অধ্যক্ষ আবু তাহের রাহিমাহুল্লাহ ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের বর্ণাঢ্য জীবনের অধিকারী। তাঁর হাত ধরে আমাদের ইসলামী আন্দোলনে আসার সুযোগ হয়েছে। ওনি এমন একজন ইসলামী আন্দোলনের পন্ডিত ছিলেন যার আলোচনা শুনে মানুষ ইসলামি আন্দোলনে ঝাঁকে ঝাঁকে উড়ে আসতেন। আজকে যারা ইসলামী আন্দোলনের বড়ো বড়ো নেতা তারা সবাই মাওলানা আবু তাহেরের হাতে গড়া জনশক্তি। ওনি খুবই সহজ-সরল জীবনযাপন করতেন। এত বড় একজন নেতার এভাবে জীবনযাপন সত্যিই বিরল। তিনি জাতীয় নেতা হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। যার নেতৃত্ব শুধু রাজনীতিতে নয়, শিক্ষাঙ্গনসহ বিভিন্ন সেক্টরে প্রভাব পড়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকালে দি কিং আনোয়ারা কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত অধ্যক্ষ আবু তাহের স্মারক গ্রন্থ "স্মৃতিতে অম্লান" প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর ও সাবেক এমপি আ.ন.ম শামসুল ইসলাম এসব কথা বলেন।

আনোয়ারা উপজেলা জামায়াতের আমীর মুক্তিযোদ্ধা মাষ্টার আবদুল গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত স্মরণ সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুহাম্মদ শাহজাহান। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর নজরুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চট্টগ্রাম অঞ্চল টীম সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আমীর আনোয়ারুল আরম চৌধুরী, নেজামে ইসলাম পার্টি চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর মাওলানা জিয়াউল হাসান জিয়া, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম, এনসিপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য জোবাইরুল ইসলাম মানিক, চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট শামসুদ্দিন আহমদ মির্জা, চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলা শিবিরের সভাপতি ফরমানুর রহমান জাহিন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, অধ্যক্ষ আবু তাহের জ্ঞানের সাগর ছিলেন। ওনি একাধিক ভাষার অধিকারী ছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ইসলামী আন্দোলনের নেতা ছিলেন। তিনি মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দ্বীনের দাওয়াত পৌঁছে দিয়েছেন। ওনি ছাত্রজীবন থেকে সৃজনশীল নেতা ছিলেন। ওনি এতো গুনী একজন মানুষ ছিলেন। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য, ফ্যাসিস্ট সরকারের রোষানলের কারণে আমরা সেদিন স্বাধীনভাবে তাঁর জানাজা পড়ার অধিকারটুকু পাইনি। তিনি বহু গুনের অধিকারী ছিলেন। যারা ওনার সংস্পর্শ পেয়েছেন তারা বিষয়টি অনুধাবন করতে পারবেন। ওনি এমন নেতা ছিলেন তৎকালীন আমাদের শীর্ষ নেতারা ওনাকে নিয়ে গর্ব করতেন। আজকে আলোচনা সভা প্রমান করেছে ওনি দলমত নির্বিশেষে সবার সম্মানের জায়গায় অবস্থান করছেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আলহাজ্ব শাহজাহান চৌধুরী এমপি বলেন, এমন জমানায় ছিলাম বরেণ্য এই রাজনীতিবিদের জানাজা আমরা ভালো করে আদায় করতে পারি নাই। ওনি এই অঞ্চলে ইসলামি আন্দোলন প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে কোন রক্ত চক্ষুকে ভয় করে নাই। ওনি শুধু আনোয়ারার কৃতি সন্তান নয়, ওনি পুরো বাংলাদেশের কৃতিসন্তান। তিনি এই দেশের ছাত্রদের আলোর মশাল ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। ওনার মরহুম পিতাও একজন গর্বিত আলেম ছিলেন। কওমী ও আলিয়া আলেমদের সমন্বয় করার জন্য তাফসির মাহফিল আয়োজন করেন। অধ্যক্ষ আবু তাহের রহিমাহুল্লাহু ধর্মীয় রাজনীতির সব বিভেদ দূর করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তিনি তাফসীর মাহফিলের মাধ্যমে এই অঞ্চলের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর আমীর নজরুল ইসলাম বলেন, মাওলানা আবু তাহের জ্ঞান আহরনের এক অনন্য মানুষ ছিলেন। ওনি আরবিসহ বিভিন্ন জ্ঞান চর্চা করতেন। ওনি জ্ঞানী লোকদের খুব কদর করতেন। দলমত নির্বিশেষে জ্ঞানী ও সম্মানিত লোকদের সম্মান করতেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাফর সাদেক বলেন, অনন্য প্রতিভা ও বহুমুখী জ্ঞানের অধিকারী অধ্যক্ষ আবু তাহের এর জীবন রাসুলুল্লাহ সাঃ এর আদর্শের অনুকরণে সাজানো ছিল। আমরা রাসুলুল্লাহ আদর্শ অনুসরণের লক্ষ্যে অধ্যক্ষ আবু তাহের এর মতো অনন্য ব্যক্তিত্বকে ধারণ করতে পারি। তার বর্ণাঢ্য জীবন আমাদের জন্য অনুসরণীয়।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা আমীর আনোয়ারুল আলম চৌধুরী বলেন, মাওলানা আবু তাহের আদর্শিক দায়িত্বশীলের অনুপম ব্যক্তিত্ব ছিলেন। বিশেষ করে তিনি সার্বজনীন ব্যক্তিত্ব ছিলেন। আমরা যারা আদর্শিক রাজনীতি ও ইসলামি আন্দোলন করি ওনার চরিত্র থেকে বিষয়গুলো শিক্ষা হিসেবে আমাদের জন্য রয়েছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম এমপি বলেন, জনগনের দায়িত্ব কি জিনিস মাওলানা আবু তাহের ভাই থেকে শেখার প্রয়োজন রয়েছে। অনেক বড় দায়িত্ব পালন করার পর রাজনৈতিক বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার থাকার পর ওনি ছিলেন নির্লোভ। যা রাজনৈতিক নেতাদের ক্যারিয়ারে দুর্লভ।

অধ্যক্ষ আবু তাহের স্মারক গ্রন্থ "স্মৃতিতে অম্লান "প্রকাশনা পরিষদের সদস্য সদস্য সচিব সিরাজুল ইসলাম, সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাছান খোকা ও সদস্য মোহাম্মদ হাবীবুল্লাহর যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মাওলানা বদরুল হক, চট্টগ্রাম মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী মোহাম্মদ উল্লাহ, জেলা সাংগঠনিক সেক্রেটারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, বিএনপির সাবেক উপজেলা সেক্রেটারী হুমায়ূন কবির আনসার, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ইসমাইল হক্কানী, ইঞ্জিনিয়ার শহীদুল মোস্তফা, আ ক ম ফরিদুল আলম, বাঁশখালী উপজেলা আমীর অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইসমাইল, বন্দর থানা আমীর মাহমুদুল আলম, সদরঘাট থানা আমীর অধ্যাপক আবদুল গফুর, পাঁচলাইশ থানা আমীর ইঞ্জিনিয়ার মাহবুবুল হাছান রুমী, শিক্ষাবিদ অধ্যক্ষ আবদুস সালাম আনোয়ারী, উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ্, নাছির উদ্দীন শাহ, আলহাজ্ব মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন ও মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন প্রমুখ।