চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ ও আগামী অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবসের আলোচনায় তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।
উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে চলতি বছরে এ পর্যন্ত সারা দেশে আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪৩ হাজার। প্রাণ হারিয়েছেন ১২০ জনেরও বেশি মানুষ।
এমন বাস্তবতায় আগামী ৩ মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ অভিযান শুরু করছে সরকার। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সচিবালয়ে এক বৈঠকে তিনি জানিয়েছেন, শুধু মশানিধন কার্যক্রমের ওপর নির্ভর না করে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এজন্য স্থানীয় প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করে সমন্বিতভাবে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দেন সরকারপ্রধান।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেন, সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবরের প্রথম দিকে হয়তো আমাদের এই ডেঙ্গুর পিক দেখা যেতে পারে। যে কারণে এই মুহূর্ত থেকেই আমাদের ডেঙ্গু প্রিভেনশনের যে কার্যকলাপ সেগুলো বাড়ানো দরকার। আমরা সেটাও শুরু করেছি। সেটাকে আরও জোরদার করছি। যাতে আমরা এই পরিচ্ছন্নতা অভিযান প্রতিষ্ঠানগুলোকে কেন্দ্র করে, হাসপাতালকে কেন্দ্র করে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পাশাপাশি জনসচেতনামূলক ব্যাপক কর্মসূচি একটা ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে আমরা অচিরেই শুরু করতে যাব। যেখানে জনগণকে সম্পৃক্ত করা হবে।
রাজধানীতে হটস্পট চিহ্নিত করে মশা নিধন অভিযান জোরদার করার আশ্বাস দিয়েছে নগর কর্তৃপক্ষও।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম বলেন, জনগণকে এ ব্যাপারে আরও সচেতন করা। পাশাপাশি আজকে যেখানে মশার লার্ভা জন্মায় সেই সেই জায়গাগুলোকে ধ্বংস করা। এবং এটা আপনারা দেখেছেন। এর আগে আমি আপনাদেরকে বারবার বলেছি যে আমি যখন ১০০ বাড়িতে জরিপ করেছি ৬০ শতাংশ বাড়িতেই লার্ভা পাওয়া গেছে। এই কারণে বলব যে জনগণ সচেতন হলে কিন্তু আমরা অনেকাংশে লাভবান হব।
তবে কর্তৃপক্ষের এসব পদক্ষেপে গলদ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। বলছেন, শুধু উড়ন্ত মশা মেরে কোনো লাভ নেই। সমন্বিত উদ্যোগের অভাব থাকলে গত দুই বছরের রেকর্ড ভেঙে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা তাদের।
কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, এডিস মশা কোথায় বেশি হচ্ছে, কোন জায়গাতে প্রজনন হচ্ছে সেই জায়গাকে টার্গেট করে যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাটাকে জোরদার করতে পারি তাহলেই এডিস মশাকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। অন্যথায় রাস্তাঘাট বা উন্মুক্ত স্থাপনায় ফগিং বা লার্ভিসাইডিং করে এডিস মশাকে এই মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
সময়মতো লার্ভা ধ্বংস করা না গেলে ডেঙ্গু সংক্রমণের এই পিক টাইমে রোগী সামলানো কঠিন হবে বলেও আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।