ধুনট (বগুড়া) সংবাদদাতা: বগুড়ার ধুনটে মথুরাপুর হাটের টোল আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মুখোমুখি অবস্থান ও পাল্টাপাল্টি চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যলয় সুত্রে জানা যায়, বাংলা ১৪৩২ সালে উপজেলার ভান্ডাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম ৩১ লাখ টাকা মুল্যে মাথুরাপুর হাটের ইজারা নেন। জাহাঙ্গীর আলম জানান, ইজারা নেওয়ার পর থেকেই স্থানীয় কতিপয় বিএনপির নেতা টোল আদায় কাজে নানা ভাবে হয়রানী করতে থাকে। এক পর্যায়ে তারা মাছের আড়ত হাটের জায়গা থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়। এসব বিষয়ের প্রতিকার সহ হাটের সীমানা ও পশুর হাটের জায়গা নির্ধারন করে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একাধিকবার আবেদন করে কোন প্রতিকার পাইনি। এভাবেই তার ইজারা মেয়াদ শেষ হতে থাকে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসন পুনরায় বাংলা ১৪৩৩ সালে ওই হাটের ইজারা দেওয়ার জন্য কার্যক্রম শুরু করেন। এতে ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম আর্থিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হন। তিনি প্রতিকার চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার সহ সংশ্লিষ্টদেরকে বিবাদী করে ৭ জানুয়ারী হাইকোটে একটি রিট পিটিশন মামলা করেন। আদালত গত ৩ মার্চ তিন মাসের জন্য সকল কার্যক্রম স্থগিত করা জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আদেশ জারী করেন।
জাহাঙ্গীর আলম নিজেকে বৈধ ইজারাদার হিসাবে দাবী করে ওই হাটের টোল আদায়ের জন্য মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম , যুবদল নেতা ওবায়দুল ইসলাম সহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকে দায়িত্ব দেন। এতে একই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক জেল হোসেন ঠান্ডু , ধুনট উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান ফিরোজ সহ তাদের অনুসারীরা টোল আদায়ে বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
এঘটনাকে কেন্দ্র করে গত ১৫ মে সাইদুল ইসলাম নামের এক মাংস ব্যবসায়ী বাদী হয়ে মথুরাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক রেজাউল করিম ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় একটি চাঁদাবাজীর অভিযোগ দেন।
অপর দিকে যুবদল নেতা ওবায়দুল ইসলাম বাদী হয়ে একই দিন ধুনট উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাহবুব রহমান ফিরোজ সাবেক সাধারন সম্পাদক জেল হোসেন ঠান্ডু সহ তাদের অনুসারী ৮ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা চাঁদাবাজির অভিযোগ দেন।