জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) আবু তৌহিদ মুহাম্মদ সিয়ামকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে অশ্রাব্য ও মানহানিকর মন্তব্য করার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার জিসানের বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আব্দুল গাফফার জিসান লিখেন, 'ছোট ভাই আবু তৌহিদ মোঃ সিয়াম একটা শুয়োরের বাচ্চা, ও একটা বেজন্মা, ওর জন্ম বেশ্যাপাড়ায়, ওর মা বোন সবাই নষ্ট। দৌলতদিয়া যৌনপল্লীতে কণ্ডম বিপর্যয়ের মাধ্যমে ওর জন্ম হইছে।'

ছাত্রদল নেতা আব্দুল গাফফার জিসানের পোস্ট
পোস্টে তিনি আরও লিখেন, এনসিপির সব বাটপার, এই শুয়োরের বাচ্চা গুলো দেশের কোটি কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। হাসিনা তার ১৭ বছরেও এত টাকা পাচার করেনাই যতটা এরা করছে দেড় বছরে। এনসিপি ও তার অনুসারী সবগুলো শুয়োর, এনসিপি নেতাদের বউ গুলোও যৌন পল্লীর খদ্দের।
আবু তৌহিদ মুহাম্মদ সিয়ামকে উদ্দেশ্য করে এধরণের আক্রমণাত্মক, অশালীন ও আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন আব্দুল গাফফার। একই পোস্টে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অবমাননাকর মন্তব্য করেন। তবে পোস্টের শেষাংশে তিনি লিখেছেন, কারও ওপর হামলা বা মারধরকে তিনি সমর্থন করেন না।
এ বিষয়ে আবু তৌহিদ মুহাম্মদ সিয়াম বলেন, আব্দুল গাফফার জিসান একজন সাবেক শিবির নেতা এবং শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য, বর্তমানে তিনি ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি দাবি করেন, এ ধরনের পোস্টের মাধ্যমে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলা বা সহিংসতার বৈধতা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
সিয়াম বলেন, “আমি যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আমাকে নিয়ে এমন অরুচিকর, অশ্রাব্য ও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়ার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। কেউ কেউ মনে করে, এ ধরনের বক্তব্যের জবাব হামলা করে দিতে হয়। কিন্তু আমি আইনের পথেই এর প্রতিকার চাই।”
তবে পোস্টের অশ্রাব্য ভাষার ব্যাপারে আব্দুল গাফফার জিসান বলেন, "আমি এখানে যে ভাষাগুলো ব্যবহার করেছি এগুলা মূলত এনসিপি নেতাকর্মীদের মুখের ভাষা। গতকাল থেকে এনসিপির নেতারা যখন আমার দল এখন নেতাকে নিয়ে অশ্রব্য ভাষায় গালিগালাজ করতেছিলা সেই ভাষা গুলোই এখানে লিখেছি। আমি প্রশ্ন করেছি এটা ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন হবে কিনা। এনসিপি নেতাদের জাস্ট ইমাজিন করতে বলবো এই ভাষা যখন অন্য দল কিংবা ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবহার করেন তখন তাদের কেমন লাগে। আর ছোটভাই সামান্য এই ভাষা গুলো সহ্য করতে না পেরে আমাকে শিবির ট্যাগ দিয়ে দিলা। যেটা ছাত্রলীগের কালচার ছিলো। ছাত্রলীগ কারো সঙ্গে কথায় কিংবা যুক্তিতে না পেরে উঠে এই ট্যাগ দিয়ে দিত।
এর আগে ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচি শেষে মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় ছাত্রদল ও বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে এই হামলার অভিযোগ ওঠে, যাতে সারজিস ও নাসীরুদ্দীনসহ অন্তত ১০-১৪ জন আহত হন এবং বেশ কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।