কুরবানির ঈদে গরু বা খাসির মাংস খাওয়া বাঙালির আনন্দের অন্যতম অংশ। তবে এই সময় অনেকেই অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার ফলে পেটের নানা সমস্যায় ভোগেন। ডায়রিয়া, পেট ব্যথা, গ্যাস বা হজমের সমস্যা অনেকেই হালকাভাবে নিলেও চিকিৎসকদের মতে, এগুলোর পেছনে একাধিক শারীরিক কারণ থাকতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, কিছু মানুষের শরীর লাল মাংসের নির্দিষ্ট উপাদানের প্রতি সংবেদনশীল হতে পারে। ‘আলফা-গাল সিন্ড্রোম’ নামের এক ধরনের অ্যালার্জির কারণে মাংস খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর ডায়রিয়া, বমিভাব, পেট ব্যথা, ত্বকে র‍্যাশ এমনকি শ্বাসকষ্টও দেখা দিতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে এটি জীবনঝুঁকিও তৈরি করতে পারে, তাই এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।

এ ছাড়া অনেকের হজমক্ষমতা তুলনামূলক কম থাকায় মাংসের চর্বি ও প্রোটিন ভাঙতে সমস্যা হয়। এর ফলে পেট ফাঁপা, অস্বস্তি, গ্যাস কিংবা পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ অবস্থায় কিছুদিন মাংস কম খেয়ে হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।

কুরবানির সময় মাংস সংরক্ষণ বা রান্নায় অসাবধানতা থেকেও অসুস্থতা হতে পারে। ঠিকমতো রান্না না করা বা সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা মাংসে ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে, যা খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণ হয়। এতে বমি, ডায়রিয়া, পেট ব্যথা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কয়েক দিনের মধ্যে উপসর্গ কমে গেলেও, দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা বা উচ্চ জ্বর দেখা দিলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।

চিকিৎসকদের মতে, পিত্তথলি বা অগ্ন্যাশয়ের সমস্যাও এ ধরনের জটিলতার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার পর যদি পাতলা বা তৈলাক্ত মল, ক্ষুধামন্দা, পেট ব্যথা, ওজন কমে যাওয়া বা চোখ-ত্বক হলুদ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা প্রয়োজন।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ঈদের সময় মাংস খাওয়ার ক্ষেত্রে সংযম বজায় রাখা, খাবার সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও রান্না করা এবং শরীরের কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এতে উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি সুস্থ থাকাও নিশ্চিত করা সম্ভব।

সূত্র: এভরিডে হেলথ