হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের গাড়িবহরে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মীদের সন্ত্রাসী কায়দায় হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) শাখা।
বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা।
জাতীয় ছাত্রশক্তির বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক মো. বেলাল হোসেন বলেন, "৫ আগস্টের পর আমরা যে দায় ও দরদের রাজনীতির কথা বলে এসেছি, বিএনপি সেই দায় ও দরদের রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। আপনাদের মতে, ভাষার কারণে পাটোয়ারীর ওপর হামলা হয়েছে! আমার প্রশ্ন, পাটোয়ারীকে সমালোচনা করার সুযোগ করে দিয়েছে কে? আপনারা গণরায়কে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছেন, সংস্কারকে পায়ে মাড়িয়েছেন। আপনাদের দলের নেতাকর্মীরা চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস চালিয়ে যাবে, আর পাটোয়ারী বললেই দোষ?"
হামলার ঘটনায় আহত ছাত্রশক্তির নেতা আলিফ চৌধুরীর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "তার কী দোষ ছিল? আমরা আশঙ্কা করছি, হয়তো আলিফের চোখটি আর বাঁচাতে পারব না। জুলাইয়ে আমাদের অনেক ভাই অঙ্গহানির শিকার হয়েছেন। সেই জুলাইয়ের চেতনাকে সামনে রেখেও এবার সেই তালিকায় নতুন নাম যোগ করেছে বিএনপি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে আইন, সংবিধান ও বিচারের কথা বলেন, তা মাছের সামনে খুতবা দেওয়ার মতো। তিনি তাঁর দায়িত্ব পালনে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই ব্যর্থতার দায় নিয়ে তাঁর পদত্যাগ করা উচিত।"
জাতীয় ছাত্রশক্তি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক এস. এম. ওয়াহিদুর রহমান বলেন, "গতকাল হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির পদযাত্রা কর্মসূচিতে নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী ও সারজিস আলমের ওপর হামলার জেরে উপস্থিত এনসিপির নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় ছাত্রশক্তির ছাত্রনেতাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের বর্বর ও সন্ত্রাসী পেটোয়া বাহিনী। এটি ৫ আগস্ট-পরবর্তী গণতান্ত্রিক উত্তরণের পথে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রতি নির্মম কুঠারাঘাত।"
তিনি আরও বলেন, "ইতোমধ্যে জাতীয় ছাত্রশক্তি হবিগঞ্জের সংগঠক আলিফ ছাত্রদলের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়ে এক চোখের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়েছেন। বিএনপি আবার তাদের মাফিয়াতান্ত্রিক অন্ধকার যুগে ফিরে যাচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থানের সক্রিয় শক্তি হিসেবে জাতীয় ছাত্রশক্তি এই পৈশাচিক ও বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানায়, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় এবং অতিসত্বর সরকারের কাছে আলিফের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানায়।"