সাকীফ বিন আলম, ইবি:

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ছাত্রদল কর্মী কর্তৃক শিবির নেতাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হওয়া সংঘাতময় পরিস্থিতি এড়িয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির উদ্যোগ ও মধ্যস্থতায় দুই ছাত্রসংগঠন ক্যাম্পাসে সুস্থ, স্বাভাবিক ও নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ও সহাবস্থানের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

ঘটনার সূত্রপাত গত ৫ সেপ্টেম্বর, বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলে শাখা ছাত্রদলের এক কর্মীর হাতে শিবির নেতা লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে দুই সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটক এলাকায় স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত কর্মীদের মধ্যেও সংঘর্ষ ঘটে, যাতে জামায়াতের দুই কর্মী আহত হন। এরই জেরে গতকাল সোমবার বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে জামায়াত ও স্থানীয় বিএনপি পৃথকভাবে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচির ডাক দিলে পরিস্থিতি চরম উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এলাকাটিতে ১৪৪ ধারা জারির আবেদন জানান।

উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি শাখা ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দকে নিয়ে জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকে উভয় দলই বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে ক্যাম্পাসে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সমঝোতায় পৌঁছায়। পরে প্রক্টর অফিসের সামনে দুই সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন এবং কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন-হাসান জানান যে উভয় দলই তাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নিয়েছে। সমঝোতা বৈঠক শেষে নিজ নিজ সংগঠনের অবস্থান ও সহাবস্থানের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করে বক্তব্য দেন শাখা ছাত্রশিবির ও ছাত্রদলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “পাঁচ তারিখের ঘটনায় প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। আমরা আশা করি, তারা অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। আমরা উভয় ছাত্রসংগঠনই ক্যাম্পাসের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করতে চাই। বাইরে থেকে জামায়াত হোক কিংবা বিএনপি হোক কাউকে ক্যাম্পাসে বরদাশত করা হবে না। এমন কাউকে পেলে আমরা তাকে সরাসরি পুলিশের হাতে সোপর্দ করব। জামায়াত-বিএনপি কর্মসূচি দিয়ে ক্যাম্পাস অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করলে তাদের প্রতিহত করতে প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহায়তা করব। তবে গতদিন দেশীয় অস্ত্র হাতে যারা মহড়া দিয়েছিল, তারা আজও আপনাদের সামনে ঘোরাঘুরি করছে। কিন্তু প্রশাসন ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

অন্যদিকে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন বলেন, “পাঁচ তারিখ একটা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটে গেছে। ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতি তৈরি না হয় সেজন্য ছাত্রদল কাজ করবে। প্রশাসন তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত কমিটি তাদের তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে যে সিদ্ধান্ত দিবে আমরা তা মেনে নিব। আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে ক্যাম্পাসে কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে কাজ করতে চাই। ৫ তারিখের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনায় ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। সমাধানে প্রক্টর অফিসে শিবিরের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করেছি। বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, “আমরা ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দদের নিয়ে বসেছি। তারা ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে খুবই আন্তরিক। তারা সমন্বিতভাবে আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আর কোনো ধরনের অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটবে না। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সে বিষয়ে তারা প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। বহিরাগতদের ব্যাপারে প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছে। আমরা আশা করি পরিস্থিতি অতিদ্রুতই শান্ত হয়ে যাবে।”

এদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বিষয়ে ইবি ও মিরপুর সার্কেলের এএসপি মাহমুদ বলেন, “দুই দলের নেতৃবৃন্দ সমঝোতায় পৌঁছেছেন। ক্যাম্পাসের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। কোনো বহিরাগত অস্থিতিশীলতার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” প্রশাসন ও ছাত্র সংগঠনগুলোর উদ্যোগের ফলে ক্যাম্পাসে বড় ধরনের সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়েছে এবং বর্তমানে ক্লাস, পরীক্ষা ও একাডেমিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রয়েছে।