্দুল কাদের জামাল, এছাড়াও বক্তব্য দেন মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল ও কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন,এনসিপি নেতা মাছুমুল বারী কাউছার।

‎ ‎সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর কান্দিপাড়, মনোহরপুর, রাজগঞ্জমোড়, মোগোলটুলি হয়ে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ গিয়ে শেষ করে।

সিলেট ব্যুরো: জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য, সিলেট মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের প্রধান সমন্বয়কারী ও মহানগর জামায়াতের আমীর মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেছেন, ছাত্র-জনতার রক্তের উপর দিয়ে ক্ষমতায় এসে বিএনপি জুলাই সনদকে উপেক্ষা করে ও গণভোটের রায়কে বাতিল করে জাতির সাথে প্রতারণা করেছে। তারা দেশে নতুন ফ্যাসিবাদ কায়েমের রাজনীতি শুরু করেছে। নৃশংস ছাত্রলীগের মতো ছাত্রদলকে লেলিয়ে দিয়ে তারা দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র করছে। জ¦ালানি সংকট নিরসনে ব্যর্থ সরকার উল্টো জনগণের সাথে মশকরা করছে। জ¦ালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাস ভাড়াসহ নিত্যপণের দাম হু হু করে বাড়ছে। বিএনপির সন্ত্রাসীরা জনগণের ভোটে নির্বাচিত একজন এমপিকে নাজেহাল করেছে, তার গাড়ী ভাংচুর করা হয়েছে। নিরাপত্তার জন্য থানায় জিডি করতে গিয়ে ঢাকসুর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের উপর ছাত্রদল সন্ত্রাসীরা থানার ভেতরে পুলিশের সামনে নৃশংসভাবে হামলা করেছে। চট্টগ্রামে ছাত্রদল একজন ছাত্রের পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন করেছে। এভাবে কোন দেশ চলতে পারেনা। এদেশে আর কোন ফ্যাসিবাদ কায়েম হতে দেয়া হবেনা। নব্য ফ্যাসিবাদীদেরকেও অতীতের ফ্যাসিবাদের পরিনতি বরণ করতে হবে। জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সরকারকে বাধ্য করতে ছাত্র-জনতা রাজপথে রয়েছে।

তিনি গতকাল শনিবার বাদ আসর নগরীর কোর্ট পয়েন্টে সিলেট মহানগর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে কেন্দ্রীয় কর্মসুচীর অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত গণমিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে উপরোক্ত কথা বলেন। বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানী সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্যের নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে একটি গণমিছিল বন্দরবাজার কোর্ট পয়েন্ট থেকে শুরু হয়ে নগরীর প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে আম্বরখানা পয়েন্টে গিয়ে সমাপ্ত হয়। গণমিছিলে ১১ দলীয় ঐক্যের মহানগরের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ১১ দলের অঙ্গ-সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত গণমিছিল পূর্ব সমাবেশে বক্তব্য রাখেন- জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির সিলেট মহানগর আহ্বায়ক এডভোকেট আব্দুর রহমান আফজল, সিলেট মহানগর জামায়াতের নায়েবে আমীর ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, বাংলাদেশ লেবারপার্টির সিলেট মহানগর সভাপতি মাহবুবুর রহমান খালেদ, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির মহানগর সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন লিটন, জাগপা সিলেট মহানগর সভাপতি শাহজাহান আহমদ লিটন, বিডিপি সিলেট মহানগর আহ্বায়ক কবির আহমদ, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি সিলেট মহানগর সেক্রেটারি মাওলানা জুবায়ের খান ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন সিলেট মহানগর সভাপতি এডভোকেট জামিল আহমদ রাজু প্রমুখ।