ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালার আলোকে হকারদের রাস্তা ও ফুটপাত বরাদ্দ দেয়া কেনও সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। জনস্বার্থে দায়ের করা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার সচিব, আইন সচিব, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

এর আগে ঢাকা শহরের ফুটপাত ও রাস্তা হকারদের বরাদ্দ দেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদনটি দায়ের করেন আইনজীবী মো. সোহেবুজ্জামান। গতকাল আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন তিনি।

শুনানিতে অংশ নেয়া অন্য আইনজীবীরা হলেনÑমো. ফিরোজ হাওলাদার, মো. ওবায়দুল্লাহ আল মামুন সাকিব, সুব্রত মন্ডল, মো. মোরশেদুল ইসলাম, ইশরাত জাহান, তানিয়া নিশাত, জিনাত পারভীন, আলা উদ্দিন আল আজাদ, কোরাইশ সরকার, মো. নেওয়াজ শরীফ, শাম্মী আক্তার ও জামিয়া আক্তার শরীফ।

আদেশের পর রিটকারী আইনজীবী মো. সোহেবুজ্জামান সাংবাদিকদের বলেন, নীতিমালা তৈরি করে হকারদের রাস্তা এবং ফুটপাত বরাদ্দ দেয়া সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এতে সাধারণ মানুষের ফুটপাত দিয়ে নির্বিঘেœ চলাচলের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে এবং রাস্তায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, সড়ক পরিবহন আইনের ৩৭ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে যে রাস্তার উভয় পাশে অন্তত ১০ মিটার জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। কিন্তু নীতিমালা করে হকারদের ফুটপাত বরাদ্দ দেয়ার মাধ্যমে এই আইনের সরাসরি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। জনগণের মৌলিক অধিকার ও চলাচলের সুবিধা নিশ্চিত করতেই এই রিট করা হয়েছে।

দুই মামলায় বিচারপতি

মানিকের জামিন নামঞ্জুর

হ স্টাফ রিপোর্টার

জ্ঞাত আয়ের বাইরে ‘সম্পদ অর্জন’ এবং ‘ক্ষমতার অপব্যবহারের’ মাধ্যমে পূর্বাচলে ‘প্লট আত্মসাতের’ অভিযোগে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এএইচএম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিকের জামিনে আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালত এই আদেশ দেন।

দুদকের প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আসামীপক্ষের আইনজীবীরা পৃথক দুই মামলায় তার জামিন চেয়ে শুনানি করেন। দুদকের পক্ষে আমরা এর বিরোধিতা করি। শুনানি শেষে আদালত তার জামিনের আবেদন না মঞ্জুর করেন। সংস্থার উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল মামুন বাদী হয়ে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১ এ মামলা দুটি দায়ের করেন।

বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক জ্ঞাত আয় বহির্ভূত ৫ কোটি ৩৯ লাখ ৬৬ হাজার ৮২০ টাকার সম্পদের মালিকানা অর্জন করেছেন বলে মামলার এজাহারে বলা হয়েছে। যে কারণে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

অপরদিকে, বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তফা কামালের স্ত্রী কাশমিরি কামাল, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. নুরুল হুদা, রাজউকের সদস্য (অর্থ) মো. আবু বক্কার সিকদার, সদস্য (উন্নয়ন) এম মাহবুবুল আলম, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান জি এম জয়নাল আবেদীন ভুঁইয়া, রাজউকের সাবেক সদস্য আব্দুল হাইকে আসামি করে আরেকটি মামলা দায়ের করে দুদক।

প্রতারণার মাধ্যমে ক্ষমতার অপব্যবহার করে পরস্পর সহযোগিতায় রাজউকের পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে মূল বরাদ্দকৃত গ্রহীতার নামের একটি প্লট আত্মসাৎ করা হয়েছে অভিযোগ আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে।