আবু সাইদ বিশ্বাস, সাতক্ষীরা: বিলুপ্তির পথে সাতক্ষীরায় ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। “গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ, শাল ভরা গরু” জমিদার বিলুপ্তির সঙ্গে সঙ্গে বিলুপ্তির পথে এসব প্রবচনগুলো। তবে এখনো গুটি কয়েক বাড়িতে রয়েছে ধানের গোলা ও মাটির কোলা।
এমনি একটি ধানের গোলার সন্ধান পাওয়া গেছে কলারোয়া উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামের মোড়ল বাড়িতে। ওই গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, ‘আমার দাদা, তারপর আমার বাপ-চাচারা ধানের গোলায় ধান রাখলেও এখন গোলার চলন নেই। তবে আমরা সেই গোলার স্মৃতি বহন করে চলেছি। এখন আর ধান গোলায় রাখা হয় না, বস্তাভর্তি করে গুদাম ঘরে রেখে দেয়া হয়।’ স্থানীয়রা জানান, আসামী প্রজন্মের কাছে ধানের গোলা ঘর স্মৃতিতে পরিণত হচ্ছে। আধুনিক গুদাম ঘর ধান-চাল রাখার জায়গা দখল করছে। ফলে গোলা ঘরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে।
জানা গেছে, আবহমান কাল ধরে পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে ব্যবহার করা হতো এই গোলা। বাঁশ দিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি গোলাকৃতির কাঠামোয় তৈরি হয় গোলা। গোলাকৃতির কাঠামোতে এঁটেল মাটির মন্ডপ দিয়ে তৈরি করে ভিতরে মাটির প্রলেপ লাগিয়ে ভালোভাবে শুকিয়ে তার উপর পিরামিড আকৃতির টিনের চালা দিয়ে ঢাকনাকারে তৈরি করা হয় ধানের গোলা। ধান বা যে কোন শস্য উঠানো বা নামানোর জন্য রাখা হতো ছোট দরজা যেখানে ব্যবহার হতো কাঠ ও লোহার দ-। তবে তার চারপাশে মাটি কাঁদার প্রলেপ লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়া হতো চারপাশের ছিদ্র। এছাড়াও মটোর-সূটি, সরিষা, গম, ভুট্টা সংরক্ষণের জন্য ব্যবহার করা হতো মাটি দ্বারা এক বিশেষ পদ্ধতিতে তৈরি মাটির কোলা তাও এখন বিলুপ্ত প্রায়। দীর্ঘদিন ধান সংরক্ষণের অন্যতম ধানের গোলাটি বছরের পর বছর ধান সংরক্ষণ করলেও তাতে কোনো ছত্রাক বা পোকা ধরত না।